মোহাম্মদ আহাদ মিয়া , ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রতিনিধি : ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিদায়ী জেলা প্রশাসক শারমিন আক্তার জাহান অভিযোগ করেছেন, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের একটি নিয়োগে অনিয়মের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ায় তাকে হত্যার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।
বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রেসক্লাবে বিদায়ী সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে নিজের চাকরি জীবনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরতে গিয়ে তিনি এ কথা বলেন।
শারমিন আক্তার জাহান জানান, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের একটি নিয়োগ প্রক্রিয়ায় তিনি নোট অব ডিসেন্ট দিয়েছিলেন। সেই বিষয়টি নিয়ে সাংবাদিক রোজিনা ইসলাম একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেন।
তিনি দাবি করেন, এর জেরে তৎকালীন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক তাকে হত্যার নির্দেশ দেন। পরিস্থিতি বুঝতে পেরে তিনি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে বদলি হয়ে যান। তার পরদিনই রোজিনা ইসলাম গ্রেপ্তার হন।
২০২১ সালে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের টেকনোলজিস্ট ও টেকনিশিয়ান নিয়োগ পরীক্ষার সময় তিনি উপসচিব ও নিয়োগ কমিটির সদস্য ছিলেন।
প্রসঙ্গত, ২০২১ সালে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের টেকনোলজিস্ট ও টেকনিশিয়ান নিয়োগের লিখিত পরীক্ষা হয়। সে সময় শারমিন আক্তার জাহান স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের উপসচিব এবং ওই নিয়োগ কমিটির সদস্য ছিলেন। লিখিত পরীক্ষার অনিয়মের বিষয়ে তিনি ২০২১ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিবকে চিঠি দিয়েছিলেন।
ওই নিয়োগে অনিয়ম প্রসঙ্গে শারমিন আক্তার জাহান বলেন, ‘তখন যে প্রশ্ন হয়েছিল তাতে আমি নিজেও ৫০-৫৫ পেতাম কিনা সন্দেহ। কিন্তু খাতায় দেখি অনেকে ৭০-৮০ করে পেয়েছে। আশ্চর্যের বিষয় হলো, শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত খাতায় হাতের লেখা একই ধাঁচের। সাধারণত শুরুর সঙ্গে শেষের লেখার মিল থাকে না। এসব দিক বিবেচনায় আমার সন্দেহ হয়।’
জেলা প্রশাসক আরও বলেন, ‘মৌখিক পরীক্ষা শুরু হলে দেখা যায়, যারা অনেক নম্বর পেয়েছেন, গণিত তিনটার সঠিক উত্তর দিয়েছেন, কিন্তু তারা মৌখিক পরীক্ষার কোনো প্রশ্নের উত্তর দিতে পারছেন না। পরে ওই নিয়োগ বাতিল হয়েছে।’
বিদায়ী ডিসি বক্তব্যে সাবেক মন্ত্রীর সমালোচনা করে বলেন, “ক্ষমতা দেখিয়ে যারা হুমকি দিয়েছিলেন, এখন তারা কোথায় আছেন—সেটা সবাই দেখছে।”