• ৩০শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ , ১৭ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ , ১৩ই জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি

ইসরায়েলে দফায় দফায় ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালাচ্ছে ইরান

Usbnews.
প্রকাশিত এপ্রিল ৩, ২০২৬
ইসরায়েলে দফায় দফায় ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালাচ্ছে ইরান
নিউজটি শেয়ার করুনঃ

মধ্যপ্রাচ্যের রণক্ষেত্রে উত্তেজনা নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে যখন ইরান থেকে ইসরায়েলের ভূখণ্ড লক্ষ্য করে পুনরায় বড় ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়েছে। শুক্রবার (৩ এপ্রিল) আলজাজিরার এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) তাদের আকাশসীমানায় ইরানের একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র শনাক্ত করেছে।

ইসরায়েলি সামরিক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এই হামলা প্রতিহত করতে তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাগুলো বর্তমানে সক্রিয়ভাবে কাজ করছে। অন্যদিকে, ইরানের শক্তিশালী সামরিক শাখা ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) এক বিবৃতিতে দাবি করেছে, তারা তেল আবিব ও ইলাত অঞ্চলে ইসরায়েলের গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ঘাঁটি এবং সামরিক শিল্প স্থাপনাগুলোতে সফলভাবে আঘাত হানতে সক্ষম হয়েছে। তেহরানের দাবি অনুযায়ী, এই সুনির্দিষ্ট হামলার ফলে ইসরায়েলি বাহিনীর উল্লেখযোগ্য ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

এই উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যেই ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান যুক্তরাষ্ট্রের সাধারণ নাগরিকদের উদ্দেশে একটি আবেগপূর্ণ ও প্রশ্নবিদ্ধ খোলা চিঠি লিখেছেন। বুধবার রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে প্রকাশিত এই চিঠিতে তিনি সরাসরি মার্কিন জনগণকে সম্বোধন করে ট্রাম্প প্রশাসনের যুদ্ধংদেহী নীতির যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।

পেজেশকিয়ান জানতে চান, বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যে যে যুদ্ধ চলছে তা কি আসলেই ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ বা আমেরিকার জনগণের মৌলিক স্বার্থ রক্ষা করছে? তিনি দাবি করেন যে, আধুনিক ইতিহাসের কোনো পর্যায়েই ইরান আগ্রাসন বা উপনিবেশবাদের পথ বেছে নেয়নি এবং কোনো যুদ্ধের সূচনাও করেনি। বরং ইরানকে বিশ্ববাসীর কাছে হুমকি হিসেবে উপস্থাপন করা মূলত ক্ষমতাবান রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক গোষ্ঠীর হীন স্বার্থ চরিতার্থ করার একটি অপকৌশল মাত্র।

প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান তাঁর চিঠিতে আরও উল্লেখ করেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের প্রতিবেশী দেশগুলোতে বিশাল সামরিক ঘাঁটি গেড়েছে যা প্রকৃতপক্ষে এই অঞ্চলের শান্তি ও স্থিতিশীলতার জন্য বড় হুমকি। সাম্প্রতিক সময়ে এই ঘাঁটিগুলো থেকে চালানো মার্কিন সামরিক আগ্রাসন তাঁর এই দাবিকে আরও জোরালো করেছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

উপসাগরীয় অঞ্চলের বিভিন্ন সামরিক ও বেসামরিক অবকাঠামোতে ইরানের পক্ষ থেকে চালানো প্রতিদিনের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলাকে তিনি ‘বৈধ আত্মরক্ষা’ হিসেবে অভিহিত করেন। তিনি মার্কিন নাগরিকদের চিন্তা করে দেখতে বলেন, এই যুদ্ধের মাধ্যমে আসলে আমেরিকার সাধারণ মানুষের কী অর্জন হচ্ছে এবং কেন তাঁদের করের টাকা ভিনদেশের মাটিতে রক্তক্ষয়ী সংঘাতে ব্যয় করা হচ্ছে।

এদিকে রণক্ষেত্রের বাইরেও বড় ধরনের রদবদল লক্ষ্য করা গেছে। মার্কিন সেনাপ্রধান জেনারেল র‍্যান্ডি জর্জকে তাঁর পদ থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে, যা পেন্টাগনের ভেতরে অস্থিরতার ইঙ্গিত দিচ্ছে। অন্যদিকে, হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার জন্য আন্তর্জাতিক পর্যায়ে এক কূটনৈতিক উদ্যোগের নেতৃত্ব দিচ্ছে যুক্তরাজ্য।

সব মিলিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের এই সংঘাত কেবল সামরিক লড়াইয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই, বরং এটি এখন বিশ্বরাজনীতি ও জনমত গঠনের এক বিশাল লড়াইয়ে পরিণত হয়েছে। ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা এবং এর বিপরীতে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সক্রিয়তা নির্দেশ করছে যে, অদূর ভবিষ্যতে এই অঞ্চলে শান্তি ফিরে আসার সম্ভাবনা অত্যন্ত ক্ষীণ।

সূত্র: আলজাজিরা