গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে অস্ট্রেলিয়ান-চীনা লেখক ইয়াং হেনজুনকে গ্রেপ্তারের পাঁচ বছর পর একটি চীনা আদালত ‘স্থগিত মৃত্যুদণ্ড’ দিয়েছেন। অস্ট্রেলিয়ার কর্মকর্তাদের মতে, দুই বছর পর সাজা যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে পরিণত হতে পারে।
স্থগিত মৃত্যুদণ্ড হলো, অবিলম্বে মৃত্যুদন্ড কার্যকর করাকে জরুরি বলে মনে করা না হলে- মৃত্যুদণ্ড ঘোষণার পাশাপাশি দুই বছর পর অব্যাহতি দেওয়া।

চ্যাং লাইছবি: এএফপি
চ্যাং হলেন দ্বিতীয় উচ্চ পদস্থধারী কোনো অস্ট্রেলিয়ান নাগরিক, যিনি বেইজিংয়ে গ্রেপ্তার হলেন। তাঁর আগে ২০১৯ সালের জানুয়ারিতে গুপ্তচরবৃত্তির সন্দেহে সেখানে গ্রেপ্তার হয়েছিলেন চায়নিজ-অস্ট্রেলিয়ান লেখক ইয়াং হেংজুন। ইয়াংয়ের বিরুদ্ধে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগ আনা হয়েছিল।
হেনজুন তার বিরুদ্ধে আনা গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। অস্ট্রেলিয়ান পররাষ্ট্রমন্ত্রী পেনি ওং বলেছেন, অস্ট্রেলিয়ায় সরকার ইয়াংয়ের মুক্তির জন্য আবেদন করেছিল। এই সিদ্ধান্তে আমরা শঙ্কিত। বেইজিংকে ‘কড়া ভাষায়’ এর প্রতিক্রিয়া জানানো হবে।
পেনি ওং আরো বলেন, “আমরা নিরবিচ্ছিন্নভাবে আন্তর্জাতিক নিয়ম এবং চীনের আইনী বাধ্যবাধকতা অনুসারে ডক্টর ইয়াংয়ের জন্য ন্যায়বিচারের মৌলিক মান, পদ্ধতিগত ন্যায্যতা এবং মানবিক আচরণের জন্য আহ্বান জানিয়েছি। সকল অস্ট্রেলিয়ান হেনজুনকে তার পরিবারের সাথে পুনরায় মিলিত হতে দেখতে চায়। আমরা আমাদের আইনী ব্যবস্থা চালিয়ে যেতে পিছপা হব না।”
ইয়াং হেনজুন এর আগে চীনের রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা মন্ত্রনালয়ের জন্য কাজ করতেন। তখন তাকে ‘গণতন্ত্রের দালাল’ আখ্যা দেওয়া হয়। তবে তিনি তার লেখায় সরকারের সরাসরি সমালোচনা এড়িয়ে যেতেন।
৫৭ বছর বয়সী হেনজুনকে ২০১৯ সালের জানুয়ারিতে গুয়াংজু বিমানবন্দরে আটক করে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে অভিযুক্ত করা হয়েছিল। ২০২১ সালের পর থেকে তার মামলার কার্যক্রম বেশিরভাগ সময় লুকিয়েই চালানো হয়।
অস্ট্রেলিয়ান কর্মকর্তারা এই ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তাদের সতর্ক করেছে যেন তারা এই মামলায় হস্তক্ষেপ না করে এবং চীনের ‘বিচারিক সার্বভৌমত্ব’কে সম্মান করে।
আটক অবস্থায় ইয়ং হেনজুনকে ৩০০ বারের বেশি জিজ্ঞাসাবাদ এবং ছয় মাস তীব্র নির্যাতন করা হয়েছে বলে দাবি করছে তার পরিবার।
বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়, চ্যাংয়ের বিরুদ্ধে চীনের জাতীয় নিরাপত্তা আইন ভঙ্গ প্রমাণিত হলে তাঁকে বিভিন্ন শাস্তির মুখোমুখি হতে হবে। কোনো ব্যাখ্যা না দিয়েই চীনের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের সম্প্রচার থেকে নাই হয়ে যান চ্যাং। এরপর থেকে তাঁর খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না। মূলত অস্ট্রেলিয়া ও চীনের মধ্যকার সম্পর্কে ব্যাপক অবনতি ঘটার পরপরই চ্যাংকে আটক করা হয়েছিল।