বাইরে কড়া পুলিসি প্রহরা। ভারতের এসএলএসটি চাকরিপ্রার্থীরা যখন বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায়ের বাড়িতে পৌঁছন, তখন প্রাথমিকভাবে তাঁদের আটকে দেয় পুলিস। কবে? আজ, বুধবার বিকেলে। এরপর কিছুক্ষণ পরে নীচে আসেন বিচারপতি।
এদিকে তাঁকে দেখেই কান্না ভেঙে পড়েন চাকরিপ্রার্থীরা। সকলেই ২০১৬ সালের এসএলটি চাকরিপ্রার্থীরা। তাঁরা জানান, শারীরশিক্ষা ও কর্মশিক্ষা পরীক্ষায় পাস করেছেন। এমনকী, কোনও স্কুলে চাকরি হবে, তাও জেনে গিয়েছেন। কিন্তু নিয়োগপত্র পাননি এখনও! কেন? চাকরিপ্রার্থীদের সঙ্গে কথা বলার ফাঁকেই ফোন করেন কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়। জানতে পারেন, একটি মামলা কারণেই নিয়োগ আটকে রয়েছে।
এদিন বিধাননগরে বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের বাড়িতে যান চাকরিপ্রার্থীরা। বিচারপতি বলেন, ‘আমি ইনফর্মালি অনেক কিছুই করি। তাই আপনাদের সঙ্গে দেখা করলাম। এভাবে দেখা করা যায় না। আমি বেকার যুবক যুবতীদের কষ্ট অনুভব করি। কিন্তু সবকিছুরই একটা পদ্ধতি আছে। চাকরি কেন আটকে আছে তার কারণ খুঁজে বার করতে হবে। আপনারা প্রথমেই একজন আইনজীবীর পরামর্শ নিন। হাতে সময় বেশি নেই, আর দু’দিন। তারপরেই ছুটি পড়ে যাবে’।
বিচারপতি বলেন, ‘আমার কাজের একটা ক্ষেত্র আছে। আমি এভাবে চাকরি পাইয়ে দিতে পারি না। তার জন্য আইনেরই দ্বারস্থ হতে হবে। চাকরি যদি প্রাপ্য হয়, তাহলে ব্যবস্থা হবে। দু’শো বছর রাস্তায় বসে থাকলেও লাভ হবে না’। চাকরিপ্রার্থীরা বলেন, ‘আমাদের চাকরি নেই। মামলার খরচ জোগাড় করা দুঃসাধ্য’। বিচারপতির পরামর্শ, ‘লিগাল এইডে গিয়ে আপনারা আবেদনপত্র জমা দিন। নিশ্চয়ই সেখান থেকে বিনাখরচে আইনি সাহায্য পাবেন। মুখ্যমন্ত্রী অত্যন্ত মানবিক।