• ৩১শে মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ , ১৭ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ , ১৪ই জিলহজ, ১৪৪৭ হিজরি

মালয়েশিয়া শ্রমবাজার বৈধ রিক্রুটিং এজেন্সির জন্য উন্মুক্তের দাবি বায়রার

Usbnews.
প্রকাশিত এপ্রিল ৫, ২০২৬
মালয়েশিয়া শ্রমবাজার বৈধ রিক্রুটিং এজেন্সির জন্য উন্মুক্তের দাবি বায়রার
নিউজটি শেয়ার করুনঃ

মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারকে সিন্ডিকেটমুক্ত করে সব বৈধ রিক্রুটিং এজেন্সির জন্য উন্মুক্ত করার দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ইন্টারন্যাশনাল রিক্রুটিং এজেন্সিসের (বায়রা) সিন্ডিকেটবিরোধী সদস্যরা। তাদের অভিযোগ, একটি প্রভাবশালী চক্র হাজার হাজার কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বাজারটি নিয়ন্ত্রণ করছে।

রোববার (৫ এপ্রিল) দুপুরে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই দাবি জানানো হয়।

সংবাদ সম্মেলনে বায়রার সাবেক কার্যনির্বাহী সদস্য মোস্তফা মাহমুদ বলেন, “আপনারা সিন্ডিকেট না ভাঙলে আমরা আমরণ অনশনে যাবো। বারবার এই বাজারকে সিন্ডিকেটের কবলে পড়তে দিব না। আমরা সবার জন্য ব্যবসা চাচ্ছি। নির্দিষ্ট ১০০ জন কেন ব্যবসা করবে? সিন্ডিকেটের এই ১০০ জন চাচ্ছে, শুধু তারাই ব্যবসা করুক। এই সিন্ডিকেট ২৪ হাজার কোটি লোপাট করেছে। আমাদের দাবি দেশে তাদের যথাযথ বিচার নিশ্চিত করা।”


তিনি লিখিত বক্তব্যে বলেন, “আমরা জানতে পেরেছি পুনরায় সিন্ডিকেটের মাধ্যমে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারটি উন্মুক্ত হতে যাচ্ছে। ২০১৬ সাল থেকে এফডব্লিউসিএমএস নামক একটি সফটওয়্যার সিস্টেমের মাধ্যমে ২০২৪ সাল পর্যন্ত সিন্ডিকেটের প্রধান দাতো মোহাম্মদ আমিন নুর ও মোহাম্মদ রুহুল আমিন স্বপন বাজারটি নিয়ন্ত্রণ করে আসছে। বেস্টিনেট এসডিএন বিএইচডি, এফডব্লিউসিএমএস, এসপিপিএ নামক টুলসগুলো ব্যবহার করে তারা সিন্ডিকেট প্রতিষ্ঠা করেছে। এই টুলসগুলো হচ্ছে অভিবাসী কর্মীদের শোষণ করার হাতিয়ার। এই নামগুলো নিয়ে বিশ্বব্যাপী ব্যাপক নিন্দা ও সমালোচনার ঝড় বয়ে গেছে। আইএলও, আইএমওসহ আন্তর্জাতিক বহু সংস্থা এই সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে সোচ্চার ছিলো। বাংলাদেশের প্রতিটি মিডিয়াতে সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে সচিত্র প্রতিবেদন বহুবার প্রকাশ হয়েছে। তদানীন্তন স্বৈরাচারী সরকার সিন্ডিকেটের পক্ষে থাকার কারণে সিন্ডিকেটকে বিলুপ্ত করা যায়নি এবং তাদের কোনো শাস্তি হয়নি।”

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ২০১৬ সালে সরকার নির্ধারিত অভিবাসন ফি ছিল ৪৭ হাজার এবং ২০২১ সালে ৭৯ হাজার টাকা। কিন্তু বাস্তবে কর্মীদের কাছ থেকে চার থেকে ছয় লাখ টাকা পর্যন্ত নেওয়া হয়েছে।

মোস্তফা মাহমুদ আরও বলেন, “পুরোনো পদ্ধতির ব্যাপক অনিয়ম, দুর্নীতি ও বদনামের কারণে তারা এই বার নতুন সফটওয়্যার তুরাপ ব্যবহার করছে কর্মী রিক্রুট করা, টাকা নেওয়া ও এজেন্সি নিয়ন্ত্রণ করার জন্য। গ্লোবাল এমপ্লয়মেন্ট ফ্যাসিলিটেশন সেন্টারের নাম দিয়ে একটা ওয়ান স্টপ সার্ভিস সেন্টার প্রতিষ্ঠা করতে যাচ্ছে এজেন্সি ও কর্মী নিয়ন্ত্রণ করার জন্য। এবার তাদের আর্কষণীয় স্লোগান হলো জিরো কস্টে কর্মী প্রেরণ। বিগত দুইবার যেই টাকা নেওয়ার কথা ছিলো তার থেকে অনেক গুণ বেশি টাকা নেওয়ার কারণে এবার জিরো কস্টের প্রস্তাব দিচ্ছে। জিরো কস্টে বাজার উন্মুক্ত করা তাদের একটি কৌশল মাত্র। তাদের প্রস্তাবিত পদ্ধতিতে কর্মী রপ্তানি হলে প্রতিটি কর্মীকে এইবার দিতে হবে ছয়-সাত লাখ টাকা।”

তিনি আরও বলেন, “আমরা জানতে পেরেছি জিরো কস্টে কর্মী রপ্তানির আড়ালে তারা ২৫টি এজেন্সি নিয়ে একটি সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছে। ২৫ এজেন্সির বাইরে অন্য কোনো এজেন্সি কোনো কর্মী রপ্তানি করতে পারবে না বলেও সিন্ডিকেটের সদস্যদের তারা নিশ্চয়তা দিচ্ছেন। যারা সিন্ডিকেটের সদস্য হতে আগ্রহী তাদের থেকে ১৫ কোটি টাকা অগ্রিম নিচ্ছে বলেও শোনা যাচ্ছে। একদিকে তারা সরকারকে জিরো কস্টের কথা বলছে, অন্যদিকে সিন্ডিকেটের সদস্য হওয়ার জন্য ১৫ কোটি টাকা নিচ্ছে।”

তিনি বলেন, “প্রয়োজনে বাংলাদেশ থেকে কর্মী রিক্রুট করার জন্য বাংলাদেশ সরকার তার নিজস্ব সফটওয়্যার সিস্টেম প্রয়োগ করবে তবু সিন্ডিকেট প্রণীত তুরাপের মাধ্যমে করবো না। আমরা প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রী মহোদয়কে জানাচ্ছি যে আমরা যেন কিছুতেই সিন্ডিকেটের হোতাদের পাতানো ফাঁদ তুরাপের ফাঁদে পা না দেই। দাতো আমিন ও মোহাম্মদ রুহুল আমিন স্বপনেরা দীর্ঘ অনেক বছর থেকে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারকে জিম্মি করে রেখেছে। তাদের জিম্মি দশা থেকে বাজারটি মুক্ত করে সব বৈধ এজেন্সির জন্য উন্মুক্ত করার দাবি জানাচ্ছি।”