সাইবার নিরাপত্তা সক্ষমতা শক্তিশালী করা, দ্রুত হুমকি শনাক্ত ও প্রতিক্রিয়া নিশ্চিত করা এবং প্রতিযোগিতামূলক সুবিধা অর্জনের লক্ষ্যে বিশ্বব্যাপী অর্ধেকের বেশি প্রতিষ্ঠান সিকিউরিটি অপারেশনস সেন্টার (এসওসি) গঠনের পরিকল্পনা করছে। স্বয়ংক্রিয় সাইবার নিরাপত্তা সলিউশনের চাহিদা বাড়লেও কার্যকর নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে দক্ষ মানবসম্পদের গুরুত্ব এখনো অপরিহার্য বলে মনে করছে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো।
এসওসি বা সিকিউরিটি অপারেশনস সেন্টার হলো একটি বিশেষ দল, যারা কোনো প্রতিষ্ঠানের আইটি সিস্টেম সার্বক্ষণিক নজরদারি করে এবং সাইবার হামলা থেকে সুরক্ষা নিশ্চিত করে। তাদের মূল কাজ হলো সাইবার হুমকি দ্রুত শনাক্ত করা, তা বিশ্লেষণ করা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা নেওয়া। এসওসি কেন প্রতিষ্ঠা করা হচ্ছে এবং এর গুরুত্ব কতটা তা বোঝার জন্য সাইবার নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান ক্যাসপারস্কি একটি বৈশ্বিক গবেষণা চালায়। এতে ৫০০-এর বেশি কর্মী রয়েছে, যাদের এখনো এসওসি নেই তবে ভবিষ্যতে গঠনের পরিকল্পনা করছে এমন প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ আইটি নিরাপত্তা কর্মকর্তারা অংশ নেন।
এপ্যাক, মেটা, ল্যাটাম, ইউরোপ ও রাশিয়ার ১৬টি দেশের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, ৫০ শতাংশ প্রতিষ্ঠান সাইবার নিরাপত্তা আরও শক্তিশালী করতে এসওসি গড়তে চায়। ৪৫ শতাংশ প্রতিষ্ঠানের মতে, দিন দিন জটিল হয়ে ওঠা সাইবার হামলাই এর প্রধান কারণ। পাশাপাশি দ্রুত হুমকি শনাক্ত ও প্রতিক্রিয়া জানানো, সঠিকভাবে ব্যবস্থাপনা করা, সম্প্রসারিত আইটি সিস্টেম নিয়ন্ত্রণে রাখা (৪১ শতাংশ), তথ্য সুরক্ষা (৪০ শতাংশ), আইন ও নিয়ম মেনে চলা (৩৯ শতাংশ) এবং প্রতিযোগিতায় এগিয়ে থাকার বিষয়টিও, বিশেষ করে বড় প্রতিষ্ঠানের জন্য গুরুত্বপূর্ণ কারণ হিসেবে উঠে এসেছে।
কাসপারস্কির এসওসি কনসাল্টিং প্রধান রোমান নাজারভ বলেন, “একটি সফল এসওসি গড়তে শুধু আধুনিক প্রযুক্তি থাকলেই হয় না। এর পাশাপাশি কাজের পদ্ধতি আগে থেকেই ঠিক করা, লক্ষ্য পরিষ্কারভাবে নির্ধারণ করা এবং জনবল ও সম্পদ ঠিকভাবে ব্যবহার করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কাজের স্পষ্ট নিয়মকানুন ও ধারাবাহিক উন্নয়নের মাধ্যমে নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা আসল ও জরুরি ঝুঁকিগুলোর দিকে বেশি মনোযোগ দিতে পারেন। এভাবেই এসওসি একটি সক্রিয়, সময়োপযোগী এবং কার্যকর সাইবার নিরাপত্তা ব্যবস্থায় পরিণত হতে পারে বলে আমরা বিশ্বাস করি।’