ফেসবুকে রাষ্ট্র ও সরকারবিরোধী পোস্ট করার অভিযোগে আটক ভোলার জামায়াতে ইসলামীর নারী কর্মী সাওদা সুমি জামিনে মুক্তি পেয়েছেন।
মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) ভোলা জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক সৌরভ রায় মিঠু তার জামিন মঞ্জুর করেন।
এর আগে রোববার (৫ এপ্রিল) রাতে নিজ বাসা থেকে তাকে আটক করে পুলিশ। পরদিন সোমবার তাকে আদালতে সোপর্দ করা হয়। সাওদা সুমি ভোলা পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা এবং আব্দুল হালিম বাবলুর স্ত্রী।
জেলার পুলিশ সুপার মো. শহীদুল্লাহ কাওছার জানান, ফেসবুকে রাষ্ট্র ও সরকারবিরোধী পোস্ট দেওয়ার অভিযোগে তাকে আটক করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি অভিযোগ স্বীকার করেছেন বলেও দাবি করেন তিনি। পরে তাকে ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৪ ধারায় আদালতে পাঠানো হয়। তবে আটককালে তিনি জামায়াতের কর্মী কি না, তা জানা ছিল না বলেও উল্লেখ করেন পুলিশ সুপার।
অন্যদিকে, এ ঘটনায় পুলিশের ভূমিকার সমালোচনা করেছে জামায়াতে ইসলামী। সোমবার (৬ এপ্রিল) জেলা জামায়াতের আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে জেলা সেক্রেটারি মো. হারুন অর রশীদ দাবি করেন, কোনো দালিলিক প্রমাণ ছাড়াই সাওদা সুমিকে তার বাসা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, সাওদা সুমির একটি তিন বছর বয়সী বাক্প্রতিবন্ধী সন্তান রয়েছে, যার দেখভালের জন্য মায়ের উপস্থিতি অত্যন্ত জরুরি।
ফেসবুকে সমালোচনা করা কোনো অপরাধ নয়: শিশির মনির
সাওদা সুমিকে গ্রেফতারের ঘটনায় নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির।
সোমবার (৬ এপ্রিল) দিবাগত রাতে তার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এক পোস্টে এ প্রতিবাদ জানান।
আইনজীবী শিশির মনির পোস্টে লিখেছেন, ফেসবুকে পোস্ট দেওয়ার কারণে একজন নারীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই। এই পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। উপরে যারা নির্দেশ দিয়েছেন তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নিতে হবে। ডিজিটাল সিকিউরিটি আইন বাতিল করা হয়েছে।
ফেসবুকে পোস্ট দেওয়া-সমালোচনা করা কোনো অপরাধ নয়। সমালোচনা করতেই পারে।
তিনি সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, অতি উৎসাহী পুলিশ সদস্যদের চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নিন। দ্রুত এই বোনকে জামিনের ব্যবস্থা করুন। তার পরিবারের কাছে কৈফিয়ৎ দিন।
আটকের কারণ :
ফেসবুকে পোষ্ট দেয়ার কারনে গত ৫ এপ্রিল দিবাগত রাত ১১টায় ভোলা পৌরসভার নিজ বাসভবন থেকে বিবি সাওদাকে গ্রেপ্তার করে গোয়েন্দা পুলিশ। দেশব্যাপি তীব্র সমালোচনার ঝড় উঠে। এনিয়ে জাতীয় সংসদে কথা বলেন বিরোধী দলীয় হুইপ, জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল রফিকুল ইসলাম খান।

ফেসবুকে জ্বালানি তেল সংকট ও একটি ফটোকার্ড শেয়ার করার অভিযোগে রোববার (৫ এপ্রিল) রাত ১১টার দিকে নিজ বাসভবন থেকে বিবি সাওদাকে গ্রেপ্তার করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। এই খবর ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়।

বিবি সাওদা জেল থেকে মুক্তি লাভ করে বলেন,
কেউ কথা বলবে না, সবাই চুপ করে বোবা হয়ে থাকবে? তাহলে আবার আগামী আগামী ১৭ বছর আমরা আবার কি জেলের মধ্যে থাকবো? আমরা এই আন্দোলনে এই রক্তাক্ত এই ২,০০০ মানুষের রক্ত কি শুধু শুধু বৃথা যাবে? এতগুলো মানুষ অন্ধ হলো, পঙ্গু হলো।
আমার ভাই, আমার বোন, আমার রক্ত তারা শুধু শহীদ হয় না, আমাদের আত্মাকে নিয়ে শহীদ হয়ে তাদের এই ত্যাগের ত্যাগের বিনিময়ে যদি আমরা সবাই চুপ করে থাকি, তাহলে কি লাভ হলো আমাদের? এই বাকশালীরা যদি ফিরেই আসে তাহলে এতক্ষণ রক্ত দিয়ে লাভ হলো?