• ১১ই এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ , ২৮শে চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ , ২৩শে শাওয়াল, ১৪৪৭ হিজরি

ইরান ‘প্রকৃত চুক্তি’ না মানলে ফের যুদ্ধের হুমকি দিলেন ট্রাম্প,হুমকির পাত্তা দিচ্ছে না ইরান

Usbnews.
প্রকাশিত এপ্রিল ৯, ২০২৬
ইরান ‘প্রকৃত চুক্তি’ না মানলে ফের যুদ্ধের হুমকি দিলেন ট্রাম্প,হুমকির পাত্তা দিচ্ছে না ইরান
নিউজটি শেয়ার করুনঃ

ইরানের সঙ্গে সম্পাদিত সাম্প্রতিক যুদ্ধবিরতি সত্ত্বেও তেহরান যদি চূড়ান্ত ও ‘প্রকৃত চুক্তি’ পুরোপুরি মেনে না চলে, তবে পুনরায় যুদ্ধ শুরুর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, মধ্যপ্রাচ্য এবং ইরানের চারপাশে মোতায়েন করা সব মার্কিন যুদ্ধজাহাজ, বিমান ও সামরিক সরঞ্জাম আগের অবস্থানেই বহাল থাকবে।

ট্রাম্পের এই কড়া বার্তা মূলত দুই সপ্তাহের সাময়িক যুদ্ধবিরতি চলাকালীন তেহরানের ওপর মনস্তাত্ত্বিক ও সামরিক চাপ অব্যাহত রাখার একটি কৌশল হিসেবে দেখা হচ্ছে। তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, ইরান যদি কোনো কারণে শর্ত ভঙ্গ করে, তবে যুক্তরাষ্ট্র এমন ভয়াবহ আক্রমণ শুরু করবে যা পৃথিবী আগে কখনো দেখেনি।

উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়েছে, তবে মার্কিন বাহিনী ও অতিরিক্ত গোলাবারুদ যেকোনো পরিস্থিতির জন্য পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে। তিনি দাবি করেন, ইরানের সঙ্গে আগে থেকেই একটি সমঝোতা হয়েছে যেখানে দেশটির পারমাণবিক কর্মসূচি পুরোপুরি বন্ধ রাখা এবং হরমুজ প্রণালীকে নিরাপদ ও উন্মুক্ত রাখার শর্ত রয়েছে।

ট্রাম্পের মতে, এই শর্তগুলো মানা না হলে শান্তিকালীন বিরতি শেষে পুনরায় ‘লড়াকু অভিযান’ শুরু হবে। তিনি আরও যোগ করেন যে, বর্তমানে মার্কিন সেনারা ‘লোডিং ও রেস্টিং’ পর্যায়ে রয়েছে এবং তারা পরবর্তী বিজয়ের জন্য মুখিয়ে আছে।

বিবৃতিতে ট্রাম্প বারবার এই চুক্তিতে থাকা পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরেছেন। তিনি তথাকথিত ‘ভুয়া প্রচারণাকে’ তুচ্ছজ্ঞান করে দাবি করেন যে, ইরানের পারমাণবিক অস্ত্র থাকবে না—এটি একটি চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত।

ট্রাম্পের এই কঠোর অবস্থানের ফলে মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে, কারণ ইরান যদি কোনোভাবে এই ‘প্রকৃত চুক্তি’র শর্ত নিয়ে দ্বিমত পোষণ করে, তবে বড় ধরনের সামরিক সংঘাত ফিরে আসার আশঙ্কা রয়েছে। বিবৃতিতে তিনি উচ্চকণ্ঠে ঘোষণা করেছেন যে, আমেরিকা বিশ্বমঞ্চে নিজের ক্ষমতা নিয়ে দাপটের সঙ্গে ফিরে এসেছে।

বর্তমানে ইরানের চারপাশে মার্কিন সেনাদের অবস্থান অপরিবর্তিত রাখা এবং নতুন করে রসদ সরবরাহ করার বিষয়টি ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, ওয়াশিংটন কেবল আলোচনার টেবিলে সীমাবদ্ধ থাকতে চাইছে না।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের এই আক্রমণাত্মক বার্তা এমন এক সময়ে এল যখন পাকিস্তান ও ইরানের পক্ষ থেকে ইসলামাবাদে ১০ এপ্রিলের শান্তি আলোচনার জন্য ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। ট্রাম্পের দেওয়া এই শর্তসাপেক্ষ যুদ্ধবিরতি মূলত একটি আল্টিমেটাম হিসেবেই গণ্য হচ্ছে, যা ইরানকে একটি চূড়ান্ত চুক্তিতে সই করতে বাধ্য করার চাপ হিসেবে কাজ করবে।

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে ঘোষিত ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) দ্বিতীয় দিনে পড়েছে। এর মধ্যেই লেবাননে ব্যাপক বোমা হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। এর ফলে তেহরানও নতুন করে যুদ্ধের হুমকি দিয়েছে।

বার্তাসংস্থা এএফপি জানায়, দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি ও আলোচনার বিষয়ে একমত হওয়ার পর ওয়াশিংটন ও তেহরান উভয়পক্ষই নিজেদের জয় দাবি করেছে। মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে হাজার হাজার মানুষের প্রাণহানি এবং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক বিপর্যয় সৃষ্টিকারী এই যুদ্ধ বন্ধ করাই এই আলোচনার লক্ষ্য।

তবে বুধবারেই এই চুক্তিতে ফাটল দেখা দেয়। মার্চে হিজবুল্লাহ যুদ্ধে জড়ানোর পর এটিই ছিল লেবাননে ইসরায়েলের সবচেয়ে ভয়াবহ হামলা। বৈরুতের জনবহুল এলাকাগুলোও এই হামলার শিকার হয়েছে।

লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানায়, বুধবারের হামলায় অন্তত ২৫৪ জন নিহত এবং প্রায় ৯০০ জন আহত হয়েছেন।

ইসরায়েল জানিয়েছে, হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে তাদের লড়াই মঙ্গলবার রাতে হওয়া ইরান-যুক্তরাষ্ট্র চুক্তির অংশ নয়। একই সুরে কথা বলেছেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স।

ভ্যান্স বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র কখনোই লেবাননকে এই যুদ্ধবিরতির অংশ বলেনি। লেবানন ইস্যুতে ইরান যদি এই আলোচনা ভেস্তে দিতে চায়, তবে সেটি তাদের একান্তই নিজস্ব সিদ্ধান্ত।’

তবে ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ যুদ্ধবিরতি নিয়ে হুমকি দিয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ এক পোস্টে তিনি বলেন, আলোচনার ভিত্তি এরই মধ্যে লঙ্ঘিত হয়েছে। ফলে পরবর্তী আলোচনা এখন ‘অযৌক্তিক’।

গালিবাফ যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের তিনটি অভিযোগ তুলেছেন, লেবাননে অব্যাহত হামলা, ইরানি আকাশসীমায় ড্রোনের অনুপ্রবেশ এবং ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের অধিকার প্রত্যাখ্যান।

যুদ্ধবিরতির স্থায়িত্ব নিয়ে শঙ্কার মাঝে একজন মার্কিন কর্মকর্তা জানান, ইরান যে ১০ দফা পরিকল্পনার কথা বলছে, যুদ্ধ বন্ধে হোয়াইট হাউস সেই শর্তগুলোতে রাজি হয়নি।

এদিকে ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী সতর্ক করে বলেছে, ইসরায়েল হামলা বন্ধ না করলে তারা পাল্টা জবাব দেবে। অন্যদিকে হিজবুল্লাহ জানায়, তাদেরও প্রতিশোধ নেওয়ার ‘অধিকার’ রয়েছে।

সূত্র: আল জাজিরা