অধস্তন আদালতের ২৮ বিচারককে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিয়ে ফেসবুক পোস্ট দেওয়ায় শোকজ, সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয়, গুম প্রতিরোধ ও মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশ, ২০২৫ বাতিলের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) সমর্থিত আইনজীবী সংগঠন ন্যাশনাল ল’ইয়ার্স অ্যালায়েন্স (এনএলএ)।
বুধবার (৮ এপ্রিল) দুপুরে সুপ্রিম কোর্টে এক সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট আজমল হোসেন এই প্রতিবাদ জানান।
তিনি বলেন, বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তাদের নির্বাহী উপায়ে ফ্যাসিস্ট আমলে প্রণীত একটি সার্কুলারের আলোকে শোকজ করা বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস বিধিমালা, ২০১৭ অনুসারে বেআইনি ও সংবিধানের ৩৯ অনুচ্ছেদের পরিপন্থী। আমরা এহেন শোকজকে বিচার বিভাগের ওপর নির্বাহী বিভাগের ভয় দেখানোর কৌশল মনে করছি।
তিনি আরও বলেন, অবিলম্বে বিচার বিভাগকে স্বাধীনতা দিয়ে বিচারকদেরকে করা শোকজ নোটিশ প্রত্যাহার করে বিচার বিভাগের ওপর এই নগ্ন হস্তক্ষেপ বন্ধ করতে হবে।
হাইকোর্টের রায় অনুসারে অনতিবিলম্বে বিচার বিভাগের জন্য আলাদা সচিবালয় করার আহ্বান জানান তিনি।
আজমল হোসেন বলেন, সরকার কর্তৃক জনগুরুত্বপূর্ণ তিনটি অধ্যাদেশ বাতিলের প্রাথমিক সিদ্ধান্তে ন্যাশনাল ল’ইয়ার্স অ্যালায়েন্স গভীর উদ্বেগ ও তীব্র প্রতিবাদ জানায়। বিচার বিভাগের স্বাধীনতা খর্বকারী সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় অধ্যাদেশ, ২০২৫ বাতিল হলে বিচার বিভাগ পুনরায় নির্বাহী বিভাগের নিয়ন্ত্রণে চলে যাবে, যা মাজদার হোসেন মামলার রায়ের পরিপন্থী।
এনএলএ আহ্বায়ক বলেন, গুমবিরোধী আন্তর্জাতিক সনদে (ICPPED) স্বাক্ষরকারী হিসেবে এই অধ্যাদেশ বাতিল করলে আন্তর্জাতিক অঙ্গীকার লঙ্ঘনের পাশাপাশি গুমের শিকার পরিবারগুলো ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হবে এবং অপরাধীদের দায়মুক্তির সুযোগ তৈরি হবে।
তিনি বলেন, মানবাধিকার কমিশনকে শক্তিশালী করার উদ্যোগ রুখে দিলে সংস্থাটি পুনরায় দন্তহীন বাঘে পরিণত হবে।
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন ন্যাশনাল ল’ইয়ার্স অ্যালায়েন্সের সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট খন্দকার এরশাদুল বারী, মুখ্য সংগঠক অ্যাডভোকেট সাকিল আহমাদ, কেন্দ্রীয় যুগ্ম আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট সাহাবুল বাশার, কেন্দ্রীয় সদস্য অ্যাডভোকেট মো. মনিরুজ্জামান, অ্যাডভোকেট আশরাফী সানজিদা প্রমুখ।