স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমদের আইনের ব্যাখ্যা ও নানা বক্তব্যের সমালোচনা করে রাষ্ট্রবিজ্ঞানী ও রাজনীতি বিশ্লেষক অধ্যাপক দিলারা চৌধুরী বলেছেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর আইনের কচকচানিতে জাতি আজ বিভ্রান্ত। তিনি অর্ধেক সত্য বলে মানুষকে ধোঁকা দিচ্ছেন। সংবিধানের স্পিরিট তথা জনগণের ইচ্ছার চেয়ে আইন কখনো বড় হতে পারে না।

সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির আহ্বান জানিয়েছেন গণভোটের ফলাফল মেনে নিয়ে দ্রুত সংবিধান সংস্কার সভার (কনস্টিটিউশনাল রিফর্ম অ্যাসেম্বলি) অধিবেশন ডাকার। জনগণের দেওয়া গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না করলে দেশ নতুন করে সাংবিধানিক ও অনাস্থার সংকটে পড়বে।
এলডিপি চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) ড. অলি আহমেদ বীর বিক্রম বলেন, জুলাই আন্দোলনের লক্ষ্য ছিল সাংবিধানিক সংস্কার ও বৈষম্য দূর করা। তিনি বলেন, গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানে নিয়োগে দলীয়করণ বন্ধ করতে হবে।
জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, সরকার আগে বলেছে গণভোট অবৈধ, এখন আবার বৈধ বলছে। তিনি প্রশ্ন রাখেন—সরকারের এমপি-মন্ত্রীরা কি গণভোটে ‘না’ ভোট দিয়েছেন?
ড. এ এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, রাজনৈতিক দলগুলোর ঐকমত্যে জুলাই সনদ তৈরি হয়েছে এবং গণভোটের মাধ্যমে তা আরও শক্তিশালী হয়েছে। এখন তা বাস্তবায়ন করা জরুরি।


দৈনিক আমার দেশ সম্পাদক ড. মাহমুদুর রহমান বলেন, আমি গণভোটকে আইনগত কিংবা সাংবিধানিক তর্ক হিসেবে দেখতে চাই না। গণভোট ও জুলাই সনদকে জুলাই বিপ্লবের স্পিরিটে দেখে এসেছি। বিপ্লবের আগে থেকেই আমি বিপ্লবের স্বপ্ন দেখে এসেছি। বিপ্লবের পরও আমি বিপ্লবের স্পিরিটকে একশোভাগ ধারণ করার চেষ্টা করেছি। জুলাই বিপ্লবকে যদি আমরা অস্বীকার করি তাহলে আমরা গণভোটকে অস্বীকার করব। যারা আজকে গণভোটকে দুর্বল করার চেষ্টা করছেন, গণভোটের আইনি তর্ক তুলছেন, তারা আসলে কতটা জুলাই বিপ্লবকে ধারণ করেন সেটা নিয়ে সন্দেহ আছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষক অধ্যাপক ডা. দিলারা চৌধুরী বলেন, জনগণের রায়ের ঊর্ধ্বে কিছু নেই। গণভোটের রায়ই চূড়ান্ত হওয়া উচিত।
বর্তমান সংকট রাজনৈতিক অস্থিরতা ও অঙ্গীকার ভঙ্গের ফল। তারা সবাই গণভোটের রায় মেনে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের আহ্বান জানান বক্তারা।
সভাপতির বক্তব্যে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিশের আমির মাওলানা মামুনুল হক বলেন, জনগণকে উপেক্ষা ও অপমান করার প্রবণতাই আজকের সংকটের মূল কারণ। জনগণের রায় অমান্য করলে রাজপথেই এর সমাধান হবে, সতর্ক করেন তিনি।
আন্দোলন শুরু, সফল করার আহ্বান জামায়াত আমিরের
জাতীয় সংসদে ফ্যাসিবাদের কালো ছায়া ফিরে এসেছে বলে অভিযোগ করেছেন জামায়াতের আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে সরকারের বিরুদ্ধে চলমান আন্দোলন আরও বড় আকার ধারণ করবে।
ডা. শফিকুর রহমান অভিযোগ করেন, জাতীয় সংসদে আবারও ‘ফ্যাসিবাদী ধারা’ ফিরে এসেছে। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, জুলাইয়ের চেতনার বিপরীতে অবস্থান নিয়ে সরকার শেষ পর্যন্ত পার পাবে না।
তিনি আরও বলেন, গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবিতে যে আন্দোলন শুরু হয়েছে, তা সফল না হওয়া পর্যন্ত বন্ধ হবে না। বরং সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এ আন্দোলন আরও বৃহৎ রূপ নেবে।
বিএনপি জাতিকে বর্তমান দুর্যোগে টেনে এনেছে বলে অভিযোগ করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেছেন, বিএনপিকে এর দায়ভার ও পরিণতি ভোগ করতে হবে।
সোমবার (১৩ এপ্রিল) রাজধানীর ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউটে (আইইডিবি) ‘গণভোটের রায়ের বিরুদ্ধে সরকার: সংকটের মুখোমুখি দেশ’ শীর্ষক জাতীয় সেমিনারে বক্তব্যে তারা এসব কথা বলেন ।

সেমিনারটির আয়োজন করে ১১ দলীয় ঐক্য।সেমিনারে ১১ দলীয় ঐক্যের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।সেমিনারে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ ও আইন অঙ্গনের বিশিষ্ট ব্যক্তিরা অংশ নেন। বক্তারা তাদের বক্তব্যে গণভোটের রায় অনুযায়ী ‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। একই সঙ্গে চলমান তেল সংকট ও হাম সংক্রমণ পরিস্থিতি নিয়েও সরকারের সমালোচনা করা হয়।
অধ্যাপক দিলারা চৌধুরী বলেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কখনো সাংবিধানিক সার্বভৌমত্বের কথা বলছেন, আবার কখনো বলছেন সংবিধানে গণভোটের কথা নেই।
তিনি ইচ্ছা করেই সংবিধানের ‘স্পিরিট’ তথা মূল চেতনার কথা বলছেন না। সংবিধান মানুষের জন্য, আইন দিয়ে সবকিছু হয় না।
বিশ্বের বহু দেশে লিখিত সংবিধানের ওপরেও জনগণের ইচ্ছাকে স্থান দেওয়া হয়। অথচ মন্ত্রী অর্ধেক সত্য বলে পুরো মিথ্যা ছড়ানোর চেয়েও ভয়ংকর কাজ করছেন।
জুলাই বিপ্লবের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, আমরা আশা করেছিলাম ’২৪-এর আন্দোলনের পর দেশে সুস্থ রাজনীতি ও বৈষম্যহীন গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হবে। কিন্তু দুঃখের বিষয়, আমরা সেই পথ থেকে সরে যাচ্ছি। জুলাই সনদ ও গণভোটকে অস্বীকার করা মানে হাজারো তরুণ ও ছাত্রের আত্মত্যাগকে বৃথা করে দেওয়া। এটা আমরা মেনে নিতে পারি না।

বিচার বিভাগের স্বাধীনতার অনিশ্চয়তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে দিলারা চৌধুরী বলেন, বিচার বিভাগের আলাদা সচিবালয় দিতে বর্তমান সরকার অনীহা দেখাচ্ছে। অর্থের অজুহাত দিয়ে বিচার বিভাগকে কুক্ষিগত করে রাখা হচ্ছে। বিচার বিভাগে হাত দেওয়া মানে হলো স্বৈরতন্ত্রের পথে অগ্রসর হওয়া। সাবেক সরকারের সময় অলিগার্কদের যে রাজত্ব ছিল, এখন আবার আমরা তাদেরই পদধ্বনি শুনতে পাচ্ছি।
তিনি প্রশ্ন তুলে বলেন, সংবিধানে দলীয় প্রধান বা নেতার একটি সুনির্দিষ্ট অবস্থান থাকে। বর্তমান সমস্যাগুলো নিয়ে দলীয় নেতা কী ভাবছেন তা পরিষ্কার নয়। দলীয় নেতাকে পাশ কাটিয়ে অন্য কেউ কেন কথা বলছেন? সংসদকে যেভাবে একপাক্ষিক চালানোর চেষ্টা করা হচ্ছে, তাতে বিরোধী দলের কণ্ঠ রোধ করা হচ্ছে।

গণঅভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপট তুলে ধরে শিশির মনির বলেন, জগতে কোথাও কি শুনেছেন গণঅভ্যুত্থান সংবিধান মেনে হয়? সংবিধান মেনে তো অভ্যুত্থান হয় না, এটি হয় সংবিধানের বাইরে থেকে। এখন এই রাজনৈতিক বিষয়টিকে আদালতের সাবজেক্ট ম্যাটারে পরিণত করা হয়েছে।
তিনি বলেন, আগামী ১৯ তারিখ আদালত খুলবে। আমরা আশা করছি আদালত খোলার পর সংবিধান সংস্কার বাস্তবায়ন আদেশের প্রশ্নটি উত্থাপিত হবে। যদি বাংলাদেশের আদালত তার মেরুদণ্ড সোজা করে দাঁড়াতে পারে, তবে এই ক্ষেত্রে তাদের উচিত হবে সরকারের বিরুদ্ধে রায় দেওয়া।
সংবিধান সংস্কারের প্রক্রিয়া ব্যাখ্যা করে এই আইনজীবী বলেন, গণভোটের রেজাল্ট মেনে নিয়ে ১৮০ দিনের জন্য সংবিধান সংস্কার সভার অধিবেশন ডাকতে হবে। এরপর উচ্চকক্ষ ও নিম্নকক্ষ—এই দুই ভাগে পার্লামেন্ট বিভক্ত হয়ে যাওয়ার কথা। উচ্চকক্ষ গঠিত হওয়ার কথা ১০০ জনকে নিয়ে, যেখানে ভোটের সংখ্যানুপাতে দলগুলো আসন পাবে। এই কর্মকাণ্ড যদি আপনারা প্রদর্শন না করেন, তবে তা হবে ইতিহাসের এক কলঙ্কজনক অধ্যায়।
তিনি বলেন, আমি সুইজারল্যান্ড থেকে শ্রীলঙ্কা পর্যন্ত ২৬টি দেশের নজির সংগ্রহ করেছি। দুনিয়ার ইতিহাসে এমন একটা উদাহরণ নেই, যেখানে মানুষ গণভোটের রায় দিয়েছে আর সরকার তা মানেনি।
আদালত ও রাজনৈতিক ইস্যু নিয়ে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকার আমরা রাজনৈতিকভাবে প্রবর্তন করেছিলাম। সেটাকে কোর্টে নিয়ে গিয়ে ‘অসাংবিধানিক’ বলা হলো। ফলে ১৭ বছর দেশে আগুন জ্বলল। এখন আবার কোর্ট বলছেন, সেটা সাংবিধানিক। রাজনৈতিক প্রশ্নের সমাধান যখন কোর্টে খোঁজা হয়, তখন সংকট আরও বাড়ে।
‘থুতু নিজের গায়েই পড়বে’— এমন মন্তব্য করে সরকারের উদ্দেশ্যে শিশির মনির বলেন, মিসাইল ছুড়লে তার নিয়ন্ত্রণ নিজের হাতে রাখতে হয়। তা না হলে সেই মিসাইল কার বাড়িতে গিয়ে পড়বে, কোনো শিশু বা নারীকে হত্যা করবে, তার ঠিক থাকে না। আপনারা ওপর দিকে চেয়ে থুতু দিচ্ছেন, অপেক্ষা করেন, কয়দিন পর এই থুতু ঘুরে আপনাদের নিজেদের গায়েই পড়বে।

বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। বিশেষ অতিথি ছিলেন বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম।
বর্তমান সরকারকে ‘শেখ হাসিনার ভূতে ধরেছে’ বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মুহাম্মদ মামুনুল হক। তিনি বলেন, শেখ হাসিনাকে যে ভূত ধরেছিল, তিনি বিতাড়িত হওয়ার পর সেই ভূত এখন বর্তমান সরকারের ওপর সওয়ার হয়েছে। আর সেই ভূত হলো জনগণকে অপমান করার।
মামুনুল হক বলেন, মামুনুল হক বলেন, শেখ হাসিনার ১৫ বছরের শাসনকাল ছিল এদেশের জনগণকে নিয়ে উপহাস করা। তিনি জনগণের মতামতের তোয়াক্কা না করে উন্নয়নকে গণতন্ত্রের সংজ্ঞা হিসেবে দাঁড় করিয়েছিলেন। সবশেষে চার কোটি ছাত্র-জনতাকে ‘রাজাকার’ বলে গালি দিয়ে নিজের পতনের কফিনে শেষ পেরেকটি মেরেছেন। তিনি জনগণকে অপমান করার পরিণতি ভোগ করছেন।
বিএনপির ভূমিকার সমালোচনা করে তিনি আরও বলেন, বর্তমান সরকারের কর্মকাণ্ড দেখে মনে হচ্ছে তারাও জনগণকে তুচ্ছতাচ্ছিল্য করছে। সংসদে দাঁড়িয়ে জনগণকে মূর্খ সাব্যস্ত করা হচ্ছে এবং সংবিধান পড়ার ছলে তিনশ সদস্যের জনপ্রতিনিধিদের মাস্টার সাজানোর চেষ্টা চলছে। দাম্ভিকতার একটা সীমা থাকা উচিত।

সংসদীয় সার্বভৌমত্বের দোহাই দিয়ে সরকার দেশে ‘সংসদীয় স্বৈরতন্ত্র’ কায়েম করতে চাচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষার।
সারোয়ার তুষার বলেন, ‘যে কোনো সভ্য গণতান্ত্রিক দেশে আইনমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর মতো ব্যক্তিদের পদে থাকার কোনো নৈতিক অধিকার নেই। তারা জাতিকে অসত্য তথ্য দিয়ে বিভ্রান্ত করছেন।’
সেমিনারে তিনি সরকারের কঠোর সমালোচনা করে বলেন, বিরোধীদলের মাত্র ৭৮ জন সংসদ সদস্য থাকলেও জুলাই গণঅভ্যুত্থান ও সংস্কার ইস্যুতে তারা সোচ্চার। অথচ দুই তৃতীয়াংশ আসন নিয়ে সরকারি দলের সদস্যরা নীরব। আইনমন্ত্রী সংসদে দাঁড়িয়ে একের পর এক অসত্য তথ্য দিচ্ছেন। মানবাধিকার কর্মীরা দেখিয়েছেন তিনি অন্তত ১০-১৫টি বিষয়ে জাতিকে ভুল তথ্য দিয়েছেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে সারোয়ার তুষার বলেন, সরকারের এই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সবচেয়ে ব্যর্থ। তিনি নিজের মন্ত্রণালয়ের খবর না রেখে ক্রীড়া থেকে স্বাস্থ্য সব বিষয়ে উত্তর দিচ্ছেন। অথচ গত দুই মাসে দলীয় কোন্দলে ৩০ জনের বেশি বিএনপি নেতাকর্মী হত্যার শিকার হয়েছেন। তিনি নিজেকে সংবিধান বিশেষজ্ঞ মনে করলেও প্রতি পদে ভুল ও বিভ্রান্তিকর ব্যাখ্যা দিচ্ছেন। তার এই ‘মাস্টারি’ করার স্পর্ধা পুরো জাতির জন্য অপমানজনক।
বিএনপির সমালোচনা করে এনসিপির এই নেতা বলেন, আওয়ামী লীগ হচ্ছে সফল বিএনপি, আর বিএনপি হচ্ছে ব্যর্থ আওয়ামী লীগ। বিএনপি যে রাস্তা দেখিয়েছিল, আওয়ামী লীগ সেই পথেই সফলভাবে স্বৈরতন্ত্র চালিয়েছে। বিএনপি নিজের খোঁড়া গর্তে নিজেই পড়েছে। এখন শুনছি প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনে বাঙ্কার ও টানেল করা হচ্ছে। কিন্তু জনগণের রায়ের বিরুদ্ধে গিয়ে বাঙ্কার করে কোনো লাভ হবে না।
সারোয়ার তুষার আরও বলেন, সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা ও চিফ হুইপ জুলাই গণঅভ্যুত্থান নিয়ে কথা বললেও সরকারপক্ষ নির্বাক। বড় মাছ ছোট মাছকে গিলে খাওয়ার মতো এই যে সংসদীয় স্বৈরতন্ত্রের চক্রান্ত, তা ১১ দলীয় জোট ও দেশের জনগণ সফল হতে দেবে না।
বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান বলেছেন, আওয়ামী ফ্যাসিবাদ গণঅভ্যুত্থানের মুখে দেশ ছেড়ে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছে। কিন্তু বর্তমান বিএনপি সরকার রাষ্ট্র মেরামতের প্রশ্নে সংখ্যাগরিষ্ঠতার দোহাই দিয়ে গণভোটের রায়কে অবজ্ঞা করছে, যা জনগণের আকাঙ্ক্ষার পরিপন্থি।
তিনি বলেন, গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না হলে জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করা হবে। তাই গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবিতে রাজপথে আন্দোলন গড়ে তুলতে বাংলাদেশ লেবার পার্টির সর্বস্তরের নেতাকর্মীদের প্রস্তুত থাকতে হবে।