• ১৫ই এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ , ২রা বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ , ২৭শে শাওয়াল, ১৪৪৭ হিজরি

ইরানের সঙ্গে ট্রাম্প ছোটখাটো নয় বরং বড় ধরনের সমঝোতা চান: ভ্যান্স

Usbnews.
প্রকাশিত এপ্রিল ১৫, ২০২৬
ইরানের সঙ্গে ট্রাম্প ছোটখাটো নয় বরং বড় ধরনের সমঝোতা চান: ভ্যান্স
নিউজটি শেয়ার করুনঃ

ইরানের সঙ্গে ট্রাম্প ছোটখাটো নয় বরং বড় ধরনের সমঝোতা চান: ভ্যান্স

যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স জানিয়েছেন, ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে চলমান সংকট নিরসনে কোনো ছোটখাটো বা সাময়িক চুক্তিতে আগ্রহী নন, বরং তিনি একটি ‘গ্র্যান্ড বার্গেইন’ বা বৃহৎ ও স্থায়ী সমঝোতা করতে চান। জর্জিয়ায় আয়োজিত ‘টার্নিং পয়েন্ট ইউএসএ’ কনফারেন্সে দেওয়া এক বক্তব্যে ভ্যান্স ট্রাম্প প্রশাসনের এই কৌশলগত অবস্থানের কথা পরিষ্কার করে

তিনি বলেন, ইরান যদি একটি ‘স্বাভাবিক দেশের মতো’ আচরণ করতে রাজি হয়, তবে যুক্তরাষ্ট্র তাদের সঙ্গে অর্থনৈতিক সম্পর্ক স্বাভাবিক করতে প্রস্তুত রয়েছে। ভ্যান্সের মতে, ট্রাম্পের মূল নীতি হলো যেকোনো মূল্যে তেহরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করা থেকে বিরত রাখা এবং মধ্যপ্রাচ্যে একটি দীর্ঘমেয়াদী স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা।

চলমান যুদ্ধবিরতি প্রসঙ্গে ভাইস প্রেসিডেন্ট উল্লেখ করেন, গত ছয়-সাত দিন ধরে কার্যকর থাকা এই বিরতি এখনো বজায় রয়েছে, যা একটি ইতিবাচক দিক। তিনি জোর দিয়ে বলেন যে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প কেবল যুদ্ধ থামানোর জন্য কোনো ক্ষুদ্র চুক্তিতে সন্তুষ্ট হতে চান না; তিনি এমন একটি বৃহত্তর কাঠামো তৈরি করতে চান যা ভবিষ্যতের সব বিবাদ মিটিয়ে ফেলবে।

ভ্যান্সের এই মন্তব্য এমন এক সময়ে এল যখন ইসলামাবাদে দ্বিতীয় দফার শান্তি আলোচনার জন্য দুই পক্ষ প্রস্তুতি নিচ্ছে। ট্রাম্প প্রশাসনের এই ‘গ্র্যান্ড বার্গেইন’ প্রস্তাবের মধ্যে সম্ভবত ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি পুরোপুরি বন্ধ করা এবং আঞ্চলিক ছায়াযুদ্ধ অবসানের মতো বড় শর্তগুলো অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

বক্তব্য চলাকালে জেডি ভ্যান্স তরুণ ভোটারদের অসন্তোষের বিষয়টিও স্বীকার করেন। তিনি বলেন, তরুণ প্রজন্মের অনেকেই মধ্যপ্রাচ্য নিয়ে বর্তমান প্রশাসনের নীতি পছন্দ করছেন না, সেটি তিনি জানেন। তবে এই মতভেদের কারণে রাজনীতি থেকে দূরে না সরে গিয়ে বরং আরও সক্রিয় হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

ভ্যান্স তরুণদের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘আমি বলছি না যে প্রতিটি বিষয়ে আপনাদের আমার সঙ্গে একমত হতে হবে। তবে একটি বিষয়ে প্রশাসনের সঙ্গে দ্বিমত থাকায় নিজেদের গুটিয়ে নেবেন না। বরং আরও বেশি সম্পৃক্ত হোন এবং নিজেদের কণ্ঠস্বর জোরালোভাবে তুলে ধরুন।’

ট্রাম্প প্রশাসনের এই নতুন কূটনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, একটি বড় চুক্তির লক্ষ্য নিয়ে এগোলে আলোচনার টেবিলে ইরানকে অনেক বড় ছাড় দিতে হতে পারে।

বিশেষ করে ইরানের তেলের ওপর থেকে মার্কিন অবরোধ প্রত্যাহার এবং বৈশ্বিক অর্থনীতিতে দেশটির পুনরায় প্রবেশের সুযোগ এই ‘গ্র্যান্ড বার্গেইন’-এর অংশ হতে পারে। তবে হিজবুল্লাহ এবং আইআরজিসি-র মতো প্রভাবশালী গোষ্ঠীগুলোর অবস্থান এই বিশাল সমঝোতা অর্জনের পথে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এখন দেখার বিষয়, আগামী কয়েক দিনের আলোচনায় ট্রাম্পের এই বৃহৎ পরিকল্পনার কোনো বাস্তব প্রতিফলন ঘটে কি না।

সূত্র: আল জাজিরা