মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতিতে উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে দিয়ে ইরান ঘোষণা করেছে, হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ তার ‘পূর্বাবস্থায়’ ফিরে গেছে। অর্থাৎ এই কৌশলগত জলপথটিতে এখন থেকে পুনরায় ইরানি সশস্ত্র বাহিনীর কঠোর তদারকি ও ব্যবস্থাপনা কার্যকর থাকবে। এর পাশাপাশি দেশটির পূর্ব দিকের আকাশসীমা আংশিক উন্মুক্ত করারও ঘোষণা দিয়েছে তেহরান।
ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র কর্তৃক ইরানি বন্দরগুলোতে নৌ অবরোধ অব্যাহত রাখার প্রতিক্রিয়ায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আইআরজিসির যৌথ সামরিক কমান্ডের দাবি, আমেরিকা ‘অবরোধের’ দোহাই দিয়ে সমুদ্রপথে জলদস্যুতা ও মালপত্র চুরির মতো কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছে।
ইরানি গণমাধ্যম আইআরআইবির বরাত দিয়ে আল জাজিরার প্রতিবেদনে জানানো হয়, যতক্ষণ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র ইরান থেকে যাতায়াতকারী জাহাজগুলোর পূর্ণ স্বাধীনতা ফিরিয়ে না দিচ্ছে, ততক্ষণ হরমুজ প্রণালিতে এই কঠোর নিয়ন্ত্রণ বজায় থাকবে।
এর ফলে এই প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী বাণিজ্যিক ও সামরিক জাহাজগুলোর ওপর ইরানের সামরিক নজরদারি আরও বাড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এদিকে উত্তেজনার মধ্যেই ইরান তার পূর্ব দিকের আকাশসীমা আংশিক উন্মুক্ত করার ঘোষণা দিয়েছে। দেশটির সিভিল এভিয়েশন অথরিটি মুখপাত্রের বরাত দিয়ে জানানো হয়েছে, নির্দিষ্ট কিছু রুটে এখন থেকে যাত্রীবাহী বিমান চলাচল করতে পারবে। ইতিমধ্যে এয়ারলাইনসগুলোর টিকিট বিক্রিও শুরু হয়েছে বলে জানা গেছে, যা গত কয়েক সপ্তাহের অচলাবস্থার পর সাধারণ যাত্রীদের জন্য কিছুটা স্বস্তির খবর।
অপর দিকে ইরানের সামরিক বাহিনী দাবি করেছে, তারা দেশটিতে সক্রিয় যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল এবং যুক্তরাজ্যের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বেশ কিছু ‘গুপ্তচর সেল’ বা নেটওয়ার্ক উন্মুক্ত ও ধ্বংস করতে সক্ষম হয়েছে।
আইআরজিসির গোয়েন্দা শাখার তথ্য অনুযায়ী: এই নেটওয়ার্কগুলো পূর্ব আজারবাইজান, কেরমান এবং মাজান্দারান প্রদেশে সক্রিয় ছিল। তাদের মূল লক্ষ্য ছিল গোয়েন্দাগিরি করা, নেটওয়ার্ক তৈরি এবং ইরানে অস্থিরতা উসকে দেওয়া।
ইরানের ফারস নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, এই চক্রগুলো দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা বিঘ্নিত করার গভীর ষড়যন্ত্রে লিপ্ত ছিল।