• ২১শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ , ৮ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ , ৪ঠা জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি

‘মুহুর্মুহু বোমা’ ফেলার হুংকার ট্রাম্পের, ‘নতুন তাস’ দেখানোর হুঁশিয়ারি ইরানের

Usbnews.
প্রকাশিত এপ্রিল ২১, ২০২৬
‘মুহুর্মুহু বোমা’ ফেলার হুংকার ট্রাম্পের, ‘নতুন তাস’ দেখানোর হুঁশিয়ারি ইরানের
নিউজটি শেয়ার করুনঃ

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিতীয় দফা শান্তি আলোচনা এ সপ্তাহে পাকিস্তানে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও তা এখনো অনিশ্চয়তার মুখে। চলতি সপ্তাহের শুরুতে হরমুজ প্রণালির কাছে ইরানের পতাকাবাহী একটি জাহাজ যুক্তরাষ্ট্র জব্দ করার পর তেহরানের কর্মকর্তারা আলোচনায় না যাওয়ার হুমকি দিয়েছেন। তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি আগামীকাল বুধবার শেষ হওয়ার কথা। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, এই যুদ্ধবিরতি বাড়ানোর সম্ভাবনা খুবই কম।

অন্যদিকে ইরান বলেছে, অবরোধ আরোপ করে এবং যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করে ট্রাম্প আলোচনার টেবিলকে আত্মসমর্পণের টেবিলে পরিণত করতে চান, অথবা নতুন করে যুদ্ধের পথ তৈরি করতে চাইছেন। ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে লিখেছেন, ‘হুমকির মুখে আমরা কোনো আলোচনা মেনে নেব না।’ গালিবাফ যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় ইরানের প্রধান আলোচক।

গালিবাফ হুঁশিয়ারি দেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে আবার যুদ্ধ শুরু হলে তেহরানের হাতে ‘নতুন তাস’ রয়েছে। তিনি আবারও এক্সে লেখেন, ‘গত দুই সপ্তাহে আমরা যুদ্ধক্ষেত্রে নতুন তাস দেখানোর প্রস্তুতি নিয়েছি।’

যুদ্ধ শেষ করতে আলোচনার আশা প্রকাশ করলেও, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান উভয়ই হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা বাড়িয়ে চলেছে। গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথটি শান্তি আলোচনার একটি কেন্দ্রীয় ইস্যু হয়ে উঠেছে। ট্রাম্প প্রশাসন জানিয়েছে, এ সপ্তাহে পাকিস্তানে শান্তি আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি দল অংশ নেবে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রথমে বলেন, ইসলামাবাদে আলোচনা মঙ্গলবার হবে, তবে তারিখ পিছিয়ে যেতে পারে।

ওয়াশিংটন আবারও তাদের প্রতিনিধি দল পাঠাচ্ছে, যার নেতৃত্বে থাকছেন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। এ ছাড়া এই দলে রয়েছেন ট্রাম্পের মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং জামাতা জ্যারেড কুশনার। তবে আলোচনা নিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যেই ট্রাম্প কঠোর সতর্কবার্তা দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ইরানের সঙ্গে দুই সপ্তাহের ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি যদি কোনো অগ্রগতি ছাড়াই শেষ হয়ে যায়, ‘তাহলে মুহুর্মুহু বোমা পড়তে শুরু করবে।’

পিবিএস নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে চুক্তি ছাড়াই যুদ্ধবিরতি শেষ হলে কী হবে—এই প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, ‘তাহলে মুহুর্মুহু বোমা পড়তে শুরু করবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘মানে, তাদের সেখানে (ইসলামাবাদে) থাকার কথা। আমরা সেখানে থাকার ব্যাপারে সম্মত হয়েছিলাম, যদিও তারা বলছে আমরা হইনি। কিন্তু না, এটি ঠিক করা হয়েছিল। এখন দেখা যাবে তারা সেখানে থাকে কি না। যদি তারা না থাকে, তাতেও সমস্যা নেই।’

মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াশিংটন পোস্টকে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক ইরানি কর্মকর্তা বলেন, ট্রাম্পের প্রকাশ্য বক্তব্যের ভাষা এবং চলমান যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ—এই দুই বিষয়ই আলোচনাকে সবচেয়ে বেশি হুমকির মুখে ফেলছে। তিনি দাবি করেন, দুই পক্ষ মূলত একটি চুক্তির কাঠামো নিয়ে অনেকটাই একমত হয়েছিল। কিন্তু ট্রাম্পের প্রকাশ্য ‘ম্যাক্সিমালিস্ট’ বা সবকিছুই আমার চাই ধরনের অবস্থান কূটনৈতিক অগ্রগতিকে ভেস্তে দিতে পারে।

ওয়াশিংটন পোস্টকে এক পাকিস্তানি কর্মকর্তা জানিয়েছেন, পাকিস্তানের মধ্যস্থতাকারীরাও নাকি ট্রাম্প প্রশাসনকে একই ধরনের বার্তা দিয়েছে। তারা জনসম্মুখে কঠোর ভাষা ব্যবহার থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দিয়েছে। একই সঙ্গে তারা যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টকে উৎসাহ দিয়েছে যেন ইসলামাবাদের এই আলোচনা ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র উভয়ের জন্যই ‘উইন-উইন’ হিসেবে উপস্থাপন করা হয়।