• ২৩শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ , ১০ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ , ৬ই জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি

বান্দরবানে ৩ রাবার শ্রমিককে অপহরণ করল সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা

Usbnews.
প্রকাশিত এপ্রিল ২২, ২০২৬
বান্দরবানে ৩ রাবার শ্রমিককে অপহরণ করল সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা
নিউজটি শেয়ার করুনঃ

বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার বাইশারী থেকে তিন রাবার শ্রমিককে অস্ত্রের মুখে অপহরণ করেছে একদল সশস্ত্র সন্ত্রাসী। বুধবার (২২ এপ্রিল) দিবাগত রাত আনুমানিক দেড়টার দিকে ইউনিয়নের আলীক্ষ্যং মৌজার মুসতইল্লা পাহাড় এলাকায় অবস্থিত ‘আবীর রাবার বাগানে’ এই ঘটনা ঘটে।

অপহৃত তিন শ্রমিকই রোহিঙ্গা নাগরিক বলে জানা গেছে। তারা হলেন- টেকনাফের শফিউল্লাহ কাটা এলাকার মো. ছিদ্দিকের ছেলে নুরুল ইসলাম (২০), আনোয়ারের ছেলে এনামুল হক (২০) এবং খুইল্যা মিয়ার ছেলে হাসান (২০)।

বাগান মালিক ও প্রত্যক্ষদর্শী শ্রমিকরা জানান, দিবাগত রাত দেড়টার দিকে ১২ থেকে ১৫ জনের একটি মুখোশধারী সশস্ত্র দল বাগানের স্টাফ কোয়ার্টারে হানা দেয়। তারা দরজা খোলার জন্য চিৎকার শুরু করলে ভেতরে থাকা শ্রমিকরা আতঙ্কিত হয়ে দরজা খুলে দেন। ওই সময় কোয়ার্টারে নারী-পুরুষসহ মোট ১৩ জন ঘুমিয়ে ছিলেন। সন্ত্রাসীরা সবাইকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে ওই তিন তরুণ শ্রমিককে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে যায়।

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী টেপার নুরুল ইসলাম বলেন, ‘হঠাৎ গভীর রাতে দরজায় শব্দ পেয়ে আমরা জেগে উঠি। দরজা খুলতেই মুখোশধারী সশস্ত্র লোকজন আমাদের ওপর চড়াও হয়। তারা অস্ত্র দেখিয়ে ভয়ভীতি প্রদর্শন করে তিনজনকে তুলে নিয়ে যায়। আমরা জীবন রক্ষায় কোনো প্রতিরোধ করতে পারিনি।’

যাওয়ার সময় দুর্বৃত্তরা শ্রমিকদের ৫টি মোবাইল ফোন, ২টি দা এবং ৩টি টর্চলাইটও লুট করে নিয়ে যায়।

আবীর রাবার বাগানের মালিক ও বাইশারী বাজার ব্যবসায়ী পরিচালনা কমিটির সভাপতি আবদুল করিম বান্টু বলেন, ‘শ্রমিকদের মাধ্যমে খবর পেয়েই আমি দ্রুত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে বিষয়টি জানাই।’

নাইক্ষ্যংছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোজাম্মেল হক ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, অপহৃতদের উদ্ধারে পুলিশ ও বিজিবির যৌথ অভিযান চলছে। ওই এলাকায় আফসার গ্রুপ ও সরোয়ার গ্রুপসহ বেশ কয়েকটি সন্ত্রাসী গোষ্ঠী সক্রিয় রয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, তাদের কোনো একটি গ্রুপ এই অপহরণের সঙ্গে জড়িত। উদ্ধার হওয়ার পর বিস্তারিত জানা যাবে।’

উল্লেখ্য, এর আগেও বাইশারী এলাকায় তামাক চাষি অপহরণের ঘটনা ঘটেছিল। স্থানীয়দের দাবি, ইতিপূর্বে অপহৃতদের অধিকাংশই মোটা অঙ্কের মুক্তিপণের বিনিময়ে ছাড়া পেয়েছেন। এই ঘটনার পর এলাকার শ্রমিক ও বাসিন্দাদের মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে।