• ২৩শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ , ১০ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ , ৬ই জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি

১০ দিনেও শেষ হয়নি ভোট গণনা, পেরুর নির্বাচন পরিচালনা প্রধানের পদত্যাগ

Usbnews.
প্রকাশিত এপ্রিল ২২, ২০২৬
১০ দিনেও শেষ হয়নি ভোট গণনা, পেরুর নির্বাচন পরিচালনা প্রধানের পদত্যাগ
নিউজটি শেয়ার করুনঃ

চলতি মাসের শুরুতে অনুষ্ঠিত সাধারণ নির্বাচনে নজিরবিহীন বিশৃঙ্খলা এবং ক্রমবর্ধমান জনরোষের মুখে পদত্যাগ করেছেন পেরুর প্রধান নির্বাচন কর্মকর্তা পিয়েরো করভেতো। ভোট গণনা চলাকালীন এবং নির্বাচনী জালিয়াতির অভিযোগের মাঝেই গতকাল মঙ্গলবার তিনি পদত্যাগের এই ঘোষণা দেন।

পেরুর জাতীয় নির্বাচনী প্রক্রিয়া সংস্থা (ওএনপিই)-এর প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করা পিয়েরো করভেতো সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পদত্যাগের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। ন্যাশনাল বোর্ড অব জাস্টিস (জেএনআই)-এর কাছে পাঠানো চিঠিতে তিনি নির্বাচনে কোনো ধরনের অনিয়মের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তবে তিনি উল্লেখ করেন, আগামী ৭ জুন অনুষ্ঠেয় প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের দ্বিতীয় দফার আগে জনমনে আস্থা ফিরিয়ে আনতেই তিনি সরে দাঁড়াচ্ছেন।

গত ১২ এপ্রিল অনুষ্ঠিত নির্বাচনের প্রথম দফায় রাজধানী লিমা-সহ দেশের বিভিন্ন স্থানে লজিস্টিক বা কৌশলগত নানা সমস্যা দেখা দেয়। এর ফলে নির্ধারিত সময়ের চেয়ে বেশি সময় ধরে ভোট গ্রহণ করতে হয়েছিল। যদিও বিদেশি পর্যবেক্ষকেরা নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় কিছু ভুলত্রুটির কথা বলেছেন, তবে পরিকল্পিত কোনো কারচুপির সুনির্দিষ্ট প্রমাণ তাঁরা পাননি।

পেরুর ন্যাশনাল জুরি অব ইলেকশনস (জেএনআই) জানিয়েছে, আগামী ১৫ মের মধ্যে চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণা করা হবে। বর্তমানে প্রায় ১৭ শতাংশ ভোট পেয়ে ডানপন্থী প্রার্থী কেইকো ফুজিমোরি সবার চেয়ে এগিয়ে রয়েছেন এবং তাঁর দ্বিতীয় দফায় যাওয়া প্রায় নিশ্চিত।

তবে ফুজিমোরির প্রতিদ্বন্দ্বী কে হবেন, তা নিয়ে এখনো ধোঁয়াশা কাটছে না। বামপন্থী কংগ্রেস সদস্য রবার্তো সানচেজ ১২ শতাংশ এবং লিমার সাবেক কট্টর ডানপন্থী মেয়র রাফায়েল লোপেজ আলিয়াগা ১১ দশমিক ৯ শতাংশ ভোট পেয়ে প্রায় সমান অবস্থানে রয়েছেন।

দেশটির রাজনৈতিক ব্যবস্থার ওপর জনগণের আস্থার অভাব এই নির্বাচনের মাধ্যমে আরও প্রকট হয়েছে। জরিপ সংস্থা আইইপি (আইইপি) এবং আইবিসি (আইবিসি)-এর তথ্যমতে, নির্বাচনের আগেই প্রায় ৬৮ শতাংশ নাগরিক নির্বাচনী কর্তৃপক্ষের ওপর অনাস্থা প্রকাশ করেছিলেন।

ইতিমধ্যেই আলিয়াগাসহ বেশ কয়েকজন প্রার্থী নির্বাচনে জালিয়াতির অভিযোগ তুলে প্রথম দফার ভোট বাতিল করার দাবি জানিয়েছেন। বর্তমানে নির্বাচনী কর্তৃপক্ষ হাজার হাজার বিতর্কিত ব্যালট পেপার এবং ত্রুটিপূর্ণ ট্যালি শিটগুলো পুনরায় পর্যালোচনা করছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই অস্থিরতা পেরুর দীর্ঘমেয়াদি রাজনৈতিক সংকটকে আরও গভীর করতে পারে।