ঢাকা, ১ ডিসেম্বর: দমন-পীড়ন করে নির্বাচনকালীন নির্দলীয় সরকারের আন্দোলন সরকার রুখতে পারবে না বলে হুশিয়ারি দিয়েছে বিএনপি।
আটক নেতাদের মুক্তি, মামলা প্রত্যাহার এবং দাবি মেনে নেয়ারও পাশাপাশি সংকট সমাধানে প্রধানমন্ত্রীকে সম্মানজনকভাবে পদত্যাগ করার আহবান জানায় দলটি।
রোববার সকালে অজ্ঞাত স্থান থেকে দলের মুখপাত্র যুগ্ম মহাসচিব সালাহউদ্দিন আহমেদ ভিডিওবিবৃতি পাঠান। এই বিবৃতিতে সাংবাদিকদের বলেন,‘দৃঢ়তার সঙ্গে বলে দিতে চাই, শত দমন-পীড়ন, হত্যা-নির্যাতন ও হামলা চলমান আন্দোলনকে আরো বেগবান করবে।’
তিনি আরো বলেন ‘এখনো সময় আছে, সব নেতাকর্মীকে মুক্তি দিন। সব মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করুন। নির্দলীয় সরকারের দাবি মেনে নিন।’
উল্লেখ্য, নয়াপল্টনের কার্যালয় থেকে শনিবার ভোরে রুহুল কবির রিজভীকে গ্রেপ্তারের পর সালাহউদ্দিন আহমেদকে দলের মুখপাত্রের দায়িত্ব দেয়া হয়। পুলিশ কার্যালয়ে নেতাকর্মীদের প্রবেশ করতে দিচ্ছে না। এ অবস্থায় সালাহউদ্দিন আহমেদ কার্যালয়ে প্রবেশ করতে পারছেন না।
তিনি আত্মগোপনে থেকেই দলের দায়িত্ব পালন ও নেতা-কর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন। টেলিফোন ও বিবৃতি দিয়ে দলের অবস্থান দেশবাসী ও নেতা-কর্মীদের জানাচ্ছেন।
বিরোধীদলীয় নেতাকে রাস্তায় এসে আন্দোলন করার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আহবানের জবাবে যুগ্ম মহাসচিব সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে সবিনয়ে বলতে চাই, পেটুয়া পুলিশ বাহিনী ও আ’লীগের দানবের সঙ্গে শান্তিপ্রিয় আন্দোলনকারী মানবের লড়াই হয় না। ক্ষমতার উত্তাপে প্রধানমন্ত্রী অন্ধ হলেও প্রলয় বন্ধ হবে না।’
নির্দলীয় সরকারের দাবি মেনে নেয়ার আবারো আহবান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘এটা সব গণতন্ত্রকামী মানুষের দাবি। জাতিসংঘসহ সকল আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দাবিতে পরিণত হয়েছে’।
সংলাপ সম্পর্কে সরকারের মন্ত্রী-নেতাদের বক্তব্যকে ‘বিভ্রান্তিমূলক’ অভিহিত করে দলের মুখপাত্র বলেন, ‘একদিকে সরকার সংলাপের কথা বলছে। অন্যদিকে তারা প্রতিনিয়ত রাজপথে বুলেটে ঝাঝরা করছে গণতন্ত্রকামী মানুষের বুক’।
তিনি অভিযোগ করে বলেন,‘র্যাব-পুলিশ-বিজিবি পরিবেষ্টিত আ’লীগের সশস্ত্র ক্যাডাররা প্রতিনিয়ত অসংখ্য বিরোধীদলের নেতাকর্মীদের হত্যা করছে।’
দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয় ভাঙচুর ও তছনছ করে দলের শীর্ষ নেতাদের বারে বারে গ্রেপ্তার করা হচ্ছে অভিযোগ করে সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘বিরোধীদলের অফিস ভাঙচুর করা আ’লীগের রাজনৈতিক সংস্কৃতি। বাসে আগুন দিয়ে মানুষ পুড়িয়ে হত্যা করা ক্ষমতাসীনদের বর্ণাঢ্য ঐতিহ্য’।