ইসরায়েলে পৌঁছেছেন ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের একটি বিশেষ সম্প্রদায়ের ২৫০ জনের বেশি সদস্য। তাঁরা নিজেদের বাইবেলের ‘হারিয়ে যাওয়া গোত্র’-এর বংশধর বলে দাবি করেন। যদিও বিষয়টি নিয়ে ঐতিহাসিক কোন প্রমান উপস্থাপন করা হয় নাই।
আজ শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি জানিয়েছে, দলটি বেন গুরিয়ন বিমানবন্দরে অবতরণ করার পর ইসরায়েলের পতাকার রঙে সাজানো নীল-সাদা বেলুনের তোরণের মাধ্যমে তাঁদের স্বাগত জানানো হয়। এ সময় সেখানে উপস্থিত মানুষেরা ঐতিহ্যবাহী ইহুদি গান গেয়ে তাঁদের অভ্যর্থনা জানান।
ইসরায়েলে পৌঁছানো ওই মানুষগুলো ‘বনে মেনাশে’ নামে পরিচিত—যার অর্থ ‘মেনাশের সন্তান’। তাঁদের দাবি অনুযায়ী, তাঁরা প্রাচীন ইসরায়েলের একটি হারিয়ে যাওয়া গোত্রের পূর্বপুরুষ মেনাশের বংশধর। ইতিহাসে উল্লেখ আছে, খ্রিষ্টপূর্ব ৭২০ সালে অ্যাসিরীয়দের হাতে নির্বাসিত হওয়ার পর এই গোত্র বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়েছিল।
ইসরায়েল সরকারের একটি বিশেষ কর্মসূচির অংশ হিসেবে এই স্থানান্তর কার্যক্রম চলছে। গত নভেম্বরে দেশটির সরকার ভারতের মণিপুর রাজ্য থেকে প্রায় ৪ হাজার ৬০০ বনে মেনাশে সদস্যকে ইসরায়েলে নিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। এ ছাড়া ১৯৯০-এর দশক থেকে এখন পর্যন্ত পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্ত থেকে প্রায় ৪ হাজার বনে মেনাশে ইসরায়েলে বসতি স্থাপন করেছেন। এই গোত্রের এখনো প্রায় ৭ হাজার সদস্য ভারতে অবস্থান করছেন বলে জানিয়েছে ‘শাভেই ইসরায়েল’ নামে একটি সংগঠন—যারা হারিয়ে যাওয়া গোত্রের বংশধরদের খোঁজে কাজ করে।
মৌখিক ইতিহাস অনুযায়ী, শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে বনে মেনাশেরা পারস্য, আফগানিস্তান, তিব্বত ও চীন হয়ে ভ্রমণ করেছেন এবং খতনার মতো কিছু ইহুদি ধর্মীয় রীতি তাঁরা এখনো অব্যাহত রেখেছেন। তবে ঊনবিংশ শতকে ভারতে তাঁরা খ্রিষ্টধর্মে ধর্মান্তরিত হন।
ইসরায়েলে পৌঁছানো নতুন অভিবাসীদের জন্য দেশটির উত্তরাঞ্চলে বসতি স্থাপন করা হবে বলে জানিয়েছে একীকরণ মন্ত্রণালয়। তবে ইসরায়েলের নাগরিকত্ব পেতে তাঁদের আনুষ্ঠানিকভাবে ইহুদি ধর্ম গ্রহণ করতে হবে।
ইসরায়েলের অভিবাসনমন্ত্রী ওফির সোফার ঘটনাটিকে ‘ঐতিহাসিক মুহূর্ত’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি জানান, প্রতিবছর এই সম্প্রদায়ের প্রায় ১ হাজার ২০০ জন করে সদস্যকে ইসরায়েলে আনার পরিকল্পনা রয়েছে।
উল্লেখ্য, ভারতের মণিপুরে প্রায় তিন বছর ধরে জাতিগত সহিংসতা চলছে, যেখানে মেইতেই ও কুকি সম্প্রদায়ের সংঘর্ষে ২৫০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। এই প্রেক্ষাপটে অনেকের জন্য ইসরায়েলে স্থানান্তর নতুন জীবনের সম্ভাবনা তৈরি করছে।