অবরোধের মধ্যে চলাচল করা ইরানি জাহাজ নিয়ে মার্কিন দাবি প্রত্যাখান করেছে ইরান। দেশটি জানিয়েছে, মার্কিন অভিযোগের কোনো বাস্তব ভিত্তি নেই।
শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) বার্তাসংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, সামরিক বাহিনী যে ইরানি পতাকাবাহী কার্গো জাহাজটি আটক করেছে, সেটি ‘চীনের পক্ষ থেকে দেওয়া উপহার’ বহন করছিল। যুক্তরাষ্ট্র জানায়, ইরানের বন্দরগুলোর ওপর আরোপিত অবরোধ এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করায় তারা জাহাজটিতে গুলি চালিয়ে সেটি দখল করে।
মঙ্গলবার সিএনবিসি নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, জাহাজটিতে“কিছু জিনিস ছিল, যা খুব একটা ভালো নয়। হয়তো চীনের উপহার। তবে আমি নিশ্চিত নই।
এদিকে এ ঘটনায় প্রতিশোধ নেওয়ার হুমকি দিয়ছে ইরান। দেশটির সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, জাহাজটি চীন থেকে আসছিল। তারা এটিকে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর সশস্ত্র জলদস্যুতা বলে আখ্যা দিয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের মন্তব্যের জবাবে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র জিও জিয়াকুন বলেন, যে কোনো অভিযোগ বা সংযোগ যদি বাস্তব তথ্যের ভিত্তিতে না হয়, চীন তার বিরোধিতা করে। এই অভিযোগের কোনো বাস্তব ভিত্তি নেই।
তিনি বলেন, বিভিন্ন দেশের মধ্যে স্বাভাবিক বাণিজ্য কার্যক্রম অব্যাহত থাকা উচিত। এগুলো কোনো ধরনের বাধা বা বিঘ্নের শিকার হওয়া উচিত নয়।
এর আগে গত রোববার, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী কন্টেইনার জাহাজ ‘তুসকা’ দখল করে। সামুদ্রিক নিরাপত্তা সূত্রগুলো জানিয়েছে, জাহাজটিতে কিছু ‘ডুয়াল-ইউজ’ (দ্বৈত ব্যবহারযোগ্য) সামগ্রী থাকতে পারে। এসব সামগ্রী বেসামরিক ও সামরিক উভয় কাজে ব্যবহার করা সম্ভব।
উল্লেখ্য, সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বন্দরগুলোতে নৌ অবরোধ আরোপ করেছে এবং হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী জাহাজ নিয়ন্ত্রণ করছে। এর প্রতিক্রিয়ায় ইরান কার্যত ওই প্রণালি বন্ধ করে দিয়েছে, বাণিজ্যিক জাহাজ আটক করেছে এবং উপসাগরীয় অঞ্চলের সব ধরনের বাণিজ্য বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দিয়েছে।
বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ন এ নৌপথে সাধারণ সময় বা শান্তিকালে বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল ও গ্যাস এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। এটি পারস্য উপসাগরকে ভারত মহাসাগরের সঙ্গে যুক্ত করেছে।