ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের মধ্যে সংঘর্ষে সাংবাদিকসহ ১২ জন আহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) রাত পৌনে ১০টার দিকে আহত অবস্থায় তাদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নেওয়া হয়।
আহতরা হলেন– ডাকসুর সমাজসেবা সম্পাদক এবি জুবায়ের (২২); ডাকসুর সাহিত্য ও সংস্কৃতি বিষয়ক সম্পাদক মোসাদ্দেক (২৩), ঢাবি শিক্ষার্থী তানজিম (২১), আলভি (২২) ও এহসান (২৩) এবং ঢাবি শিক্ষার্থী ও সাংবাদিক সিফাত (২০), লিটন (২১), খালিদ (২১)।
আহত সাংবাদিকরা হলেন- কালের কণ্ঠের মানজুর হোছাঈন মাহি, আগামীর সময়ের লিটন ইসলাম, ঢাকা ট্রিবিউনের শামসুদ্দৌজা নবাব, ঢাকা মেইলের মোহাম্মদ ইফতেখার হোসেন সিফাত, নয়া দিগন্তের হারুন ইসলাম, মানবজমিনের আসাদুজ্জামান খান, ডেইলি অবজারভারের নাইমুর রহমান ইমন এবং দেশ রূপান্তরের খালিদ হাসান।
তাদের মধ্যে ঢাকা মেইলের মোহাম্মদ ইফতেখার হোসেন সিফাত চোখ ও মুখে গুরুতর আঘাত পেয়েছেন। প্রাথমিক চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়েছে।
ঢামেক হাসপাতালের পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ পরিদর্শক মো. ফারুক বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে দুই ছাত্র সংগঠনের সংঘর্ষের মধ্যে সাংবাদিকসহ ১২ জন আহত হলে তাদের হাসপাতাল নিয়ে আসা হয়। বর্তমানে জরুরি বিভাগের ৪নং ওয়ার্ডে তাদের চিকিৎসা চলছে। আমরা বিষয়টি সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশকে জানিয়েছি।
এর আগে রাজধানীর শাহবাগ থানায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) দুই নেতা এ বি জুবায়ের ও মোসাদ্দেক আলী ইবনে মোহাম্মদের ওপর হামলা করেন ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। থানার ভেতরে আটকে তাদের বেধড়ক মারধর করা হয়।
রাত ৮টার দিকে শাহবাগ থানায় উত্তপ্ত পরিস্থিতি তৈরি হলে ঘটনাস্থলে আসেন ডাকসুর সমাজসেবা সম্পাদক জুবায়ের ও সংস্কৃতিবিষয়ক সম্পাদক মুসাদ্দিক। এ সময় তাদের বেশ কয়েকবার মারধর করা হয়। এ ছাড়া ডাকসুর কার্যনির্বাহী সদস্য সাইয়েদুজ্জামান নূর আলভিও মারধরের শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) শাখা শিবিরের সাবেক তথ্য প্রযুক্তি সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল মাহমুদের ফেসবুক আইডি ট্যাগ করে শিক্ষাঙ্গনে অস্থিরতা তৈরি করে দেশবিরোধী কোন অপশক্তি ওই ফটোকার্ড ছড়িয়েছে। এটি সন্ধ্যা নাগাদ ফ্যাক্টচেকিং প্রতিষ্ঠান ও ডিজিটাল ফরেনসিক বিশ্লেষণে জানা গেছে। ওই পোস্ট আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ করেননি; বরং এটি এআই প্রযুক্তির মাধ্যমে তৈরি করা হয়েছে।
এ ঘটনার জেরে আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ ও তার সহযোগীরা শাহবাগ থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করতে গেলে সেখানে ছাত্রদল পরিচয়ে একদল সন্ত্রাসী তাদের ওপর হামলা করে। এসময় পুলিশ আব্দুল্লাহ আল মাহমুদসহ শিবিরের কয়েকজনকে শাহবাগ থেকে ধানমণ্ডি থানায় নিয়ে যায়। এরপরই নেতাদের ছাড়িয়ে আনতে ধানমণ্ডি থানার সামনে অবস্থান নেন শিবিরের নেতাকর্মীরা। শুক্রবার ভোরে আটককৃত ছেড়ে দিলে সাদিক কায়েম তাদের নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ফিরেন।
ডাকসু নেতৃবৃন্দের ওপর ছাত্রদলের হামলার প্রতিবাদে বাংলাদেশের সকল বিভাগীয় শহর ও জেলা শহরে বিক্ষোভ প্রতিবাদ মিছিল করেছে ছাত্রশিবির।
ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা শাহবাগ থানায় ঢুকে মব করেছে এবং পুলিশ দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে মজা নিয়েছে। এগুলো সবই ফ্যাসিবাদী আচরণের লক্ষণ বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সাধারণ সম্পাদক (জিএস) এস এম ফরহাদ।
বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) রাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে মিছিল শেষে তিনি এসব মন্তব্য করেন। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের সমর্থনে ছাত্রদল শাহবাগ থানায় চড়াও হয়েছে কি না সেই প্রশ্নও তোলেন তিনি।
এস এম ফরহাদ বলেন, ‘একটা ভুয়া ফটোকার্ড, ছাত্রলীগ ছড়ায়। লিগ্যাল এপ্রোচে না গিয়ে, সেটাকে কেন্দ্র করে থানায় গিয়ে মব করা হলো। ডাকসু নেতা মুকাদ্দিস ও জুবায়েরসহ সবার ওপর আক্রমণ করা হলো। এই নগ্ন হামলা, জিডি না নেওয়া, অপেক্ষামাণ রাখা, পুলিশ দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে অবজার্ভ করা এবং এনজয় করা। এগুলো সবই ফ্যাসিবাদি লক্ষণ।’
এ সময় ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েম বলেন, থানায় থামলা চালিয়ে ইতিহাসের ন্যাক্কারজনক ঘটনার জন্ম দিয়েছে ছাত্রদল। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পেশী শক্তির রাজনীতি মেনে নেওয়া হবে না বলে হুঁশিয়ারি করেন তিনি।
উল্লেখ্য, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও তার মেয়ে জাইমা রহমানকে নিয়ে ভুয়া একটি বিকৃত ফটোকার্ড ছড়ানোর অভিযোগে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় শাহবাগ থানা এলাকায় মুখোমুখি হয় ছাত্রদল ও ছাত্রশিবির। এ ঘটনায় ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের হামলায় ডাকসু দুই শীর্ষ নেতাসহ বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন।
ডাকসুর নেতৃবৃন্দ ও সাংবাদিকদের ওপর ছাত্রদলের হামলার প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল করেছে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (চাকসু)।
বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) রাত সাড়ে ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের জিরো পয়েন্ট এলাকায় মিছিল শুরু হয়ে সোহরাওয়ার্দী হল হয়ে আলাওল হলের সামনে দিয়ে প্রবেশ করে জিরো পয়েন্টে গিয়ে শেষ হয়।
মিছিলে ক্যাম্পাস উত্তপ্ত না করে সুশীল রাজনীতির আহ্বান জানিয়ে এসব ঘটনার দ্রুত বিচারের জানায় নেতারা। এ সময় মিছিলে বিভিন্ন স্লোগান দেন বিক্ষোভকারীরা।
চাকসুর মুক্তিযুদ্ধ ও গণতান্ত্রিক আন্দোলন বিষয়ক সম্পাদক মো. মোনায়েম শরিফের সঞ্চালনায় যোগাযোগ ও আবাসন বিষয়ক সম্পাদক ইসহাক ভূঁঞা বলেন, যে মোসাদ্দেককে আমরা হাসিনার বিরুদ্ধে লড়াই করতে দেখেছি, সেই মোসাদ্দেক ও এবি জোবায়েরের ওপর ছাত্রদল থানার ভেতরে ঢুকে হামলা চালিয়েছে। এভাবে হামলা চালিয়ে তারা নিজেদের বিতাড়নের কফিনে প্রথম পেরেক ঠুকে দিয়েছে। আমরা আর কোনো সন্ত্রাস মেনে নেব না। ক্যাম্পাসে সন্ত্রাস ও দখলদারিত্ব চলবে না।
চাকসুর জিএস সাঈদ বিন হাবিব বলেন, অবরুদ্ধ এক শিক্ষার্থীকে উদ্ধার করতে গেলে ডাকসুর নির্বাচিত প্রতিনিধিদের ওপর হামলা চালানো হয়, এমনকি সাংবাদিকদের ওপরও হামলা হয়। এর আগেও তারা কুয়েটে একই ধরনের ঘটনা ঘটিয়েছে। এ বিশ্ববিদ্যালয়ে বহিরাগত এনে তারা ইচ্ছাকৃতভাবে সংঘর্ষের পরিবেশ তৈরি করে। সিটি কলেজের মিছিলেও তারা হামলা চালিয়েছে, এমনকি পায়ের রগ পর্যন্ত কেটে দিয়েছে। আপনারা মজলুম ছিলেন, জালিম হবেন না জালিমের পরিণতি আপনারা দেখেছেন।
চাকসুর ভিপি ইব্রাহীম রনি বলেন, আমাদের আজ পড়ার টেবিলে থাকার কথা ছিল। ৫ আগস্টের পর আমরা ভেবেছিলাম সন্ত্রাসের রাজনীতি শেষ হবে। কিন্তু তারা আবারও সন্ত্রাসের রাজনীতি শুরু করতে চায়। এর কারণ তাদের কোনো সাংগঠনিক ভিত্তি নেই। প্রধানমন্ত্রী শুধু সংসদেই নীরব নন, গণমাধ্যমকেও নীরব করতে চায়।
তিনি আরও বলেন, অল্প সময়েই এ সরকার একটি ব্যর্থ সরকারে পরিণত হয়েছে, এটি এখন সবার কাছে স্পষ্ট। স্বৈরাচার বিদ্যুৎ দিয়ে মানুষ মারত, আর আপনারা বিদ্যুৎ না দিয়েই মানুষ মারছেন। অথচ এসব নিয়ে কোনো জবাবদিহি নেই। আপনারা ক্যাম্পাস উত্তপ্ত করেছেন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) নেতারা ও ঢাবি সাংবাদিক সমিতির সাংবাদিকদের ওপর ছাত্রদলের হামলার প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল করেছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (রাকসু) ও হল সংসদের নেতারা।
বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) রাত সাড়ে ১১টায় রাকসু কার্যালয়ের সামনে থেকে বিক্ষোভ মিছিলটি শুরু হয়ে ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে আবার একই স্থানে এসে শেষ হয়।
এ সময় তাদের ‘ইনকিলাব জিন্দাবাদ’, ‘ঢাবিতে হামলা কেন, সালাহউদ্দিন জাবাব দে’, ‘ডাকসুতে হামলা কেন, প্রশাসন জবাব চাই’, ‘দল গেছে যে পথে, লীগ যাবে সে পথে’, ‘আমার ভাই আহত কেন, প্রশাসন জবাব চাই’, ‘আমার ভাইয়ের রক্ত, বৃথা যেতে দেব না’, ‘শিক্ষা সন্ত্রাস, একসাথে চলে না’সহ বিভিন্ন স্লোগান দিতে দেখা যায়।
এ সময় রাকসুর সহ-সাধারণ সম্পাদক সালমান সাব্বির বলেন, ‘আজকে আমরা দেখেছি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের নির্বাচিত ডাকসু প্রতিনিধিদের উপর ছাত্রদল হামলা করেছে। আমরা রাকসুর পক্ষ থেকে এর তীব্র নিন্দা জানাই। আজকে সুপরিকল্পিতভাবে যে হামলা চালানো হয়েছে তার সুবিচার নিশ্চিত করতে হবে। এই হামলার সঙ্গে যারা জড়িত তাদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় নিয়ে আসতে হবে।’
‘আ.লীগকে সরাতে ছত্রিশ দিন লাগলেও বিএনপিকে সরাতে ৩৬ ঘণ্টাও লাগবে না’
বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট সদস্য ফাহিম রেজা বলেন, ‘ছাত্রদল সরকার দল হওয়াতে বিভিন্ন ক্যাম্পাসে পায়ে পাড়া দিয়ে শিক্ষার্থীদের সাথে গন্ডগোল করছে। চট্টগ্রাম সিটি কলেজ থেকে শুরু করে আজকে ঈশ্বরদীতে শিক্ষার্থীদের ওপর আক্রমণ চালাচ্ছে। আমরা রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থিতিশীল পরিবেশ চাই। ছাত্রদলকে আহ্বান করবো, আপনাদের মনে যতোই জ্বালা থাকুক শিক্ষার্থীদের ম্যান্ডেটে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের মেনে নেন।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা দেখতে পাচ্ছি সারাদেশেকে পরিকল্পিতভাবে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করা হচ্ছে। দুই মাস হলো সরকার দায়িত্বে এসেছে। এই দুই মাসের মধ্যে জ্বালানি সংকট, লোডশেডিং, দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধিসহ বিভিন্ন সংকট দেখা যাচ্ছে। সরকারের অদূরদর্শিতার কারণে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে গ্ৰামে-গঞ্জে ১৪ ঘণ্টা পর্যন্ত লোডশেডিং হচ্ছে। জ্বালানির অভাবে রাজশাহীতে তেল নিতে এসে একজন কৃষক হিটস্ট্রোকে মারা গেছে। সারা দেশে হামের চিকিৎসা না পেয়ে শিশুরা মারা যাচ্ছে।’
এ সময় রাকসুর সহসভাপতি (ভিপি) মোস্তাকুর রহমান জাহিদ বলেন, ‘ডাকসু প্রতিনিধিদের ওপর আজকে যে হামলা হয়েছে তা শুধু ডাকসু প্রতিনিধিদের উপরে নয়, ছাত্রদলের মাথা এমনভাবে খারাপ হয়ে গেছে এখন তারা কর্মচারী, দোকানদার এমনকি সাংবাদিকদের উপরও হামলা করা শুরু করেছে। আজকে ডাকসু নেতাদের ওপর হামলার প্রতিবাদে আমরা এখানে দাঁড়িয়েছি। কিছুদিন যাবত রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে যে ঘটনাগুলো ঘটে গেছে সেগুলো বলতেও আমাদের লজ্জা হয়। একজন দোকানদারকে মাত্র ৫০ টাকার জন্য ছাত্রদল নেতার হামলা প্রমাণ করেছে শুধু রাবি ছাত্রদল নয়, পুরো ছাত্রদল আজ বাংলাদেশের রাজনীতিতে আবারও নতুন করে ফ্যাসিবাদ কায়েম করতে চায়।’
তিনি আরও বলেন, তারা একজন নিরস্ত্র শিক্ষার্থীকে চাকু দিয়ে আঘাত করে প্রমাণ করে দিয়েছে তারা শুধু শিবিরের উপর নয় কর্মচারী, দোকানদার, সাধারণ শিক্ষার্থী ও সাংবাদিকদের ওপরও হামলা চালাতে চায়। আমরা তারেক রহমানকে বলে দিতে চাই, আপনি যদি আপনার দলীয় সংগঠন বিবেচনা করে এ হামলার বিচার না করেন তাহলে সারা দেশের মানুষ, সাধারণ শিক্ষার্থী, দোকানদার, কর্মচারী ও সাংবাদিকরা একত্রিত হয়ে আপনার বিরুদ্ধে লড়তে বাধ্য হবে।’
উল্লেখ্য, বিক্ষোভ মিছিলে রাকসু, হল সংসদের নেতারাসহ তিন শতাধিক শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিলেন।
ডাকসু নেতৃবৃন্দের ওপর ছাত্রদলের হামলার প্রতিবাদে জকসুর বিক্ষোভ
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্রসংসদের (ডাকসু) নেতৃবৃন্দের ওপর ছাত্রদলের হামলার প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিলের আয়োজন করে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জকসু)।
বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) রাত ১১:৪৫ মিনিটে বিশ্ববিদ্যালয়ের শান্ত চত্বর থেকে মিছিলটি শুরু হয়ে ক্যাম্পাস ও বাহাদুর শাহ পার্ক প্রদক্ষিণ করে মূল ফটকে সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়।
এসময় শিক্ষার্থীরা ‘ডাকসু নেতৃবৃন্দ আহত কেন,তারেক রহমান জবাব দে’, ‘শিক্ষা সন্ত্রাস,একসাথে চলেনা’ ‘ছাত্রদলের সন্ত্রাস,রুখে দাও ছাত্রসমাজ’, ‘সন্ত্রাসীদের ঠিকানা,এই ক্যাম্পাসে হবেনা’ ইত্যাদি স্লোগান দেন।
মিছিলে অংশগ্রহণকারী ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী শাহাদাত হোসাইন বলেন,থানার ভেতরে এরকম মব করে হামলার ছাত্রদলের হামলার ঘটনাটি একদমই নিন্দনীয়। প্রশাসনের নিরবতা আমাদেরকে হতাশ করেছে,এ ঘটনার আমরা তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।
মিছিল পরবর্তী সমাবেশে জকসু ভিপি রিয়াজুল ইসলাম বলেন,ডাকসু নেতৃবৃন্দেরর ওপর হামলার ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। আমরা সরকার ও তার সন্ত্রাসী বাহিনী ছাত্রদলকে বলতে চাই,আপনারা সোজা হয়ে যান নাহলে জনগণ ও শিক্ষার্থীরা আপনাদেরকে উচিত জবাব দিবে।
তিনি আরও বলেন, সরকার তেল সংকট,লোডশেডিংসহ নানা অব্যবস্থাপনা ঢাকতে পরিকল্পিতভাবে ক্যাম্পাসগুলোর পরিস্থিতি উত্তপ্ত করতে চাচ্ছে।
জকসু এজিএস আব্দুল আলিম আরিফ বলেন, আমরা দেখতে পাচ্ছি নব্য ফ্যাসিস্টরা মাথাচাড়া দিচ্ছে। আপনারা হাসিনার থেকে শিক্ষাগ্রহণ করুন,যাতে করে তাদের মতো পরিস্থিতি ভোগ করতে না হয়। জুলাইয়ে এবি জুবায়ের ও মোসাদ্দিক ইবনে মুহাম্মদের অবদান সীমাহীন,তাদের ওপর ন্যাক্কারজনক হামলা কোনোভাবে গ্রহণযোগ্য নয়। আমরা এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই।
জকসু এজিএস মাসুদ রানা বলেন,যাদের ওপর হামলা করা হয়েছে তাঁরা আমাদের জুলাইয়ের সহযোদ্ধা। তাদের ওপর ন্যাক্কারজনক হামলা করে ছাত্রদল ছাত্রলীগ হয়ে ওঠার চেষ্টা করছে। এই সরকারকে আমরা আল্টিমেটাম দিচ্ছি,অতিদ্রুত এর বিচার করুন। নাহলে শেখ হাসিনার মতো পরিণতি ভোগ করার জন্য প্রস্তুতি গ্রহণ করুন।
জুবায়ের-মোসাদ্দেকের ওপর হামলা, ঢাবি শিক্ষক মোনামীর পোস্ট
ডাকসু নেতা এবি জুবায়ের এবং মুসাদ্দিক আলী ইবনে মোহাম্মদের ওপর হামলার ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর শেহরীন আমিন মোনামী।
বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) রাতে নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এই সহিংসতার তীব্র সমালোচনা করেন এবং বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতির অবনতি নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেন।
পোস্টে তিনি লিখেছেন, রাজনৈতিক অঙ্গনে একসময় লীগের ব্যবহৃত সেই পুরোনো ও কুৎসিত বয়ান আবারও ফিরে আসছে। তিনি মনে করেন, এই ধরনের ন্যারেটিভ তৈরির মাধ্যমে ছাত্ররাজনীতিকে নতুন করে অপরাধ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার একটি প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
সহিংসতার এই ঘটনাকে সমাজের গভীর অবক্ষয়ের চিত্র হিসেবে অভিহিত করে তিনি লেখেন, সেই একই ভয়ংকর ছায়া যেন পুনরায় মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে।
ডাকসু নেতাদের ওপর ঘটে যাওয়া সাম্প্রতিক এই সহিংসতাকে তিনি এই অবক্ষয়ের একটি মর্মান্তিক প্রমাণ বলে মন্তব্য করেন। ক্যাম্পাসের পরিবেশ ও ছাত্ররাজনীতির ভবিষ্যৎ নিয়ে একজন শিক্ষক হিসেবে তার এই প্রতিক্রিয়া জনমনে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
ডাকসু নেতাদের ওপর হামলা, ফাতিমা তাসনিম জুমার নিন্দা
রাজধানীর শাহবাগ থানায় ডাকসু নেতাদের ওপর হামলার ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন ডাকসুর মুক্তিযুদ্ধ ও গণতান্ত্রিক আন্দোলন বিষয়ক সম্পাদক ফাতিমা তাসনিম জুমা।
ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, তারা সারা দেশে যেভাবে হামলা চালাচ্ছে, এটার বিরুদ্ধে সাধারণ জনগণ যদি মাঠে নেমে যায়, তখন কিন্তু পালানোর পথ থাকবে না। এটা যাতে তারা মাথায় রাখে।
বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) রাতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের সামনে আহত ডাকসু নেতাদের চিকিৎসার খোঁজ নিতে গিয়ে সাংবাদিকদের কাছে এ কথা বলেন তিনি।
ফাতেমা তাসনিম জুমা বলেন, আজকে সবচেয়ে খারাপ লাগার জায়গা হলো- ছাত্রদল করার কারণে এক সময় গেস্টরুমে যাদের নির্যাতন করা হতো এবং মোসাদ্দেক-জুবায়েররা যাদের আওয়ামী লীগের হাত থেকে বাঁচিয়ে এনেছে, আজ তারাই তাদের ওপর হামলা করেছে।
ছাত্রদল সভাপতির ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি আরও বলেন, রাকিব ভাই (ছাত্রদল সভাপতি) ব্যক্তিগতভাবে আমার কাছে এবং জুবায়ের-মোসাদ্দেকের কাছে ‘সরি’ বলেছেন। কিন্তু দুঃখজনক হলো, সরি বলার পর তিনি আবার প্রতিবাদ মিছিল করেছেন। হিপোক্রেসির এ যে রাজনীতি, আমরা আশা করব তারা এটা থেকে বের হয়ে আসবেন।
ডাকসুর এ নেত্রী বলেন, মোসাদ্দেক ও জুবায়েরের নাকি পোস্ট দিয়েছে ‘ছাত্রদলের হাতে চাপাতি আছে’। অথচ এ ধরনের কোনো পোস্টই তারা করেনি। তাদের ফোন আমার কাছেই ছিল। যখন আমি বললাম যে ফোন আমার কাছে এবং তারা কোনো পোস্ট করেনি, তখন তারা (ছাত্রদল) শান্ত হয়।