• ২৬শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ , ১৩ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ , ৯ই জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি

সাগর-রুনি হত্যা মামলার তদন্তে আরও ৬ মাস সময় দিলেন হাইকোর্ট

Usbnews.
প্রকাশিত এপ্রিল ২৬, ২০২৬
সাগর-রুনি হত্যা মামলার তদন্তে আরও ৬ মাস সময় দিলেন হাইকোর্ট
নিউজটি শেয়ার করুনঃ

সাংবাদিক দম্পতি সাগর সরওয়ার ও মেহেরুন রুনি হত্যা মামলার তদন্ত শেষ করতে টাস্কফোর্সকে আরও ছয় মাস সময় দিয়েছেন হাইকোর্ট। রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে শুনানি শেষে আজ রোববার বিচারপতি ফাতেমা নজীব ও বিচারপতি এ এফ এম সাইফুল করিমের বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

এর আগে তদন্তের অগ্রগতি প্রতিবেদন আদালতে দাখিল হয়। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন—অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল। বাদীপক্ষে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির। রিট আবেদনকারীর পক্ষে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মনজিল মোরসেদ।

আদেশের বিষয়ে নিজ কার্যালয়ে ব্রিফিংয়ে অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল বলেন, তদন্তের পুরো সময়ে আটজন সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁর মধ্যে সাতজন কারাগারে আছেন। একজন জামিনে গিয়ে পলাতক হয়েছেন। সবশেষে এই মামলায় বাড়ির দারোয়ান হ‌ুমায়ূনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। ঘটনার সময় দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী, দায়িত্বশীল রাজনৈতিক ব্যক্তি, ওই সময়ের তদন্তকারী সংস্থা ও অন্যান্য সংস্থায় যাঁরা দায়িত্বরত ছিলেন, তাঁদের কারও কাছে বর্তমান টাস্কফোর্স অ্যাকসেস পাচ্ছে না।

অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, এখন যারা টাস্কফোর্সে দায়িত্ব পালন করছেন, তাঁরা ঘটনার অব্যবহিত পরে সেখানে যাননি। তারা যখন দায়িত্ব পেয়েছেন, তখন কিন্তু ক্রাইম সিন বলে কোনো সিন নেই। ওই সময় যারা প্রাথমিকভাবে তদন্তের দায়িত্বে ছিলেন, তথ্য-প্রমাণ নিয়েছেন, সাক্ষীকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছেন, আসামিদের গ্রেপ্তার করেছেন, তাঁদের কাছ থেকে যেসব তথ্য পেয়েছেন- তার কোনো নিয়মতান্ত্রিক হস্তান্তর টাস্কফোর্সের কাছে হচ্ছে না। সেসব তথ্যের ক্ষেত্রে তারা কোনো অ্যাকসেস পাচ্ছেন না। এটি হচ্ছে মূল বাধা।

আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির ব্রিফিংয়ে বলেন, আজ প্রায় ১৪ বছর হয়ে গেল, হত্যার রহস্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী উদ্‌ঘাটন করতে পারছে না। টাস্কফোর্স রিপোর্ট দিয়ে বলছে তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, আইজিপি, র‍্যাবের ডিজি ও একজন সাংবাদিকের সঙ্গে তাঁরা কথা বলতে চান। কিন্তু তারা তো বাংলাদেশের সীমার মধ্যে নেই। টাস্কফোর্স বলেছে—তারা এখনো মোটিভ খুঁজে পাননি। ক্লু খুঁজে পাননি, কেন তাঁদের হত্যা করা হলো। শেষ পর্যন্ত টাস্কফোর্সও যদি ব্যর্থ হয়, তাহলে আমাদের যাওয়ার জায়গা নেই। তবে আমাদের প্রত্যাশা থাকবে, অ্যাটর্নি জেনারেল তাদের (টাস্কফোর্স) সমর্থন করে যে বক্তব্য দিয়েছেন, এটি তাঁরা আগামী ছয় মাসের মধ্যে কার্যে পরিণত করে দেখাবেন।

২০১২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর পশ্চিম রাজাবাজারের ভাড়া বাসায় খুন হন সাংবাদিক দম্পতি সাগর ও রুনি। সাগর সে সময় বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল মাছরাঙা টেলিভিশনে আর রুনি এটিএন বাংলায় কর্মরত ছিলেন। সাগর-রুনি হত্যার ঘটনায় রুনির ভাই নওশের আলম বাদী হয়ে রাজধানীর শেরেবাংলা নগর থানায় মামলা করেন।

পরবর্তীতে ওই ঘটনায় রিটের পরিপ্রেক্ষিতে ২০১২ সালের ১৮ এপ্রিল হাইকোর্ট মামলাটির তদন্তের নির্দেশ দেন র‍্যাবকে। তবে র‍্যাব দীর্ঘদিনেও রহস্য উদ্‌ঘাটন করতে পারেনি। আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হলে তদন্তের জন্য র‍্যাবের কাছে পাঠানোর আদেশ সংশোধন চেয়ে স্বরাষ্ট্রসচিবের পক্ষে ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে হাইকোর্টে আবেদন করা হয়। তাতে হাইকোর্ট তদন্তের জন্য বিভিন্ন এজেন্সির অভিজ্ঞদের সমন্বয়ে উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন টাস্কফোর্স গঠন করতে নির্দেশ দেন। সেই সঙ্গে তদন্ত শেষে ছয় মাসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে নির্দেশ দেন।