• ১লা মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ , ১৮ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ , ১৪ই জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি

গণহত্যার দোসর এখনো দেশের রাষ্ট্রপতি, বর্তমান গভর্নরের বিশেষত্ব হচ্ছে ঋণ পুনঃ তফসিল করা: নাহিদ

Usbnews.
প্রকাশিত এপ্রিল ৩০, ২০২৬
গণহত্যার দোসর এখনো দেশের রাষ্ট্রপতি, বর্তমান গভর্নরের বিশেষত্ব হচ্ছে ঋণ পুনঃ তফসিল করা: নাহিদ
নিউজটি শেয়ার করুনঃ

বাংলাদেশ ব্যাংকের বর্তমান গভর্নরকে নিয়ে সমালোচনা করে বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেছেন, বর্তমান গভর্নরের বিশেষত্ব হচ্ছে ঋণ পুনঃ তফসিল করা। আর সে কারণেই তাঁকে এই পদে বসানো হয়েছে।

আজ বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আনা ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে নাহিদ ইসলাম এই মন্তব্য করেন।

নাহিদ ইসলাম অভিযোগ করেন, দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো একজন ব্যবসায়ীকে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর করা হয়েছে, যাতে বৃহৎ অঙ্কের ঋণ পুনঃ তফসিলের সুযোগ তৈরি করা যায়। তাঁর ভাষায়, এতে আর্থিক খাতে নিয়োগ ও নীতিনির্ধারণে আস্থার সংকট তৈরি হয়েছে।

নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘আর্থিক খাত নিয়ে অর্থমন্ত্রী একবাক্যে বারবার বলেন, বিএনপির সময়ে আর্থিক খাতে বিশৃঙ্খলার কোনো রেকর্ড নেই। উনি কিছুক্ষণ আগে অস্বীকার করেছেন যে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর একটা রাজনৈতিক নিয়োগ, তাঁদের দলের নির্বাচন কমিটির সদস্য। তিনি অস্বীকার করলেন।’

টিআইবির প্রতিবেদন উল্লেখ করে নাহিদ বলেন, ‘নির্বাচনে প্রার্থী হওয়া সরকারদলীয় প্রার্থীদের মধ্যে ৫৯ দশমিক ৪১ শতাংশের ঋণ রয়েছে। সংসদ সদস্যদের ১১ হাজার কোটি টাকার ঋণ রয়েছে, যার অধিকাংশই সরকারি দলের। যাঁদের অধিকাংশই ঋণখেলাপি ছিলেন, নির্বাচনের আগে কিছু টাকা দিয়ে ঋণ পুনঃ তফসিল করে নিয়েছেন।’

নাহিদ বলেন, ‘বর্তমান বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের বিশেষত্ব হচ্ছে ঋণ পুনঃ তফসিল করা। এটাতে তিনি অভিজ্ঞ। ফলে তাঁকে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর কেন করা হয়েছে তা পরিষ্কার। হাজার হাজার কোটি টাকা ঋণ যাতে তিনি পুনঃ তফসিল করতে পারেন, সেই সুযোগ-সুবিধা করে দেওয়ার জন্যই দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো একজন ব্যবসায়ীকে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর করা হয়েছে। ফলে আর্থিক খাতের আরও নিয়োগ তাঁরা কী বিবেচনায় দেবেন, তাঁদের ওপর আর আস্থা রাখতে পারছি না।’

বাহাত্তরের সংবিধানকে ’৭১-এর সঙ্গে বিএনপি কোন বিবেচনায় মেলাচ্ছে, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেন, ‘বাহাত্তরের সংবিধানকে একাত্তরের সঙ্গে মিলিয়েছিল তো আওয়ামী লীগ। আমরা এর বিরোধিতা করেছি, বিএনপির বহু নেতাও বিরোধিতা করেছিলেন। মওলানা ভাসানী, বদরুদ্দীন উমরসহ আরও অনেকে বিরোধিতা করেছিলেন।’

নাহিদ প্রশ্ন তোলেন, শুধু জামায়াত ’৭২-এর সংবিধানের বিরোধিতা করেছিল বলেই কি বিএনপি আওয়ামী লীগের অবস্থানে চলে গেছে?

বাহাত্তরের সংবিধানের সমালোচনা করে নাহিদ ইসলাম বলেন, ’৭২-এর সংবিধান স্বাধীন বাংলাদেশের নির্বাচিত প্রতিনিধিরা রচনা করেননি। ’৭২-এর সংবিধান রচনা করেছিল ’৭০-এর নির্বাচনে আইয়ুব খানের এলএফওয়ের অধীনে যাঁরা নির্বাচিত হয়েছিলেন, যা হয়েছিল পাকিস্তানের শাসনতন্ত্র রচনা করার জন্য। তখন থেকেই সংবিধানের সমালোচনা শুরু হয়েছিল।

গণহত্যার দোসর এখনো দেশের রাষ্ট্রপতি: সংসদে নাহিদগণহত্যার দোসর এখনো দেশের রাষ্ট্রপতি: সংসদে নাহিদ
নাহিদ বলেন, বাহাত্তারের সংবিধান উত্তরাধিকার সূত্রে অগণতান্ত্রিক। সে সময় শেখ মুজিবকে সামনে রেখে এই সংবিধান তৈরি করা হয়েছিল। স্বৈরতন্ত্রের বীজ বাংলাদেশে বাহাত্তরের সংবিধানে বপন করা হয়েছিল। এই সংবিধান মুজিববাদী আদর্শে রচিত। ’৭১-এর সংবিধানের বিরুদ্ধে জিয়াউর রহমান বিদ্রোহ করেছিলেন বলেও দাবি করেন তিনি।

নাহিদ বলেন, ‘সিপাহি-জনতার বিপ্লবের মাধ্যমে বাহাত্তারের সংবিধান বাতিলের সুযোগ এসেছিল। সেই সুযোগ আমরা মিস করেছি। সম্মান রেখেই বলছি, জিয়াউর রহমান সেই ঐতিহাসিক ভুলটি করেছিলেন। চব্বিশেও সুযোগ এসেছিল। এখনো সুযোগ মিস করে যাচ্ছি।’ এ বিষয়ে বিএনপি তাদের অবস্থান থেকে সরে যাচ্ছে দাবি করে নাহিদ বলেন, ‘তারা তাদের অবস্থান থেকে সরে গেলে, আমরাও আমাদের পূর্বের জায়গায় ফেরত যেয়ে সংবিধান পুনর্লিখনের দাবি জানাতে হবে।’

নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘রাষ্ট্রপতির বক্তব্য আমি শুনিও নাই, পড়িও নাই। তাঁকে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগকে আমরা প্রত্যাখ্যান করেছিলাম। আমরা খুব স্পষ্টভাবে বলেছিলাম, রাষ্ট্রপতির অপসারণ ও গ্রেপ্তার করা প্রয়োজন। রাষ্ট্রপতির কোনো অধিকার নেই বঙ্গভবনে থাকার, এখানে এসে বক্তব্য দেওয়ার।’

রাষ্ট্রপতির ‘কুর্কীতি’ তুলে ধরার কথা জানিয়ে নাহিদ বলেন, তাঁকে তিনটি লক্ষ্য দিয়ে দুদকের কমিশনার করা হয়। এর এক নম্বর হচ্ছে, খালেদা জিয়া এবং তারেক রহমানের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ নিশ্চিত করা। দুই নম্বর হচ্ছে, পদ্মা সেতুর দুর্নীতির অভিযোগ থেকে আওয়ামী লীগকে ক্লিনশিট দেওয়া। তিন নম্বর হচ্ছে, ফখরুদ্দীন-মইনউদ্দিন সরকারের সময় শেখ হাসিনাসহ আওয়ামী লীগের নেতাদের বিরুদ্ধে হওয়া দুর্নীতির মামলা বাতিল করা। এমন একজন ব্যক্তিকে বিএনপি সরকার রাষ্ট্রপতি হিসেবে এখনো মেনে নিচ্ছে, তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন নাহিদ ইসলাম।

নাহিদ বলেন, ‘রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন চুপ্পু এস আলমের হাতে ইসলামী ব্যাংককে তুলে দেওয়ার কারিগর। এস আলম দুই কোটি আমানতকারীকে পথে বসিয়েছিল। জুলাই গণহত্যার সময় তাঁর (রাষ্ট্রপতি) ভূমিকা, ফ্যাসিবাদের সঙ্গে তাঁর সংশ্লিষ্টতা সবকিছু আমরা জানি। কিন্তু আমাদের দুর্ভাগ্য, একজন দুর্নীতিবাজ, অপদার্থ, মিথ্যুক, গণহত্যার দোসর এখনো বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি।’

সেই রাষ্ট্রপতির কাছে অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা হিসেবে শপথ নিয়েছিলেন নাহিদ ইসলাম। এর ব্যাখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, ‘তখনকার সময় আর বর্তমান সময় এক নয়।’ তিনি বলেন, ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পরে আমাদের সামনে দুইটা অপশন ছিল। আমরা বলেছিলাম, জাতীয় সরকার করতে হবে। সেই প্রস্তাব বিএনপি নাকচ করে দিয়েছে। আরেকটা অপশন ছিল, ক্ষমতা আর্মির হাতে তুলে দেওয়া। যদি আমরা সেই দিকে আগাতাম, আজকে তারা (সরকারি দল) এখানে বসতে পারত কি না, সেটা সন্দেহ আছে।’

বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ জানান, দেশের স্থিতিশীলতার স্বার্থে তাঁরা সে সময় সরকারে গিয়েছিলেন। নাহিদ বলেন, এখন নির্বাচিত সরকার। চাইলে বিএনপি রাষ্ট্রপতি পরিবর্তন করতে পারে। বিএনপিতে সে ধরনের যোগ্য ও আস্থাভাজন লোক রয়েছেন। গাধাকে দিয়ে হালচাষ করিয়ে কোনো ‘বাহাদুরি নেই’ বলে মন্তব্য করে তিনি দাবি করেন, এটা সরকারের দেউলিয়াত্ব।