চীনের উড়োজাহাজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান এভিআইসি চেংদু এয়ারক্রাফট করপোরেশনের যুদ্ধবিমান বিক্রি ও মুনাফা ব্যাপক বেড়ে গেছে। এই প্রতিষ্ঠানটি পাকিস্তানের ব্যবহৃত জে-১০সি যুদ্ধবিমান তৈরি করে থাকে। মূলত, গত বছরের মে মাসে ভারতের ফরাসি নির্মিত বিমান ভূপাতিত করার ঘটনার পর উল্লেখযোগ্য মুনাফা বৃদ্ধির খবর দিয়েছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম ব্লুমবার্গের প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে।
চেংদু এয়ারক্রাফট করপোরেশনের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালে তাদের রাজস্ব ১৫ দশমিক ৮ শতাংশ বেড়ে ৭৫ দশমিক ৪ বিলিয়ন ইউয়ানে বা প্রায় ১১ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। একই সময়ে মুনাফা ৬ দশমিক ৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে দাঁড়িয়েছে ৩ দশমিক ৪ বিলিয়ন ইউয়ানে।
ব্লুমবার্গ জানিয়েছে, এই পরিসংখ্যান কোম্পানিটির ইতিহাসে সর্বোচ্চ। পাশাপাশি, চেংদুর প্রথম প্রান্তিকের বিক্রি আগের বছরের তুলনায় প্রায় ৮০ শতাংশ বেড়েছে।
পাকিস্তান বিমান বাহিনী ২০২২ সালের মার্চে তাদের বহরে জে–১০সি যুদ্ধবিমান যুক্ত করে। এটি দেশটির আকাশসীমা প্রতিরক্ষায় সক্ষমতা বৃদ্ধিতে বড় ধরনের অগ্রগতি হিসেবে বিবেচিত হয়। তৎকালীন সরকারি ভাষ্য অনুযায়ী, এই যুদ্ধবিমান উন্নত চতুর্থ প্রজন্মের আকাশ থেকে আকাশে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র বহনে সক্ষম। এর মধ্যে স্বল্প পাল্লার পিএল–১০ এবং দৃষ্টিসীমার বাইরে আঘাত হানতে সক্ষম পিএল–১৫ ক্ষেপণাস্ত্র উল্লেখযোগ্য।
২০২৫ সালের মে মাসে এই যুদ্ধবিমান প্রথমবারের মতো যুদ্ধে ব্যবহৃত হয়। ৬ মে ভারত অধিকৃত জম্মু–কাশ্মীরে পর্যটকদের ওপর হামলার পর পাকিস্তানের বিরুদ্ধে আক্রমণ চালায়। ৮৭ ঘণ্টার ওই সংঘাতে পাকিস্তান সাতটি ভারতীয় যুদ্ধবিমান—যার মধ্যে ফরাসি নির্মিত দাসো রাফালে ভূপাতিত করে এবং অসংখ্য ড্রোন ধ্বংস করে বলে দাবি করা হয়।
চারদিনের এই যুদ্ধে পাকিস্তান সফলভাবে চীন নির্মিত এইচকিউ–৯ আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, পিএল–১৫ আকাশ-থেকে-আকাশে নিক্ষেপণযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র এবং জে–১০সি যুদ্ধবিমান ব্যবহার করে। পাকিস্তান বিমান বাহিনী তাদের জেএফ–১৭ থান্ডার যুদ্ধবিমানও ব্যবহার করে। হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্রের মাধ্যমে ভারতের আদমপুরে অবস্থিত এস–৪০০ আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ধ্বংস করা হয় বলে দাবি করা হয়।
পারমাণবিক অস্ত্রধারী দুই দেশের মধ্যে এই যুদ্ধ ১০ মে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তির মাধ্যমে শেষ হয়। সংঘাতের কয়েক মাস পর, পাকিস্তানের আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তরের মহাপরিচালক লেফটেন্যান্ট জেনারেল আহমেদ শরীফ চৌধুরী চীনা অস্ত্রের পারফরম্যান্সের প্রশংসা করেন। গত বছরের অক্টোবরে এক সাক্ষাৎকারে লেফটেন্যান্ট জেনারেল চৌধুরী বলেন, ‘অবশ্যই, সাম্প্রতিক সময়ে চীনা প্ল্যাটফর্মগুলো অসাধারণভাবে নিজেদের সক্ষমতা দেখিয়েছে।’
এদিকে, গত বছরের নভেম্বরে যুক্তরাষ্ট্র কংগ্রেসে উপস্থাপিত এক প্রতিবেদনে এই যুদ্ধে ভারতের ওপর পাকিস্তানের ‘সামরিক সাফল্য’ স্বীকার করা হয়। ইউএস–চায়না ইকোনমিক অ্যান্ড সিকিউরিটি রিভিউ কমিশনের ওই প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, উন্নত চীনা অস্ত্র ব্যবহারের মাধ্যমে পাকিস্তান ভারতের ওপর সামরিক সুবিধা অর্জন করেছিল।