• ১৪ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ , ৩১শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ , ২৭শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি

বোয়িংয়ের ১৪ উড়োজাহাজ কেনার চুক্তি স্বাক্ষর করল বিমান

Usbnews.
প্রকাশিত এপ্রিল ৩০, ২০২৬
বোয়িংয়ের ১৪ উড়োজাহাজ কেনার চুক্তি স্বাক্ষর করল বিমান
নিউজটি শেয়ার করুনঃ

বাংলাদেশের এভিয়েশন ইতিহাসে প্রথমবারের মতো একযোগে ১৪টি উড়োজাহাজ সংগ্রহের লক্ষ্যে মার্কিন নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বোয়িংয়ের সাথে চূড়ান্ত ক্রয়চুক্তি সম্পন্ন করেছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স। বৃহস্পতিবার রাত ৯টায় রাজধানীর একটি হোটেলে আনুষ্ঠানিকভাবে এই বিশালাকার বাণিজ্যিক চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হয়। বিমানের পক্ষে ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও কাইজার সোহেল আহমেদ এবং বোয়িংয়ের ভাইস প্রেসিডেন্ট পল রিগি নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের পক্ষে চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন। এই বিনিয়োগের পরিমাণ আনুমানিক ৩৭০ কোটি মার্কিন ডলার বা প্রায় ৩৭ হাজার কোটি টাকা, যা দেশের আকাশসেবা খাতের ইতিহাসে এক অনন্য মাইলফলক।

অনুষ্ঠানে বোয়িংয়ের ভাইস প্রেসিডেন্ট পল রিগি এই চুক্তির গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, “১৪টি উড়োজাহাজ কেনার এই চুক্তি দুই প্রতিষ্ঠানের দীর্ঘদিনের অংশীদারিত্বকে আরও শক্তিশালী করেছে এবং বিমানকে এমন একটি স্বল্পসংখ্যক এয়ারলাইন্সে পরিণত করেছে।” তিনি আরও জানান, নতুন ৭৮৭-১০ মধ্যপ্রাচ্য রুটে এবং ৭৮৭-৯ ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকার দীর্ঘ দূরত্বের রুটে ব্যবহৃত হবে। পাশাপাশি ৪টি ৭৩৭-৮ বিমান যুক্ত হওয়ায় বিমানের স্বল্প দূরত্বের রুট আরও আধুনিক হবে। এই আধুনিক উড়োজাহাজগুলো প্রায় ২০ শতাংশ বেশি জ্বালানি সাশ্রয়ী এবং যাত্রীদের বিশ্বমানের ভ্রমণ সুবিধা নিশ্চিত করবে।

বাণিজ্য ঘাটতি সমন্বয়ের লক্ষ্যে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে অন্তর্বর্তী সরকার যুক্তরাষ্ট্রের সাথে উড়োজাহাজ কেনার প্রাথমিক সমঝোতা করেছিল, যার ধারাবাহিকতায় এই চূড়ান্ত চুক্তি সম্পন্ন হলো। চুক্তির আওতায় বিমান ৮টি বোয়িং ৭৮৭-১০ ড্রিমলাইনার, ২টি ৭৮৭-৯ ড্রিমলাইনার এবং ৪টি ৭৩৭-৮ ম্যাক্স বিমান সংগ্রহ করবে। এই বহরের প্রথম উড়োজাহাজটি ২০৩১ সালের অক্টোবরে সরবরাহ করা হতে পারে এবং পর্যায়ক্রমে ২০৩৫ সালের মধ্যে সব কটি বিমান বিমানের বহরে যুক্ত হবে।

চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত বলেন, “এটি শুধু বিমান ও বোয়িংয়ের মধ্যে একটি ক্রয়চুক্তি নয়, বরং বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে একটি শক্তিশালী অংশীদারিত্ব।” তিনি আরও আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, “নতুন উড়োজাহাজগুলো যুক্ত হলে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বৈশ্বিক সক্ষমতা ও সংযোগ বাড়বে।” অনুষ্ঠানে বিমানের পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান রুমি এ. হোসেন এবং ঢাকায় নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন উপস্থিত থেকে দ্বিপাক্ষিক অর্থনৈতিক ও কৌশলগত সম্পর্কের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। বিমানের এই আধুনিকায়ন প্রক্রিয়া আন্তর্জাতিক রুটে বাংলাদেশের সক্ষমতাকে বহুগুণ বাড়িয়ে দেবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।