• ৪ঠা মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ , ২১শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ , ১৭ই জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি

ইরানকে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার আহ্বান জার্মান পররাষ্ট্রমন্ত্রীর

Usbnews.
প্রকাশিত মে ৪, ২০২৬
ইরানকে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার আহ্বান জার্মান পররাষ্ট্রমন্ত্রীর
নিউজটি শেয়ার করুনঃ

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যবর্তী ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে হরমুজ প্রণালি পুনরায় সচল করার আহ্বান জানিয়েছেন জার্মানির পররাষ্ট্রমন্ত্রী জোহান ওয়াডেফুল। একই সঙ্গে তিনি ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি বন্ধের ওপরও বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে ওয়াডেফুল বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে জার্মানির অবস্থান এ ক্ষেত্রে অভিন্ন। মার্কো রুবিওর মতো তিনিও মনে করেন, ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্রের পথ থেকে সরে আসতে হবে এবং হরমুজ প্রণালি দ্রুত খুলে দিতে হবে।

এদিকে, ইরান-ইসরায়েল উত্তেজনা ঘিরে ইউরোপীয় দেশগুলোর অবস্থানে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি ইউরোপের কয়েকজন শীর্ষ নেতার সমালোচনা করেন, যাদের মধ্যে রয়েছেন জার্মানির চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্ৎস, স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ এবং যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার।

গত ২৭ এপ্রিল ফ্রিডরিখ মের্ৎস যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তিনি বলেন, ইরানকে ঘিরে চলমান সংকটে ওয়াশিংটনের কোনো সুস্পষ্ট ‘এক্সিট স্ট্র্যাটেজি’ দেখা যাচ্ছে না। উত্তর রাইন-ওয়েস্টফালিয়ায় শিক্ষার্থীদের সঙ্গে এক আলোচনায় তিনি মন্তব্য করেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্র কীভাবে এই সংঘাত থেকে বের হবে তা পরিষ্কার নয়।

মের্ৎস আরও বলেন, ইরান আলোচনায় অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে এগোচ্ছে এবং তাদের অবস্থান অনেকের ধারণার চেয়ে বেশি শক্তিশালী।

অন্যদিকে, ইসলামাবাদ সফরকালে জার্মান পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াডেফুল ইরানকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে গঠনমূলক আলোচনায় বসার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, পরিস্থিতি সমাধানে সংলাপই একমাত্র কার্যকর পথ এবং ইরানের উচিত নিজেদের জনগণের স্বার্থে যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাব বিবেচনা করা।

তবে ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক অভিযানের পর জার্মানি স্পষ্ট করে জানিয়ে দিয়েছে, তারা এই যুদ্ধে অংশ নেবে না এবং কোনোভাবেই শাসন পরিবর্তনের প্রচেষ্টাকে সমর্থন করবে না। ওয়াডেফুল বলেন, জার্মানি ইরানে গণতান্ত্রিক ভবিষ্যৎ দেখতে চায়, কিন্তু সেই পরিবর্তন অবশ্যই দেশটির জনগণের মাধ্যমেই আসতে হবে।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, জার্মানি ইরানের বিরোধী গোষ্ঠীগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে এবং দেশটির জনগণের ওপর দমন-পীড়নের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে। তবে ইরানের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নির্ধারণে কোনো ধরনের হস্তক্ষেপে তারা আগ্রহী নয়।

এর আগে মার্চ মাসে ওয়াডেফুল বলেন, হরমুজ প্রণালি রক্ষায় ন্যাটোর কোনো ভূমিকা দেখছে না জার্মানি। সেই সময় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ন্যাটোকে ইরান ইস্যুতে যুক্ত হওয়ার আহ্বান জানান এবং সমর্থন না পেলে জোট থেকে বেরিয়ে যাওয়ার হুমকিও দেন। জার্মানির পক্ষ থেকে সেই বক্তব্যের প্রতিক্রিয়াতেই এ অবস্থান জানানো হয়।