• ৩রা আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ , ১৯শে শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ , ২০শে সফর, ১৪৪৮ হিজরি

গাজার ধ্বংসযজ্ঞের ছবি তুলে পুলিৎজার পেলেন ফিলিস্তিনি আলোকচিত্রী

Usbnews.
প্রকাশিত মে ৫, ২০২৬
গাজার ধ্বংসযজ্ঞের ছবি তুলে পুলিৎজার পেলেন ফিলিস্তিনি আলোকচিত্রী
নিউজটি শেয়ার করুনঃ

ইসরাইলি সামরিক বাহিনী যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার ঘোষণা দেয়ার পর ভুমধ্যসাগরের পাড়ের রাস্তা ধরে গাজার উত্তরে ফিরতে শুরু করেছে বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনিরা। ছবি: সাহের আলঘোরা, দ্য নিউইয়র্ক টাইমস

চলতি বছরের পুলিৎজার পুরষ্কার জিতেছেন ফিলিস্তিনি আলোকচিত্রী সাহের আলঘোরা। গাজায় ইসরাইলের সামরিক আগ্রাসনে সৃষ্ট ধ্বংসযজ্ঞ ও মানবিক সংকটের ছবি তুলে ‘ব্রেকিং নিউজ’ বিভাগে এই সম্মানজনক পুরস্কার পেয়েছেন তিনি। সোমবার (৪ মে) এ বছরের পুলিৎজার বিজয়ী ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের নাম ঘোষণা করা হয়।

২০২৩ সালের অক্টোবরে গাজায় ইসরাইলের গণহত্যামূলক হামলা শুরু হয়। দুই বছরেরও বেশি সময় পরও এখনও অব্যাহত রয়েছে। ভূমধ্যসাগরের পাড়ের ছোট ভূখণ্ডটিতে শত শত টন বোমা ফেলা হয়েছে। এতে একসময়ের সাজানো-গোছানো গাজা কার্যত ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। দুই লক্ষাধিক বাসিন্দা হতাহত হয়েছেন। উদ্বাস্তু হয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছেন ২০ লক্ষাধিক মানুষ।

ইসরাইলি আগ্রাসনের কারণে সৃষ্ট এসব মর্মান্তিক চিত্র ফুটে উঠেছে মার্কিন গণমাধ্যম নিউইয়র্ক টাইমসে কাজ করা সাহের আলঘোরার তোলা ছবিগুলোতে। ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ ও দুর্ভিক্ষের করুণ দৃশ্যগুলো ধরা পড়েছে তার লেন্সে।


ফিলিস্তিনি আলোকচিত্রী সাহের আলঘোরা

এই ছবিগুলোকে ‘মর্মান্তিক’ ও ‘সংবেদনশীল’ আখ্যা দেন পুলিৎজার প্যানেলের প্রশাসক মারজোরি মিলার। পুরষ্কার ঘোষণার সময় বিভিন্ন ধরনের বাধার মুখেও সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা বজায় রাখার ওপর জোর দেন মারজোরি।

সাহেরের যে প্রতিবেদনটি পুরষ্কার জিতেছে, তার শিরোনাম ‘ট্র্যাপড ইন গাজা: বিটুইন ফায়ার অ্যান্ড ফ্যামিন’ (গাজায় দুর্ভিক্ষ ও হামলার ফাঁদে আটকা পড়া)। ওই প্রতিবেদনে যুদ্ধের কবলে পড়া নিরীহ ও নিরপেক্ষ বেসামরিক মানুষদের দুর্দশার বাস্তবসম্মত চিত্র ফুটে উঠেছে।

অপরদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের রাজনৈতিক প্রতিশোধমূলক কার্যক্রমের ওপর প্রতিবেদন করে পুলিৎজার পুরস্কার জিতেছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স। ‘ন্যাশনাল রিপোর্টিং’ বিভাগে এ পুরস্কার পেয়েছে বার্তা সংস্থাটি।

বিট রিপোর্টিং’ বিভাগেও এ বছরের পুলিৎজার পুরস্কার জিতেছে রয়টার্স। শিশু ও ব্যবহারকারীদের ক্ষতিকর এআই চ্যাটবট ও প্রতারণামূলক বিজ্ঞাপনের সংস্পর্শে আনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বড় প্রতিষ্ঠান মেটার ভূমিকা নিয়ে অনুসন্ধানমূলক প্রতিবেদনের জন্য রয়টার্স এ পুরস্কার পেয়েছে।

চলতি বছর বিভিন্ন বিভাগে সম্মানজনক পুলিৎজার পুরস্কার পেয়েছে নিউইয়র্ক টাইমস, ওয়াশিংটন পোস্ট, কানেটিকাট মিরর, শিকাগো ট্রিবিউন, এপিসহ আরও কয়েকটি সংবাদমাধ্যম। এর মধ্যে নিউইয়র্ক টাইমস তিনটি বিভাগে পুরস্কার জিতেছে, যার মধ্যে সাহেরের পুরস্কারও অন্তর্ভুক্ত।

যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় পর্যায়ের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এ পুরস্কার সাংবাদিকতার নোবেল হিসেবেও খ্যাত। ১৯১৭ সাল থেকে এ পুরস্কার দেয়া হচ্ছে। সাংবাদিকতা ছাড়াও সাহিত্য, সংগীত ও নাটকে বিশেষ অবদানের জন্য এ পুরস্কার দেয়া হয়। কলাম্বিয়া ইউনিভার্সিটির একটি বোর্ড প্রতিবছর এ পুরস্কার ঘোষণা করে। সোমবার (৪ মে) এ বছরের পুলিৎজার বিজয়ী ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের নাম ঘোষণা করা হয়।

সূত্র: টিআরটি ওয়ার্ল্ড