• ১৪ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ , ৩১শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ , ২৭শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি

জ্বালানি তেল নিয়ে নতুন সঙ্কটের আশঙ্কা

Usbnews.
প্রকাশিত মে ৬, ২০২৬
জ্বালানি তেল নিয়ে নতুন সঙ্কটের আশঙ্কা
নিউজটি শেয়ার করুনঃ

ইরান ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের মধ্যে চলমান যুদ্ধ এবং তার প্রভাবে বিশ্ব অর্থনীতি এখন ঝুঁকির মুখে এসে দাঁড়িয়েছে। করোনা উত্তর বিশ্ব অর্থনীতি যখন উত্তরণের পর্যায়ে ছিল তখন শুরু হয় ইউক্রেন যুদ্ধ। ফলে বিশ্ব অর্থনীতিতে টালমাটাল অবস্থার সৃষ্টি হয়। সে সময় রাশিয়া এবং ইউক্রেনে খাদ্যশস্য উৎপাদন ছিল স্বাভাবিক। কিন্তু রাশিয়া এবং ইউক্রেনের কেউই উৎপাদিত খাদ্যপণ্য বিশ্ববাজারে রপ্তানি করতে পারেনি যুদ্ধ এবং অর্থনৈতিক অবরোধের কারণে। এতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ ও অঞ্চলে ভয়াবহ খাদ্যসঙ্কট দেখা দিয়েছিল। রাশিয়া এবং ইউক্রেন মিলিতভাবে বিশ্বের মোট দানাদার খাদ্যের ৩০ শতাংশ যোগান দিয়ে থাকে। আর রাশিয়া এককভাবে বিশ্বের মোট জ¦ালানি শক্তির এক শতাংশ যোগান দেয়। সে সময় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্র দেশগুলো ইরানের ওপর স্মরণকালের কঠোরতম অর্থনৈতিক অবরোধ আরোপ করে। রাশিয়া এবং মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক জ¦ালানি তেল উৎপাদন ও রপ্তানিকারকদের সংগঠন ‘ওয়েল অ্যান্ড পেট্রোলিয়াম এক্সপোর্টিং কান্ট্রিজ (ওপেক) জ¦ালানি তেলের উৎপাদন কমিয়ে দেয়। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে সব ক্যাটাগরির জ¦ালানি তেলের অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যায়। এক পর্যায়ে প্রতি ব্যারেল অপরিশোধিত জ¦ালানি তেলের মূল্য ১৩৯ মার্কিন ডলারে উন্নীত হয়। জ¦ালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির কারণে বিশ্বব্যাপী উচ্চতর মূল্যস্ফীতি প্রবণতা শুরু হয়। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মতো দেশের অভ্যন্তরীণ অর্থনীতিতে মূল্যস্ফীতির হার ৪০ বছরের রেকর্ড অতিক্রম করে ৯ দশমিক ১ শতাংশে উন্নীত হয়। ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক অব আমেরিকা (ফেড) ব্যক্তি খাতে বিনিয়োগে স্থবিরতার ঝুঁকি নিয়ে হলেও পলিসি রেট বারবার বৃদ্ধি করে। পাশাপাশি অন্যান্য ব্যবস্থা গ্রহণের ফলে এক পর্যায়ে মূল্যস্ফীতি সহনীয় পর্যায়ে নেমে আসে।

এর মধ্যে আবারো নতুন করে জ¦ালানি তেলের সঙ্কট তৈরি হয়েছে ইরান ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের মধ্যে চলমান যুদ্ধের কারণে। যুদ্ধ শুরুর আগে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতি ব্যারেল অপরিশোধিত জ¦ালানি তেলের মূল্য ছিল ৬০ থেকে ৬৫ মার্কিন ডলার। রাতারাতি তা বৃদ্ধি পেয়ে ১২০ মার্কিন ডলারে উন্নীত হয়। পরবর্তীতে জ¦ালানি তেলের মূল্য কিছুটা হ্রাস পেলেও আবারো তা ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতায় চলে গেছে। সর্বশেষ গত ২৮ এপ্রিল আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতি ব্যারেল অপরিশোধিত জ¦ালানি তেলের মূল্য ১ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ১০৯ দশমিক ৪২ মার্কিন ডলারে উন্নীত হয়েছে। মূল্যবৃদ্ধি পেয়ে আগামী জুন মাসে সরবরাহযোগ্য জ¦ালানি তেলের ক্ষেত্রে। এর আগে জ¦ালানি তেলের মূল্য ২ দশমিক ৮ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছিল, যা ছিল টানা সাত দিনের মূল্যবৃদ্ধির ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ রেকর্ড। ইরান হরমুজ প্রণালি নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে জ¦ালানি তেলের সরবরাহ বিঘ্নিত করার যে উদ্যোগ নিয়েছিল তা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নৌ-অবরোধের কারণে ভেস্তে যাবার উপক্রম হয়েছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নৌ-অবরোধের কারণে ইরান তার উৎপাদিত জ¦ালানি তেল রপ্তানি করতে পারছে না। ফলে দেশটি অতি উৎপাদন সমস্যায় পড়েছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইরানকে সামরিক কৌশলে পরাভুত করতে না পেরে এখন অর্থনৈতিকভাবে কোনঠাসা করার উদ্যোগ নিয়েছে। তারই এ উপায় হচ্ছে হরমুজ প্রণালিতে অবরোধ আরোপ। নৌ-অবরোধের কারণে ইরানের জ¦ালানি তেল রপ্তানি কার্যত বন্ধ হয়ে গেছে। ইরানের অর্থনীতিতে জ¦ালানি তেল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখে। ইরানের উত্তোলিত জ¦ালানি তেলের মজুত বেড়ে গেছে অস্বাভাবিকভাবে। জ¦ালানি তেল সংরক্ষণাগারের ধারণ ক্ষমতা ইতিমধ্যেই শেষ হয়ে গেছে। ফলে তারা পরিত্যক্ত স্থানে জ¦ালানি তেল সংরক্ষণের চেষ্টা করছে। গত ১৩ এপ্রিল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র হরমুজ প্রণালিতে নৌ-অবরোধ আরোপ করে। অ্যানালাইটিক্যাল প্রতিষ্ঠান কেপলার এর দেয়া তথ্য মোতাবেক, ১ থেকে ১৩ এপ্রিল পর্যন্ত ইরান প্রতিদিন গড়ে ২১ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত জ¦ালানি তেল লোড করতো। ১৪ থেকে ২৩ এপ্রিল পর্যন্ত ইরান প্রতিদিন মাত্র ৫ লাখ ৬৭ হাজার ব্যারেল তেল লোড করেছে। ইরানের তেল কোম্পানিগুলো উৎপাদন কমিয়ে দিয়েছে। বর্তমানে তারা প্রতিদিন ১২ লাখ থেকে ১৩ লাখ ব্যারেল জ¦ালানি তেল উৎপাদন করছে। বিশেষজ্ঞদের অনেকেই মনে করছেন, আগামী দু’সপ্তাহের মধ্যে ইরানের তেল সংরক্ষণাগারের ধারণ ক্ষমতা পুরোপুরি শেষ হয়ে যাবে।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র জ¦ালানি তেলের ওপর কর্তৃত্ব পেতে চায়। তাই তারা মধ্যপ্রাচ্যের মুসলিম দেশগুলোকে তাদের নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা চালাচ্ছে। এর আগে ভেনিজুয়েলার প্রেসিডেন্টকে মার্কিন বাহিনী তুলে নিয়ে গেছে। একটি স্বাধীন দেশের প্রেসিডেন্টকে এভাবে তুলে নেবার ঘটনা নজীরবিহীন। ভেনিজুয়েলার সঙ্গে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দ্বন্দে¦র মূল কারণ জ¦ালানি তেল। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র মনে করেছে, মাদুরো যতদিন ভেনিজুয়েলার প্রেসিডেন্ট থাকবে তাদের স্বার্থ রক্ষা হবে না। তাই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র অত্যন্ত ঘৃণ্য পন্থায় মাদুরোকে সরিয়ে দিয়েছে। একক দেশ হিসেবে ইরান জ¦ালানি তেল উৎপাদনের ক্ষেত্রে তৃতীয় শীর্ষস্থানে রয়েছে। ২০২৩ সালের হিসাব মোতাবেক, ভেনিজুয়েলার জ¦ালানি তেলের মজুত হচ্ছে ৩০৩ বিলিয়ন ব্যারেল। সৌদি আরবের জ¦ালানি তেলের মজুত ২৬৭ বিলিয়ন ব্যারেল। ইরানের জ¦ালানি তেলের মজুতের পরিমাণ হচ্ছে ২০৯ বিলিয়ন ব্যারেল। ইরাক ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের জ¦ালানি তেলের মজুতের পরিমাণ হচ্ছে যথাক্রমে ১৪৫ বিলিয়ন ব্যারেল ও ১১৩ বিলিয়ন ব্যারেল। কুয়েত, রাশিয়া ও লিবিয়ার জ¦ালানি তেলের মজুতের পরিমাণ হচ্ছে যথাক্রমে ১০২ বিলিয়ন ব্যারেল,৮০ বিলিয়ন ব্যারেল ও ৪৮ বিলিয়ন ব্যারেল। যুক্তরাষ্ট্র ও নাইজেরিয়ার জ¦ালানি তেলের মজুতের পরিমাণ হচ্ছে যথাক্রমে ৪৮ বিলিয়ন ব্যারেল ও ৩৮ বিলিয়ন ব্যারেল। প্রশ্ন হলো, জ¦ালানি তেলের বিশাল ভান্ডার থাকা সত্ত্বেও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র অন্য দেশের জ¦ালানি তেলের প্রতি এত আগ্রহ কেন? যুক্তরাষ্ট্রের জ¦ালানি তেল হালকা এবং এ ধরনের জ¦ালানি তেল গ্যাসেলিন জাতীয় জ¦ালানি তৈরির জন্য উপযোগী। এছাড়া অন্য কোন কাজে এই জ¦ালানি তেল খুব একটা ব্যবহার করা যায় না। অন্য দিকে ভেনিজুয়েলা, ইরান ও মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য দেশের জ¦ালানি তেল ভারি এবং এগুলো নানা কাজে ব্যবহার করা যায়।

ইউক্রেন যুদ্ধের সময় ওপেক এবং রাশিয়া মিলে জ¦ালানি তেলের উৎপাদন কমিয়ে দিয়েছিল। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে জ¦ালানি তেলের মূল্য অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছিল। ৬৫ বছর আগে ইরান, ইরাক, সৌদি আরব, কুয়েত ও ভেনিজুয়েলা মিলে ওপেক নামে যে জোট গড়ে তুলেছিল তার সঙ্গে রাশিয়াকে যোগ করে বলা হয় ওপেক। এতদিন বিশ্ব বাজারে জ¦ালানি তেলের সরবরাহ ও মূল্য অনেকটাই নিয়ন্ত্রণ করছিল ওপেক। কিন্তু এখন ওপেকের নিজস্ব অস্তিত্ব প্রশ্নের মুখে এসে দাঁড়িয়েছে। জ¦ালানি তেল উৎপাদনের একক বৃহত্তম দেশ হিসেবে পঞ্চম অবস্থানে থাকা সংযুক্ত আরব আমিরাত ওপেক থেকে বেরিয়ে যাবার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বিশেষত সৌদি আরবের সঙ্গে মতান্তরের কারণেই তারা এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে জানা গেছে। আন্তর্জাতিক বাজারে জ¦ালানি তেলের উচ্চ মূল্য ধরে রাখার জন্য সৌদি আরব উৎপাদন সংকোচনের পক্ষপাতি। আর সংযুক্ত আরব আমিরাত সব সময়ই বেশি পরিমাণ জ¦ালানি উৎপাদনের পক্ষপাতি। অর্থাৎ সংযুক্ত আরব আমিরাত পরিমাণগত কৌশল গ্রহণের পক্ষপাতি। আর সৌদি আরব মূল্য ভিত্তিক কৌশল গ্রহণের অনুকূলে তাদের অবস্থান ব্যক্ত করেছে। কৌশলগত দিক থেকে জ¦ালানি তেল রপ্তানির ক্ষেত্রে সংযুক্ত আরব আমিরাত সত্যি সত্যি ভালো অবস্থানে রয়েছে। অন্তত সৌদি আরবের চেয়ে তো বটেই। যুদ্ধ শুরু হবার আগে সংযুক্ত আরব আমিরাত দৈনিক গড়ে ৩৫ লাখ ব্যারেল জ¦ালানি তেল রপ্তানি করতো হরমুজ প্রণালি দিয়ে। এখন হরমুজ প্রণালি অবরুদ্ধ থাকার ফলে তারা বিকল্প পন্থা হিসেবে মুজাইরা বন্দর হয়ে পাইপ লাইনে তারা প্রতিদিন গড়ে ১৯ লাখ ব্যারেল জ¦ালানি তেল রপ্তানি করতে পারছে।

ইরান ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের মধ্যে বর্তমানে যে অলিখিত যুদ্ধ বিরতি চলছে তা কতদিন কার্যকর থাকবে তা কেউই নিশ্চিত করে বলতে পারছে না। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র নতুন করে ইরানের উপর হামলার পরিকল্পনা করছে বলে বিশ্লেষকদের অনেকেই মনে করছেন। আর ইরান দীর্ঘ মেয়াদি যুদ্ধের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অধিকাংশ নাগরিক এই যুদ্ধকে অপ্রয়োজনীয় এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জন্য সম্মানহানিকর বলেই মনে করছেন। যুদ্ধের কারণে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এ পর্যন্ত আড়াই হাজার কোটি মার্কিন ডলার ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছে ওয়াশিংটন। এর মধ্যে যুদ্ধ শুরুর প্রথম ৬ দিনে ক্ষতি হয়েছে ১ হাজার ১৩০ কোটি মার্কিন ডলার। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মাত্র ৩৪ শতাংশ নাগরিক এই যুদ্ধকে যৌক্তিক বলে মনে করছেন। যুদ্ধের কারণে মার্কিন জনগণের জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়েছে। জ¦ালানি তেলের মূল্য চার বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে রয়েছে।

শুধু মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র নয়, যুদ্ধের কারণে বিশ্বব্যাপী উচ্চ মূল্যস্ফীতিপ্রবণতা দেখা দিয়েছে। বিশ্বব্যাংক সম্প্রতি কমোডিটি মার্কেটস আউটলুক প্রকাশ করেছে। সেখানে বিশ্বব্যাপী উচ্চ মূল্যস্ফীতি প্রবণতার বিষয়টি ফুটে উঠেছে। এতে বলা হয়, যুদ্ধের কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে জ¦ালানি তেলের মূল্য ২৪ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেতে পারে। এটা হবে ২০২২ সালে ইউক্রেন যুদ্ধের পর জ¦ালানি তেলের সর্বোচ্চ মূল্য বৃদ্ধি। এবছর (২০২৬) সার্বিকভাবে বিশ্ববাজারে পণ্য মূল্য ১৬ শতাংশ বাড়তে পারে। এ বছর সারের মূল্য বাড়তে পারে ৩১ শতাংশ। যার মধ্যে সর্বোচ্চ মূল্য বৃদ্ধি ঘটবে ইউরিয়া সারের। ইউরিয়া সারের মূল্য বাড়তে পারে ৬০ শতাংশ। খাদ্য সঙ্কটের কারণে এ বছর বিশ্বব্যাপী ৪৫ মিলিয়ন মানুষ তীব্র খাদ্যাভাবে পতিত হতে পারে। বিশ্বের ৭০ শতাংশ পণ্য আমদানিকারক এবং ৬০ শতাংশ পণ্য রপ্তানিকারক দেশের আয় কমে যেতে পারে।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইরান যুদ্ধ নিয়ে বিব্রতকর অবস্থার মধ্যে রয়েছে। তারা না পারছে ইরানকে পর্যুদস্ত করতে না পারছে যুদ্ধ থেকে বেরিয়ে আসতে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইরানকে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে, হরমুজ প্রণালী নিয়ন্ত্রণমুক্ত করতে হবে। না হলে তারা আক্রমণ চালাবে। আর ইরান বলছে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র হরমুজ প্রণালীতে যে অবরোধ সৃষ্টি করেছে তা অবসান না ঘটানো হলে তারা কোন ধরনের আলোচনায় বসবে না।

 

  • এম এ খালেক