• ১৪ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ , ৩১শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ , ২৭শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি

বিজেপি প্রার্থীকে হারালেন ৮০০০ ভোটে , বাদ দেওয়া ভোটার থেকে কংগ্রেসের বিধায়ক মোতাব শেখ

Usbnews.
প্রকাশিত মে ৭, ২০২৬
বিজেপি প্রার্থীকে হারালেন ৮০০০ ভোটে ,  বাদ দেওয়া ভোটার থেকে কংগ্রেসের বিধায়ক মোতাব শেখ
নিউজটি শেয়ার করুনঃ

পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনে এক নাটকীয় মোড় শেষে জয়লাভ করলেন ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের প্রার্থী মোতাব শেখ। বিতর্কিত ‘বিশেষ নিবিড় সংশোধন’ (এসআইআর) প্রক্রিয়ার সময় ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ পড়লেও, পরবর্তীকালে অ্যাপেলিয়েট ট্রাইব্যুনালের নির্দেশে ভোটার তালিকায় নাম ফিরে পান তিনি। এরপর সোমবার ফারাক্কা বিধানসভা কেন্দ্র থেকে তিনি বিজয়ী ঘোষিত হন।

মোতাব শেখ ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) প্রার্থী সুধীর চৌধুরীকে ৮,০০০-এরও বেশি ভোটের ব্যবধানে পরাজিত করেছেন।নির্বাচন কমিশনের এসআইআর প্রক্রিয়ায় নাম বাদ পড়ার পর মোতাব শেখ সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়ে ছিলেন। শীর্ষ আদালত তাকে কলকাতার একটি অ্যাপেলিয়েট ট্রাইব্যুনালে আবেদন করার অনুমতি দেয়। এর ফলে তিনি কংগ্রেসের টিকিটে নিজের প্রার্থিতা বজায় রাখতে সক্ষম হন।

গত ৫ এপ্রিল, ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়া ব্যক্তিদের আপিল শোনার জন্য গঠিত কলকাতার সেই ট্রাইব্যুনাল মোতাব শেখকে মুর্শিদাবাদের একজন বৈধ ভোটার হিসেবে ঘোষণা করার জন্য নির্বাচন কমিশনকে নির্দেশ দেয়। ট্রাইব্যুনালের রায়ে জয়ী হওয়া এটিই ছিল প্রথম মামলা।

ট্রাইব্যুনালের আদেশে অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি টি. এস. শিবজ্ঞানম উল্লেখ করেন, নির্বাচন কমিশন নাম কাটার সপক্ষে কোনো সুনির্দিষ্ট ব্যাখ্যা না দিয়ে কেবল “প্রযুক্তিগত কারণ” দর্শিয়েছে। শেখ-এর পাসপোর্ট তার নাগরিকত্বের জন্য পর্যাপ্ত প্রমাণ হিসেবে গণ্য হয়েছে। রেকর্ডে তার পিতার নামে কোনো অসংগতি পাওয়া যায়নি।

একইভাবে মোহাম্মদ মুত্তাকিন আলম নামে অন্য একজন প্রার্থীর নামও ট্রাইব্যুনালের নির্দেশে ভোটার তালিকায় ফিরিয়ে আনা হয়। অসংগতিপূর্ণ বয়স বা অভিভাবকত্বের অজুহাতে তার নাম বাদ দেওয়া হয়েছিল, যা ট্রাইব্যুনাল নাকচ করে দেয়। আলম রতুয়া বিধানসভা কেন্দ্র থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে ৩১,০০০ ভোট পেয়ে তৃতীয় স্থান অধিকার করেন। এই আসনে এক লক্ষেরও বেশি ভোট পেয়ে জয়ী হন তৃণমূল কংগ্রেসের সমর মুখোপাধ্যায়।

পশ্চিমবঙ্গ নির্বাচনের আগে পরিচালিত এই বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়ায় গত ৬ এপ্রিল পর্যন্ত প্রায় ৯১ লক্ষ ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে, যা মোট ভোটারের প্রায় ১১.৯%। বর্তমানে লক্ষাধিক ব্যক্তি এই চ্যুতকরণের বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালে আপিল করেছেন।

বিহার থেকে শুরু হয়ে ১২টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে বিস্তৃত হওয়া নির্বাচন কমিশনের এই এসআইআর অভিযান তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছে। সমালোচকরা এই প্রক্রিয়াকে অসাংবিধানিক ও অগণতান্ত্রিক, অস্বচ্ছ ও অবৈজ্ঞানিক, মৌলিক অধিকারের গণ-অস্বীকৃতি এবং ত্রুটিপূর্ণ বলে বর্ণনা করেছেন।

কেরল, রাজস্থান, গুজরাট এবং মধ্যপ্রদেশে এই প্রক্রিয়ার সাথে যুক্ত কর্মীদের কাজের প্রচণ্ড চাপ ও মৃত্যুর খবর সামনে আসায় অসন্তোষ আরও বেড়েছে। পশ্চিমবঙ্গসহ অন্যান্য রাজ্যের বিরোধী দলগুলো অভিযোগ করেছে যে, পর্যাপ্ত সুরক্ষা ব্যবস্থা ও স্বচ্ছতা ছাড়াই এই প্রক্রিয়া তড়িঘড়ি সম্পন্ন করা হয়েছে।