ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে (ঢাবি) শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউট পরিচালিত ইউনিভার্সিটি ল্যাবরেটরি স্কুল এন্ড কলেজের এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে একাধিক ছাত্রীকে যৌন হয়রানির অভিযোগ উঠেছে। অভিযুক্ত ওই শিক্ষকের নাম বরুণ কুমার সাহা।
এছাড়াও উনি স্কুল ক্যাম্পাসে ছেলে আর মেয়ে শিক্ষার্থী একসঙ্গে কথা বললে ভিডিয়ো করে রাখেন। পরে সেটি অধ্যক্ষ ও তাদের বাবা-মাকে পাঠাবেন বলে হুমকিও দেন। এসব অভিযোগ উঠার পর তার বিরুদ্ধে ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং কমিটি গঠন করেছে কর্তৃপক্ষ। কমিটির প্রতিবেদন এখনো দেয়নি।
অভিযুক্ত ওই শিক্ষকের নাম বরুণ কুমার সাহা। তিনি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটির পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত রয়েছেন।
রোববার (১০ মে) বিকেলে বিষয়টি দৈনিক শিক্ষাডটকমকে নিশ্চিত করেছেন ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. জামিল উদ্দীন। তিনি বলেন, ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে গত ২৯ এপ্রিল ৫ থেকে ৬ শিক্ষার্থী লিখিত অভিযোগ দেয়। অভিযোগ আমলে নিয়ে আমরা ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং কমিটি গঠন করেছি। এই কমিটির তিনজন প্রশিক্ষণে থাকার কারণে প্রতিবেদন দিতে বিলম্ব হয়। গত ৭ মে শিক্ষার্থীরা ফের আসেন এ ব্যাপারে জানতে। তখন আমি ফের ৯ সদস্য বিশিষ্ট একটি কমিটি করেছি। অভিযুক্ত শিক্ষক বরুণ লিখিত জবাব জমা দিয়েছেন। ৬ থেকে ৭ জন শিক্ষার্থীও লিখিত বক্তব্য দিয়েছেন। কমিটির প্রতিবেদন চূড়ান্ত করে আগামীকাল সোমবার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিচালকের কাছে জমা দেয়া হবে। তারপর ঊধ্বর্তন কর্তৃপক্ষ এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেবে।
অভিযোগের বিষয়ে কথা বলতে অভিযুক্ত শিক্ষক বরুণ কুমার সাহাকে কয়েকটি গণমাধ্যম থেকে একাধিকবার ফোন করলেও তাকে পাওয়া যায়নি।
জানা গেছে, শিক্ষক বরুণ কুমার সাহা অনেক দিন ধরে স্কুলের ছাত্রীদের সঙ্গে আপত্তিকর আচরণ করে আসছেন। শুরুতে বিষয়টি নিয়ে মুখ না খুললেও আজ রোববার দুপুরে স্কুলে গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেন একাধিক ভুক্তভোগী ছাত্রী।
শিক্ষক বরুণ কুমার সাহা অনেক দিন ধরে স্কুলের ছাত্রীদের সঙ্গে আপত্তিকর আচরণ করে আসছেন। শুরুতে বিষয়টি নিয়ে মুখ না খুললেও আজ রোববার দুপুরে স্কুলে গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেন একাধিক ভুক্তভোগী ছাত্রী।
আরেক ছাত্রী অভিযোগ করেন, তিনি (বরুণ স্যার) ক্লাসে খারাপ ব্যবহার করেন, কুরুচিপূর্ণ ইঙ্গিত দিয়ে কথা বলেন। যা আমাদের কাছে অনেক খারাপ লাগে। ওনি কোনো ছেলে আর মেয়ে কথা বলতে দেখলেই সেটাকে প্রেমের সম্পর্ক টানেন। কাউকে যদি বাহিরে দেখে কথা বলতে তাহলে ওনি সেটি ভিডিয়ো করেন। ভিডিয়ো করে বলে সেটা ওনি প্রিন্সিপালের কাছে দেবে। গার্ডিয়ানকে দেবে বলে থ্রেট দিয়েছে ও ব্ল্যাকমেইলও করেছে।
হিজাব পরিহিত এক ছাত্রী বলেন, একদিন আমাকে তিনি বলেন তার সাবেক শিক্ষার্থীরদের সঙ্গে নাকি তিনি ওয়েস্টার্ণ ড্রেস নিয়ে কথা বলতেন। তিনি আমাকে বলেন তুমি ২০ বছর পরে টপ আর জিন্স পরিধানের কথা ও বলেন।