পকিস্তানে সাধারণ নির্বাচনে এখন পর্যন্ত ২৫০ আসনের ফল ঘোষণা দেশটির নির্বাচন কমিশন (ইসিপি)। আর মাত্র ১৫ আসনের ফল ঘোষণা বাকি।
প্রাপ্ত ফল আনুযায়ী ৯৯ আসনে জয়ী হয়েছেন ইমরান খানের দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই) সমর্থিত স্বতন্ত্র প্রার্থীরা। নওয়াজ শরিফের দল পাকিস্তান মুসলিম লিগ-নওয়াজ (পিএমএল-এন) জয় পেয়েছে ৭১ আসনে এবং পাকিস্তান পিপলস পার্টি (পিপিপি) পেয়েছে ৫৩ আসন। এ ছাড়া অন্যান্য দল পেয়েছে ১০টি আসন।
পাকিস্তানে অনুষ্ঠিত জাতীয় নির্বাচনের ভোটগ্রহণ গত বৃহস্পতিবার (৮ ফেব্রুয়ারি) স্থানীয় সময় বিকেল পাঁচটায় সম্পন্ন হয়।
এদিকে পুরোপুরি ফলাফল হাতে না পেয়েই তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরফি নিজের দলকে বিজয়ী ঘোষণা করেছেন। গতকাল শুক্রবার দিয়েছেন বিজয়ী ভাষণ। সেইসঙ্গে সরকার গঠন করার জন্য জোট বাঁধতে পারেন বলে জানিয়েছেন।
আবার দেশটির আরেক সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের (পিটিআই) প্রতিষ্ঠাতা ইমরান খানও গতকাল শুক্রবার রাতে বিজয়ী ভাষণ দিয়েছেন। এআই-এর মাধ্যমে তৈরি করা ভাষণে তিনি তাদের দলের বিপুল জয়ের দাবি করেছেন এবং তার সমর্থকদের ধন্যবাদ জানিয়েছেন।
পাকিস্তানের জাতীয় পরিষদের ২৬৫ আসনে (একটি স্থগিত) ভোট গ্রহণ হয় বৃহস্পতিবার। কোনো দলের সরকার গঠনে প্রয়োজন হবে ১৩৪ আসন।
পাকিস্তানের নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইটের তথ্যানুযায়ী এখন পর্যন্ত ২৫০ আসনের ফল প্রকাশ করা হয়েছে। আর বাকি রয়েছে ১৫ আসনের ফল। তবে ইতিমধ্যেই তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফ নিজের দলকে বিজয়ী ঘোষণা করেছেন। গতকাল শুক্রবার দিয়েছেন বিজয়ী ভাষণ। সেইসঙ্গে সরকার গঠন করার জন্য জোট বাঁধতে পারেন বলে জানিয়েছেন।
এদিকে নওয়াজ শরিফের প্রতিদ্বন্দ্বী দেশটির আরেক সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের (পিটিআই) প্রতিষ্ঠাতা ইমরান খানও গতকাল শুক্রবার রাতে বিজয়ী ভাষণ দিয়েছেন। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স (এআই) দিয়ে তৈরি ইমরান খানের এই ভাষণ প্রকাশ করা হয়েছে। এআই-এর মাধ্যমে তৈরি করা ভাষণে তিনি তার দলের বিপুল জয়ের দাবি করেছেন এবং তার সমর্থকদের ধন্যবাদ জানিয়েছেন।
পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের (পিটিআই) প্রতিষ্ঠাতা কারাবন্দী ইমরান খানের সঙ্গে জেলে দেখা করবেন দলটির নেতা। আগামীকাল শনিবার ইমরান খানের সঙ্গে এই বৈঠকের তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই) জানিয়েছে, তারা নওয়াজ শরিফের দল পিএমএল-এন ও বিলাওয়াল ভুট্টোর পিপিপির সঙ্গে সরকার গঠনে জোট বাঁধবে না। এমনই দাবি করেছেন পিটিআই-এর আইনজীবী গহর আলি খান।
ভোটের মাঠে ইমরানের জয়
পাকিস্তানে জাতীয় নির্বাচনের ভোট গ্রহণ শেষ হয় গত বৃহস্পতিবার। এর পর থেকে আজ শনিবার সকাল ৬টা পর্যন্ত ঘোষিত ফলাফলে দেখা যাচ্ছে, এবারের নির্বাচনে সবচেয়ে বেশি আসনে জয়ী হয়েছেন স্বতন্ত্র প্রার্থীরা। স্বতন্ত্র প্রার্থীদের প্রায় সবাই পিটিআইয়ের সমর্থন নিয়ে নির্বাচনে লড়েছেন।বৈরী এই পরিস্থিতির মধ্যেও নির্বাচনে পিটিআই–সমর্থিত প্রার্থীদের চমক জাগানোর মতো ফলের পেছনে বেশ কিছু কারণ রয়েছে বলে বিশ্লেষকেরা মনে করছেন। তার মধ্যে অন্যতম হলো তরুণদের মধ্যে পিটিআইয়ের বিপুল সমর্থন।
ইমরান খান আরও বলেন, ‘এখন আমাদের কেউ দাবিয়ে রাখতে পারবে না। শেষ কথা বলতে চাই, চিন্তা করবেন না। (বিজয়) উদ্যাপন করুন আর সৃষ্টিকর্তাকে ধন্যবাদ দিন। দুই বছরের জুলুম ও অন্যায়ের পরও আমরা দুই–তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে নির্বাচনে বিজয়ী হয়েছি। প্রত্যেকে নিজেদের ভোটের শক্তি দেখেছেন এবার আপনাদের ভোটকে রক্ষার জন্য প্রস্তুত থাকুন।’
পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান বলেছেন, গত বৃহস্পতিবারের জাতীয় নির্বাচনে তাঁর দলের (পিটিআই) সমর্থকেরা সবাইকে চমকে দিয়েছে। গতকাল শুক্রবার সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমগুলোয় প্রচারিত এক ভাষণে পিটিআইয়ের প্রতিষ্ঠাতা প্রধান ইমরান খান এ কথা বলেন।
পাকিস্তানে গত বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত জাতীয় নির্বাচনের সর্বশেষ ঘোষিত ফল অনুযায়ী পিটিআই সমর্থিত প্রার্থীরা সবচেয়ে বেশি আসনে জয়ী হওয়ার প্রতিক্রিয়ায় এই কথা বলেছেন ইমরান খান।
শুক্রবার রাতে এক্স (সাবেক টুইটার) হ্যান্ডলে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মাধ্যমে তৈরি ইমরান খানের একটি বক্তব্য প্রচার করা হয়। সেখানে তিনি বলেন, নজিরবিহীনভাবে জাতি ঘুরে দাঁড়িয়েছে। এতে জাতীয় নির্বাচনে পিটিআই বিজয়ী হয়েছে।

পাকিস্তান পিপলস পার্টির (পিপিপি) প্রভাবশালী নেতা বিলাওয়াল ভূট্টো জারদারি জাতিয় পরিষদের কাম্বার শাহদাতকত (১৯৬)ও লাহোর আসনে জয় পেয়েছেন।
সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও নওয়াজ শরিফের ভাই শাহবাজ শরিফ লাহোরের প্রাদেশিক পরিষদ ও জাতীয় পরিষদ উভয় আসনেই জয় পেয়েছেন। তবে নওয়াজ শরিফ হেরেছেন একটি আসনে আর জয় পেয়েছেন আরেকটি আসনে।
অপরদিকে নওয়াজ কন্যা মরিয়ম নওয়াজ তার প্রথম নির্বাচনেই লাহোরের আসন থেকে জয় পেয়েছেন। স্বতন্ত্র প্রার্থীকে হারিয়েছেন তিনি। পিপিপির আসিফ আলি জারদারিও একটি আসনে জয় পেয়েছেন।
পাকিস্তান নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, ২২৪টি আসনের মধ্যে স্বতন্ত্রপ্রার্থীরা পেয়েছেন ৯২টি আসন- যার বেশিরভাগই ইমরান খান সমর্থিত। নওয়াজ শরিফ পিএমএল-এন পেয়েছে ৬৩টি। আরেক প্রতিদ্বন্দ্বী পিপিপি পেয়েছে ৫০টি আসন। বাকি দলগুলো পেয়েছে মোট ১৯টি আসন। ফল ঘোষণা বাকি রয়েছে ৪১টি আসনে।
সেনা সমর্থিত নেওয়াজের সংখ্যাগরিষ্ঠতা নেই , যুক্তরাষ্ট্র-যুক্তরাজ্যের নীতি কেমন হবে ?
ইমরান খানের পিটিআই এই নির্বাচনে যা দেখিয়েছে, দেশের অতীত প্রেক্ষাপটে তা চমকপ্রদ।পাকিস্তানের ভোটাররা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় বিশ্বাস করে।
বেশিরভাগ বিশেষজ্ঞরা একমত যে, যেখানে দেশটির শক্তিশালী সামরিক বাহিনী সমর্থিত নওয়াজ শরীফকে বিজয়ী ধরেই নেওয়া হয়েছিল, সেখানে পিটিআই-সংশ্লিষ্ট প্রার্থীদের এমন সাফল্য অপ্রত্যাশিত।
পিটিআইকে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার কারণে এই দলের স্বীকৃতি নেই। তাই এক হিসাবে নওয়াজের পিএমএল-এন এখন বৃহত্তম রাজনৈতিক দল। সুতরাং, সরাসরি বিজয় দাবি করতে যে-কোনো দলেরই এখনও কিছু সময় লাগতে পারে।
এদিকে যুক্তরাজ্য এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র নির্বাচনের ফলাফলের পাশাপাশি ভোটের স্বাধীনতার উপর বিধিনিষেধ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।
ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরন বলেছেন, যুক্তরাজ্য পাকিস্তানের কর্তৃপক্ষকে তথ্যের অবাধ অধিকার, আইনের শাসন এবং মৌলিক মানবাধিকার সমুন্নত রাখতে আহ্বান জানিয়েছে। এক বিবৃতিতে, তিনি সব দলকে আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার অনুমতি না দেওয়ায় দুঃখ প্রকাশ করেছেন।
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র ম্যাথিউ মিলার পাকিস্তানের নির্বাচনী প্রক্রিয়া চলাকালীন মত প্রকাশের স্বাধীনতা, জোট গঠন এবং শান্তিপূর্ণ সমাবেশের উপর অযাচিত বিধিনিষেধ আরোপের সমালোচনা করেছেন।
তিনি নির্বাচন প্রক্রিয়ায় হস্তক্ষেপ করা হয়েছে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। উদ্বিগ্ন হওয়ার কারণ হিসাবে গণমাধ্যমকর্মীদের উপর আক্রমণ এবং ইন্টারনেট ও টেলিযোগাযোগ পরিষেবার উপর নিষেধাজ্ঞাকে উল্লেখ করেছেন।