1 – বিষন্ন ভাবে চিন্তা
প্রথম আসিলাম যখন ভবে ,
কাদঁলোনা কেউ শোকে,
সুখের আনন্দে হাসিল সবে।
আনন্দের স্বরে প্রত্যেক আত্মীয়দের ,
বাড়িতে মিষ্টি বিতরণ করে খুশিতে গেলো,
আত্বাভরে খবর পাঠানো হলো তাড়াতাড়ি করে।
মনের ও দেহের সুস্থতা না থাকলে আগেপাছে ,
আনন্দ কখনো আসেনা ফিরে ,
দোয়া দুরূদ চলিলো মাবুদের কাছে।
জীবনখানা ক্ষণস্থায়ী জীবনের জগতে আসলে,
আবার চলে যেতে হবে ,সৃষ্টি কর্তার হাতে চাবি ,
ভীতি প্রদর্শন করে কি লাভ আছে তাহলে।
কোমল সরস মনে জীবনী কথা স্বরণ রেখে চলতে হবে ,
ভালোবাসা ভালো কাজ যতই করা হবে সস্কার ,
মূল্যবান কথা কাজ মূল পুঞ্জি হবে।
রক্ত আর জলের সাহায্যে বাতাসের তরীখানা একদিন হবে বন্ধ।
নিজের সৎকর্ম সততায় থাকা যাবে অমর হয়ে।
সবার হৃদয়ে সুপ্ত হয়ে চিরকাল থাকবে স্বরণীকায় আবদ্ধ।
ভালো কাজের মর্যাদা ইহকাল ও পরকালে থাকবে ,
বংশ বিবরণ কুলজী অভিজাত্য আসবেনা কোন কাজে,
সব ভালো কাজকর্ম মূল খাতায় মাবুদের কাছে সংরক্ষিত রবে ।
এই জগতে আসা যাওয়ার অনুষ্ঠান সর্বদা থাকবে ,
বন্ধক দাতার বন্ধকী জীবন শেষ হলে ,
বিজ্ঞাপন পত্র নিজ হাতে আসবে আসবে,
সুখবর সুখকর কথাবার্তা মনোহর চরিত্রে রূপ রেখা কাজে আসবে।
2- আলো-বাতাসের পিঞ্জির
নির্মল নিষ্কলঙ্ক বন্ধুটি আমার ভেতরে থাকে ,
অতি আদরের বন্ধুটি পুষে রেখেছি দুধকলা দিয়ে ,
থাকা খাওয়ার নেই অভাব আট কুটুরী নয় দরজা নিয়ে ,
ইচ্ছেমতো চলা ফেরা মাবুদ ছাড়া ভয় করে না কাউকে।
অকপট সরল মন তার কলঙ্ক শূন্য পরিষ্কার দেহতে ,
মাবুদের জিকির ছাড়া নেই কোন গতি ,
শপথ করে আসিয়াছি মাবুদ তোমার নির্দেশে ,
পারিনা কোনদিন তোমাকে ভুলতে।
আগমন আর গমন এই দুই দিনের সময় ,
আমাদের হাতে আছে নির্দেশ দিলেই ,
পাখিটা অতিসহজে মুহূর্তেই উড়ছে যাবে ,
পিঞ্জরটা পড়ে বিনষ্ট হবে এই ধরায়।
লাভজনক কাজে আসিলাম ভবে , স্রষ্টা অতিশয়-মেহেরবান,
দুঃসাহসিক কর্মে প্রবৃত্ত হয়ে পরামর্শ উপদেশ অমান্য করে ,
প্রতিকূল বিরুদ্ধ কাজকর্ম দিয়ে হই মোরা অপরাধী ,
তোমার ক্ষমা ছাড়া নেই উপায় শক্তিমান , সর্বত্র-বিরাজমান।
3- বাংলাভাষা ও মাতৃভূমি
বাংলা আমার মার্তৃভাষা,
হে বাংলা তুমি আমাদের প্রাণ,
আমরা বাঙালি বাংলাদেশি,
তোমার ভাষায় কথা বলতে,
গর্ভে নেচে ওঠে প্রাণ।
হে বাংলাদেশ , ও বাংলা ভাষা,
তুমি এতো মধুর স্নেহের দেশ,
হে সোনার বোরন দেশ ও ভাষা।
আঁখি মেলে দেখি,
তোমার ভাষায় বাংলার চাষি,
বজায় মধুর সুরের বাঁশি।
বাউলের তারের মিহি সুরে,
হৃদয় নিলো কেড়ে,
সালাম দেয় গো মা দু চরণে ,
তোমার স্বার্থক এই সব মধু মাখা গুণে।
প্রশান্তিময় জীবন কাহিনী রাখি তোমার কাছে,
স্বর্ণের বর্ণে রংগিন যে মাগো,
ভান্ডার ভরা তোমার জ্ঞান,
বাংলাদেশ ও বাংলার স্বপনের আশা আছে।
বাংলা আমার প্রাণ,
বাংলা ভাষায় রক্ত ঝরা বাংলায় গাই গান,
রক্ত দিয়ে গড়া বাংলাদেশ ও ভাষা,
তুমি মোদের প্রাণ।
তোমার ভাষায় কথা বলতে ওষ্টে জাগে প্রাণ
মান সম্মান বৃদ্ধি করতে দেবো জান মাল
যদ্দিন আছে জীবনের সব কিছুই থাকবে অম্লান।
4-কর্মচঞ্চল স্থান
জীবন গাড়ির নতুন বাড়ি উড়ে যাবো চলি,
এই আমার একমাত্র পণ,
নিয়ে এলাম সুখের পাক পবিত্র আমি,
কেন যে হলো মোদের পরিবর্তন , কারে আমি বলি।
কি করে কে কাকে বলবে ?
দুঃখী দুঃখ সেই তার বুঝে,
আর বুঝে একমাত্র সৃষ্টির সেরাজন,
কি করবো যাবো কোথায়,
নাই জানা কারো এভাবে।
বেঁচে থাকার জন্য রাতদিন করতে হয় সব রকমের পরিশ্রম,
বিধাতা দিবেন যাহা মূল পুঁজি তাহা,
নির্মল বাতাসটি যাবে উড়ে,
অনুভূতি প্রকাশের পাইবে না সময় নূন্যতম।
শিক্ষাদানে জোগাড় করতে পারলাম না,
বিশ্বাস ভাজন কেউ নাই সংসারে,
নিমিত্ত সঠিক শিক্ষার বেতন,
সত্য ঘটনা জেনেও বলতে পারিনা।
ডিগবাজি খায় গোলমাল করে কাটালাম ,
সুসজ্জিত পরিপাটি ক্ষণস্থায়ী জীবন,
ভুলেভরা প্রতিলিপি খানা ,
মহাজনের কাছে দিলে দিলে খাবে ধরা জানলাম।
অতিক্রম করে যেতে পারবনা কেহ সেদিন ,
হতান্তর যোগ্য কর্মান্তরে প্রেরণ করবে সঠিক স্থানে,
দয়ার গুণে করতে পারেন শান্ত সুস্থির প্রশান্ত জীবন।
5 – জয় পরাজয়
হবে নাকো অসত্যের কাছে সত্যের পরাজয় ,
অসত্য লোকের কথা হাজারেও নয় ,
একটা খাঁটি বুঝে নিতে হয়।
পরশ পাথরের মতো সত্যকে সত্যি বলে জানি ,
সত্যের সাথে আলিঙ্গন করে চাই সর্বদা হাঁটি ,
সুখে দুঃখে ভরা এ ধরণীর পবিত্র মাঠি।
করুনায় ভরা মহিমায় সেরা ,
সুন্দর পরিপাটি ভূমি,
হে স্বদেশ বিশ্ব আমার জন্মভূমি।
সত্য ভাসবে উপরে , মিথ্যে যাবে নিচে,
সত্য মিথ্যের তফাৎ থাকবে সর্বক্ষনে ,
সত্য মিথ্যে চলে না একসাথে , মিথ্যে চলে পিছে।
সৃষ্টির যতসব প্রাণী ,
ধরা ছেড়ে যাবো একসাথে চলে ,
থাকবে সব আজন্ম সত্যের বাণী।
কয়দিন আছে বাকি তা কি কেউ বলতে পারে ?
মহাজ্ঞানীর মহাজনের খাঁটি সত্য বাক্যবলী
পাঠ করে দেখো , যেন সকলে মিলে, সবকিছুই সকলের তরে ।
শ্রবণ করো আর পড়ো মহা পবিত্র গ্রন্থ ,
গাড়ির দেহখানি সত্য সব জ্ঞান দিয়ে জেনে ,
নিশ্চই পাবো অবদান , অগ্রাধিকার ,
ভালো কর্মের ফলাফল বিশ্বাস রাখো মনে প্রাণে।
একদিন যাবে শুকিয়ে অগাধ নদী ,
সাগর মহাসাগরের অথৈ জল ,
মিথ্যে যত কথা সকল পাপ কাজ ,
পুণ্যেরা পাবে তাদের অবদানের পুরস্কার আজাদী।
মহাজ্ঞানী মহাজনেরা যে পথে গেছেন চলে ,
আমরাও থাকবো তাদের সাথে ,
যদি আরাধনা করে সত্য ও ন্যায় ইনসাফ থাকিলে ,
তওবা করি চলি একসাথে ,
সুখে শান্তিতে রাখিও মাবুদ ,
অচেনা না ফেরার পথে যখন যাবো চলে।
6- সেবা যত্নের ফলাফল
সজ্ঞানে বসবাস করে ছেলেমেয়ে বসতি করে সকলে,
আনন্দ উৎসবে তাদের মন ভরে যায় মা বাবা দেখে,
সচেতন ছেলে মেয়ে যারা আছে জীবিত,
তারা তাদের পিতামাতাকে যত্ন করে মন খুলে।
পিতামাতার মতো আপনজন আর সংসারে কেইবা আছে,
বিধাতার কাছে প্রার্থনা করি ছেলে মেয়েদের সুখ শান্তি কামনা করি ,
যত্ন করলে পাওয়া যায় রত্ন সুখে দুঃখে পাশে থাকলে,
নিজের জীবনে সুখ পেতে হলে সেখানেই আছে।
পর্যাপ্ত সুখ দিয়ে মাতা পিতার সেবা করতে হয়,
নিজে তোমার ও জীবন তাদের মতো অবস্থা হবে,
সবার জীবন বাস্তহারা কিন্তু আশা থাকে প্রচুর,
ছবর করে থাকতে পারলে চলে আসবে সুখ নেই ভয়।
ঘৃণা করোনা রোগাক্রান্ত হলে ,
আলিঙ্গন করো গুরুজনদের সেবাযত্ন আসবে কাজে ,
তোমাদের তোরে মাতা পিতা যেমন পরিশ্রম করে লালন পালন করছেন,
তোমরা সেইমতো করো তাদের বৃদ্ধকালে।
সৃষ্টির সেবায় তোমাদেরকে সুখী করবেন আখের ও এ জগতে,
সহ্য করে নিতে হয় রাতদিন যেভাবে হয়,
সকলের জীবন ঠিক সেমতো উত্তান পতন হবে তাতে।
7- বিজয় দিবস স্মরণে
ও আমার বাংলার মাটি,
তুমি সুন্দর তুমি খাঁটি , তুমি পরিপাটি,
তোমার বুকে রাখি মাথা সুখে মোর দিনটি কাটি,
ও আমার বাংলার মাটি।
তোমার রূপে মুগ্ধ থাকি তোমার মাটিতে ঘরবাঁধি,
ও আমার বাংলার মাটি আমি তোমায় কত ভালোবাসি,
চারদিকে ছবি আঁকা তোমার সোনার বদন খানি,
যেদিকে যাই সে দিকে তাকাই তোমার মতো নাহি পাই,
আঁখি মেলে চেয়ে থাকি নিরবধি ।
পাইনি খুঁজে সমরূপ আনন্দে মত্ত থাকি,
প্রকৃতিতে ছয়টি ঋতুর ছবি আঁকা,
প্রতি দুমাস পর পর একটা ঋতু দেখা,
সুখে দুঃখে ভুলিতে না পারি,
ও আমার বাংলার মাটি।
মুকগ্ধ করে তোমার গুনে তাইতো বুকে জড়ায়ে রাখি।
শহরতলী গ্রামগঞ্জে তোমার সাথে নাই জুড়ি।
অবাক দৃষ্টিতে চেয়ে দেখি তোমার অপরুপ ,
তোমার বুকে নানারঙের শস্য ফলাও ভরাও মাটি,
প্রাণ খুলে ভালোবাসি তোমার রূপে চেয়ে থাকি।
আঞ্চলিক পাঁচমিশালী মধুর ভাষা মনের সুখে কথা বলি,
মিটাও তুমি মোদের আশা অবাক মনে চেয়ে থাকি,
বাংলা গানের মুগ্ধ গুনে জোড়ায় তখন মোদের আঁখি,
প্রকৃতির তুমি সৃষ্টির সেরা সৃজন করেছেন এ বসুন্দরা।
মহিমাময় এ গাছ গাছালি বিছায়ে রেখেছেন যত্ন করি,
কবিৱৰি ভাষায় তুমি তো সবার কাছে খাঁটি,
তোমাকে কি ভুলিতে পারি,
ও আমার বাংলার মাটি।
8- ন্যায়বিচার
ন্যায়বিচারের দুনিয়াতে কত ধর্মের মানুষ বসবাস করছে,
অস্ত্রের ভয়ে থাকছে নীরবে মুখ রাখছে বন্ধ করে ,
কাফির শয়তান ঘাতক সেজে বিষাক্ত সমরাস্ত্র রাখছে তৈরী করে ,
আবিষ্কার করছে কত সমরাস্ত্র সঞ্চিত করছে সব ,
মানুষ মারার কৌশল খুঁজে ছলেবলে,
ধোঁকা দিয়ে নিচ্ছে কব্জা করে।
হক্কানী আলেমদের ক্রন্দন বৃথা যাবে না কখনো
মসজিদে ভোরে মুয়াজ্জিনের আজান তাদের কানে নাহি ঢুকে ,
কলাকৌশলে ষড়যন্ত্রে সত্যবাদীকে মারার ফন্দি করে ,
মিথ্যা কথা প্রচার করে , অন্যায় হামলা মামলা দিয়ে রাখছে জেলহাজতে ,
দুনিয়ার বিচার অবশ্যই দুনিয়াতে হবে।
নিশ্চয় আল্লাহ এসব বিচার করবেন বিশ্বাস রাখি মনে ,
হত্যার নীলনকশা এঁকে ফাঁসায় অস্ত্র হাতে দিয়ে ,
গুম খুন ক্রসফায়ারে মারচে নিরীহ মানুষদের,
সত্য বিচার অবশ্যই হবে দুই চারদিন পর।
হায়েনার দল ধ্বংস হবে সত্যি কাজ থাকে
মিথ্যা পাপাচার আসবে সম্মুখে
কৃত কর্মের ফলাফল অবশ্য প্রকাশ পাবে।
ফাঁসির বিচার ফাঁসিতে হবে , তখনি কি করবে ?
বিবেকবান ছাত্র , কৃষক , জনগণ সব রকমের পেশাজীবী,
এক হয়েছে , বুক পেতেছে মৃত্যুকে ভয় না করে,
স্বার্থক তরুণ সমাজ ভালোমন্দের ফারাক বুঝিয়ে দিলে,
নিস্তার নাই শাসক হানাদারদের , বিচারের কাঠগড়ায় আসবে ফিরে।
9- ছোটবেলা
ছোটকালের ছোট কাজ গুলো স্মৃতির স্মরণে গায়ে দিচ্ছে দোলা ,
জন্ম উৎসবে একে অন্যে মিলেমিশে আনন্দে করছি খেলা,
উৎসব পরিবেশে কাটাবো বাকি বেলা।
ফিরে আসবেনা ফেলে আসা দিন ,
ছোটকালের ক্ষনিকের আনন্দের খেলা ,
সময় আর দিন যাচ্ছে অহরহ তালে ,
ফুরায়ে যাচ্ছে সুনির্দিষ্ট ক্ষনিকের বেলা।
সবই মিশিয়ে যাবে মাটির গর্ভে সকলের কায়া,
ভঙ্গ হবে যবে এ ধরার কর্মকান্ড পন্ড হবে সব,
পশ্চিম আকাশে ডুবে যাচ্ছে জীবনের প্রদীপ ছায়া।
সহজে যায়না স্মৃতির পাতায় লেখা ভুলা,
ক্ষনিকের কর্মকান্ড ঢেউয়ের তালে ভেসে উঠে মনে পড়ে সর্বক্ষনে,
হৃদয়ের মাঝে জাগে বার বার প্রাণে দেয় দোলা।
প্রতিবছর জন্ম উৎসে করবো মোরা ,
পেছনে ফেলে এসেছি যা ফিরে আসবেনা কখনো তাহা ,
মিঠাতে পারিনি বসুন্ধরায় জন্মের সে ঋণ।
10- আমার বাংলাদেশ
শস্য শ্যমলা ঘেরে ও আমার বাংলাদেশ,
যেদিকে তাকাই দেখিয়ে পাই তোমাকে বুকে ,
স্বর্ণ খনি আর মাটির নিচে লোকানো গ্যাসে ভরা বেশ,
হায়রে আমার সাধের বাংলাদেশ ,
জ্ঞান গরিমায় আর সাহসে ভরা,
হে মাতৃভূমি বাংলাদেশ।
প্রাণের চেয়েও প্রিয় তুমি সুন্দর তমার পরিবেশ,
তোমার বুকে গো মা সোনার ফসল ফলে,
এমন যে কোন ফসল নাই যে মা তো তোমার জমিনে না ফলে,
গাছে গাছে হরেক রকমের পাখি নাচে গাছের ডালে,
মিষ্টি হাওয়ায় গাছের পাতা আনন্দে দোলে বেশ।
আঁকাবাঁকা যদি তোমার আছে স্নিগ্ধ জল,
বর্ষার সময়ে যদি যদি ভোরে আসে পলিমাটি ,
ফলে আবার সোনার ফসল।
নদ নদীতে পাই হাজার কোটির মাছ ,
জাতীয় মাছ রুমালি ইলিশ,
যেখানে যাই পারিনি আমরা তোমায় ভুলিতে,
মাঠে ঘাটে শুনতে পাই রাখালের বাঁশি।
আরও দেখতে পাই বৃক্ষলতার গাল ভরা হাঁসি ভূমি ,
কত কবি , কত গায়ক সুন্দর সুন্দর দৃশ্যের ছবি,
গদ্যে পদ্যে ভরা প্রেমের ছবি আঁকা জমি।
11- এনেছি স্বাধীনতা
আমরা স্বাধীন নইকো কারো পরাধীন,
শত্রুদের খতম করে এনেছি স্বাধীনতা ,
বুকভরা প্রীতি আর ভালোবাসা ,
হে স্বাধীন ভূমি তোমাকে করতে রক্ষা,
প্রস্তুত সর্বদা, করিনা শ্রষ্টা ছাড়া অন্যকিছুর তোয়াক্ষা।
হে মহান স্বাধীনতা –
তোমাকে জানাই অশেষ কৃতজ্ঞতা,
চোখে মুখে প্রিয়জনদেরে হারানো শোকে ,
আমরা নইকো কাতর , হয়েছি পাথর।
শত্রুদের করেছি পরাজয় , মুক্ত করেছি দেশ,
এইতো স্বাধীনতা , সালাম দেই তোমাকে,
লক্ষাধিক রক্তমাখা তাজা দেহগুলো,
দিয়েছি তোমার তরে শহীদ করেছি।
প্রাণলড়াই করে মোরা এনেছি স্বাধীনতা,
স্বাধীন হলো জাতি , স্বাধীন হলো ভাষা,
স্বাধীন হলো চাষাচাষি ছাত্র ছাত্রী জনতা,
নয় মাসের রণকৌশলের সফলতা,
চিরকাল উড্ডীন থাকুক লাল সবুজ পতাকা ।
12- চিন্তার সাগরে ডুব দিলে আল্লাহকে পাওয়া যায়
ডাকলে ভেতর থেকে সুর আসে চলে ,
উত্তর আসে প্রতি সেকেন্ডে সেকেন্ডে ,
তাইতো আমি আমার সৃষ্টিকর্তাকে খুঁজি,
ঘড়ির কাঁটার সাথে মিলাইতে পারিলে।
ধমে ধমে যাওয়া আসার সাথে দেখা করে চলে,
বিবেকের সাথে চোখ বুজে তাকালে,
সৃষ্টিকর্তাকে পাওয়া যায় সহজে,
উজ্জল দীপ্তশালী চক্ষু থাকিলে।
বিচক্ষণ বিজ্ঞ মানুষই সৃষ্টিকর্তাকে সহজে চিনতে পারে,
একচক্ষু থেকে ওপর চক্ষু পর্যন্ত স্থানের মধ্যে,
এই দূরত্বের মধ্যে ডাকদিলে প্রভুকে পাওয়া যায় সহজে,
এল বাতাস ঠান্ডা গরম অন্ধকার গৃহে,
সর্বদা তার গতিতে দেখা স্বাক্ষাৎ করে।
মানুষের কাছে সেসব গুণ বিবেক যদি থাকে সমূলে ,
কাজে না লাগাইতে পারলে দূরত্ব বাড়বে,
আর পাওয়া যাবে না সহজে,
আপদে বিপদে শয়নে স্বপনে আপন বন্ধুর পরিচয় মিলে।
শরীরটা আর সমস্ত কংকালটা তাঁরই কৃপায় সৃষ্টি মাঝে ,
বুঝিয়া ও বুঝিনাই এমন মানুষ সৃষ্টিকর্তার কি কোন ভুল আছে,
চিন্তার সাগরে ডুব দিলে আসল বন্ধু পাবে খোঁজে।
13 – বিশ্বাসে রত্ন মিলে
সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ জীব হয়ে জন্ম নিলাম এই পৃথিবীতে,
পাষান হৃদয়ে আমাদের হলো কেন ?
মন গলেনা মানুষের দুঃখ দেখিলে ,
ধনী গরিব নিয়ে চলে বিশ্বটা বুঝার কি আছে তাতে।
দুনিয়ার খেলা বুঝা যায়না কঠিন এই সংসারে ,
সকল মানুষ হয়না সমান সত্যিকারের ,
মানুষ যারা তারাই প্রকৃত মানুষদের চিনতে পারে ,
মহৎ সাধক মানুষ যারা তাদেরকেই মানুষ পছন্দ করে।
মানুষ মানুষকে করেনা অপমান ,সঠিক মানুষ তৈরী হতে পারলে ,
বুঝতে হবে সৃষ্টিকর্তা যেমন যাহাকে সৃষ্টি করেছেন এই ভবের মাজারে ,
সৃষ্টিকর্তার ঐতিহ্য যাহা তাহা অবশ্যই বিশ্বাস করে জন্ম নিয়েছি পৃথিবীতে।
আল্লাহর উপর বিশ্বাসের বাহিরে।
অতিক্রম ক্ষমতার অধিকারী কেউ হতে পারে কি কখনো ?
মৃত্যুর পর আবার আত্মার পুনর্জন্ম যখন হবে ,
হাজরে জান্নাতের পূর্বে সকল হিসেব নিকেশ হবে।
সৃষ্টিকর্তার সৃষ্টি রূপে গুনে হয়না সমান ,
জানতে হবে , বুঝতে হবে ,আমরা সবাই অসহায় ,
ভাসমান এই দুনিয়ায় ইহকাল পরকাল দুইজনম আছে প্রমান।
নিজের যোগ্যতায় জ্ঞানী গুণী হয়ে সমাজটা তৈরী করে ,
ইহকাল থেকে পরকাল যাওয়ার আগে,
আখেরি ছামান তৈরির যোগ্যতায় নিজের ফল ভোগ করতে হবে পরে।
14 – মায়া ও কষ্টের পরিমাণ
অনুভূতি ভালোবাসা মায়া,
যতই কম করা হয়,
প্রকাশ কম করা হয়,
আঘাত করার শক্তি তখন কম হয়।
মায়া দিয়ে কাউকে আটকানো যায় না,
যদি তাদের বুদ্ধি বিবেক কম থাকে.
বুঝে না তাকে গভীর যত্নে আগলে রাখলেও আপন হবে না।
ভুলেও তুমি পড়বেনা কারো মায়ায়,
পড়লে তোমার জীবন হবে বিফল,
মায়া কেটে গেলে একজন চলে যায় ছেড়ে,
আর অন্যজন যায় হেরে।
মায়া মাকড়সার মাকড়সার জালের মতো,
একবার জড়িয়ে পড়িলে, আর বের হওয়া যায় না।
হৃদয়কে আটকিয়ে রাখতে পারো মায়া তুমি চোরাবালির মতো ,
কম মায়া থাকলে মানুষ,
হায় হয় করে না যদি তবে,
সে হয়তো বেশিদিন বাঁচতে পারবে।
অধিক কষ্টদেয় মায়ায়,
পৃথিবীতে ইচ্ছে করে মায়া করিলে লালন,
বৃদ্ধ বয়সে গালাগাল শুনতে হয় , সঞ্চয় করা যায় না টাকা।
বৃদ্ধকালে অভাব-অনটন হয় ,
পিতামাতা বৃদ্ধ বয়সে হয় পরাধীন,
মায়ার পরিমান যত বেশি ,
কষ্টের পরিমান ততবেশি।
মনে মনে আমি ভাবি কতকিছু করি,
শান্তির আশায় সুখ খুঁজি দুঃখ যায় চলি।
আবার শান্তির সুখ যখন আসে, আরাম আয়েসে থাকি।
আকাশের সুন্দর রোদ্র যখন উঠে ,
ঝড় তুফানের গতি যখন থেমে যায় ,
গাছপালা কত আনন্দে হেলেদুলে নাচে।
জীবনের সাথে নেই তার তেমন বোঝাপড়া ,
আমরা তেমনি জীবনের সাথে করি অবহেলা।
পড়ে থাকি নিশ্চুপ ভাবে মাথানত করে চলি ,
সুখ দুঃখ চাই সমভাবে ভাগ করি ,
সুখ পাখির আনন্দ যখন আসে মনে ,
তখনই গাছের ডালে বসে প্রফুল্লতা পায় ধ্যানে।
সময়ের চাকা সময়ে ঘুরে ,
সবকিছু মাবুদের বিধান মতো চলে ,
ব্যর্থ জীবনের নেই কোন মূল্য।
প্রেমপ্রীতি আর ভালোবাসা সবই আল্লাহর সৃষ্টি ,
সব জীব জীবনকে ভালোরাখার চেষ্টা করে ,
মনি মানিক্য লাভ করতে পারে।
যদি সে সৎ পথে থেকে মেহনত করে চলে,
আফসোস করিবে নিজের সুখের স্বাস্থ্য হারালে।
একা একা হয় না কোন কিছু,
মিলেমিশে সুখের অন্বেষণে কাজ না করলে ,
কেহই আসেনি জগতে বিনাকাজে বসবাস করতে।
15 – ছোটবেলা
ছোটবেলার ছোট কাজ , বাতাসের গায়ে দেয় দোলা,
ফিরে আসবেনা আর সেইদিন ক্ষনিকের আনন্দের বেলা।
সময় আর দিন যায় সর্বদা অহরহতালে ,
দিন গেলে সেইদিন আর আসবেনা ফিরে,
দেয়না ধরা হারানো বেলা ফাঁদপাতা জালে।
বয়স বাড়ে আয়ুকালে ফুরিয়ে যায় জীবন খেলা ,
দিনে দিনে দিন যায় , রাত আসে পন্ড হয় বেলা।
মিশিয়ে যাবে মাটির বুকে তোমার দেহ কায়া ,
ঠিকবেনা এ বসুন্ধরায় তোমার সঞ্চয়ী সমমায়া।
ছোটবেলার ছোট দিন মনে থাকে অনেকদিন,
যদিও যায়না সেই স্মৃতির পাতা ভুলা।
ক্ষনিকের ঢেউয়ের তালে ছোটবেলার কথা পড়ে মনে
হৃদয়ের জাগে ,তরঙ্গের মতো দোলা দেয় প্রাণে।
ছোটবেলার ছোট স্মৃতি , ঘটে যাওয়া কত স্মৃতি ,
জাগে স্পন্দন হৃদয়ে রক্তের তালে তালে ,
চাইলেও যায়না ভুলা আনন্দঘন দিনের খেলা ,
চোখের পর্দায় ভাসিয়ে উঠে হারানো দিনের বেলা।
16-মাহে রামাদান
পুরায়ে বছর ঘরে এলো রমজানের পবিত্র মাস ,
ইফতার করতে বসিলে অমৃত ফলের মতো মুখে লাগে স্বাদ।
হে মাহে রমজান তোমাকে জানাই আহ্লান সাহ্লান ,
আল্লাহর প্রেমিক পহরেজগার যত আছে মুমিন বান্দাগণ ,
তাকওয়া আর সিয়াম সাধনায় পুণ্যময় হোক জীবন।
কামক্রোধ মোহ লোভ থেকে রাখিয়ো মুক্ত মোদের ,
ইনসান আমরা , ছবর নিয়ে খাঁটি মুসলিম করো দয়াকরে।
রুপুর সাথে জিহাদ করি ঈমান রাখিবো শক্ত ,
খোদার নির্দেশ মান্য করি নবীর প্রেমে ভক্ত ,
আমরা তোমার বান্দা সুস্থ দেহে আরাধনা করি হবো পোক্ত।
প্রার্থনা করিতে পারি যেন থাকিও তুমি সন্তুষ্ট ,
মরণকালে পাক কালেমা পড়ে ভয় থাকেনা যেন মনে।
সত্য পথে তোমার জিকির করে মরণ করিও তুমি ,
তেলাওয়াত করি প্রতিদিন যেন ,
হে সৃষ্টিকর্তা স্বরণ করি আমি।
পাপমুক্ত রাখিয়ো আল্লাহ এ মাসের সম্মানে ,
গাইতে পারি যেন তোমার জয় ওসাম্যের গান ,
খোশ আমদেদ জানাই মাবুদ , শান্ত করি প্রাণ।
স্বাগত হে মাহে রমজান ,
প্রার্থনা মোদের রাখো মুক্ত আপদ বিপদ থেকে ,
ঈমানের বলে বলীয়ান করো ,
মাহে রমজানের বরকতে।
17- বিপ্লবে গৌরব গাঁথা, গণঅভ্যুত্থান
ছাত্র শিক্ষর্থী যারা,
তোমরা আগামী প্রজন্মের সিপাহসালার,
তোমাদের ওপরে ন্যস্ত দেশ , কর্ণধার তোমরা।
বিশ্ববিদ্যালয়ে লেখাপড়া করে,
একই বিদ্যালয়ের সহপাঠী একে অন্যের ভাই ,
রাজশক্তি তোমরা। রাজার ক্ষমতায় ভরা।
তোমাদের জীবন আর শক্তির বাহার,
তোমাদের মতলব আর ফন্দি , অভিপ্রায়।
আমাদের জাতি গঠনে গুণ পরিমাণ নির্ণয় করা সেই মান মানক,
দেশের দশের অনির্দিষ্টকারী মিতব্যয়ী নিবারক।
পরিপূর্ণরূপে ভরা তোমাদের দেহ,
শক্তির পরিপৃক্ত তোমাদের সৎ সাহসী জ্ঞানের তরল চিত্ত চটপটে।
গড়িমসি করোনা ভালো কাজে,
ঘ্রানে ভরা তোমাদের আনন্দজনক মনোরম।
জাতি দিতে পারে ভবিষ্যতের তৃপ্তি পরিতোষ ,
তোমরা পন্ডিত , বিদ্বান , ব্যক্তিত্ব নিয়ে হইব অগ্রসর,
মনের দেহের সুস্থতা কামনা করি বার বার।
রক্তময়ী আন্দোলন করে দেখিয়েছো,
দেশের জনগণ নিয়ে দ্বিত্বীয় বার স্বাধীনতা,
দেশ, জাতি , গণতন্ত্রকে বন্ধিশালা থেকে করেছো মুক্ত ,
ভিন্ন এক আক্রমণের মধ্য দিয়ে।
১৫ বছরের অন্যায় অত্যাচারীদের কাছ থেকে উদ্ধার করেছো,
দেশ স্বার্থক তোমাদের ন্যায় সংগ্রামে শামিলে,
ছাত্র জনতা প্রবাসীর অভ্যুত্থানে পালিয়েছে ফ্যাসিবাদি সরকার।
যারা শহীদ হয়েছে তারা পেয়েছে মুক্তিযোদ্ধার শহীদি মর্যাদা,
বিশ্ব মঞ্চের উচ্চতায় উঠিলো বাংলাদেশ।
18- বিশ্বাস রাখি
যাওয়া আসা নিত্য খেলা,
খেলেছি মোরা সারাজীবন,
কোথা থেকে আসলাম আমরা,
আবার কোথায় যাবো খেলা শেষে
থামবে মোদের জীবনমেলা।
একই সময় সবই ছেড়ে চলে যাবো,
থাকবে না আর কেহ পাশে,
হায়রে নিষ্টুর খেলা কেনই খেলি,
বুঝিয়া বা না বুঝিয়া সংসার করি ভবে।
বন্ধু বান্ধব সঙ্গী সাথী সুখের সময় থাকে,
দুঃখের সময় খুঁজিয়া পাই না,
কোথায় লুকিয়ে থাকে।
মরণ শুনলে আসে কান্নাকাটি করে ডানে বায়ে ,
অনর্থক এ কান্নাকাটি আসেনা কোন কাজে,
স্নিগ্ধ বায়ুর স্নেহের পরশ লাগে সবার গাঁয়ে।
বাধা দেয়ার আর প্রতিযোগিতার,
শক্তি ধরে আর কারো নেই,
সাঙ্গ হবে শেখ খেলাটি পড়ন্ত বেলায়,
তখন আর সময় নেই জানাশোনার।
শুভেচ্ছা বক্তব্য দিয়ে এ সংসারে দুর্নীতিতে তো দিন কাটাই,
মূল মানব সৃষ্টির এই কারিগর জানি কিন্তু,
বিশ্বাস রাখি সব কিছুর বিচার হবে ভাই।
19- জগতে মানুষ আত্মত্যাগী , সচেতন
সুখ দুঃখে ভরা এ ধরণীর মাঠি ,
ভালো কাজের অবদান পাবে ,
সেদিন নয় বেশি বাকি,
যদি হতে পারো এই জগতে খাঁটি।
কত প্রাণী , কত জীব অবাদে চলছে ,
যার যার অভিন্ন পথে , তাড়নায় ,
মানবিক , নম্রতা , আল্লাহ ভীরুরাই শ্রেষ্ট পথ চলায়।
মানুষই আত্বমর্যাদার স্বয়ং সম্পূর্ণ ,
জ্ঞান বুদ্ধি বিবেক কান্না বেদনায় পরিপূর্ণ।
মূল্যায়িত করেছন আশরাফুল মাখলুক নাম
স্বার্থনেষী হয়ে চলতে আসিনি জগতে
সকল জীবের সেবার দায়্ত্বি মানুহসের কাঁধে
কৃতকর্মের ফলাফলেনির্ধারিত হবে জান্নাত জাহান্নাম।
আমরা সব জেনেও করি অপরাধ দুর্নীতি ,
পদায়নের পর যেন তুচ্ছ সবাই ,
অবদানের কথা ভুলে করি নিন্দাবাদ
অনেকেই আত্বসংযম না করে,
মান্য করে অন্যায়ের নীতি।
20- অস্পষ্ট জীবন , সতর্কতা সূচক বিজ্ঞপ্তি
অত্যন্ত আগ্রহশীল হয়ে এই পৃথিবীতে আসিয়াছি প্রভু ,
আত্ব জাহির করিলাম দাম্ভিক হইলাম , ভুল করিলাম ,
না বুঝে সঞ্চয় করিলাম ধনদৌলত আসেনি কোন কাজে,
এ নবসর জীবনের শেষ হবে মাঠির সাথে মিশে।
চিরন্তন রীতি নীতি ভঙ্গ করিতে নাই কারো ক্ষমতা এই মহিতে ,
যেতে হবে হয় , আসবেনা ভবে,
তোমাকে হারায়ে নিরিবে কাঁদবে স্বজন,
মাঝে মধ্যে দেখিবে থাকিলে কোন স্মৃতি,
স্মৃতির জোড়ায় বন্ধন ভাঙিয়ে দখল করিবে কৃতি।
চলে গেছে শত শত আপনজন ,
মূলতত্ব ভুলে গিয়ে নিত্য কর্মে কাটায় তাদের জীবন,
এবড়ো থেবড়ো লোকে অভদ্র রূঢ় স্বরে,
তেজি লোকদেরকে শোনায় অমানবিক কথা,
পবিত্র লোকের বুদ্ধি বিবেককে আঘাত করে নিষ্টুর নির্মম নির্দয় কন্ঠস্বর,
ব্যবহারে ধ্বংস করে তাদের জীবন।
সততার কাছে পলায়ন করে পাপী দুষ্টদের কর্মফল,
অতিরিক্ত লাভার হারামি কায়দায় আয়ের উপর ভিত্তি করে,
ধ্বংস করিতে আসিনি আমরা মহামূল্যবান জীবন,
অলস অপদার্থ দায়সারা মনে সৃষ্টিকর্তাকে স্বরণ করে,
প্রভুর দেখা পাওয়া বড়ই কঠিন কাজ,
জীবনের শেষ প্রহরে ফসল তুলিতে না পারিলে,
বৃথা জীবন কাটানো নাই কোন সাধ,
সৎকর্ম , সৎকাজ করিতে পারিলে জান্নাতে ঘাঁটি,
রেখেছেন তৈরী করে মহান নিরঞ্জন আমরা মরিলে।
সময় নাই বাকি দিওনা কোন ফাঁকি সতর্কতায় থেকো সর্বক্ষণ
যৎসামান্য তুচ্ছ ভুলে স্বর্ণ জীবন হবে মাঠি
তা বুঝে নিয়ে হাল ধরে যায় শেষ সময় , হবে মরণ ।
21 – সঠিক বাংলাদেশ
নতুন দিনের নতুন আলো ,
নতুন আলোতেই হটাবো স্বৈরাচার ,
থাকবে না কোন অন্যায্য ,রবে না হাহাকার।
হটাবো ফ্যাসিস্ট করিবো ধ্বংস ,
রইবে না লুটেরা জালিমের বংশ।
মুক্ত জীবনের উল্লাসে সাজাবো দেশ ,
উচ্ছিষ্টদের বিতাড়িত করে ,
সবুজ শোভার ইনসাফে চালাবো দেশ।
ভাঙিয়া ফেলিবো ডাকাতদলের ডাকাতির আসন ,
অনির্বাচিত জানোয়ারদের করিবো খতম ,
রক্ত চোষে খাইলো যারা এড়াইতো পশু
মানুষ নামের কলক তারা ,
আমরা চাই মুক্তস্বাধীন মুক্ত জীবন
নতুন দিনের নতুন স্বপ্নে গড়তে চাই দেশ
এগিয়ে চলার পথে বাধা মানিনা কারো
বিপ্লবীরা চলবে বৈষম্যের বিরুদ্ধে
জনগণকে নিয়ে আমরা ন্যায়ের পথিক
ছাত্র জনতার সাহসী দল
আগামীর স্বপ্ন করিবো উদ্ধার
জাগাইয়া তুলিব ন্যায়ের আলোড়ন
কুচক্রী মহলকে করি ঘৃণা
সত্যের উপর স্থাপন করিবো
দ্বিতীয় স্বাধীনতায় সঠিক বাংলাদেশ।
22 – ভুলের খেসারত
সর্বশ্রেষ্ঠ মানুষ জাতি আল্লাহ পাকের সৃষ্টি ,
বিচার বুদ্ধি কথাবলার ক্ষমতা ন্যায় অন্যায় ,
একমাত্র মানুষের আছে।
লাজলজ্জা সরম একমাত্র মানুষ জাতির আছে,
হাশরের ময়দানে জীন ইনসানের বিচার হবে.
সুখের নীড়ে বসবাস করে দিন কাটাইলাম ,
গভীর গহীন আমিত্বভাব নিয়ে পড়িলাম ,
গুরুতর বিভ্রান্তির ফাঁকে না বুঝে কি করিলাম।
শয়তানের কুমন্ত্রণায় বুদ্ধি -বিবেক গেলাম ভুলে,
জানিয়ে জানলামনা প্রকৃত ঠিকানা ,
চলে যাবো একদিন শেষ বিচারে বিচার হবে।
আরাম আয়েসে দিনপাত করলাম ,
কত আশা ছিল মনে সুবিধাজনক অবস্থায় থাকিয়া ,
ইবাদত বন্দেগী করতে পারলাম না ,
চলি কেন আনমনে ভুল পথে।
সাথে যাবে ঈমানের বুলি পুঞ্জিবিত সব,
ছওয়াবের কাজের ভারী কাজ ,
সামনে আসিবে ভাসি ,
আফসোস করিয়ে হবে না কাজ.
বুঝিব সকলে এ দুনিয়ায় কাটানো সংসার ফাঁকি ,
মাঠির নিচে কায়া আর কংলাসার পড়িয়া থাকবে।
মাঠির দেহ মাঠিতে যাবে মিশে ,
আত্বা যাবে সৃষ্টিকর্তার কাছে চলে ,
বিদ্বেষপূর্ণ , হিংসা আর পাপের কাজ কেন করা হলো।
কেন চললাম ভুল পথে ভুল পথে ,
ক্ষমা করে নিও গো প্রভু থাকিতে পারি যেন ,
শেষ বিচারে তোমার কাছে পাপমুক্ত।
23 – উজ্জ্বল আলোকে জীবন গড়ি
আমরা কচি, আমরা তরুণ, আমরা অগ্রগামী –
সুখে দুঃখে সর্বক্ষত্রে আপদ বিপদে ঝাঁপিয়ে পড়ি ,
ভয় করিনা বিপদ, মাবুদের কাছে করি প্রার্থনা,
সময় নষ্ট করিনা আমরা মনে আনন্দ রাখি , জানেন অন্তর্যামী।
বয়োজোষ্ঠরা আমাদেরে ভালোবাসে আদর করে বেশি,
গুচে যায় যত দুঃখ , সাহস জাগে আনন্দে ভরে মন,
সুচিন্তা সুবুদ্ধিতে প্রফুল্ল্যভাবে কাটাই জীবন,
আসন্ন বিপদকালে ধৈর্য্য সাহস নিয়ে সময় কাঠিয়েও খুশি।
স্বাধীন মোরা মুক্ত মোরা রেখেছি মনে এঁকে ,
পরাধীন থাকতে চাইনা কখনো,
এইতো আমাদের পণ,
আমাদের সাহস দেখে।
দুষ্টরা চায় গুলোকে ধাঁধায় ফেলে,
ছিন্ন করতে চায় মনোবল,
কঠোর পরিশ্রমী কচি আমরা তরুণ আমরা,
কল্পিত কাজে হইনা বিরক্ত সময় নষ্ট করতে চাই না বিফলে।
অভিজ্ঞতালব্দ জ্ঞান কাজে লাগিয়ে ,
অকুতভয় জঠিলতাকে পেছনে ফেলে,
শাসন ও সর্বক্ষেত্রে হয় কৃতকার্য , ষড়যন্ত্র কে পরাজিত করে,
অভ্যন্তরীক সকল অসুবিধাকে তুচ্ছ মনে দেই তাড়িয়ে।
24- প্রণয়ী
দূর যাত্রাপথে আমরা সাগর মহাসাগর আকাশেপাতালে,
কেমনে দেই পাড়ি কেহ আল্লাহ তায়ালার দোয়া ছাড়া ফিরতে পারেনা বাড়ি,
তোমার বিচরণ সমকক্ষ কেউ নেই প্রভু এই ভুবনে আকাশে পাতালে।
জীবনের শেষ সমাপ্ত বাঁচামরা তোমার হাতে সেটা তাকওয়া ,
শ্বাস প্রশ্বাস ফেলি আমরা বাঁচিবার তরে,
সামান্য সময় বন্ধ হলে মৃত্যু চলে আসে,
ঘনসবুজ বৃক্ষলতা দেখতে কত সুন্দর দাবানলে আগুন লাগিয়ে ধ্বংস হয়।
হায়াৎ মউত সর্বকালের তুমিই রক্ষাকারী,
কত কিছু নষ্ট হয় দালান কোটা রাজসিংহাসন মানুষ যায় মরে,
বিপদে আপদে সুখ শান্তিতে সবদিকে তুমি হে প্রভু দয়াময়,
তোমার দেয়া সবই দান মাওলা আমরা উপভোগ করি।
সুখে দুঃখে আমরা উদাসীন হইবোনা মাবুদ তুমি মেহেরবান,
তুমি ছাড়া প্রাণ বাঁচাতে কারো নাই কোন সমাধান,
প্রখর রোধে ডানা মেলে পাখি যেমন উড়ে সমানে সমান।
আমরা আকাশ পথে হেলিকপ্টার উড়োজাহাজ রকেটে যাই মহাকাশে,
তোমার দেয়া জ্ঞানে করেছি জয় , ফিরেও আসি তোমার দয়ায়,
নবজাতক শিশুর মতো সংসারে আমরা করি বসবাস,
চলে যাচ্ছে মিলিয়ন আসছে বিলিয়ন এই পৃথিবীতে অনায়াসে।
সংগ্রাম করে জমায় সম্পদ নিতে নাহি পারি,
যেতে চাই মরণকালে সঠিক এবাদত নামাজ রোজাকারি,
বিধিসম্মত সবকাজ করে যেতে চাই সজ্ঞানে সুস্থতার সহিত,
শেষ সময়েই চাই কলমা নসিব সবার কপালে।
25 – বাংলা ভাষা ফেব্রুয়ারি স্মরণে
হে মোদের বাংলা ভাষা,
আমরা তোমাকে মায়ের মতো ভালোবাসি।
ঝকঝকে ঝলমলে অক্ষর গুলো প্রাণখুলে পছন্দ করি।
খোকা খুকি জন্ম নিয়ে মা বাবা ডাকে।
বাংলা সুন্দর মুখের কথার ডাকে হৃদয় নেয় কেড়ে,
বাংলা ভাষার ডাকে মা বাবা স্বজনেরা মনে পায় সুখ ,
সুন্দর বুলি দিয়ে মনটা দেয় নেড়ে।
মাতৃভাষায় পাশাপাশি শিখছে অনেক ভাষা,
বাংলা ভাষায় কথা না বললে মিঠে না জ্ঞানের পিপাসা ,
না শিখলে বাংলা ভাষা শেখা যায়না কোন ভাষা।
একুশের দৃপ্ত শপথ বুকে ধরে রাখি ,জানাই শ্রদ্ধা ,
দুর্বার দুর্জয়ে শহীদদের স্বরণীয় মধুর বাংলা ভাষা।
ছিনিয়ে পারবে না কেউ বাংলা কণ্ঠ বুলি ,অথবা বিকৃতি ,
উন্নিশো নিরানব্বইয়ে ১৭ নভেম্বর,
ইউনেস্কো তোমাকে দিয়েছে স্বীকৃতি।
মোদের ভাষা শহীদদের এমন দিনে স্বরণ করি,
দোয়া করি , বিশ্বের সবাই মিলে একসাথে,
গভীর শ্রদ্ধার সাথে বিদেহী আত্মার দোয়াও করি।
26- হিসেবে নিকেশের নিত্য দিনের ফসল
নিত্য দিনের ফসল ফালাইলাম ভবে ,
হিসাব দিবো পরে ভাবিয়া চিন্তিয়া না পাই ,
কুল কিনারা সঙ্গ দিবো বা কারে তবে।
আসলাম এক যাইবো একা সঙ্গে কেহ নেই,
কি করলাম লাভ লোকসান আকুল সাগরে,
ক্ষয়ক্ষতি আর পাপ পুণ্য,
ভালো মন্দ সব করলাম ছাই।
আনন্দে করিলাম রংঢং , লাগলোনা কোন কাজে,
মিলাইলাম হিসেবগুলো এই ভবের খেলার মাঠে,
বুঝতে পারলাম না সময় থাকতে,
যোগাযোগ সঠিকভাবে না করিলে,
হিসেব কি হবে তাতে শুনলে কানে বাজে।
কত আনন্দের হৃদয়ের মাঠে ফসল ফলাইলাম কিন্তু ,
পারলাম না ফসল তুলতে নিজ ঘরের ভেতরে,
খোঁজ খবর করতে পারলাম না সুখের দুঃখের কালে,
পুষ্প ফোটে দুই প্রকারে
জ্ঞানী যারা , তারাই পারে বুঝতে।
পাপী মানুষ দুঃখ পাবে সব কালে,
পার হয় যায় না কোন ভুল হিসেবে,
শেষ সময়ে যখন হিসেবে করিবে,
কি করিবো কোথায় যাবো , বাড়িলো ভীষণ জ্বালা,
থাকিতে পারিনা কোন ক্রমেই তুমি বন্ধু ছাড়া।
27- ছায়া সুনিবিড় শান্তির নীড়
ছায়া সুনিবিড় শান্তির নীড়ে আমার এই পৃথিবী ,
তোমাকে ছাড়িয়া যেতে হবে তা অবশ্য সকলে জানি।
তারপরেও চিরনিদ্রায় শায়িত হয়ে ছেড়ে যেতে হবে ,
আর ও এক নতুন বাড়ি ,
হায়রে হয় তার কথা কখনো ভাবতে না পারি।
অভাবের তাড়নায় অথবা লোভে পড়ে ক্ষনে ক্ষনে ,
আমরা সত্যিকারের আদেশ উপদেশ কেন তা ভুলে যাই ,
এ দুনিয়াটা তো ভাঙা গড়ার খেলা।
কেন আমরা এই খেলায় এই খেলায় জড়িয়ে পাপকার্য করি ,
সুখে পড়লেও আমরা মানুষ জাতি ভুলে চলতে থাকি।
শেষ গন্ত্যব্যস্থানে পৌঁছানোর আগে।,
মূলধন যা ছিল তা সম্পূর্ণ হারিয়ে ফেলি,
স্বপ্নের সাগরে নাই কোন কুলকিনারা ,
নাই কোন কাদামাটি আর ভিটে বালি।
ঘুরে ফিরে দেখি জগৎটাকে ইচ্ছায় অনিচ্ছায়।
কেবল সুখটাই কামনা করি ,
আজ যাই শুধু উপভোগ করি ,
মনে মনে কত যে মানুষ তার প্রকৃত রং বদলায়।
আমি কেবল বোবার মতো চেয়ে চেয়ে দেখি,
মানুষের জীবনটা বড়োই বৈচিত্রময় ,
তা চেয়ে চেয়ে দেখি।
তখন যে জীবনের মূল্যবান সময় যা ছিল ,
সেই জীবনটার শেষ নিঃশ্বাস গেলো বাহিরে চলি ,
ছায়া সুনিবিড় শান্তির বাসা বাড়ি রহিলো পড়ি.
নিলো যাহারা অবশেষে, রহিল তারা বেঁচে ,
তারাই নিলো দখল করে ,
আমি অসহায় নিঃস্ব শেষ গন্তব্য স্থানে ,
পৌঁছলাম অবশেষে অচিন অজানা বাড়ির টানে।
28- জন্মভূমি , বাংলার মাটি
আরেও আমার বাংলার মাঠি তুমি খাঁটি ,
কতসুন্দর করে সবুজ ঘাসে বিছায়ে রেখেছো,
কি সুন্দর শীতল পরিপাটি ভূমি,
তোমার গর্ভে লালিত পালিত তোমার বুকে হাঁটি।
হে আমার বাংলার মাটি, তুমি আশা
আদর করি আমরা তোমায়,
তুমি আমাদের মাতৃভুমি,
ভোরের আলো কুয়াশা।
তোমার আলো তোমার বায়ু,
খনিজে গ্যাস তেলে ভরা ফসলে ভরা পুন্য মাটি,
তোমার উপরে স্থাপিত গৌরবময় স্থানের ছবি তুলি,
জড়ায়ে রেখেছো মোদের আয়ু।
সবুজ শষ্যেভরা ফল ফুলে ভরা পাহাড় পর্বতে ভরা,
সাগর নদীতে ভরা তোমার বুকখানি,
প্রতিবছর বন্যায় দিয়ে যায় স্বর্ণের পালমাটি,
ভোরের বেলায় পাখির গানে প্রভাতে শূন্য যায়,
মধুর স্বরে মুয়াজ্জিনের পবিত্র আজানের ধ্বনির সুন্দর ধারা।
তুমি আমার বাংলার মাটি পুণ্য জন্মভূমি,
ঘুমভাঙ্গে আজানের মধুমাখা স্বরে , যাই মসজিদে,
কৃষকভাইদেৱে দেখি লাঙ্গল নিয়ে যায় কৃষি ক্ষেতে,
প্রানভরে যায় তোমার গুনে তুমি।
স্নিগ্ধ বাতাসে মধুর আলোতে ভরে যায় বাংলার মানুষের মনখানি,
বাতাসের ঝন ঝনানীতে বাঁশিবাজে রাখালের মনে,
সোনালী ধান ক্ষেতের সোনালী রঙে দোলায় হৃদয় খানি,
আটষট্রি হাজার গ্রাম। চোষট্রি জেলায় গঠিত হয়েছো তুমি,
হে আমার বাংলার মাটি জন্মভূমি।
29- উত্থান পতন
আত্মার ঘরে বন্ধি আমাদের সোনার পাখিটি ,
দুধ কলা দিয়ে পুষলাম পাখিটা দেখলাম না ছবি পাখিটির।
যাওয়া আসা করে প্রতি সেকেন্ডে নাই তার বিরতি,
বন্ধ ঘরে খোলা দরজায় চলাফেরা করে রাখছে পিরিতি।
সরাসরি যাওয়া আসায় নাই কোন নিষেধের বিজ্ঞপ্তি ,
যাবজ্জীবন এইভাবে যাওয়া আসার করেছে নিবন্ধন ,
সব দাবি মেনে চলে সক্ষমতার নাই কোন পরিবর্তন।
বিপ্লব করেনা সেই পোষা পাখি দমে দমে চলে ,
নির্ধিদায় চলাফেরায় থাকে সে অনুপ্রবেশের কালে।
সরাসরি বাহিরে যায় তিনটি দরজায় কপাট খোলা থাকে ,
অবরুদ্ধ থাকেনা কখনো , যায় আসে আবার খাঁচার ভেতরে।
বিরোধিতা করেনা সেই পাখিটি কখনো দেহের সাথে।
ঐক্যবদ্ধ থাকে দেহের সর্বঅঙ্গ তার মতোই চলে ,
জীবনের সবচেয়ে মহা সংকটের সময়ে ,
শুনবে একমাত্র সৃষ্টিকর্তার আদেশ নিষেধ ভক্তি সহকারে।
ঘোষণাপত্র যখন পাবে, তখন হটাৎ যাবে বাহিরে চলে ,
আর আসবেনা ওই পাখিটি ফিরে , দরজা বন্ধ হয়ে যাবে ,
থাকবে না আর দেহের ভেতর কারো কোন অধিকার,
রক্ষক হিসেবে প্রতিদিন যাওয়া আসার সমাপ্তি হয়ে যাবে।
দেহের সংবিধানের সকল আলোচনা উত্থান পতন হলো ইতি ,
কে বা জানতো ঠিক এই সময়ে এতো প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়ে যাবে।
এতো সময় জীবন ভরে পাখিটি করলো আসা যাওয়া,
চিনতে জানতে পারলাম না তারে নাহি হলো দেখা ,
যথোপযুক্ত দেহখানি সাদা লেবাসে সংরক্ষিত করে দিলো।
রাষ্ট্রের জনগণ পাক পবিত্র করে, পাঠায়ে দিলো প্রকৃত,
শেষ বিচারের কাঠগড়ায় সকল অঙ্গ প্রত্যঙ্গে মোড়ায়ে রাখিলো ,
অন্ধকার বদ্ধ গৃহের মধ্যে আগল দিয়ে সংরক্ষিত করে।
30- বলা সহজ বুঝা কঠিন
বিশেষ লক্ষণ বৈশিষ্ট বুঝতে সময় লাগে অনেক্ষন ,
দূরদর্শিতার অক্ষমতা কম থাকলে হর্ষ বিষাদে মিশ্রিত জীবন ,
চালনা করতে কষ্ট হয় বেশি সময়ের অপেক্ষায় থাকতে হয় অনেক্ষন ,
আপসোস করে সময় কাটানো কিন্তু বোকামির লক্ষণ।
উপশমকারী ঔষধ প্রয়োগ করতে না পারলে রোগ সারবে না কখনো ,
কখন তোমাকে কে ধ্বংস করবে বুঝা বড় মুশকিল সংসারে,
সঠিক কান্ডারীর হাল ধরতে না পারে চিন্তায় সংসার ডুবার একমাত্র কারণ।
ভুল না করলে শুদ্ধ হয়না জানা শোনার তা একমাত্র কারণ ,
না বুঝে প্রশ্ন করলে বোকাকে বোঝানো বড়োই কঠিন কাজ ,
সহজ কাজ করা কঠিন উত্তর মিলানো হয়না সহজ।
বিপদজনক কঠিন কাজতো সাহসিকতার সাথে সমাধান করতে হয় ,
অনভিজ্ঞতায় অজ্ঞতায় জড়িত হবে না।,
না হয় ধ্বংসের একমাত্র কারণ।
31- জ্ঞানী গুনীকে সম্মান
জ্ঞানী গুনীকে সম্মান করলে , তার ব্যবহারে , অপদার্থ ব্যক্তি ও হয় গণ্য পদার্থ বলে,
নিজের স্বার্থ নিজে বুঝিয়ে একা ভোগ করলে তার সম্মান যায় রসাতলে।
জ্ঞানী গুণী কথাবার্তা সত্য হয় ,সেটা হয়না কখনো মিথ্যে,
এমন কাজ করো তুমি ন্যায়-নীতি মান্য করে এই জগতে।
সর্বদা সৎ ও সঠিক ধর্মে কর্মে তার বিচরণ হবে ,
পিতামাতার উপদেশাবলী আদর করে শোন তুমি ,
মানুষ বাঁচে সৎ কর্মের ফলে,
ধৈর্য্যধরে কাজ করলে।
বিধাতার অবদান মানুষ শ্রেষ্ট জীব বেশি জ্ঞান রাখে ,
কষ্ট করে সু -জ্ঞান অর্জন করলে এই জ্ঞানই কাজে লাগে।
ছোটখাটো মনোমালিন্য খেয়াল করে সমাধানই ভালো ,
সকলে মিলে মিশে কাজ করলে তোমার সম্মান যাবে বেড়ে ,
মনখোলা কথা বললে কৃতকার্য হয় সহজে,
একেঅপরকে ভালোবাসিলে কর্মফলে রহমত বাড়ে।
ঘৃণা করো না একে অন্যকে , এতে বাড়ে হিংসা বিদ্বেষ,
ধর্মেও আছে এসব করা সম্পূর্ণ নিষেধ।
অকথ্য কাজে সময় নষ্ট করে যে , সবকিছুতেই অকার্যকর হয় সে ,
বর্ণ বদলে দেয় , অর্থ দাঁড়ায় বিপরীত শব্দে।
কাজ করিবার নাই যার শক্তি , অকর্মন্য তার বাহাদুরি ,
পরের ধনে পোদ্দারি , মহাজন সেজে জমিদারি।
অকথ্য কাজে সময় নষ্ট করে যে , সবকিছুতেই অকার্যকর হয় সে ,
বর্ণ বদলে দেয় , অর্থ দাঁড়ায় বিপরীত শব্দে।
কাজ করিবার নাই যার শক্তি , অকর্মন্য তার বাহাদুরি ,
পরের ধনে পোদ্দারি , মহাজন সেজে জমিদারি।
বিপরীত কাজকর্মে অংশ নিলে ,
ফলাফল যাবে তার বিফলে।
অপ্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি ক্রয় করলে ভবে ,
তাড়াতাড়ি দেউলিয়া হবে।
32- জাগ্রত জনতার আহাজারি
হে সংগ্রামী ছাত্রজনতা ,
জাগ্রত তোমরা জাতির ভবিষ্যৎ ,
থাকতে হবে তোমাদের সবদিকে সতর্ক এবং সৎ।
হাল ধরছো নতুন সূর্যের আলো দিয়ে বেশ ,
অন্ধকারকে হারায়ে আলো দিয়ে ভরপুর করেছো স্বদেশ।
তোমারা নেতৃত্বের অধিকারী বিজয় উল্লাস,
এখনই এসেছে সময় রাষ্ট্র বিনির্মানের ,
নিশ্চয় তোমরা করবে না জাতিকে হতাশ।
সঠিকভাবে বিদ্যা অর্জন করে যাও এগিয়ে ,
রাষ্ট্রীয় , সামাজিক , সাংগঠনিক কাজকর্মে ,
থাকবে অম্লান দেশাত্ববোধ প্রতিটি মানুষের মর্মে মর্মে।
তোমাদের আছে অংশ গ্রহণের ইচ্ছে প্রবল ,
নেতৃত্বের গুণাবলী করো অর্জন ,
অতীতের সকল ব্যর্থতা দাও ভুলিয়ে ,
করো ন্যায়ের হুঙ্কার , রাখো মনোবল।
থাকতে হবে তোমাদের মধ্যে প্রগাঢ় মমতাবোধ ,
অকৃত্রিম সদিচ্ছা , দুর্দমনীয় আশা আখাঙ্খা ,
দেশ প্রেম নিয়ে জাতীয়তাবোধ মাথার রেখে হও অগ্রসর ,
তোমরাই করবে সকল অন্যায়ের প্রতিরোধ।
বজ্রকঠোর সংকল্প আছে তোমাদের ভেতরে ,
আমাদের বৃদ্ধ বয়সে অমূল্য সময় হারিয়েছি ,
আসিবেনা ফিরে আর সেই সময় ,
রাষ্ট্র তিনবার স্বাধীন হলো, বিজয় আসিলো বটে ,
পারিনি করতে আমরা দেশীয় সম্পদের সুষ্ট ব্যবহার।
দুঃখ লাগে মনে দুর্নীতিতে ভরাদেশ, শোষণের যাঁতাকলে ,
রাষ্ট্রের কোষাগার লুট করে নিয়েছে শাসক দলে।
33- মনের বেদনা ও তৃপ্তি
মনের বেদনা কারো সাথে বলা যায়না ,
দুঃখ নেই মনে এমন মানুষ নেই সংসারে ,
মানুষ যদি বুঝতো যাবে একদিন কবরে,
তবে দুঃখ দিতোনা কখনো মানুষেরে।
মহা সত্য কথা অবশ্যই জানে,
তবু পড়ে লোভে , চিন্তা আসেনা মনে।
যাই করিবে তাই পাবে সময় নহে বহুদূর,
প্রীতি আর ভালোবাসা দিও সবাইকে ,
সম্পর্ক রাখিবে মধুর।
একা একা ভাবনা আর চিন্তা করে চলো আগে ,
সেরা দিন কি করেছো ভবে ,
কি দিয়েছো তোমার রবকে ,
চক্ষু বন্ধ করে দেখো অন্ধকার কেমন লাগে।
সারাটি জীবন কষ্ট করে লালন করেছো , না খেয়ে খায়িয়েছো ,
বৃদ্ধকালে তোমার কৃতফল ভাগ্য ভালো থাকলে ,
পাইলে পাইতে পারো ,জামানা বড়োই কঠিন।
রদবদলে প্রতিটি জীবনে কারো সহজ , আবার কারো কঠিন,
যা-ই ঘটে নীরবে বসে সহ্য করে নিবে,আফসোস করবে,
বলবা যাকে সে ব্যথা পাবে মনে ,
সারাটি জীবন কষ্ট করবে , সুখ পাখিটি ধরাটা কঠিন।
কামাই করেছি , যায়নাই বিফলে অবশ্য
ছেলেমেয়েকে মানুষ করেছি , এটাই সুখের সম্বল ,
তৃপ্তি পাই মনে বেশি।
34- সযত্নে দর্শন , আমরা পথিক
ঝুলানো , লটকানো টাঙানো কোন কাজ ,
মুমিনের জন্য রাখা ঠিক নয় ,
যেকোন সময় মৃত্যু হবে কেনা তা বলে পারে।
এ দুনিয়াটা কল্পনার জগৎ ,
অতিরিক্ত বোঝা নিয়ে ফাঁকিবাজি ,
চালাকি করার স্থান নেই।
সৃষ্টিকর্তার হুকুম আহকাম মান্য করে,
বিশ্বাস আর মানবতার উপর নির্ভর ,
মানবতার মূল যথার্থরূপের পরিচয়।
মানুষের জীবনটা সাগরের ঢেউয়ের মতো ,
মৃত্যুর সময় তরঙ্গের চূড়ার দূরত্ব স্বরূপ ,
এ জীবন ঢেউয়ের দোলায়মান গতির মতো।
খারাপ সব কিছু বর্জন করে চলা মুমিনের কাজ ,
অপরিচ্ছন্ন নোংরা কাজ , হিংসা বিদ্বেষ ,আক্রোশ থেকে –
নিজেকে রক্ষা করা স্বর্গ লেভার উপায়।
আত্ব-প্রত্যয় বিচার বুদ্ধি ক্ষমতা ইত্যাদির উপর বিশ্বাস করে ,
মাবুদের সাহায্য নিয়ে চলাফেরা উত্তম স্বভাবের কাজ।
আত্বসচেতন না থাকিলে বিপদ আপদ আসতে পারে ,
লজ্জা শরম যার নাই সে মানুষের গণ্য নহে।
35- সত্য অসত্যের ফারাক
হবে না অসত্যের কাছে সত্যের পরাজয় ,
সর্বকালে সর্বযুগে আমরা শুনি ও বিশ্বাস করি,
অসত্য লোকের হাজারো কথার একটাও নয় খাঁটি।
জমিনের মাটিটাকে আমরা করি দূষিত সত্যকে মিথ্যা দিয়ে ঢাকি,
সত্য কথা বলে যারা তারাই জমিনে খাঁটি।
অসত্য লোকেরা মিথ্যা বলে হয় পাপী ,
সাজায়ে গুজিয়ে পরিপাটি করে কথা বার্তার মূল্য নেই সংসারে ,
ভালো লোক বুঝতে পারে সব।
মিথ্যাবাদী লোভী মীরজাফরকে গালাগালি করে.সারাজীবন।
ভুলতে পারিবেনা মানব জাতি।
সত্যকে জানি পরশ পাথর সত্যই পরশের মতো খাঁটি ,
ভালোবাসি বিশ্বাস করি খাঁটি জিনিস সর্বদাই খাঁটি ,
করুণা আর ভালোবাসায় এ পৃথিবীটা কত সুন্দর পরিপাটি।
আমরা সত্য দিয়ে গড়তে চাই পৃথিবী সুন্দর করে ,
প্রত্যেক প্রাণীর মৃত্যু আছে , মৃত্যুর স্বাদ নিয়ে যেতে হবে,
কেউই নয় স্থায়ী এই বিশাল সুন্দর ভবে।
জলের উপর যেমন তেল ভাসে চকচক করে,
ইতিহাস স্বাক্ষ্য দেয় ভালোমন্দ সবই লেখা ও বুঝতে পারে সকলে,
সত্য মিথ্যা চলে না একসাথে ফারাক থাকে সর্বকালে।
কয়দিন আছি এই ধরার বুকে , চলে যেতে হবেই পরকালে,
সত্যবাদি সততার আমলনামা পাবে পরকালে গেলে ,
পুণ্যবানেরা যেপথে গেছে চলে আমরাও চাই সেই পথে যেতে।
36-সন্ধ্যা তারা
পাহাড়ের চূড়ার মতো আশা আনন্দ ,
সুখ দুঃখ হৃদয়ের মাঝে গাঁথা ,
পুঞ্জিভুত সব বলিবো বা কারে।
কে বা বুঝিবে সময় ঘনিয়ে আসতেছে,
দেয়না ধরা বলে না আসল কথা ,
দুর্বার গতিতে চলে যেতে চায় ,
কষ্ট সহ্য করে থাকতে হয়।
বয়স হয়েছে ভারী , হাটতে না পারি ,
চলা ফেরার ইচ্ছা হয়ে গেছে শেষ ,
অনেক খোঁজাখুঁজি করি সকলের সাথে মেলামেশা করি।
দেইনা ব্যথা কারো মনে ,
যদিই বা লাগিতে পারে ,
তার অবুঝ মনে দুঃখ ,
বেদনা ব্যথা দুঃখ জ্বালা।
বুকের খাচার মধ্যে আবদ্ধ রাখি ,
খুলিনা খাঁচা উড়ে যাবে বলে ,
ধর্য্য হারা হয়ে গেছি ,
সাধনার ফল ভোগ করছি।
বাস্তহারা জীবন পতন হবে ,
আশা নাই আর যাবো চলে ,
জীবন প্রদীপের আশা শেষ ,
রসদ আমার যতটুকু ছিল।
প্রতিদ্বন্ধিতার সুযোগ শেষ,
বলবান আর সতেজ উৎসাহী ,
দৈহিক শক্তি যুদ্ধ করে ,
সাফল্য উত্থান পতন থাকলোনা নিদর্শন।
37- চিন্তাভাবনা
তুমি মানুষ তুমি সৌভাগ্যশালী,
তোমার আছে মান ইজ্জত আর হুশ,
আছে তোমার কথা বলার ক্ষমতা,
তোমাকে প্রথিবীতে পাঠানো হয়েছে,
আল্লাহর ইবাদতের জন্য তুমি আল্লাহর বান্দা।
আপন বলতে নাই যে কেউ ভবে,
মাবুদ বিনে সবাই পর সংসারে,
একই সাথে থাকিমোরা স্বার্থ সর্বদা দেখি,
স্বার্থের ব্যাঘাত ঘটলেই মোরা,
পৃথক চিন্তায় মগ্ন থাকি।
অর্থ সম্পদ থাকলে সবাই আনন্দ প্রমোদ করি,
সুখের দিনে সর্বদাই বন্ধুবান্ধব সঙ্গীসাথী,
আসা যাওয়ার নিত্য খেলায় খেলেছি মোরা ভবে,
দুঃখের দিনে দূরে ধরে অবস্থার পর্যবেক্ষণ করে,
সুখের কালে সবাই থাকে পাশে পাশে।
যাবো যে চলে সবাই খবর কয়জনই রাখে,
এমন এক সময় আসবে স্নেহের আত্বার পরশমানিক হটাৎ নিভে যাবে,
সাঙ্গ হবে শেখ খেলা পড়ন্ত বেলায় ঝম আসবে চলে,
পুন্য কাজের ফলাফল সব সাথে করে নিয়ে যাবে,
পর্দার পাতায় ভেসে আসবে,
হিসেব মিলিয়ে মহাজনের কাছে খাতাপত্র জমা দেবে।
38- পার্থিব জীবন
নিশিরাতে ডাকি মৌলা আমি তোমাকে ,
তুমিই একমাত্র শান্তি সংস্থাপক মাবুদ ,
লুকিয়ে থাকার জায়গা নেই কারো এই পৃথিবীতে ,
আমরা সেই পৃথিবীতে সুবিধাপ্রাপ্ত বান্দা ,
সুসময়ে যাই ভুলে তোমাকে।
সত্য বলিয়া অনন্ত অসীম মাবুদ তুমি ,
স্বীকার করে আসিয়াছি এইভাবে ,
একদঠান হতে অন্য স্থানে যাওয়া বা চলা ,
কোনকিছুই বহন করার নেই কোন ক্ষমতা ,
তোমার হুকুম আর দয়া ছাড়া ।
মিতব্যয়িতার সহিত ও নিপুন ভাবে কাজ করার ,
চলিতে পারার ক্ষমতা দাও আমাদের ,
তোমার দান ও দয়ার অস্বীকার করার নেই ক্ষমতা কারো।
নিশিরাতে এক ডাকি মৌলা তোমাকে ,
অন্তরে আছো মাবুদগো তুমি ,
নূর আর আলো দিয়ে নিও তরায়ে ,
রহমতের সুগন্ধে শোভাসে রেখেছো আমাদের ,
অন্তরটাকে ঠান্ডা রাখিয়ো তোমার দয়ার ভান্ডার খুলে ,
না দেখিয়া মাবুদগো বিশ্বাস করেছি
তুমি একমাত্র একক অদ্বিতীয় সৃষ্টিকর্তাকে।
বিন্দুমাত্র জ্ঞান নেই প্রভু আমাদের ,
ঝাঁপ দিয়েছি অকুল সাগরে ,
প্রেমের এল জ্বালাতে চাই তোমার তোরে ,
আত্মাটা রাখিয়ো শান্তি গো মাবুদ ,
যেন তোমার নাম জপিতে পারি সর্বদা নেকবান্দা হয়ে।
39- নির্ভীক জীবন
মানুষের মতো মানুষ যারা , থাকে তারা সৎ সর্বদা-
বরণ করে যন্ত্রণাকে ভয় করেন তারাই পবিত্র ,
সৎকাজে সৎ ধর্মে মরণকে তারা বিশ্বাস করে ,
অন্যায় আচার আচরণকে ঘৃণা করে শহীদদের ভালোবাসে ,
দীন দুঃখী আর পীড়িতদের সেবায় তারা ব্যস্ত সর্বদা।
অপবিত্র অপ্রীতিকর কার্যকলাকে অপছন্দ করে,
মাবুদকে রাখে সর্বদা সন্তুষ্ট ,
নিষ্ঠুর আচার আচরণের কাজ থেকে সর্বদা থাকে মুক্ত ,
হক হালাল কর্মের সাথে এবাদত বন্দেগীতে সর্বদারত।
তাঁরা ছওয়াব পুন্য নির্ভিক তাদের জীবন ধন্য ,
জীবের সেবায় কাজ করে অভাবীকে সাহায্য করে ,
পানাহারিদেরে পানাহার দিয়ে মাবুদের সেবায় ব্যস্ত ,
সুযোগ পেলে হতভাগ্য,রোগাক্রান্ত বস্ত্রহারাদের সেবা পায়
পরকালে লাভবান অর্জন করে পুন্য।
বিজ্ঞ প্রবীণ বিচক্ষণ জ্ঞানী গুণী সুবিবেচিত ,
কথাবার্তা আদান প্রদানে তারাই জীবনে ধন্য ,
শয়তান আছে চিরশত্রু , তারা থাকতে পারে যারা মুক্ত ,
তারাই প্রকৃত মানুষ পাকপবিত্র ,
শয়তানের ধোঁকায় পড়েনা তারা ভয় করে খোদাকে সর্বদা।
40- প্রাণের সাথে দেহের সম্পর্ক
সুখ আসিলে প্রকৃতি হাসে ,
আশা জুগায় ভালোর দিকে চলতে ,
সুখের দিন ভুলিয়ে গেলে ,
আবার ও দুঃখ আসিতে পারে পরিহাসে ।
রূপসী প্রাকৃতির খেলা যায় আসে ,
মানুষ আশা নিয়ে বেঁচে থাকে ,
হাসি কান্নার মধ্যখানে পরিশ্রমের ঘাটতি ,
পরিশ্রম ছাড়া হয়না কোন সুখ।
একা একা প্রাকৃতিতে প্রকৃত মানুষ খুঁজি ,
প্রাণ আর সুস্থ মন না থাকিলে ,
করা যায়না কোন অগ্রগতি ,
আশাকে বুকের ভেতর বন্ধি করে রাখি।
কোন অর্থ নেই তাতে তাই খোঁজাখুঁজি করি ,
সুখকে ছেড়ে অনতিবিলম্ভে দরজা খোলে শান্তির বাতাস দেখি ,
দুঃখকে ছেড়ে সুখের পথ পাবার জন্য ,
সংগ্রাম আর বিপ্লব করতে শিখি।
প্রেমের বার্তা প্রেমিকের কাছে পাঠাই ,
আশ্রয় নিয়ে তাঁর কাছে করি কাকুতি মিনতি ,
দয়া যদি হয় বন্ধুর আমার অবস্থার হবে উন্নতি ,
সেই বন্ধুই পরিবর্তনের খোঁজ খবর পারেন বুঝতে ,
থাকে তার হাতে মূল চাবি।
41 – মনের সান্ত্বনাতে সুখ থাকে পাশে
প্রত্যেক মানুষ চায় জ্ঞানী লোকের সাথে ,
সম্পর্ক করে চলে সুখে থাকতে চায় ,
বোকা মানুষ সাঁতার না শিখে সময়মতো জলে ডুবে মরে ,
নিচে আঁকড়ে ধরতে পারে না কোথাও পায়না সাহায্য পথে।
দুঃখ কষ্ট আর আত্মার বেদনা নিগড় থেকে ,
সুখ অর্জন করতে পারে না কষ্ট করে বহুত ,
নিজের সম্বল না থাকলে দেয়না আশ্রয় কেহ ,
ঘৃণা করে চলে যায় বহুদূর একে একে।
সহ্য করে চলাফেরা করি তবুও পারিনি চলতে ,
বেদনার যন্ত্রনার জ্বালা বেড়ে চলে ,
অরণ্য আঁধার জঙ্গলের ভেতরে তাবু দিয়ে বাসকরি ,
অলৌকিক ভাবে বেঁচে আছি সুখ আসবে চাই থাকতে শান্তিতে।
দেখি সেখানে আসে কি একটু সুখ ,
বহুদূর দেখি সুখ আসে কি একটু সুখ ,
বহু দূরে দেখি সুখ আসে আমাকে ডাকছে ,
উপদেশ দিচ্ছে শুধু কঠোর পরিশ্রম করতে সম্মুখ।
বলে আঁধার কেটে গেলে আসিবে কাছে চলেই ,
রাত পোহালে যায় আর দূরে ডাকে ,
আয় আয় বলে দেয়না ধরা বলে ছবর করে চলতে,
আমার চেয়ে দুঃখী মানুষ পাই , সুখী দেখি আমি নিজেই।
শয়নে স্বপনে চক্ষু মুঝিয়া তপস্যা করি ,নিজেই করি আলাপ ,
অতি বেদনায় চিৎকার দিয়ে ডাকি কাছে আসে না ,
হীন স্বাস্থ্য দেখে অহংকার করে যায় চলে ,
যতই অগ্রসর হই সামনে দেখি বনজঙ্গলে মৃত মানুষের কবরের স্তুপ।
42- অনুসন্ধান
জানিয়াও জানে না , বুঝিয়া ও বুঝে না ,
এতো জ্ঞানী লোক জগতে জন্ম নিয়ে ,
সবকিছু যতই আমার আমার কেন বলিনা।
কিছুই নয় আমাদের সকলেই জানে ,
খোদার প্রেমে না মজিলে চিন্তাহীন ,
কোথায় কাটালে তুমি ভবে এসে অলস জীবনে ।
সু বৃহৎ বসতবাড়ি সম্পদ যা আছে ,
এভাবেই পড়ে রবে প্রভুকে অনুসন্ধান করলে বুঝবে ,
হটাৎ সকলেই ক্রমে ক্রমে জগৎটাকে ছেড়ে ,
সাড়ে তিনহাত মাঠির নিচে চলে যাবে রইবে না কাছে ।
পোশাকের বিশিষ্ট ধরণ নিতে পারবে না সাথে পরপারে ,
সাদা কাপড় শেষ সম্বল হবে ,
কত খেতাব কত উপাধি পদবি সংক্রান্ত সনদ রইবে পড়ে সংসারে।
পাবে না কেউ কারো দেখা- চিনবে না কেউ কাউকে,
কঠোর পরিশ্রমের ধন অন্যরা উপভোগ করবে,
তোমার জমির উৎপাদিত তুলতে পারবে না,
কি শক্তি তোমার? ভাব একবার মন থেকে।
সততা যতার্থতা প্রকৃত উক্তি খোদার মহিমা,
যথার্থ জ্ঞান আরাধনা অর্জন না করলে,
অন্যায় যত কাজ করেছো এ জগতে,
সব বিচার অবশ্যই হবে পরকালে তবু আশা ক্ষমা।
একটু হেরফের করার নেই কোন পথেই,
ফাঁকি দিতে মোদের কোন জ্ঞান ক্ষমতা নেই।
43- বিশ্বাস
নির্মল আকাশ নির্মল বাতাস সুস্বাদু খাবার দিয়েছো আমাদের প্রভু ,
যতকিছুই আমরা মানবজাতি করি আবিষ্কার চরম উৎকর্ষ গুণ দ্বারা ,
সবই মহান আল্লাহর দানে ও বরকতে ভরপুর সৃষ্টি করা যায় ,
কিন্তু প্রাণ মানুষ জাতি দিতে পারে না কেউ কাউকে কভু।
পদমর্যাদায় তুমিই মাবুদ উন্নতি সাধন করতে পারো ,
জোড়া জোড়া করে সজ্জিত করেছো প্রাণীদের,
এমন কেউ কি আছে তা করিতে পারে ?
রহমতের বারিধারা অঝোরে বর্ষিত করে।
ক্ষণস্থায়ী পৃথিবীটাকে নিত্য নতুন ফসলাদি দিয়েছেন মোদের ,
কত সুন্দর শ্রুতিমধুর কথা ও বাণী ক্ষমতা দিয়েছেন আমাদের।
কথা বলার শক্তি স্বার্থকভাবে নতুন তত্ব আবিষ্কারে যা কিছু খুঁজে পাচ্ছি আমরা ,
সবকিছু খোদার প্রেরিত মহাগ্রন্ত আল কোরানে আছে সঠিকভাবে পড়তে পারলে।
হে সৃজন ক্ষমতাবান সমগ্র বিশ্ব জগতের মালিক ,
উচ্চ সব প্রশংসা তোমারই ডাকি সর্বদা অন্তর দিয়ে ,
তোমার আছে একমাত্র দেয়া নেয়া ও বিলীনের ক্ষমতা একক।
এজগতে তোমার বন্দেগী করতে এসে সন্তুষ্ট না করে ,
আমাদের জীবন পরিসমাপ্তি করিওনা মাবুদ আমাদেরকে ,
চাহিদামাফিক সবকিছু দিয়েছো , সকল প্রাণীর রিজিক দাতা তুমি প্রভু।
পরিপূর্ণ ঈমানদার না করে নিও না আমাদের
আপদ বিপদ কাটাবার শক্তিদান করে রাখনিও
সুখে নিশ্চিত বিশ্বাস একমাত্র আমাদের তোমার তরে।
44 – সুফল প্রদ আস্থা রাখা
শান্তি সুখের আলো জ্বালিয়ে ,
পৃথিবীটাতে থাকতে চাই সুখে ,
সুখ নেই যার কাছে যাই দুঃখের গল্প সর্বদা বলে।
এমন গল্প শুনতে পাই কান্না আসে মনে ,
শিখতে চাই ভালো কথা , পারিনা শিখতে ,
শেখার ভান্ডার পৃথিবীতে ,
তাকিয়ে দেখো চক্ষু মেলে পৃথিবীটাকে।
আদর ভালোবাসা থাকলে তবে ,
শান্তি আর সুখের আলো ,
তোমার অন্ধকার আত্মায় জ্বলবে।
সারাটি জীবন কষ্ট করে সুখ ধরা যায়না অবশেষে ,
অত্যান্ত উজ্জ্বলতার সূর্য ও মাঝে মধ্যে স্বচ্ছ আলোকে ,
মেঘের ভেলা ঢাকা দিয়ে প্রভাতার নেয় আড়াল করে ,
জাকজমক কর্মক্ষমতা সতেজজ্ঞান নিঃশেষে।
নিরাশ করার ক্ষমতা সৃষ্টিকর্তার কাছে ,
অনুকূল আর ফলদায়ক হিতকর কাজে ,
সু- হৃদয়তা দিয়ে সৃষ্টি করার ক্ষমতা ,
সাগ্রহে প্রার্থনা করে চারদিকে ছড়ায়ে ,
অমঙ্গলকে মঙ্গল করার ক্ষমতা মানুষের জ্ঞানে অবশ্যই আছে।
45- নিয়মের ব্যতিক্রম
দেশ বিদেশ ঘুরে বেড়াই ,
ভালো মানুষ খজিতেছি ভাই ,
কত সাগর যদি পার হলাম ,
সেখানেও সমান তাই।
যেদিকে যাই দেখিতে পাই ,
মনের মানুষ নাহি পাই ,
ধাপ্পাবাজি করে সবাই ,
আসল নকলের হিসেব নাই।
প্রফুল্ল মনে হাসি খুশি করে চলে যথাতথা ,
ভেতর তাহার ঠিক নেই ,
বাহ্য শোভায় আছে খাঁড়া ,
অন্তর তাহার নিমের মতো তিতা।
স্বচ্ছ দিলের মানুষ কম আশে পাশে ,
সহানুভূতি আর দয়ার উদ্রেককারী নেই ,
এ জগতে সংখ্যায় খুব কম ভালো মানুষ ,
সহজভাবি যাহাদের , ততসহজ নয় যে সে।
কঠিন কঠিন বাক্য বলে শিক্ষার অহংকার করে ,
চমৎকার তার আচার আচরণ দেখতে পাই,
ফাঁকিবাজি আরো বেশি করে ,
প্রয়োজনীয় কাজে নিলে ক্ষতির চেষ্টা বেশি করে।
সুন্দর পোশাক গায়ে পরে,
মিথ্যাবাদী দেখি আরো বেশি সে ,
কথায় কাজে মিল নেই,
সবদিকে হাতপা রেখে অন্ধকারে ডিল মারে।
46 – দুটি পাখির স্নেহ মমতা
গাছের উঁচু ডালে বসে ঘুঘু ডাকে মধুর স্বরে ,
কি করে ডাক শুনে তার সাথী ঘুঘু আসে ফিরে ,
এত কঠিন ডাক আর সুর কি করে বুঝে ,
শুনতে ভীষণ কঠিন ডাক পারিনা কেউ বুঝতে ,
বিধাতার সৃষ্টির সৃজন খেলা কে বা বুঝতে পারে।
ঘুঘু পাখি ডাকশুনে তার সাথীর কাছে এসে ,
বাচ্চাদের আদার দিলো বাচ্চাদের মুখে ,
উঁচু ডালের সাথী পাখিটি গেলো আবার চলে ,
আসা যাওয়া সময়ে সময়ে ,
বাচ্চাদের লালন পালনে পর্যায়ক্রমে আদার নিয়ে আসে।
বাতাস বহিতেছে প্রচুর বেগে , বিশাল তেজে ,
দুইটি বাচ্চাকে নিয়ে উড়াল দিয়ে ,
কোথায় গেলো আর পাইনি দেখা , পাইনি খুঁজে।
পরদিন দুপুর বেলা গেলাম সেই পথে ,
না দেখে মনখানা হলো উদাস ,
ক্লান্ত হয় না পাখিগুলো এইভাবে আদার তুলে মুখে ,
হয়তো তারা উড়াচ্ছে ডানা দূর আকাশের পথে।
মাবাবার ভাষাটি বুঝে আদর চিনতে পারে ,
একই রঙের কত ঘুঘু উড়া দিয়ে যায় চলে ,
ভাবি কি করে একেক জোড়া পাখি ,
নিজ নিজ সংগীকে চিনে সংসার করিতে পারে।
47 – সাহায্যের হাত বাড়াই
বন্যার কবলে মানুষ পড়িলে ,
বড়োই দুঃখ লাগে মনে ,
ত্রানের খাবারগুলি চাই যথারীতি তাঁদের কাছে শীঘ্রই পৌঁছাতে ,
যে যাহা পারি চলো সাহায্যের হাত বাড়াই একসাথে ,
অমৃত স্বাদ যেন পাই হৃদয়ে।
সত্যিকারের মানুষ যারাই আছি সকলে চাই ,
তাদের মুখে হাসি ফোঁটাতে ,
চলো যাই আমরা বানবাসীদের ,
সাহায্য সহযোগিতা করিতে।
হিংসা বিদ্ধেষ ধর্ম বর্ণ ভুলে যাই ,
আমরা মানুষ জাতি স্বার্থপরতা নাই,
সংকটময় কালে থাকি সর্বদা দুঃখী মানুষেদের পাশে ,
কষ্ট আসে দুঃখ আসে বিপদ আসে।
সকল ধর্মের মানুষ চায় বাঁচতে,
মায়ায় ভরা হৃদয় খানা নিয়ে ,
চলে আসো জগতের মানুষ জাতি ,
দাঁড়াই তাদের পাশে সুখ দুঃখ ভাগাভাগি করে।
চলো যাই নিরাময় ও কষ্টের সংসারটাকে চাই ,
মানুষের ভালোবাসা পূর্ণ মায়াবী ভরা সকলের
মনজয় করে ভালোবাসা ,
আদর সোহাগ দিয়ে বিলিয়ে দিতে চাই ,
সব আরাম আয়েসে তাদের জন্য বিলিয়ে দিয়ে ,
দুঃখীদের দুঃখ চাই না দেখতে।
48- জীবন ঘড়ি
জীবনটা যেন একটা ঘড়ি ,
সর্বদা ঘুরে টনটন টিকটাক ডাকে অনবরত ,
ঘুরে সর্বদা তার কাঁটা ,
বেটারী ফুরায়ে গেলে যেমন ঘুরেনা তার কাঁটা,
তেমনি স্তব্ধ হবে মুখের ভাষা , থামবে নড়ানড়ি।
চলে যাবো অন্ধকার কবরে থাকবো একা,
নয়ন মেলিয়া অন্ধকারে পাইবো না কারো দেখা।
চেয়ে চেয়ে থাকি মাবুদগো বলিতে না পারিব ,
সাঙ্গ হইবে যে আমাদের জীবনের শেষ খেলা।
কোথায় আসিলাম কোথায় গেলাম ভাবি একেলা ,
কি যে হলো সুখের সংসার ভাবি সকলে একা একা।
রবি করে ডুবু ডুবু যামিনী হয়েছে লাল ,
তনু হয়েছে নিস্তব্দ এইতো জীবনের শেষ বেলা।
পাতকের হিসেব হবে , আতঙ্ক ভীতিতে প্রাণ কাঁপবে ,
কেউ রাখবেনা কারো খবর ,
লোচনের জল করছে টলমল ঝরিতেছে অবিরত ,
আমরা কেউ যে নই দোষ মুক্ত,
অবস্থা ভাগ্যের পরিবর্তন কি করে হবে।
হিসেব মিলেনা পাইনা জগৎ পিতার দেখা কোথা ,
কেবা জানতো আগে ? আমরা যে হবো একা একা ,
পরাধীন জীবনের নেই মূল্য, আমাদের খাতার শূন্যপাতা।
49- সতর্কবাণী
সতর্কতার মুলবানী মানিয়া চলে মহাজ্ঞানী ,
অনুজ্জ্বল জীবন গড়ার নাইকো প্রয়োজন ,
শিশুকালে আগামী জীবন ভবিষ্যৎ সুগঠিত সময় ,
এখনকার শিশুরা আগামীদিনের রত্ন সবাই যা জানি।
দেশের কান্ডারী কাদামাটির মতো কমল ,
কমলতা যদি নষ্ট হয় চক্ষে ঝরবে অশ্রু ,
লাগবেনা সু কাজে , কষ্ট করো ধৈর্য্য ধরো ,
লেখাপড়ায় মনোযোগ দিয়ে তৈরি হবার সময়।
শ্রদ্ধাভাজন গুরুজনদের ভক্তি শ্রদ্ধা নিয়ে ,
সামনে এগিয়ে চলো এবং কৃতকার্যে গড়ে তোল উন্নত জীবন ,
এমন কিছু কার্যক্রম করিওনা ভবে ,
মরিলে তোমাকে যেন লোকে মন্দ না বলে ,
ভুলের কারনে স্বাভাবিক জীবনের ছন্দ হারালে সব শেষ হয় ।
একটু ভুলের কারনে হবে নষ্ট ভবিষ্যৎ সবার ,
যে সংক্রান্ত কার্যক্রমে বা কোন ব্যপারে পরিনাম অশুদ্ধ হয়,
আসন্ন বিপদ আসে সর্বদা করো পরিহার।
অমানুষিক কাজকর্মে অসৎ সংগে থাকিও না কারো ফাঁদে ,
মিশিবেনা কখনো কারো চক্রান্তে পড়িবেনা।
সর্বদা ঈমান শক্ত মজবুদ করে আল্লাহকে করিবে স্বরণ ,
দুশ্চিন্তার অবসানে মুক্তির শুভ লক্ষনে থাকিও সর্বক্ষন ।
50-তুমি গো মা জননী
স্বচ্ছ মনের অধিকারিনী মাগো তুমি জননী কর্তব্যে ভরামন ,
তুমি আমাদের প্রান প্রিয় তুমি মহা মুল্যবান ধন ,
তোমার গর্ভে জন্মেছি মাগো সকল ভাইবোন।
তোমার দিকে তাকাইয়ে দেখি কত সুন্দর মিষ্টি হাসি উজ্জ্বল ,
আদর সোহাগে ভরা তোমার কমল মন ,
তুমিতো মা সর্বসেরা মহা রত্ন ধন ,
তোমার কথা মনে হলে চক্ষে আসে জল।
এতোমায়াবিনী সুদর্শিনি মুখখানা মাগো জগতে আর নাই,
সুখে দুঃখে মা ডাক দিলে কত আনন্দ পাই।
তুমি জননী মাগো খোদারই অপূর্ণ দান ,
একবার মা ডাক দিলে শীতল হয় প্রাণ।
স্বর্গ থেকে এসেছো মাগো তুমি স্বর্গে গোছো চলে পরজগতে ,
মা ডাক দিলে মা এমন দরদী আর কেহ আসেনি ফিরে ,
মাঝেমধ্যে স্বপ্নতে দেখি মাগো জেগে পাইনা খুঁজে ,
সমস্ত দিন চক্ষের সামনে দেখি পারিনা ভুলতে।
জীবিত আছি যতক্ষণ এই ভবসংসারে ,
মাগো তুমি সর্বদা দেখা দিও আমাদেরে।
কি করিবো কেমনে শুধাবো মা তোমার প্রীতির অবদান দিতে ,
পারিবনা কোনোদিন তোমার ঋন শুধরাতে ,
তোমার সমমূল্য আদর সোহাগ ভরা অন্তর নাই পৃথিবীতে।
কষ্ট দিয়াছি মাগো তোমাকে সন্তানদের মুখ দেখলে,
সব ব্যথা দুখ কষ্ট যাও ভুলিয়ে ,
তোমার মুখের হাসির কাছে চাঁদ যায় পরাজিত হয়ে ,
আল্লাহর দেয়া রত্ন মা তুমি আর পাবো না তোমাকে ।
51 – বাংলা ভাষা ও মাতৃভাষা
বাংলা আমার মাতৃভাষা,
হে বাংলা তুমি আমার আমাদের প্রাণ,
আমরা বাঙালি বাংলাদেশী,
তোমার ভাষায় কথা বলি ,
সু-গৌরবে নেচে ওঠে মন প্রাণ I
হে বাংলাদেশ ও বাংলা ভাষা,
তুমি এতো মধুর এতো স্নেহের দেশ,
হে সোনার বরন দেশ ও ভাষা I
আঁখি মেলে দেখি,
তোমার ভাষায় বাংলার চাষি,
বাজায় মধুর সুরের বাঁশি I
বাউলের তারের মিহি সুরে,
হৃদয় নিলো কেড়ে ,
সালাম দেই গো মা দু চরনে I
তোমারই স্বার্থক এইসব মধুমাখা গুণে,
প্রশান্তিময় জীবনখানি রাখি তোমার কাছে,
স্বর্নের বর্নে রংঙিন যে গো মা,
ভান্ডারভরা তোমার জ্ঞান I
বাংলাদেশ ও বাংলার স্বপ্নের আশা ,
বাংলা তুমিই আমাদের প্রাণ ,
বাংলা ভাষায় রক্ত ঝরা বাংলায় গাই গান ,
রক্ত দিয়ে গড়া বাংলা, হে দেশ ও ভাষা I
তুমিই আমাদের প্রাণ ,
তোমার ভাষায় কথা বলতে ওষ্ঠে জাগে প্রাণ ,
মান সম্মান বৃদ্ধি ও রক্ষা করতে দিবো জান মাল I
52- সম্মানসুচক ভদ্রকাজ
ছোটখাটো মনমালিন্য খেয়াল করে সমাধান করাটাই অতি ভালো কাজ ,
সকলে মিলেমিশে কাজ করিলে মতানৈক্য না বাড়ালে,
কাজগুলো সঠিক হয় সম্মান বাড়ে ,
মনখুলে কথা বলিনি কর্ম ফল হয় সহজ।
একে অপরকে ভালোবাসলে কর্মফলের রহমত বাড়ে ,
ঘৃনা করিওনা কেহকারে অহংকার করিওনা কোনকাজে ,
এমন কর্ম করিওনা ভবে যাতে হিংসা বিদ্বেষ বাড়ে ,
মায়া মমতা একে অন্যকে করলে স্নেহ সুন্দর বাড়ে।
সকল আপদ বিপদে সাহায্য সহযোগিতা –
অবস্থানুযায়ী করিতে পারলে সৌহার্দ্য পূর্ণ পরিবেশ হয় ,
অকল্যকাজে সময় কাটায় যে সবটুকু অকার্যকর হয় সে ,
বর্ণ বদলিয়ে দিলে অর্থ দাঁড়ায় বিপরীত শকে।
কাজ করিবার নাই যার শক্তি অকর্মণ্য তার বাহাদুরি ,
একাকী যে রাতে চলে বোকামিতে সে ধ্বংসে পড়ে ,
পরের ধনে পোদ্দারি মহাজন সেজে জমিদারি।
বিপরীত কাজকর্মে অংশ নিলে ফলাফল যায় বিফলে ,
অপ্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি করয় করিলে তাড়াতাড়ি দেউলিয়া হবে ,
সময় মতো কাজ না করিলে সেই কাজ আর হয় না সহজে ,
অকুলীন গর্ব করে কাজ করিলে ক্ষতিগ্রস্ত হবে সহজে।
জন্মদাতার নাম বদলিয়ে বাহাদুরি করিলে চলচাতুরিতে ধরা পড়িবে ,
জ্ঞান বুদ্ধি না থাকিলে নামীদামী নামে কি কাজ হবে,
অসুবিধা করে অরাজকতা করে মালামাল সঞ্চয় করিলে
দোজখে তার ঠিকানা হইবে ।
53- উপকারীর অপকার
উপকারীর অপকার অনেক লোকে করে জগতে ,
যাদের ভালো করিবে তাহারা আবার খারাপ ও করে ,
প্রতিদান পায় অবশ্যই কষ্ট করতে হয় নিজে,
যাহারা কৃতজ্ঞতা স্বীকার করেনা অকৃতজ্ঞ বলে তাদেরে ,
আমরা বিবেকহীন জনগন্য পশু বলি তারে।
ভালোমন্দ উভয় অনেক লোক আছে জগতের সমাজে ,
এসব নিয়েই জগৎটা ঠিকিয়ে আছে ,
মহত্ত্ব সমাজে আছে বলে সাহায্য করে উদার বলি তারে ,
অবশ্যই প্রতিদান হিসেবে মাবুদ পুরস্কার দিবেন তাকে ,
হারতে যে শিখে সেই কৃতকার্য হয়ে থাকে।
নিষ্ঠুর জগন্য মানুষ যারা পশুর মতো আচরণ তাদের ,
মহান আল্লাহর ওপর ভরসা রাখে যারা তারাই সর্ব শ্রেষ্ঠ ,
বুদ্ধিহীন নির্বোধ যাঁরা আল্লাহর উপর তাদের বিশ্বাস কম ,
যার যত ভাব তার তত লাভ এজগতে সে বেশি হিসাব মিলায়।
মেহনত করে যারা সংসারে সুখী হয় তারা ,
প্রকৃত মানুষ বলি খ্যাতি খেতাব দেই তাদেরে ,
বিশৃংঙ্খলায় হুলস্থুল করে যারা ভালো করতে পারে না তারা।
কাজের স্বার্থকতা কম ত্বরান্বিত করা সম্ভব হয়না কখনো ,
ধৈর্য্য ধরে কাজ করিলে সফলতা আসে কাজে ,
যারা যাদের উপকার করবে তাদের উপকার আল্লাহ করবেন।
যে সকল লোক করবে হালাল কাজ , মশগুল থাকবে এবাদতে,
তার কাজগুলো বদন্যতা হবে বরকতে পুর্ন হবে ,
উপকারীর অপকারীরা সাজা পাবে আখেরাতে।
54- জীবনতো একটাই
বহুদিন ধরে এসেছি ভবে হয়েছে যাবার বেলা ,
নড়বড়ে হয়েছে দেহখানা হাঁটতে বসতে করে অবহেলা।
করতেছি বসবাস নিরাপদে সন্তান সন্তানাদি নিয়ে ভবে ,
বড় হইতে বর্তমান অতীতকাল ভবিষ্যতের চিন্তা করি ,
এজগতে থাকবেনা কেহ স্থায়ীভাবে।
কেনইবা করছি এতো সাধের ঘরবাড়ি ,
চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসবে কবে ? প্রশিক্ষণ হয়েছে শুরু ভয়ে,
হাসি আর খুশি নিয়ে অভিনয় করে কত যাত্রা হয়েছে ,
আশা ভরসা গেছে সীমা ছাড়ি,
উত্তম জায়গা কবে হবে তাকিয়ে আছি মনে ,
সুযোগ সুবিধা ধনদৌলত সবকিছু নিবে ভাগাভাগি করে ,
যাইবার সময় একাকী যাবো কেহ থাকবেনা সাথে বা কাছে।
যাবার আগের সময়টা নেই জানা ছামান তৈরী বাকি ,
দেখো কতটুকু দুরে কাজ করছো বসে যেতে কি পারিবে ,
বুঝতে বুঝতেই সময় চলে গেল জীবনটাই ফাঁকি।
মনিবের কাছে করুনার পাত্র হয়ে ,
উচ্চ শিক্ষিয় শিক্ষিত হয়ে জগৎটাকে দেখছো ?
যেতে পারবে কিনা ঠিক ঠিকানায় ঘুরে দেখতে পারছো কি দাঁড়িয়ে ?
দেখা , দেয়ালের চারদিক ঘেরা সৃষ্টি কর্তার অনুসন্ধান কত বড়ই কড়া ,
মনপ্রাণ সবই স্বপ্নে দেয়া সবই প্রদত্ত করতে হবে আল্লাহর তরে গড়া।
55 – মনের সান্ত্বনাতে সুখ থাকে পাশে
প্রত্যেক মানুষ চায় জ্ঞানী লোকের সাথে ,
সম্পর্ক করে চলে সুখে থাকতে চায় ,
বোকা মানুষ সাঁতার না শিখে সময়মতো জলে ডুবে মরে ,
নিচে আঁকড়ে ধরতে পারে না কোথাও পায়না সাহায্য পথে।
দুঃখ কষ্ট আর আত্মার বেদনা নিগড় থেকে ,
সুখ অর্জন করতে পারে না কষ্ট করে বহুত ,
নিজের সম্বল না থাকলে দেয়না আশ্রয় কেহ ,
ঘৃণা করে চলে যায় বহুদূর একে একে।
সহ্য করে চলাফেরা করি তবুও পারিনি চলতে ,
বেদনার যন্ত্রনার জ্বালা বেড়ে চলে ,
অরণ্য আঁধার জঙ্গলের ভেতরে তাবু দিয়ে বাসকরি ,
অলৌকিক ভাবে বেঁচে আছি সুখ আসবে চাই থাকতে শান্তিতে।
দেখি সেখানে আসে কি একটু সুখ ,
বহুদূর দেখি সুখ আসে কি একটু সুখ ,
বহু দূরে দেখি সুখ আসে আমাকে ডাকছে ,
উপদেশ দিচ্ছে শুধু কঠোর পরিশ্রম করতে সম্মুখ।
বলে আঁধার কেটে গেলে আসিবে কাছে চলেই,
রাত পোহালে যায় আর দূরে ডাকে ,
আয় আয় বলে দেয়না ধরা বলে ছবর করে চলতে,
আমার চেয়ে দুঃখী মানুষ পাই , সুখী দেখি আমি নিজেই।
শয়নে স্বপনে চক্ষু মুঝিয়া তপস্যা করি ,নিজেই করি আলাপ ,
অতি বেদনায় চিৎকার দিয়ে ডাকি কাছে আসে না ,
হীন স্বাস্থ্য দেখে অহংকার করে যায় চলে ,
যতই অগ্রসর হই সামনে দেখি বনজঙ্গলে মৃত মানুষের কবরের স্তুপ।
56 -বিশ্বাসে রত্ন মিলে
সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ জীব হয়ে জন্ম নিলাম এই পৃথিবীতে,
পাষান হৃদয়ে আমাদের হলো কেন ?
মন গলেনা মানুষের দুঃখ দেখিলে ,
ধনী গরিব নিয়ে চলে বিশ্বটা বুঝার কি আছে তাতে।
দুনিয়ার খেলা বুঝা যায়না কঠিন এই সংসারে ,
সকল মানুষ হয়না সমান সত্যিকারের ,
মানুষ যারা তারাই প্রকৃত মানুষদের চিনতে পারে ,
মহৎ সাধক মানুষ যারা তাদেরকেই মানুষ পছন্দ করে।
মানুষ মানুষকে করেনা অপমান ,সঠিক মানুষ তৈরী হতে পারলে ,
বুঝতে হবে সৃষ্টিকর্তা যেমন যাহাকে সৃষ্টি করেছেন এই ভবের মাজারে ,
সৃষ্টিকর্তার ঐতিহ্য যাহা তাহা অবশ্যই বিশ্বাস করে জন্ম নিয়েছি পৃথিবীতে।
আল্লাহর উপর বিশ্বাসের বাহিরে।
অতিক্রম ক্ষমতার অধিকারী কেউ হতে পারে কি কখনো ?
মৃত্যুর পর আবার আত্মার পুনর্জন্ম যখন হবে ,
হাজরে জান্নাতের পূর্বে সকল হিসেব নিকেশ হবে।
সৃষ্টিকর্তার সৃষ্টি রূপে গুনে হয়না সমান ,
জানতে হবে , বুঝতে হবে ,আমরা সবাই অসহায় ,
ভাসমান এই দুনিয়ায় ইহকাল পরকাল দুইজনম আছে প্রমান।
নিজের যোগ্যতায় জ্ঞানী গুণী হয়ে সমাজটা তৈরী করে ,
ইহকাল থেকে পরকাল যাওয়ার আগে,
আখেরি ছামান তৈরির যোগ্যতায় নিজের ফল ভোগ করতে হবে পরে।
57 -শেষ সময়ের আর্তনাদ
হে স্নেহের অতি আদরের পৃথিবীর ,
তোমার বুকে লালিত পালিত তুমি স্বর্ণময় ভূমি,
সবকিছু করেছেন সৃষ্টিকর্তা সৃজন তুমি অন্তর্যামী।
জানিয়ে শুনিয়া ভুলিব কেমন করে ,
হারিয়েছি অনুভবশক্তি স্মৃতি শক্তি ,
ক্ষমা করিও মাবুদ , তওবা করিলাম।
তোমার চরণে আমাদের মিনতি ,
হে পৃথিবী তোমার গুনের আর মনের,
শেষ নেই অতি আদরে রেখেছো ,
তোমার বুকে ফয় ফসলাদি আর।
গাছপালা জলবায়ু আকাশ পাতালে ,
ধনরত্নে ভরা তোমাকে সৃষ্টি করেছেন ,
ইয়া ওয়ালী হে নেককাজ সৃষ্টিকারী মাবুদ।
তওবা কবুলকারী ইয়া তাওয়াবু হে দয়াশীল ,
হে ন্যায় বিচারক মাবুদ ,
হে পৃথিবী তোমার গুনের আর মানের শেষ নেই।
তোমার হেকমতে আর মা বাবার সেকমতে করেছো,
সৃজন পৃথিবীর বুকে ধারণ করার দিয়েছো শক্তি ,
কত যতন করে ধারণা করেছো আমাদের পৃথিবীর বুকে ,
এতো শোভা বর্ণনা করার নেই আমাদের শক্তি।
পৃথিবীতে দিয়েছি মাতাপিতাকে কষ্ট কত ব্যথা,
আঘাত দিয়েছি জানিয়ে শুনিয়া পৃথিবীর মাটিকে ,
ক্ষুধিত করেছি বলবতী স্পৃহা জাগ্রত করে ,
মনুষত্বকে করেছি মাটি।
মৃত্যুর পরে তোমার বুকে থাকবো ,
প্রতিশোধ নিয়ো না কবু।