দেশের বিচার ব্যবস্থা নিয়ে ধর্ষণ ও হত্যার শিকার শিশু রামিসার বাবা আবদুল হান্নান মোল্লা অমূলক কিছু বলেননি বলে মন্তব্য করেছেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান।
বৃহস্পতিবার (২১ মে) সকালে সচিবালয়ে আইন মন্ত্রণালয়ে গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে এই মন্তব্য করেন তিনি।
আইনমন্ত্রী বলেন, মাগুরার আছিয়া, ঢাকার রামিসা এসব ঘটনা আমাদের মানুষত্বকে প্রশ্নবিদ্ধ করে। এমন অপরাধ কোনোভাবেই বিচারহীন থাকতে পারে না।
আছিয়ার মামলায় এখনও ফাঁসি কার্যকর হয়নি উল্লেখ করে বলেন, ‘ ‘রামিসার বাবা যে হতাশা ব্যাক্ত করেছেন তার একমাত্র উত্তর হবে যদি আমরা এ বিচার প্রক্রিয়াটাকে প্রত্যাশিত ভাবে অতি দ্রুততম সময়ের মধ্যে করতে পারি। আমরা যদি না করতে পারি তখন ওনার কথা সত্য প্রমাণিত হবে। রামিসার বাবা যেটা বলেছেন, উনার জায়গা থেকে উনি অনুভব করেছেন, সেটা আমি বলবো না যে উনি অমূলক কিছু বলেছেন। আছিয়ার মামলায় সাত দিনের মধ্যে চার্জশিট দিয়েছিলাম, এক মাসে ট্রায়াল শেষ হয়েছিল।’
বিচার ব্যবস্থা নিয়ে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশে বিচার ব্যাবস্থায় যে মামলার জট সে জট নিরসনের জন্য আমরা পদক্ষেপ নেবো। রামিসার বিচারটায় আরেকটা দৃষ্টান্ত স্থাপন করবো। কোন ধর্ষণ মামলা প্রত্যাহারের বিবেচনার জায়গা তালিকাই আসবে না।’
মামলার গুরুত্ব অনুধাবন করে পেপার বুক করা উচিৎ বলে মন্তব্য করেছেন আসাদুজ্জামান। তিনি বলেন, ‘আছিয়া এবং রামিসার হত্যার বিচার আশাকরি দ্রুত হবে। বিচার প্রক্রিয়া দ্রুত করার জন্য যা কিছু করার, করবো।’
তিনি আরও বলেন, মাগুরার আছিয়া, ঢাকার রামিসা- সবকিছুই আমাদের মানুষত্বকে প্রশ্নবিদ্ধ করে। এমন অপরাধ কোনোভাবেই আনচ্যালেঞ্জড হতে দেবো না।’
পুলিশ কমিশনারকে এক সপ্তাহের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দিতে বলেছেন জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘বিচার প্রক্রিয়াকে অতিদ্রুত করতে পারলে রামিসার বাবার প্রশ্নের জবাব দিতে পারব। কার্যকর করা সুপ্রিম কোর্টের হাতে। বিচার প্রক্রিয়ায় হস্তক্ষেপ করতে পারি না।’
এসব ঘটনা ঘুনেধরা সমাজের কথা মনে করিয়ে দেয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘রাজনৈতিক বিবেচনায় কোনো ধর্ষণ মামলা প্রত্যাহার হবে না, আজকে সিদ্ধান্ত হয়েছে নারী ও শিশু নির্যাতন ট্রাইবুনালে এর বিচার হবে।
প্রসিকউশন টিম এই মামলা ফাস্ট ট্রাকে নেবে, আশাকরি আদালত সহযোগিতা করবে।’
গত মঙ্গলবার সকালে পল্লবীর একটি ফ্ল্যাটের খাটের নিচ থেকে রামিসার (৮) মস্তকবিহীন দেহ এবং পরে বাথরুম থেকে খণ্ডিত মাথা উদ্ধার করে পুলিশ।
এ ঘটনায় পল্লবী থানায় একটি হত্যা মামলা হয়। প্রথমে প্রধান আসামি সোহেল রানার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে আটক করা হয়। পরে সোহেলকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
পরে শিশু রামিসাকে ধর্ষণের পর গলাকেটে হত্যার ঘটনায় আদালতে দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছে সোহেল রানা।
শিশুটি স্থানীয় একটি স্কুলে দ্বিতীয় শ্রেণিতে পড়ত। তার বাবা একটি রিক্রুটিং এজেন্সিতে চাকরি করেন। পরিবারটি প্রায় ১৭ বছর ধরে পল্লবীতে বসবাস করে আসছেন। মেয়েকে হারিয়ে আহাজারি করতে থাকা সেই বাবার কিছু বক্তব্য সংবাদমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।
তিনি বলেন, ‘আমি কিছুই চাই না। কারণ বিচার আপনারা করতে পারবেন না। আপনাদের এই ধরনের কোনো রেকর্ড নাই। আপনারা পারবেন না।’
তাকে আরও বলতে শোনা গেছে, ‘আমার মেয়েও ফিরে আসবে না। আপনারা বিচার করতে পারবেন? পারবেন না। আপনারা কোনো এক্সাম্পল দাঁড় করাতে পারবেন? পারবেন না। আমার থেকে স্ট্যাম্পে লিখিত নেবেন? পারবেন না, আপনারা পারবেন না। এটা বড়জোর ১৫ দিন। তারপর আরেকটা বড় কোনো ঘটনা আসবে। এটা ধামাচাপা পড়ে যাবে। শেষ এটা। আমি দেখতেছি। আমার বয়স ৫৫। কোনো এক্সাম্পল আছে? দিতে পারবেন?’