স্থায়ীভাবে যুদ্ধ বন্ধের চুক্তি নিয়ে আলোচনায় সহায়তা করতে ইরানের রাজধানী তেহরানে পৌঁছেছেন পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল অসিম মুনির।
শনিবার (২৩ মে) তিনি ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের ঘালিবাফের সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠকে ঘালিবাফ পাক সেনাপ্রধানকে স্পষ্ট ও কঠোর বার্তা দিয়েছেন। তিনি বলেন, ইরানি জনগণের অধিকার ও স্বার্থের ব্যাপারে আমরা কোনো ধরনের ছাড় দেব না।
স্পিকার আরও জানান, গত ৮ এপ্রিল যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি চুক্তির পর ইরান তার সশস্ত্র বাহিনীকে পুনর্গঠিত করেছে। যদি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আবারও ‘বোকার মতো’ হামলার সিদ্ধান্ত নেন, তাহলে এবার ইরানের পাল্টা জবাব হবে আগের চেয়ে অনেক বেশি ‘বিধ্বংসী ও তীব্র’।
এদিকে সৌদি-ভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-আরাবিয়া শুক্রবার দাবি করেছিল যে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি খসড়া চুক্তি খুব শিগগিরই ঘোষণা করা হবে। তবে শেষ পর্যন্ত কোনো ঘোষণা আসেনি।
পাকিস্তানের সেনাপ্রধানের এই সফরকে অনেকে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে সমঝোতার সম্ভাবনার ইঙ্গিত হিসেবে দেখছিলেন। কিন্তু এখন পর্যন্ত কোনো চূড়ান্ত চুক্তি হয়নি।
আল-আরাবিয়া যে খসড়া চুক্তির কথা জানিয়েছিল, তাতে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত রয়েছে:
– সব ফ্রন্টে (স্থল, আকাশ ও সমুদ্র) তাৎক্ষণিক, স্থায়ী ও নিঃশর্ত যুদ্ধবিরতি।
– সামরিক, বেসামরিক ও অর্থনৈতিক অবকাঠামোতে হামলা না করার পারস্পরিক অঙ্গীকার।
– সামরিক অভিযান ও প্রচারযুদ্ধ (মিডিয়া ওয়ার) সম্পূর্ণ বন্ধ।
– একে অপরের সার্বভৌমত্ব ও আঞ্চলিক অখণ্ডতা সম্মান করা এবং অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করা।
– আরব সাগর, হরমুজ প্রণালী ও ওমান উপসাগরে নৌচলাচলের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা।
– চুক্তি বাস্তবায়ন পর্যবেক্ষণের জন্য যৌথ কমিটি গঠন।
– সাত দিনের মধ্যে বাকি বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা শুরু।
– চুক্তি মেনে চলার বিনিময়ে ইরানের ওপর থেকে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা ধাপে ধাপে প্রত্যাহার।
– আন্তর্জাতিক আইন ও জাতিসংঘ সনদ মেনে চলার প্রতিশ্রুতি।
চুক্তি আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গেই কার্যকর হবে বলেও খসড়ায় উল্লেখ ছিল।
সূত্র: রয়টার্স