• ৩০শে মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ , ১৬ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ , ১৩ই জিলহজ, ১৪৪৭ হিজরি

আটকের ভয়ে পশ্চিমবঙ্গ সীমান্তে শত শত মানুষের ঢল, বাংলাদেশে ঢোকার আপ্রাণ চেষ্টা

Usbnews.
প্রকাশিত মে ৩০, ২০২৬
আটকের ভয়ে পশ্চিমবঙ্গ সীমান্তে শত শত মানুষের ঢল, বাংলাদেশে ঢোকার আপ্রাণ চেষ্টা
নিউজটি শেয়ার করুনঃ

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের নবগঠিত রাজ্য সরকার কথিত নথিপত্রবিহীন অভিবাসীদের বিরুদ্ধে যেকোনো মুহূর্তে একটি বড় ধরনের সাঁড়াশি অভিযান শুরু করতে পারে—এমন চরম আশঙ্কায় শত শত মানুষ এখন বাংলাদেশ সীমান্তে এসে জড়ো হয়েছেন। রাজ্যের হাকিমপুর সীমান্তচৌকিতে বিগত দুই দিন ধরে নারী, শিশু ও পরিবারসহ বহু মানুষ এক অনিশ্চিত অপেক্ষায় দিন কাটাচ্ছেন। তাদের মনে তীব্র ভয় জেঁকে বসেছে যে, ভারতে অবস্থান করলে তাদের যেকোনো সময় গ্রেপ্তার করে ডিটেনশন সেন্টারে (আটক কেন্দ্র) পাঠিয়ে দেওয়া হবে। ফলে নিজেদের সুরক্ষার্থে অনেকেই এখন যেকোনো উপায়ে কিংবা যেকোনো মূল্যে সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করতে চাইছেন।

উল্লেখ্য যে ,  কথিত নতি পত্র আজুহাতে ভারতের  সাবেক প্রেসিডেন্ট এর বংশধরদের ও ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেয়া হয়েছিল।

চলতি মে মাসের শুরুর দিকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির কট্টর হিন্দুত্ববাদী দল ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) প্রথমবারের মতো পশ্চিমবঙ্গের রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় আরোহন করে। ক্ষমতা গ্রহণের পরপরই তারা রাজ্যে বসবাসরত নথিপত্রহীন অভিবাসীদের প্রথমে ‘শনাক্তকরণ’ এবং পরবর্তীতে তালিকা থেকে বাদ দিয়ে বহিষ্কার বা নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর আনুষ্ঠানিক প্রতিশ্রুতি দেয়। নতুন সরকারের এমন কঠোর বার্তার পরপরই গোটা সীমান্ত এলাকায় নজিরবিহীন কড়াকড়ি ও নজরদারি শুরু হয়। ফলশ্রুতিতে নথিপত্রবিহীন সাধারণ অভিবাসীদের মধ্যে রাতারাতি তীব্র উদ্বেগ ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা বর্তমান পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে জানিয়েছে, মূলত আইনি সুরক্ষার চরম অভাব এবং জোরপূর্বক মাতৃভূমি থেকে বিতাড়িত হওয়ার গভীর ভয় থেকেই সীমান্তে এই মানবিক সংকটের সৃষ্টি হয়েছে।

বর্তমানে এই বিশাল জনগোষ্ঠী এক অদ্ভুত ও নির্মম দোটানার মধ্যে পড়েছেন। একদিকে ভারত ছাড়ার জন্য স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাদের ওপর প্রতিনিয়ত মনস্তাত্ত্বিক ও প্রশাসনিক চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে; অন্যদিকে নাগরিকত্বের কোনো আনুষ্ঠানিক বা আইনি প্রমাণ ছাড়া বাংলাদেশ সরকার তাদের গ্রহণ করবে না—এমন কঠিন নিয়মের বেড়াজালে আটকা পড়েছেন তারা। এই চরম অনিশ্চিত পরিস্থিতিতে উপায়ান্তর না দেখে অনেক পরিবারই এখন রাতের অন্ধকারের সুযোগ নিয়ে সীমান্তের নদী পথ ব্যবহার করে অবৈধভাবে বাংলাদেশে ঢোকার চেষ্টা চালাচ্ছেন। তবে এভাবে নদী সাঁতরে বা নৌকাযোগে কতজন মানুষ ইতিমধ্যে বাংলাদেশে প্রবেশ করতে পেরেছেন, তার সঠিক সংখ্যা এখনো প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।

পরিস্থিতি আরও জটিল রূপ নেয় যখন গত সপ্তাহে পশ্চিমবঙ্গ সরকার নথিপত্রবিহীন অভিবাসীদের (যাঁদের মধ্যে বাংলাদেশি ও রোহিঙ্গা উভয় জনগোষ্ঠীই রয়েছে বলে ভারতের দাবি) সাময়িকভাবে আটকে রাখার জন্য একটি বড় আটক কেন্দ্র বা ডিটেনশন সেন্টার নির্মাণের আনুষ্ঠানিক নির্দেশ জারি করে। এই প্রশাসনিক পদক্ষেপের পর রাজ্যের প্রায় সাড়ে তিন কোটি মুসলিম জনগোষ্ঠীর মধ্যে সামগ্রিক উদ্বেগ আরও বহুগুণ বেড়ে গেছে। এমনই একজন ভুক্তভোগী ৪৫ বছর বয়সী হাসিনা বিবি, যিনি প্রায় ছয় বছর আগে কাজের সন্ধানে সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে প্রবেশ করেছিলেন এবং তখন থেকে কলকাতার একটি নির্মাণাধীন ভবনে শ্রমিক হিসেবে কাজ করছিলেন। নিজের বর্তমান দুর্দশার কথা জানিয়ে হাসিনা বিবি বলেন, ‘আমাদের দ্রুত ভারত ছেড়ে চলে যেতে বলা হয়েছে, অন্যথায় সরকার আমাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেবে। কেবল জীবিকার তাগিদে এই শহরে এসেছিলাম, এখন বাধ্য হয়ে বাংলাদেশে ফিরে যেতে চাই। কিন্তু জানি না সীমান্তে বা ওপারে আমাদের ভাগ্যে আসলে কী অপেক্ষা করছে।