যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চূড়ান্ত চুক্তির পর তাতে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের অনুমোদন চাইবে ইরান। সোমবার দেশটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, পারমাণবিক কর্মসূচিসহ ওয়াশিংটনের সঙ্গে চূড়ান্ত চুক্তি হওয়ার পর তা অনুমোদনের জন্য নিরাপত্তা পরিষদে উত্থাপন করা হবে।
এক সংবাদ সম্মেলনে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বলেন, ৬০ দিনের সময়সীমা শেষে চূড়ান্ত চুক্তিটি জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের একটি প্রস্তাবের মাধ্যমে অনুমোদিত হওয়ার কথা আছে।
বাঘাই বলেন, তেহরান এবার অতীতের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে এগোবে। আমেরিকানদের ওপর কোনো বিশ্বাস নেই। তাদের সঙ্গে অতীতের অভিজ্ঞতা ১৯৫৩ সাল পর্যন্ত বিস্তৃত। কয়েক দশক আগে পশ্চিমা শক্তিগুলোর সমর্থনে অভ্যুত্থান ঘটানো হয়েছিল। তখন থেকেই অবিশ্বাসের শুরু।
১৯৫৩ সালে ইরানের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ মোসাদ্দেগকে ক্ষমতাচ্যুত করার দিকে ইঙ্গিত করে বাঘাই বলেন, তখন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের যৌথ উদ্যোগে গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত সরকারকে উৎখাত করা হয়েছিল। সেই মুহূর্ত থেকে আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে বিশ্বাসের সম্পর্ক ভেঙে যায়। এখন আস্থা ফিরে পেতে হলে যুক্তরাষ্ট্রকে অনেক দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে হবে।
আগামী শুক্রবার সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর হওয়ার কথা। এ নিয়ে বাঘাই বলেন, স্বাক্ষরের আগে চলতি সপ্তাহে ইরানি প্রতিনিধিরা আঞ্চলিক কয়েকটি দেশে সফরের পরিকল্পনা করছেন।
সমঝোতায় লেবানন প্রসঙ্গ থাকা নিয়ে বাঘাই বলেন, বৈরুত সমঝোতা স্মারকের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। সেখানকার পরিস্থিতির দিকে তেহরান নিবিড়ভাবে নজর রাখবে। লেবাননের সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতার প্রতি সম্মান দেখানো; যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে হওয়া অন্তর্বর্তী চুক্তির অংশ।