হাসপাতালের লাইসেন্স টিকিয়ে রাখতে বিপুল অঙ্কের টাকা লেনদেন বা ঘুষের চেষ্টার যে গুঞ্জন উঠেছে, সে বিষয়ে আদ্-দ্বীনের মালিক বলেন, আমরা মন্ত্রীর পেছনে টাকা নিয়ে ঘুরিনি। ঘুষ দেওয়ার বিষয়ে কোনো অভিযোগ থাকলে মন্ত্রী মহোদয় নিজে কথা বললেই ভালো হয়।
লাইসেন্স বাতিল ও হাসপাতাল বন্ধের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে মঙ্গলবার মন্ত্রণালয়ে আপিল করা হবে জানিয়ে তিনি বলেন, হাইকোর্টে নতুন কোনো রিট করার বিষয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এখনও কিছু জানে না। তবে মঙ্গলবার আমরা আপিল করবো।
হাসপাতাল ভবনটির কাঠামোগত উপযোগিতা নিয়ে ডা. মহিউদ্দিন বলেন, ভবনটি হাসপাতালের জন্য অনুপযোগী বলে সরকারের পক্ষ থেকে যে মতামত দেওয়া হয়েছে, সেটি যদি আইনি ও কারিগরিভাবে প্রমাণিত হয়, তবে আমরা এই ভবন ভেঙে ফেলবো।
লাইসেন্স বাতিলের পর হাসপাতালের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে তিনি জানান, উদ্ভূত পরিস্থিতির মধ্যেই তারা বসে নেই। হাসপাতালের সেবার মান উন্নত করতে বর্তমানে কর্মরত ডাক্তার ও নার্সদের বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে।
এর আগে বৃহস্পতিবার (১১ জুন) বিকেলে সরকারের পক্ষ থেকে হাসপাতালটির লাইসেন্স বাতিলের আদেশ জারি করা হয়। হাসপাতালটিতে ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের পর এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের আদেশে বলা হয়েছে, আদ্-দ্বীন হাসপাতালে ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটির রিপোর্টের ওপর ভিত্তি করে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে কারণ দর্শানোর (শো-কজ) নোটিশ দেওয়া হয়েছিলো। গত ৯ জুন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ সেই নোটিশের যে জবাব দাখিল করে, তা সরকারের কাছে সন্তোষজনক প্রতীয়মান হয়নি। এরই পরিপ্রেক্ষিতে জনস্বার্থে হাসপাতালটির লাইসেন্স বাতিল করা হলো।
এর আগে দুপুরের দিকে সচিবালয়ে এক সাংবাদিক সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ সহকারী ড. এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দার আদ্-দ্বীন হাসপাতালে শিশু মৃত্যুর ঘটনাকে ‘অমার্জনীয় অপরাধ’ বলে আখ্যা দিয়েছিলেন। তিনি জানিয়েছিলেন, তদন্তে দায় ও গাফিলতি প্রমাণিত হলে এই প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং প্রয়োজনে নিবন্ধন বাতিল করা হবে। তার ওই বক্তব্যের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সরকারের পক্ষ থেকে হাসপাতালটির লাইসেন্স বাতিলের চূড়ান্ত আদেশ আসে।
কোরবানি ঈদের ঠিক আগে, ২৭ মে আদ্-দ্বীন হাসপাতালে চিকিৎসাাধীন অবস্থায় ছয়টি শিশুর মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনায় হাসপাতালের বিরুদ্ধে অবহেলা ও গাফিলতির অভিযোগ উঠলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে। তদন্ত কমিটির রিপোর্টের জবাবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের ব্যাখ্যায় অসন্তোষ প্রকাশ করেছিলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।