প্রতিষ্ঠার দুই দশক পেরিয়ে গেলেও জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাককানইবি) এখনো কোনো বেসিক সায়েন্সভিত্তিক বিভাগ চালু হয়নি।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের একাধিক উদ্যোগ ও প্রস্তাব সত্ত্বেও বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) অনুমোদন না মেলায় পদার্থবিজ্ঞান, রসায়ন, গণিত, বায়োটেকনোলজি, মাইক্রোবায়োলজি ও জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের মতো মৌলিক বিজ্ঞান বিভাগের কার্যক্রম শুরু করা সম্ভব হয়নি। ফলে আধুনিক বিজ্ঞান শিক্ষা, গবেষণা ও আন্তর্জাতিক র্যাংকিংয়ে বিশ্ববিদ্যালয়টি পিছিয়ে পড়ছে বলে মনে করছেন শিক্ষক, প্রশাসন ও শিক্ষার্থীরা।
বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়টিতে কলা, সমাজবিজ্ঞান, চারুকলা, আইন, ব্যবসায় প্রশাসন এবং বিজ্ঞান ও প্রকৌশল অনুষদের অধীনে মোট ২৫টি বিভাগ রয়েছে। তবে বেসিক ও লাইফ সায়েন্সের গুরুত্বপূর্ণ কোনো বিভাগ এখনো চালু হয়নি। অথচ সমসাময়িক অনেক পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে এসব বিভাগ চালুর ফলে গবেষণার পরিধি, আন্তর্জাতিক প্রকাশনা এবং বৈশ্বিক র্যাংকিংয়ে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি দেখা গেছে।
সাম্প্রতিক আন্তর্জাতিক র্যাঙ্কিংগুলোতেও নজরুল বিশ্ববিদ্যালয় কাঙ্ক্ষিত অবস্থানে পৌঁছাতে পারেনি। ওয়েবোমেট্রিক্সের ২০২৬ সালের জানুয়ারি সংস্করণে বিশ্ববিদ্যালয়টির বৈশ্বিক অবস্থান ৭ হাজার ৪৪৫তম এবং বাংলাদেশে ৬৭তম।
অন্যদিকে, ২০২৬ সালের এডুর্যাঙ্ক র্যাংকিংয়ে বিশ্ববিদ্যালয়টি দেশের মধ্যে ৪১তম এবং বিশ্বে ৬ হাজার ২৩তম অবস্থানে রয়েছে। একই প্রতিবেদনে বিশ্ববিদ্যালয়টির গবেষণার বড় অংশ সমাজবিজ্ঞান, জনস্বাস্থ্য ও মানবিক শাখাকেন্দ্রিক বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
শিক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, বিশ্বব্যাপী বিশ্ববিদ্যালয় র্যাংকিং নির্ধারণে গবেষণা প্রকাশনা, উদ্ধৃতি (সাইটেশন), গবেষণার প্রভাব এবং বৈজ্ঞানিক অবদান গুরুত্বপূর্ণ সূচক হিসেবে দেখা হয়। বেসিক সায়েন্স ও লাইফ সায়েন্সের বিভাগগুলো সাধারণত গবেষণা প্রকাশনা, গবেষণা তহবিল এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতামূলক গবেষণায় বেশি অবদান রাখে। ফলে এসব বিভাগ না থাকায় বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণার পরিধি ও র্যাংকিং উভয় ক্ষেত্রেই পিছিয়ে পড়ছে।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়টির বিজ্ঞান ও প্রকৌশল অনুষদের ডিন অধ্যাপক এ এইচ এম কামাল বলেন, ‘বিজ্ঞানভিত্তিক বিষয়গুলোর গবেষণা বিশ্ববিদ্যালয়ের সামগ্রিক অগ্রগতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। বিশ্ববিদ্যালয়ের শুরু থেকেই আমরা পদার্থবিজ্ঞান, রসায়ন ও গণিত বিভাগ চালুর চেষ্টা করে আসছি। এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের কাছে একাধিকবার প্রস্তাব ও চিঠি পাঠানো হয়েছে। তবে এখনো কোনো ইতিবাচক অগ্রগতি পাওয়া যায়নি।’
বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. মো. মিজানুর রহমান বলেন, ‘বেসিক সায়েন্সের বিভাগগুলো অন্তর্ভুক্ত করার লক্ষ্যেই বিজ্ঞান ও প্রকৌশল অনুষদ গঠন করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্গানোগ্রামেও এসব বিভাগ রয়েছে। গত বছরের অ্যাকাডেমিক কাউন্সিলের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বিভাগগুলো চালুর অনুমোদন চেয়ে ইউজিসিতে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত কোনো ইতিবাচক সাড়া পাওয়া যায়নি।’
শিক্ষার্থীরা মনে করছেন, দ্রুত ইউজিসির অনুমোদন পাওয়া গেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা কার্যক্রম এবং আন্তর্জাতিক র্যাংকিংয়ে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি সম্ভব হবে। তাদের মতে, বর্তমান বিশ্বে গবেষণা, স্বাস্থ্যসেবা, বায়োটেকনোলজি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও প্রযুক্তিনির্ভর শিল্পখাতে বেসিক সায়েন্সের গুরুত্ব ক্রমাগত বাড়ছে। তাই শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষা, গবেষণা এবং কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ সৃষ্টির লক্ষ্যে দ্রুত এসব বিভাগ চালুর উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা প্রয়োজন।