• ৩রা জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ , ১৯শে আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ , ১৮ই মহর্‌রম, ১৪৪৮ হিজরি

এলডিসি থেকে উত্তরণ টেকসই করতে প্রস্তুতিকাল বাড়াতে চায় সরকার: বাণিজ্যমন্ত্রী

Usbnews.
প্রকাশিত জুলাই ২, ২০২৬
এলডিসি থেকে উত্তরণ টেকসই করতে প্রস্তুতিকাল বাড়াতে চায় সরকার: বাণিজ্যমন্ত্রী
নিউজটি শেয়ার করুনঃ

বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেছেন, টেকসই উত্তরণের লক্ষ্যেই বাংলাদেশ স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা (এলডিসি) হতে উত্তরণের প্রস্তুতিকাল বৃদ্ধি করতে চায়। তিনি বলেন, আমরা অতিরিক্ত সময় চাই কোনো বিলম্বের জন্য নয়; বরং প্রয়োজনীয় সংস্কার সম্পন্ন করে একটি কার্যকর অর্থনৈতিক রূপান্তর নিশ্চিত করার জন্য।

আজ বৃহস্পতিবার আগারগাঁওস্থ এনইসি সম্মেলন কক্ষে এলডিসি উত্তরণ প্রক্রিয়ার প্রস্তুতি নিয়ে অনুষ্ঠিত সেমিনারে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি) এ সেমিনারটির আয়োজন করে।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, দায়িত্ব গ্রহণের পর বর্তমান সরকার জাতিসংঘের কমিটি ফর ডেভেলপমেন্ট পলিসির (সিডিপি) কাছে এলডিসি থেকে উত্তরণের প্রস্তুতিকাল তিন বছর বৃদ্ধির আবেদন জানিয়েছে। কোভিড-১৯ মহামারি, বৈশ্বিক বাণিজ্য ও ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা, উচ্চ মূল্যস্ফীতি, সরবরাহ শৃঙ্খলের বিঘ্ন এবং অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জের কারণে প্রস্তুতিকালের উল্লেখযোগ্য অংশ ব্যাহত হয়েছে। ফলে সরকারের বর্তমান অগ্রাধিকার হলো সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা পুনঃপ্রতিষ্ঠা এবং প্রয়োজনীয় কাঠামোগত সংস্কার বাস্তবায়ন।

তিনি জানান, সরকার ইতিমধ্যে সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ পরিবেশ উন্নয়ন, ডিরেগুলেশন, প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বৃদ্ধি, প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার এবং মানবসম্পদ উন্নয়নসহ ২৫টি অগ্রাধিকার খাতভিত্তিক সংস্কার কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। ব্যবসা শুরু করার সময় এক বছর থেকে কমিয়ে ১৪ দিনে নামিয়ে আনার লক্ষ্যে সরকার কাজ করছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

উল্লেখ্য, বাংলাদেশ সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে জাতিসংঘের কমিটি ফর ডেভেলপমেন্ট পলিসি (ইউএনসিডিপি)-এর নিকট এলডিসি হতে উত্তরণের প্রস্তুতিকাল আরো তিন বছর বৃদ্ধির জন্য অনুরোধ জানিয়েছে। তারই ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে পরামর্শ ও বিদ্যমান পরিস্থিতি বিচার-বিশ্লেষণপূর্বক জাতিসংঘের কমিটি ফর ডেভলপমেন্ট পলিসি (ইউএনসিডিপি) বাংলাদেশের অনুরোধে ইতিবাচক সাড়া দিয়েছে এবং তাদের মূল্যায়ন প্রতিবেদন জাতিসংঘের অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিষদের (ইকোসক) নিকট দাখিল করেছে। এখন ইকোসক বর্ধিত প্রস্তুতিকালের বিষয়টি বিবেচনা করে এ সংক্রান্ত প্রস্তাব চূড়ান্তভাবে অনুমোদনের জন্য জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে পাঠাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

সেমিনারে পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী মো. জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি বলেন, বর্তমান সরকার একটি নাজুক অর্থনীতি পুনরুদ্ধার এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানসমূহকে শক্তিশালী করার লক্ষ্যে কাজ করছে। এ ক্ষেত্রে উন্নয়ন সহযোগীদের অব্যাহত সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনকালে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) সচিব মো. শাহরিয়ার কাদের ছিদ্দিকী বাংলাদেশের অর্থনীতির বিদ্যমান ঝুঁকি ও চ্যালেঞ্জ, এলডিসি উত্তরণের প্রস্তুতিকাল বৃদ্ধির যৌক্তিকতা এবং অতিরিক্ত সময়কে কার্যকরভাবে কাজে লাগানোর জন্য সরকারের সংস্কার রোডম্যাপ তুলে ধরেন।

বাংলাদেশে নিযুক্ত ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার বলেন, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক পরিবেশ দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে। এ প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের সংস্কার কার্যক্রমের ধারাবাহিকতা বজায় রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বাংলাদেশের সঙ্গে ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও সমপ্রসারণের আগ্রহের কথাও উল্লেখ করেন।

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন জাতিসংঘের আবাসিক সমন্বয়কারী (ভারপ্রাপ্ত) গীতাঞ্জলি সিং, পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম, অর্থ বিভাগের সচিব ড. মো. খায়রুজ্জামান মজুমদার, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আতাউর রহমান খান, বাংলাদেশ ঔষধ শিল্প সমিতির (বিএপিআই) সভাপতি আবদুল মুক্তাদির, সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মাননীয় ফেলো অধ্যাপক ড. মোস্তাফিজুর রহমান, সাউথ এশিয়ান নেটওয়ার্ক অন ইকোনমিক মডেলিং (সানেম)-এর নির্বাহী পরিচালক ড. সেলিম রায়হান, ফুটওয়্যার লেদারগুডস অ্যান্ড এক্সেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি সৈয়দ নাসিম মনজুর, বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতি (বিজিএমইএ) এবং ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই)-এর প্রতিনিধিবৃন্দ। এছাড়া সুইডেন, নরওয়ে, ইন্দোনেশিয়া, সুইজারল্যান্ড, থাইল্যান্ড, নেপাল ও ভিয়েতনামের রাষ্ট্রদূতরাও সেমিনারে বক্তব্য প্রদান করেন। সেমিনারে আরো উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের নির্বাহী চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন এবং জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আহসান হাবিব।