১৯৩৪, ১৯৯০, ২০১৮ সাল, এই তিনবার মিশর বিশ্বকাপ খেলেছে আর প্রতিবারই টুর্নামেন্টের গ্রুপ পর্ব থেকে ছিটকে যেতে হয়েছিল। এবার অতীত ইতিহাস বদলে ফেলফল সালাহর দল। প্রায় এক শতাব্দীর অপেক্ষার অবসান ঘটাল মিসর।
১৯৩৪ সালে প্রথমবার বিশ্বকাপে অংশ নেওয়ার পর দীর্ঘ ৯২ বছর ধরে প্রতিবারই গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নিতে হয়েছিল আফ্রিকার দেশটিকে। তবে ২০২৬ বিশ্বকাপে সেই ইতিহাস বদলে দিলেন মোহামদ সালাহরা। রাউন্ড অব ৩২-এ অস্ট্রেলিয়াকে টাইব্রেকারে ৪-২ গোলে হারিয়ে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের শেষ ষোলো নিশ্চিত করল মিসর।
নির্ধারিত ৯০ মিনিট ১–১ সমতায় শেষ করে মিশর–অস্ট্রেলিয়া। তাই ফল নির্ধারণে ম্যাচ গড়ায় অতিরিক্ত ৩০ মিনিটে। সেখানেও সমতায় শেষ করে দু’দল। এরপর টাইব্রেকারে অস্ট্রেলিয়াকে ৪-২ গোলে হারিয়ে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের শেষ ষোলোয় উঠেছে মিশর।
ম্যাচের ১৩ মিনিটের মাথায় অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে গোলের দেখা পায় মিশর। গোল করে দলকে এগিয়ে দিয়েছেন ইমান আশুর। ফ্রি-কিক থেকে দারুণ এক পরিকল্পিত আক্রমণ সাজায় মিশর। মোহাম্মদ সালাহ সরাসরি শট না নিয়ে ছোট পাস দেন ইমান আশুরকে। আশুরের প্রথম শটটি প্রতিপক্ষের ডিফেন্ডারের গায়ে লেগে ফিরে আসে।
বাংলাদেশ সময় শুক্রবার রাত ১১টায় শুরু হওয়া ম্যাচ শেষ হলো শনিবার রাত দুইটারও পরে। অর্থাৎ, তিন ঘণ্টার টান টান লড়াই চলল। নির্ধারিত ৯০ মিনিটে ম্যাচ ১-১ গোলে শেষ হয়। অতিরিক্ত ৩০ মিনিটেও কোনও দল ব্যবধান গড়তে না পারায় ম্যাচ গড়ায় টাইব্রেকারে। সেখানে গোলমাল করে বসে অস্ট্রেলিয়া। শুরুতেই হ্যারি সাউটারের শট ক্রসবারের ওপর দিয়ে চলে গেলে এগিয়ে যায় মিশর। তাদের হয়ে শেষ মুহূর্তে মাঠে নামা মাহমুদ সাবের প্রথম স্পট-কিক থেকেই গোল করেন। এরপর জ্যাকসন আরভিন অস্ট্রেলিয়ার হয়ে গোল করলেও মিশর নিজেদের পরের দুই শটও সফলভাবে জালে পাঠায়।
তৃতীয় শটে আওয়ার মাবিল গোল করলেও চতুর্থ শটে হ্যারিংটনের ব্যর্থতায় আবারও চাপে পড়ে অস্ট্রেলিয়া। এই বিশ্বকাপে হ্যারিংটনের বয়স ১৮। তিনি অস্ট্রেলিয়ার বিশ্বকাপের ইতিহাসে সর্বকনিষ্ঠ খেলোয়াড়। তবে এই গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের চাপ নিতে যে তার সময় লাগবে তা তার পেনাল্টি কিক নেওয়া দেখে পরিষ্কার হয়েছে। তিনি মিস করার পর সুযোগ কাজে লাগিয়ে আবদেল মাগিদ জয়সূচক গোল করেন। এরপরই ইতিহাস গড়ার আনন্দে মেতে ওঠেন মিসরের ফুটবলাররা।