মিসরের বিপক্ষে আর্জেন্টিনার তৃতীয় গোল নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন আর্সেনাল কিংবদন্তি ইয়ান রাইট। ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের ইতিহাসের অন্যতম সেরা এই সাবেক ফরোয়ার্ডের ভাষ্য, গোল হওয়ার আগে মোহাম্মদ সালাহকে ফাউল করা হয়েছিল। ফলে আর্জেন্টিনার জয়সূচক গোলটি বাতিল হওয়া উচিত ছিল বলে মন্তব্য করেন সাবেক এই ইংলিশ ফরোয়ার্ড।
বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর লড়াইয়ে আটলান্টায় মিসরের বিপক্ষে কঠিন পরীক্ষায় পড়েছিল আর্জেন্টিনা। দুই গোলে পিছিয়ে থাকা দলটি ম্যাচের শেষভাগে ঘুরে দাঁড়িয়ে ৭৯ মিনিটের পর ১৩ মিনিট ১৫ সেকেন্ডের মধ্যে তিনবার জালের দেখা পায়। তাতেই ম্যাচটি অবিশ্বাস্যভাবে জিতে নেয় বর্তমান বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা।
যোগ করা সময়ে (৯০+২) আর্জেন্টিনার শেষ গোলটি করেন এনজো ফার্নান্দেজ। এই গোলটির উৎসে সালাহ ফাউলের শিকার হন বলে দাবি করেন রাইট। ইংল্যান্ডে আইটিভি স্পোর্টে ম্যাচ বিশ্লেষকের দায়িত্ব থাকা রাইট বলেন, ‘ভিএআরের ক্ষেত্রে এখন এটাই ঘটছে, তারা পেছনে ফিরে দেখছে।’
রাইট বলেন, ‘যদি আর্জেন্টিনার ক্ষেত্রে বক্সের প্রান্তে ফাউলের জন্য আগের ঘটনা টেনে এনে গোল বাতিল করতে পারেন, তবে সালাহর ঘটনার জন্যও আপনাকে আগের ঘটনা টেনে দেখতে হবে। তাকে আঘাত করা হয়েছে। আমরা যা-ই বলি না কেন, আঘাতটি হয়তো সামান্য ছিল, কিন্তু তাকে আঘাত করা হয়েছে এবং এরপরই তারা মাঠের অপর প্রান্তে চলে যায় (গোল করে)।’
ম্যাচের ৬৮ মিনিটে মোস্তফা জিকোর করা গোল বাতিল নিয়েও শুরু হয়েছে বিতর্ক। গোলটির সূচনায় ডান প্রান্তে আর্জেন্টিনার ডিফেন্ডার লিসান্দ্রো মার্তিনেজের কাছ থেকে বল ছিনিয়ে নেন মিসরের মিডফিল্ডার মারওয়ান আত্তিয়া। এ সময় তিনি মার্তিনেজের জার্সি টেনে ধরার পাশাপাশি তার পায়ের ওপরও পা রাখেন। তবে সেই চ্যালেঞ্জ ফাউল হিসেবে গণ্য হওয়ার মতো ছিল কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। শেষ পর্যন্ত ভিএআরের হস্তক্ষেপে ফাউলের সিদ্ধান্ত দিয়ে গোলটি বাতিল করেন রেফারি।
লিভারপুলের সাবেক ডিফেন্ডার জেমি ক্যারাঘার ভিএআরের হস্তক্ষেপের ধারাবাহিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে বলেন, ‘আমি বলতে পারি, এটি যদি অন্য কোনো দলের বিরুদ্ধে হত, তবে এটিকে (মিসরের গোল) গোল হিসেবেই গণ্য করা হত। এটি যদি প্রিমিয়ার লিগ, লা লিগা বা সিরি আতে হত, তবে ভিএআর পর্যালোচনার পরও এটি গোলই থাকত। শেষ দিকে এসে এই টুর্নামেন্টে প্রচুর অধারাবাহিকতা দেখা যাচ্ছে।’
ইংল্যান্ড ও নিউক্যাসল কিংবদন্তি অ্যালান শিয়ারার এক্সে বিবিসির প্রতিবেদক ডেল জনসনের একটি পোস্ট রি–টুইট করেন। জনসন তার পোস্টে লেখেন, ‘মিসরের বাতিল হওয়া গোলটি এই টুর্নামেন্টে যেভাবে রেফারিং করা হয়েছে, তার সম্পূর্ণ পরিপন্থী। আপনি একদিকে সামান্য স্পর্শের জন্য ফাউল দেবেন না এবং তারপর সামান্য জার্সি টেনে ধরার মতো একটি ঘটনার জন্য ভিএআরের মাধ্যমে গোল বাতিল করবেন।’
শিয়ারার জনসনের এই পোস্ট রি–টুইট করে তার পোস্টে লেখেন, ‘হয় দুটিই ফাউল, না হয় একটিও ফাউল নয়। কিন্তু তারা আমাদের বলেছিল যে তারা নতুন করে রেফারিং (মাঠের রেফারির সিদ্ধান্ত পুনর্মূল্যায়ন) করবে না।’