মাত্র ১৬ বছর ৯ মাস বয়সে “মার্চ টু ঢাকা” কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে গুলিবিদ্ধ হয়ে শহীদ হন শাহারিয়ার খান আনাস। কাউকে কিছু না বলে বের হওয়ার আগে মায়ের জন্য একটি চিঠি রেখে গিয়েছিল আনাস; যেখানে লিখেছিল, অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়ানো থেকে নিজেকে আর আটকাতে পারেনি। জুলাইয়ের রাজপথে বড় ভাইদের লড়াইয়ে সেদিন এভাবেই স্কুল কলেজের শিক্ষার্থীরা যুক্ত হয়েছিল। ষোল বছরের পুঞ্জিভূত ক্ষোভ কিশোর কিশোরীদেকেও জুলাই জনযুদ্ধে যুক্ত করেছিল।
সেদিন হাসপাতাল থেকে কোনো অ্যাম্বুলেন্স না পেয়ে মা–বাবা ছেলে আনাসের নিথর দেহ অটোরিকশায় কোলে করে বাসায় ফিরেছিলেন। সেই দিনের রক্তমাখা জামা, বাসার চাবি, আর ছেলের শেষ চিঠি; সবই আজ তাঁদের কাছে অমূল্য স্মৃতি!
আনাসের স্বপ্ন ছিল প্রকৌশলী হওয়ার। কিন্তু সে রেখে গেল সাহস, আত্মত্যাগ আর ন্যায়বিচারের আকাঙ্ক্ষার এক অনন্ত ইশতেহার। আজও তাঁর মা শুধু একটি কথাই বলেন; কোনো মায়ের যেন আর এভাবে সন্তানের লাশ বুকে তুলে নিতে না হয়।
আনাসের গল্প কেবল একটি পরিবারের শোকগাথা নয়; এটি একটি অসমাপ্ত স্বপ্ন, এক প্রজন্মের আত্মত্যাগ এবং ইতিহাসের বুকে লেখা এক গভীর বেদনার নাম জুলাই বিপ্লব।