• ১৩ই জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ , ২৯শে আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ , ২৮শে মহর্‌রম, ১৪৪৮ হিজরি

শাহজালাল মাজারের দানবাক্সে ১৯ দিনেই মিলল ৪৭ লাখ টাকা

Usbnews.
প্রকাশিত জুলাই ১১, ২০২৬
শাহজালাল মাজারের দানবাক্সে ১৯ দিনেই মিলল ৪৭ লাখ টাকা
নিউজটি শেয়ার করুনঃ

সিলেট বিভাগীয় ব্যুরো : হাজার হাজার মুসল্লির উপস্থিতিতে হজরত শাহজালাল (রহ.) মাজারের ৭০০ বছরের ইতিহাসে দ্বিতীয়বারের মতো দানবাক্সের টাকা গণনা সম্পন্ন হয়। দ্বিতীয় দফার গণনায় গত ১৯ দিনে মাজারের দানবাক্স ও ডেগগুলোতে মোট ৪৭ লাখ ১০ হাজার ১৫৩ টাকা পাওয়া যায়।

শনিবার (১১ জুলাই) বেলা সাড়ে ১১ টা থেকে প্রায় সাড়ে ৭ ঘণ্টা ব্যাপী টাকা গুনার মেশিন দিয়ে এই গণনা সম্পন্ন করা হয়। মাজার ব্যবস্থাপনা কমিটি ও জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে এই বিপুল পরিমাণ অর্থ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।

গণনা শেষে সংশ্লিষ্ট কমিটির দাপ্তরিক হিসাবপত্র থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, দানবাক্সে প্রাপ্ত বিদেশি মুদ্রা ও অন্যান্য সামগ্রীর মধ্যে রয়েছে ১৩৫ সৌদি রিয়াল, ২ হাজার ৫৩২ ভারতীয় রুপী, ৫৪ (৫৪.২) দিরহাম; ওমানের ১ দিনার ৪৫০ পয়সা; ৪ হাজার ইন্দোনেশিয়ান রুপিয়া, ২০ ইউএস ডলার; ২০ হংকং ডলার, ২০ ইউরো, ১০ সিঙ্গাপুরী ডলার, ২২ কাতার রিয়াল, ৬ মালয়েশিয়ান রিংগিত, ৬০ পাকিস্তানি রুপি পাওয়া যায়। নগদ টাকা ও বিদেশি মুদ্রার পাশাপাশি দানবাক্স থেকে মূল্যবান অলংকার ও ধাতু পাওয়া গেছে। এর মধ্যে রয়েছে সোনা ৯ গ্রাম স্বর্ণসদৃশ বস্তু, রূপা পাওয়া যায় ৩৯ দশমিক ৪ গ্রাম।

সর্বশেষ গণনার দিন থেকে শনিবার পর্যন্ত মাজারে ভক্তদের দান করা গবাদি পশুর হিসাবও প্রতিবেদনে যুক্ত করা হয়েছে। এতে দেখা যায় একটি গরু যা লঙ্গরখানায় রান্না করে মানুষের মাঝে বিতরণ করা হয়েছে। এছাড়া মোট ৬৫টি ছাগল পাওয়া যায়, এর মধ্যে ৪০টি ছাগল লঙ্গরখানায় রান্না করে বিতরণ করা হয়েছে এবং অবশিষ্ট ২৫টি ছাগল ১ লাখ ২৫ হাজার ৪০০ টাকায় বিক্রি করা হয়েছে।

এর আগে শনিবার সকাল ১১টার দিকে দরগাহ মসজিদের বারান্দায় জেলা প্রশাসনের তত্ববধায়নে এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতিতে সিলগালা করা ডেগ ও নতুন দানবাক্সগুলো থেকে ৪ বস্তা টাকা বের করে গণনা শুরু হয়। শাহজালাল (রহ.) মাজার মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা এই টাকা গণনা কার্যক্রমে অংশ নেয়। টাকা গণনার সময় সিসিক প্রশাসক আবদুল কাইয়ূম চৌধূরী, সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রেজাউল হাসান কয়েস লোদী, ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক পিংকি সাহা সহ জেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং মাজার আর্থিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে গঠিত উচ্চপর্যায়ের কমিটির সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য গত ২২ জুন তৎকালীন জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে প্রথমবারের মতো মাজারের দানবাক্স খোলা হয়েছিল। সে সময় মাত্র ৪ দিনে ১৭ লাখ ৬৫ হাজার ৫৪৯ টাকা জমা হয়েছিল। প্রথমবার ১০০০ ও ৫০০ টাকার নোটের আধিক্য বেশি থাকলেও, এবার ১৯ দিনের মাথায় সংগৃহীত ৪ বস্তা টাকার মধ্যে সংখ্যার দিক থেকে ১০ ও ৫০ টাকার মতো ছোট নোটের পরিমাণই সবচেয়ে বেশি দেখা গেছে। মাজারের আর্থিক ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে গঠিত বিশেষ কমিটির অধীনে এই অর্থ সোনালী ব্যাংকে মাজারের নামে খোলা নির্দিষ্ট অ্যাকাউন্টে জমা রাখা হবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।