• ১৩ই জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ , ২৯শে আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ , ২৮শে মহর্‌রম, ১৪৪৮ হিজরি

মুজিববর্ষ উদযাপনে ব্যয় ৯৮২ কোটি ৯১ লাখ টাকা: সংসদে অর্থমন্ত্রী

Usbnews.
প্রকাশিত জুলাই ১২, ২০২৬
মুজিববর্ষ উদযাপনে ব্যয় ৯৮২ কোটি ৯১ লাখ টাকা: সংসদে অর্থমন্ত্রী
নিউজটি শেয়ার করুনঃ

‘মুজিববর্ষ’ উদযাপন উপলক্ষে বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন, শেখ মুজিবুর রহমানের ছবি, বেদী ও ভাস্কর্য নির্মাণ এবং জাতীয় পর্যায়ে সময় গণনার ডিজিটাল বোর্ড স্থাপনসহ নানা কার্যক্রমে সরকারের মোট ৯৮২ কোটি ৯১ লাখ ৭৪ হাজার টাকা ব্যয় হয়েছে বলে জাতীয় সংসদে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

রোববার (১২ জুলাই) জাতীয় সংসদে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত প্রশ্নোত্তর পর্বে রংপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য মো. মাহবুবুর রহমান (বেলাল)-এর এক প্রশ্নের লিখিত জবাবে অর্থমন্ত্রী এ তথ্য তুলে ধরেন।

প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, ‘মুজিববর্ষ’ উপলক্ষে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন, শেখ মুজিবুর রহমানের ছবি ও বেদী নির্মাণ, সরকারি দপ্তরে ব্রোঞ্জ, তামা ও মার্বেল পাথরের ভাস্কর্য স্থাপন এবং রাষ্ট্রীয়ভাবে সময় গণনার ডিজিটাল বোর্ড তৈরিতে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের মাধ্যমে এ অর্থ ব্যয় করা হয়েছে। এ সংক্রান্ত ‘মুজিববর্ষ উদযাপন বাবদ ব্যয় বিবরণী’র একটি কপিও সংসদে উপস্থাপন করেন তিনি।

অর্থমন্ত্রীর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, দেশের ৬২টি মন্ত্রণালয় ও বিভাগের মধ্যে ৪৩টি মন্ত্রণালয় ও বিভাগ এই ব্যয় করেছে। এর মধ্যে সর্বোচ্চ ২৮৩ কোটি ১৫ লাখ টাকা ব্যয় করেছে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়। এছাড়া রেলপথ মন্ত্রণালয় ব্যয় করেছে ২০৬ কোটি ৭৩ লাখ ৭১ হাজার টাকা, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ ১৪০ কোটি ৪৫ লাখ ৫০ হাজার টাকা, গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় ১৩৩ কোটি ৩ লাখ ২০ হাজার টাকা, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ৪৭ কোটি ৬৬ লাখ ৫৬ হাজার টাকা, সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় ২৬ কোটি ২৬ লাখ ৪১ হাজার টাকা, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ২৪ কোটি ৩০ লাখ ৪৩ হাজার টাকা, সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ ২৩ কোটি ২০ হাজার টাকা এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ ব্যয় করেছে ২০ কোটি ৪৯ লাখ ২০ হাজার টাকা।

সম্পূরক প্রশ্নে সংসদ সদস্য মাহবুবুর রহমান জানতে চান, এই ব্যয়ের বিষয়ে কোনো নিরীক্ষা বা তদন্তের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে কি না এবং অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেলে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে কি না।

জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, মুজিববর্ষের ব্যয় নিয়ে নিরীক্ষা বা তদন্তের বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। তিনি বলেন, মুজিববর্ষ ছাড়াও আগের সরকারের আমলে বিভিন্ন খাতে ব্যয়ের হিসাব পর্যায়ক্রমে যাচাই করা হচ্ছে। সেই যাচাই শেষে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

অর্থমন্ত্রী আরও বলেন, বিষয়টি শুধু মুজিববর্ষের ব্যয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। আগের প্রধানমন্ত্রীর এক বছরের খাবার বাবদ ব্যয়ও ৩৫ কোটি টাকা হয়েছে বলে উল্লেখ করে তিনি জানান, আগের সরকারের বিভিন্ন ব্যয়ের খাত সরকার পর্যায়ক্রমে পর্যালোচনা করছে। যাচাই-বাছাই শেষে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত জানানো হবে।