• ১৪ই জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ , ৩০শে আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ , ২৯শে মহর্‌রম, ১৪৪৮ হিজরি

সিলেট বিভাগের উজানের বৃষ্টিপাত : সুনামগঞ্জে বন্যা পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কা, কুশিয়ারার পানি বিপৎসীমার ওপরে

Usbnews.
প্রকাশিত জুলাই ১৩, ২০২৬
সিলেট বিভাগের  উজানের বৃষ্টিপাত : সুনামগঞ্জে বন্যা পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কা, কুশিয়ারার পানি বিপৎসীমার ওপরে
নিউজটি শেয়ার করুনঃ

সুনামগঞ্জে কুশিয়ারা নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এতে জগন্নাথপুর উপজেলার পাইলগাঁও, আশারকান্দি ও রানীগঞ্জ ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছে। রানীগঞ্জের বালিশ্রী এলাকায় এলজিইডির সড়ক ভেঙে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। পাহাড়ি ঢল ও কয়েক দিনের টানা বৃষ্টিতে তাহিরপুর, বিশ্বম্ভরপুর ও মধ্যনগর উপজেলার নিম্নাঞ্চলও প্লাবিত হয়েছে।

তাহিরপুর-সুনামগঞ্জ সড়কের একাধিক স্থান পানিতে তলিয়ে গেছে। আজ রোববার দুপুরে সড়কের আনোয়ারপুর থেকে বিশ্বম্ভরপুরমুখী আনোয়ারপুর সেতু সংলগ্ন অংশ, শক্তিয়ারখলা বাজার এলাকা এবং দুর্গাপুর অংশে জলাবদ্ধতা দেখা যায়। সড়কে স্রোত ঠেলে শত শত যানবাহন চলাচল করতে দেখা গেছে।

বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার উমরপুর গ্রামের মো. আতাবুর রহমান জলমগ্ন সড়কে দাঁড়িয়ে বলেন, `এই রাস্তাটা পানিতে ডুইব্যা যাওয়ায় চলাচল করতে কষ্ট হইতাছে। পানি বাড়তে থাকলে যাতায়াত বন্ধ হইয়া যাইব। কাম-কাজ করা যাইতো না। মানুষের দুর্ভোগ বাড়ব।’

স্থানীয়রা বলছেন, বন্যা দীর্ঘায়িত হলে যোগাযোগ, যাতায়াত এবং জীবন-জীবিকা স্থবির হয়ে পড়বে।

গত মঙ্গলবার সুনামগঞ্জে মৌসুমের সর্বোচ্চ ২৬৫ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। জেলায় গত ২৪ ঘণ্টায় ৩৭ মিলিমিটার এবং তার আগের ২৪ ঘণ্টায় ৪৫ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছে। বৃষ্টি কমলেও বন্যা পরিস্থিতির অবনতির শঙ্কার কথা জানিয়েছে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র।

বন্যার শঙ্কায় জেলা প্রশাসন ও পৌরসভার পক্ষ থেকে নিয়ন্ত্রণকক্ষ খোলা হয়েছে। পৌরসভার কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ছুটি বাতিল করা হয়েছে। হাওরে পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে বিশেষ নির্দেশনা জারি করেছে জেলা প্রশাসন।

পাউবোর বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টায় সিলেট বিভাগ এবং ভারতের আসাম ও মেঘালয় প্রদেশের উজানে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। আগামী ২৪ ঘণ্টায় সুনামগঞ্জের যাদুকাটা নদীর পানি বেড়ে বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হতে পারে। উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় জেলাগুলোতে স্বল্পমেয়াদি বন্যার আশঙ্কার কথাও জানিয়েছে কেন্দ্রটি।

পাউবোর বিকেল ৩টার প্রতিবেদন অনুযায়ী, সুরমা নদীর সুনামগঞ্জ পয়েন্টে পানির উচ্চতা ছিল ৭ দশমিক ৪৬ মিটার, যা বিপৎসীমার ৩৪ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। সুরমার দিরাই পয়েন্টে পানির উচ্চতা ৫ দশমিক ৯৫ মিটার, যা বিপৎসীমার ৬০ সেন্টিমিটার নিচে। সুরমার ছাতক পয়েন্টে পানি ৮ দশমিক ৭০ মিটার উচ্চতায় প্রবাহিত হচ্ছে।

কুশিয়ারা নদীর জগন্নাথপুর নলজুর পয়েন্টে পানি ৬ দশমিক ৫৩ মিটার উচ্চতায় প্রবাহিত হচ্ছে। এ নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে তীরবর্তী পাইলগাঁও, আশারকান্দি ও রানীগঞ্জ ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছে। পাইলগাঁওয়ের ভাঙ্গাবাড়ি এলাকার রাস্তা ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে।

যাদুকাটা নদীর শক্তিয়ারখলা পয়েন্টে পানি ৭ দশমিক ৩৫ মিটার উচ্চতায়, যা বিপৎসীমার ৭০ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এখানকার হাওর এলাকা প্লাবিত হয়েছে।

কুশিয়ারা নদীর মার্কুলী পয়েন্টে পানি ৭ দশমিক ১৯ মিটার উচ্চতায়, যা বিপৎসীমার ১৪ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে বলে জানিয়েছে পাউবো।

সুনামগঞ্জ পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মামুন হাওলাদার বলেন, `ভারতের চেরাপুঞ্জিতে বৃষ্টি হচ্ছে। সুনামগঞ্জেও ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা আছে। বৃষ্টি হলে পানি বাড়বে। এতে জেলায় স্বল্প মেয়াদে বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে।’