• ১৫ই জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ , ৩১শে আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ , ১লা সফর, ১৪৪৮ হিজরি

১০ ঘণ্টা পর শিক্ষার্থীদের আন্দোলন স্থগিত, সংসদ এলাকায় শিক্ষার্থীদের অবরোধ , পুলিশের লাটিচার্জ , বাস ভাঙচুরমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবিতে ‌‘অনড়’

Usbnews.
প্রকাশিত জুলাই ১৫, ২০২৬
১০ ঘণ্টা পর শিক্ষার্থীদের আন্দোলন স্থগিত, সংসদ এলাকায় শিক্ষার্থীদের অবরোধ , পুলিশের লাটিচার্জ , বাস ভাঙচুরমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবিতে ‌‘অনড়’
নিউজটি শেয়ার করুনঃ

পদার্থবিজ্ঞান, হিসাববিজ্ঞান ও যুক্তিবিদ্যা প্রথম পত্রের পরীক্ষা পুনরায় নেওয়ার ঘোষণার পর প্রায় ১০ ঘণ্টার টানা আন্দোলন শেষে রাজপথ ছাড়ার ঘোষণা দিয়েছেন এইচএসসি পরীক্ষার্থীরা। মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) রাত পৌনে দশটার দিকে জাতীয় সংসদ ভবনের সামনে থেকে আপাতত কর্মসূচি স্থগিতের এই ঘোষণা দেন আন্দোলনকারীরা। তবে শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলনের পদত্যাগের দাবিতে তারা অনড় থেকে রাতেই নতুন কর্মসূচি দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।

মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে রাজধানীর সায়েন্সল্যাব মোড়ে সড়ক অবরোধের মাধ্যমে আন্দোলন শুরু করেন শিক্ষার্থীরা। একই সময়ে উত্তরার বিএনএস সেন্টারের সামনেও আরেকটি দল বিক্ষোভ করে। দুপুরে তারা ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের দিকে যান এবং বিকেলে পুনরায় সায়েন্সল্যাব মোড়ে ফিরে আসেন। সন্ধ্যায় বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে জাতীয় সংসদ ভবনের সামনে এসে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ অবরোধ করলে ওই সড়কে সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।

অবরোধ চলাকালে পুলিশ বারবার শিক্ষার্থীদের সড়ক ছাড়তে অনুরোধ জানায়। শিক্ষার্থীরা তা উপেক্ষা করে অবস্থান অব্যাহত রাখলে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এক পর্যায়ে শুরু হয় ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া। পুলিশের লাঠিচার্জে বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন বলে অভিযোগ করেন আন্দোলনকারীরা।

পরে পুলিশ সংসদ ভবনের সামনে থেকে শিক্ষার্থীদের সরিয়ে দিলে তারা কাছের আসাদগেটের আড়ং মোড় এলাকায় জড়ো হন। ওই সময় উত্তেজিত কয়েকজন পুলিশের দিকে ইটপাটকেল ছুড়ে মারেন। জবাবে পুলিশ আবারও ধাওয়া দিয়ে তাদের মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ থেকে সরিয়ে দেয়।

রাত পর্যন্ত শিক্ষার্থীরা দাবির পক্ষে স্লোগান দিয়ে অবস্থান চালিয়ে যান। এর মধ্যে রাতে সংসদে শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন দুঃখ প্রকাশ করেন এবং পদার্থবিজ্ঞান, হিসাববিজ্ঞান ও যুক্তিবিদ্যা প্রথম পত্রের পরীক্ষা পুনরায় নেওয়ার ঘোষণা দেন। পরীক্ষা পুনর্গ্রহণের এই ঘোষণার পরই রাত পৌনে ১০টার দিকে আজকের মতো আন্দোলন স্থগিত করে ঘরে ফেরেন শিক্ষার্থীরা। এতে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।

তবে আন্দোলনকারীরা স্পষ্ট করে দিয়েছেন, শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবি থেকে তারা এক চুলও সরে আসেননি। এ দাবিতে রাতেই পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলে জানিয়েছেন আন্দোলনের নেতৃস্থানীয়রা।

টানা বৃষ্টি ও জলাবদ্ধতার মধ্যে সোমবার (১৩ জুলাই) এইচএসসি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। একই দিন পদার্থবিজ্ঞানের প্রশ্নপত্রে ভুল এবং প্রশ্ন অতিরিক্ত কঠিন করার অভিযোগ ওঠে। এসব অভিযোগ এবং দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ায় পরীক্ষা নেওয়ার প্রতিবাদে মঙ্গলবার সকাল থেকে সারা দেশের শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভে নামেন এবং শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করেন।

জাতীয় সংসদ ভবনের সামনে পুলিশের লাঠিপেটায় ছত্রভঙ্গ হওয়ার ঘণ্টাখানেক পর পুনরায় জড়ো হয়ে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ অবরোধ করেছেন এইচএসসি পরীক্ষার্থীরা। মঙ্গলবার রাতে সড়ক অবরোধ চলাকালে সেখানে একটি যাত্রীবাহী বাসে ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে।

বৈরী আবহাওয়ায় পরীক্ষা নেওয়া এবং প্রশ্নপত্র কঠিন করার প্রতিবাদসহ শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে দিনভর রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ করেন শিক্ষার্থীরা। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় সংসদ ভবনে প্রবেশের চেষ্টার সময় পুলিশ লাঠিপেটা করে শিক্ষার্থীদের সরিয়ে দিয়েছিল। কিন্তু রাত আটটার দিকে তারা আবারও সংসদ ভবনের প্রধান ফটকের সামনের সড়কে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন। এতে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ের উভয় পাশে যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়। একপর্যায়ে যানজটে আটকা পড়ে চরম ভোগান্তিতে থাকা সাধারণ মানুষ ফার্মগেট প্রান্তের ব্যারিকেড সরিয়ে দেন।

বাধা সরে গেলে কয়েকটি বাস সামনের দিকে এগোতে শুরু করে। এ সময় বিক্ষোভরতরা গাড়িগুলোর গতিরোধ করেন এবং রাত ৮টা ৪০ মিনিটের দিকে একটি যাত্রীবাহী বাসের সামনের ও পাশের কাচ ভেঙে ফেলেন। তবে ভাঙচুরের এই ঘটনায় যাত্রীদের কেউ হতাহত হননি।

বাস ভাঙচুরের ঘটনার সঙ্গে সাধারণ শিক্ষার্থীদের কোনো সম্পৃক্ততা নেই বলে দাবি করেছেন আন্দোলনের সামনের সারিতে থাকা পরীক্ষার্থীরা। আন্দোলনকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে পরিকল্পিতভাবে বহিরাগতরা এ কাজ করেছে বলে অভিযোগ তাদের।

এ বিষয়ে ঢাকা সিটি কলেজের শিক্ষার্থী মিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘যারা এই ভাঙচুরের ঘটনা ঘটিয়েছে, তাদের মধ্য থেকে একজনকে ধরে আমরা পুলিশের হাতে তুলে দিয়েছি।’

তবে বাসে হামলার ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সাধারণ যাত্রীরা। বাসের যাত্রী আনোয়ার মিয়া বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক ও শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে আমাদের সমর্থন রয়েছে। কিন্তু যাত্রীবাহী বাসে এভাবে হামলা চালানো কোনোভাবেই উচিত হয়নি।’

এর আগে মঙ্গলবার সকাল থেকেই টানা বৃষ্টি ও জলাবদ্ধতার চরম দুর্ভোগের মধ্যে সোমবারের পরীক্ষা নেওয়ার প্রতিবাদে রাস্তায় নামেন শিক্ষার্থীরা। বিক্ষোভে তারা শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলনের পদত্যাগের দাবি তোলেন। একই সঙ্গে পদার্থবিজ্ঞান বিষয়ের প্রশ্নপত্রে ভুল থাকা এবং অতীতের তুলনায় এবারের অভিন্ন প্রশ্নপত্র অনেক বেশি কঠিন করার অভিযোগ এনে ক্ষোভ জানান পরীক্ষার্থীরা।

নিজেদের দাবি আদায়ে এদিন সকালে প্রথমে রাজধানীর সায়েন্স ল্যাব মোড় অবরোধ করেন বিভিন্ন কলেজের শিক্ষার্থীরা। পরে তারা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি চত্বরে অবস্থান নিলে পুলিশ সেখান থেকে তাদের সরিয়ে দেয়। এরপর বিক্ষোভকারীদের একটি অংশ বকশীবাজারে অবস্থিত ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের সামনে গিয়ে বিক্ষোভ করে। বিকেলে পুনরায় সায়েন্স ল্যাব মোড় অবরোধ শেষে সন্ধ্যায় তারা সংসদ ভবনের সামনে এসে জড়ো হন। একপর্যায়ে শিক্ষার্থীরা সংসদ ভবনের সীমানার ভেতরে প্রবেশের চেষ্টা করলে পুলিশের লাঠিপেটার মুখে পড়েন।