• ১৫ই জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ , ৩১শে আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ , ১লা সফর, ১৪৪৮ হিজরি

জুলাই হত্যাকাণ্ডের বিচার বিলম্বিত: জুলাই গণহত্যার বিচার নিয়ে সংসদে তুমুল বিতর্ক

Usbnews.
প্রকাশিত জুলাই ১৫, ২০২৬
জুলাই হত্যাকাণ্ডের বিচার বিলম্বিত: জুলাই গণহত্যার বিচার নিয়ে সংসদে তুমুল বিতর্ক
নিউজটি শেয়ার করুনঃ

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের সক্ষমতা বৃদ্ধি করে জুলাই গণঅভ্যুত্থান ও গণহত্যার বিচার দ্রুত সম্পন্ন করা, গণভোটের রায় বাস্তবায়ন করে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করার দাবি জানানো হয়েছে জাতীয় সংসদে| সেই সাথে শেখ হাসিনাসহ অভিযুক্তদের দেশে ফিরিয়ে এনে বিচারের আওতায় আনা, আওয়ামী লীগের দলগত বিচার এবং শহীদ ও আহত পরিবারের পুনর্বাসন নিশ্চিত করার জোর দাবি উঠেছে জাতীয় সংসদে|

মঙ্গলবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশনের ২৪তম দিনে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্য সচিব ও রংপুর-৪ আসন থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য আখতার হোসেন কার্যপ্রণালী বিধির ৬৮ অনুযায়ী জনগুরুত্বপূর্ণ ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান ও গণহত্যার বিচার সম্পর্কে সাম্প্রতিক আলোচনা’ শীর্ষক বিষয়টি জাতীয় সংসদে উত্থাপন করেন| ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন|

আখতার হোসেনের বক্তব্যের পর শুরুতেই সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ও জুলাই শহীদ জাবিরের মা রোকেয়া বেগম বক্তব্য রাখেন| এরপর পর্যায়ক্রমে ঢাকা-১৪ আসনের সংসদ সদস্য মীর আহমেদ বিন কাসেম আরমান, প্রবাসী কল্যাণ ও ˆবদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর,বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম, আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান, বিরোধী দলীয় নেতা ডা: শফিকুর রহমান ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বক্তব্য দেন|

জুলাই হত্যাকাণ্ডের বিচার বিলম্বিত হলে জাতি তা মেনে নেবে না- বিরোধী দলীয় নেতা

বিরোধীদলীয় নেতা ডা. মো: শফিকুর রহমান বলেন, জুলাই ছিল দীর্ঘ সাড়ে ১৭ বছরের আন্দোলন-সংগ্রামের চূড়ান্ত ফলাফল| তাই শুধু জুলাই নয়, সেই দীর্ঘ সময়ের সব শহীদ, আহত, গুম ও নির্যাতিত ব্যক্তিদেরও রাষ্ট্রীয়ভাবে মূল্যায়ন করতে হবে| ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ব্যাংককের হাসপাতালে চিকিৎসাধীন জুলাই যোদ্ধাদের সঙ্গে তিনি কথা বলেছেন| অনেককে আগের সরকারের সময় চিকিৎসার জন্য পাঠানো হলেও এখনও বহু আহত ব্যক্তি চিকিৎসার জন্য বিভিন্ন মহলে ঘুরছেন| তিনি সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, আহত ও পঙ্গু জুলাই যোদ্ধাদের যথাযথ চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করতে হবে| প্রয়োজনে সংসদ সদস্যদের সুযোগ-সুবিধা কমিয়ে হলেও তাদের পাশে দাঁড়ানো উচিত|

বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, দ্রুত জুলাই জাদুঘর জনসাধারণের জন্য খুলে দেয়া উচিত| ভবনের কিছু কাজ বাকি থাকলেও জাদুঘর চালু করা যেতে পারে| তিনি আরও বলেন, জুলাই ফাউন্ডেশনকে কার্যকর প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তুলতে হবে| যদি সত্যিই কর্মকর্তারা কয়েক মাস ধরে বেতন না পেয়ে থাকেন, তবে সরকারকে দ্রুত বিষয়টি সমাধান করতে হবে|

বিরোধী দলীয় নেতা বলেন, আমার অনুরোধ, যাদের বিচারের কথা বলা হয়েছে, তাদের বিচারে কেউ যদি গড়িমসি করে, হাশরের দিন আমি তাদের বিরুদ্ধে বাদী হব| এখানে আমি যে মুখগুলো দেখতে পাচ্ছি, অনেকেই একসাথে আমরা জেলে ছিলাম|

তিনি বলেন, বিচারের ব্যাপারে কোনো গড়িমসি এই জাতি আসলেই সহ্য করবে না| এই ট্রমা বহন করার শক্তি এই জাতির নাই| বিচার হতেই হবে| তবে অবশ্যই এটাও বলব, কারও উপর যেন অবিচার করা না হয়| বিচারটা যেন ন্যায়বিচারই হয়| আমাদের নেতৃবৃন্দকে ফাঁসি ঝুলিয়েছে, উই আর প্রাউড অফ দেম| তাদেরকে নিয়ে অনেক ষড়যন্ত্র করেছে মুখ দিয়ে একটা কথা বের করার জন্য| আলহামদুলিল্লাহ, তারা কারও কাছে মাথা নত করেননি| ফাঁসির তক্তার উপর দাঁড়িয়ে তারা বিজয়ের গান শুনিয়ে গেছেন আমাদেরকে। তারা শক্তি এবং সাহস আমাদেরকে দিয়ে গেছেন| আমরা তাদেরকে নিয়ে গর্বিত। তারা আমাদের সম্পদ, আমি বিশ্বাস করি তারা জাতিরও সম্পদ|

তিনি বলেন, কিছু মিডিয়া— সবাই নয়, তবে বেশিরভাগ, সেই সময় স্বৈরাচারকে ভয়ংকর স্বৈরাচার হইতে সাহায্য করেছিল| তাদের ব্যাপারে কি পদক্ষেপ আগেই বা নেওয়া হলো, এখন বা নেওয়া হচ্ছে— আমরা কিছুই বুঝতে পারছি না| বরঞ্চ তারা এখন আবার পানি ঘোলা করার জন্য ময়দানে নেমে পড়েছে| তারা রাষ্ট্রদ্রোহী কথাবার্তা বলছে| কিন্তু এই সমস্ত বিষয়ে এটেনশন দেওয়া হচ্ছে না| কোন শক্তির বলে তারা এটা করে, আমরা জানতে চাই সরকারের কাছে| তাদের ব্যাপারে দুর্বলতাটা কোথায়? এটা জাতির সামনে খোলাসা করতে হবে|

তিনি বলেন, বর্ডারে সুড়সুড়ি দেওয়া হচ্ছে| সরকার এখন পর্যন্ত এ ব্যাপারে কিছুই বলেননি| আমরা আমাদের অবস্থান থেকে যতটুকু সম্ভব আমরা বলেছি| আমরা পরিষ্কার বলতে চাই— এটি একটি স্বাধীন দেশ, এই দেশের প্রত্যেকটি বালুকণার আমরা পাহারাদারি করব, ইনশাআল্লাহ| আমরা বলতে আমি বিরোধী দল মিন করছি না, আমরা বলতে এই পুরা হাউস এবং ১৮ কোটি মানুষকে মিন করছি|

তিনি আরো বলেন, আইনমন্ত্রী বলেছেন যে, এই জায়গায় আমাদের একটা কমন পলিসি এবং সম্ভবত প্রতিমন্ত্রী জনাব নূরুল হক নূর বলেছেন যে, আমাদের একটা ঐক্যমত হতে হবে— তাদের ব্যাপারে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গিটা কি হবে| আমরা একমত|

তিনি আরো বলেন, জুলাইয়ের এই ১৪ তারিখ একটা বড় সেনসিটিভ তারিখ| এই তারিখেই আগুন লেগেছিল| ওরা দুইটা স্লোগান দিয়েছিল— একটা ছিল “তুমি কে? আমি কে? রাজাকার, রাজাকার|” আরেকটা বলেছিল “লেগেছে রে লেগেছে, রক্তে আগুন লেগেছে|” এই সময়টা আমি দায়িত্বশীল সমস্ত নেতৃবৃন্দ— বিরোধী দলসহ, সরকারি দলসহ— আমি অনুরোধ করব ভেরি ভেরি কেয়ারফুল|

তিনি শিক্ষামন্ত্রী সর্ম্পকে বলেন, শিক্ষামন্ত্রী একটা দুঃখ প্রকাশ করেছেন তার একটা মন্তব্যের জন্য| আসলে তিনি দুঃখ প্রকাশ করেছেন, এইজন্য এখানে আর বলার কিছু নেই| কিন্তু এটা শুনে আমার মোটেই ভালো লাগেনি| এটা যে সেন্সেই তিনি বলে থাকুন না কেন, আমাদের পর্যায় থেকে এরকম কোনো মন্তব্য হওয়া উচিত নয়| এটা আমাদের অনেক কেয়ারফুল হওয়া উচিত দায়িত্বশীলতার জায়গা থেকে|

তিনি আরো বলেন, জুলাই এসেছিল একটা পরিবর্তনের জন্য, একটা নিউ ডাইমেনশন নেশন বিল্ডআপের জন্য| এর জন্যেই কনসেনসাস পরিষদে দীর্ঘ আলোচনা করে কিছু রিকমেন্ডেশন ˆতরি করা হয়েছিল| এইজন্যই একটা গণভোট অনুষ্ঠিত হয়েছিল| সেই গণভোটে জনগণ হ্যাঁ-এর পক্ষে, সংস্কারের পক্ষে রায় দিয়েছিল| কি এখানে হয়ে গেল আমরা ঠিক বুঝতে পারি নাই, বারবার বলা হচ্ছে এখানে প্রতারণা করা হয়েছে| কে করল? এইজন্য আমি অনুরোধ করব, মেহেরবানি করে এই বিষয়টাকে তারা অবশ্যই ইতিবাচক বিবেচনায় নেবেন| দেশ এবং জাতির সকলের জন্য ভালো হবে|

তিনি বলেন, বর্ডারে সুড়সুড়ি দেওয়া হচ্ছে| সরকার এখন পর্যন্ত এ ব্যাপারে কিছুই বলেননি| আমরা আমাদের অবস্থান থেকে যতটুকু সম্ভব আমরা বলেছি| আমরা পরিষ্কার বলতে চাই— এটি একটি স্বাধীন দেশ, এই দেশের প্রত্যেকটি বালুকণার আমরা পাহারাদারি করব, ইনশাআল্লাহ| আমরা বলতে আমি বিরোধী দল মিন করছি না, আমরা বলতে এই পুরা হাউস এবং ১৮ কোটি মানুষকে মিন করছি|

তিনি আরো বলেন, আইনমন্ত্রী বলেছেন যে, এই জায়গায় আমাদের একটা কমন পলিসি এবং সম্ভবত প্রতিমন্ত্রী জনাব নূরুল হক নূর বলেছেন যে, আমাদের একটা ঐক্যমত হতে হবে— তাদের ব্যাপারে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গিটা কি হবে| আমরা একমত|

তিনি আরো বলেন, জুলাইয়ের এই ১৪ তারিখ একটা বড় সেনসিটিভ তারিখ| এই তারিখেই আগুন লেগেছিল| ওরা দুইটা স্লোগান দিয়েছিল— একটা ছিল “তুমি কে? আমি কে? রাজাকার, রাজাকার|” আরেকটা বলেছিল “লেগেছে রে লেগেছে, রক্তে আগুন লেগেছে|” এই সময়টা আমি দায়িত্বশীল সমস্ত নেতৃবৃন্দ— বিরোধী দলসহ, সরকারি দলসহ— আমি অনুরোধ করব ভেরি ভেরি কেয়ারফুল|

তিনি শিক্ষামন্ত্রী সর্ম্পকে বলেন, শিক্ষামন্ত্রী একটা দুঃখ প্রকাশ করেছেন তার একটা মন্তব্যের জন্য| আসলে তিনি দুঃখ প্রকাশ করেছেন, এইজন্য এখানে আর বলার কিছু নেই| কিন্তু এটা শুনে আমার মোটেই ভালো লাগেনি| এটা যে সেন্সেই তিনি বলে থাকুন না কেন, আমাদের পর্যায় থেকে এরকম কোনো মন্তব্য হওয়া উচিত নয়| এটা আমাদের অনেক কেয়ারফুল হওয়া উচিত দায়িত্বশীলতার জায়গা থেকে|

তিনি আরো বলেন, জুলাই এসেছিল একটা পরিবর্তনের জন্য, একটা নিউ ডাইমেনশন নেশন বিল্ডআপের জন্য| এর জন্যেই কনসেনসাস পরিষদে দীর্ঘ আলোচনা করে কিছু রিকমেন্ডেশন ˆতরি করা হয়েছিল| এইজন্যই একটা গণভোট অনুষ্ঠিত হয়েছিল| সেই গণভোটে জনগণ হ্যাঁ-এর পক্ষে, সংস্কারের পক্ষে রায় দিয়েছিল| কি এখানে হয়ে গেল আমরা ঠিক বুঝতে পারি নাই, বারবার বলা হচ্ছে এখানে প্রতারণা করা হয়েছে| কে করল? এইজন্য আমি অনুরোধ করব, মেহেরবানি করে এই বিষয়টাকে তারা অবশ্যই ইতিবাচক বিবেচনায় নেবেন| দেশ এবং জাতির সকলের জন্য ভালো হবে| মানুষ তাদের ভোটের মূল্যায়নটা দেখলে গণতন্ত্রের প্রতি তাদের শ্রদ্ধাবোধ এবং সমর্থন বৃদ্ধি পাবে| অন্যথায় গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান মারাত্মক হুমকি এবং ঝুঁকির মুখে পড়বে|

প্রয়োজনে ট্রাইব্যুনালের সংখ্যা আরও বাড়ানো হবে-স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে জুলাই গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার চলছে| বর্তমানে ৫৯০টি মামলা বিচারাধীন রয়েছে এবং আরও ১২টি মামলার তদন্ত শেষ হয়ে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের অপেক্ষায় আছে| প্রয়োজন হলে ট্রাইব্যুনালের সংখ্যা, প্রসিকিউটর, তদন্তকারী কর্মকর্তা ও লজিস্টিক সহায়তা আরও বাড়ানো হবে, যাতে দ্রুত বিচার নিশ্চিত করা যায়|

আওয়ামী লীগের দলগত বিচার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এ দাবিতে বিএনপি শুরু থেকেই সোচ্চার ছিল| পরবর্তীতে আইন সংশোধনের মাধ্যমে দলগত বিচারের আইনি ভিত্তিও তৈরি হয়েছে|

সংবিধান সংস্কার নিয়ে বিরোধী দলের উদ্দেশে তিনি বলেন, গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা এবং ভবিষ্যতে ফ্যাসিবাদ ঠেকাতে সরকার সংবিধান সংস্কারে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ| এ লক্ষ্যে গঠিত সংবিধান সংস্কার কমিটিতে বিরোধী দলের জন্য এখনো পাঁচটি আসন খালি রাখা হয়েছে| তিনি তাদের আলোচনায় ফিরে আসার আহ্বান জানান|

জুলাই যোদ্ধা ও শহীদ পরিবারের জন্য সরকারের নেওয়া পদক্ষেপ তুলে ধরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, প্রতিটি শহীদ পরিবারের জন্য এককালীন ৩০ লাখ টাকা, ক শ্রেণির আহতদের ৫ লাখ টাকা, খ শ্রেণির আহতদের ৩ লাখ টাকা এবং গ শ্রেণির আহতদের ১ লাখ টাকা আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়েছে| পাশাপাশি শহীদ পরিবার ও আহতদের জন্য মাসিক ভাতাও চালু করা হয়েছে| গুরুতর আহতদের প্রয়োজনে বিদেশে চিকিৎসার ব্যবস্থাও করা হবে| জুলাই ফাউন্ডেশনের কার্যক্রম আরও সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে|

তিনি আরও জানান, আগামী ৫ আগস্ট জুলাই স্মৃতি জাদুঘর উদ্বোধন করা হবে| গণমাধ্যমের স্বাধীনতার প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, সরকার মতপ্রকাশের স্বাধীনতায় বিশ্বাস করে| তবে সংবিধানের ৩৯ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রাষ্ট্রের স্বার্থে যে যৌক্তিক সীমাবদ্ধতা রয়েছে, তা আইন অনুযায়ী কার্যকর হবে| সীমান্ত ও পররাষ্ট্রনীতি নিয়ে তিনি বলেন, বর্তমান সরকার দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় কঠোর অবস্থানে রয়েছে| প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে সম্পর্ক হবে পারস্পরিক সম্মান, মর্যাদা ও সমতার ভিত্তিতে| সরকারের নীতি— ‘সবার আগে বাংলাদেশ’|

শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে তিনি বলেন, প্রত্যর্পণ চুক্তির আওতায় সরকার তাকে ফেরানোর চেষ্টা অব্যাহত রেখেছে| দেশে ফিরলে আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে|

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, সরকারি হিসাব অনুযায়ী গেজেটভুক্ত শহীদের সংখ্যা ৮৪৩ জন এবং আহতসহ স্বীকৃত জুলাই যোদ্ধার সংখ্যা ১৫ হাজার ২১২ জন| শহীদদের ঘটনায় ৭৫১টি হত্যা মামলা, একটি অপমৃত্যু মামলা, ৩৩টি সিআর মামলা এবং ৪৮টি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের মামলা বিচারাধীন রয়েছে|

বক্তব্যের শেষে তিনি বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদ, আহত ও নির্যাতিত প্রত্যেক মানুষের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে সরকার দৃঢ়প্রতিজ্ঞ| বিচার প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করতে প্রয়োজনীয় সব ধরনের আইনগত ও প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে|

তিনি আরো বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রথম ও সবচেয়ে বড় অর্জন ছিল জুলাই ঘোষণাপত্র| সেই ঘোষণাপত্রের ধারাবাহিকতায় জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের উদ্যোগে জুলাই জাতীয় সনদ প্রণীত হয়েছে| কিন্তু সংসদে জুলাই গণঅভ্যুত্থান নিয়ে আলোচনায় এ দুটি গুরুত্বপূর্ণ অর্জনের কথা যথাযথভাবে উঠে আসেনি বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ| তিনি বলেন, জুলাই ঘোষণাপত্র ও জাতীয় সনদে শহীদ পরিবার, আহত জুলাই যোদ্ধাদের সুরক্ষা, সাংবিধানিক স্বীকৃতি এবং গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার যে অঙ্গীকার করা হয়েছে, সরকার তা বাস্তবায়নে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ|

তিনি বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান কোনো একক রাজনৈতিক দল বা ছাত্রসংগঠনের আন্দোলন ছিল না; এটি ছিল সমগ্র বাংলাদেশের মানুষের গণঅভ্যুত্থান| একই সঙ্গে তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, এই অভ্যুত্থানের পেছনে ছিল দীর্ঘ ১৭ বছরের গণতান্ত্রিক আন্দোলন, যেখানে গুম, খুন, বিচারবহির্ভূত হত্যা, আয়নাঘরে নির্যাতনসহ নানা নিপীড়নের শিকার হয়েছেন হাজারো মানুষ|

জুলাই চেতনা রাষ্ট্রগঠনের ভিত্তি : আইনমন্ত্রী

আইনমন্ত্রী বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান এখন বাংলাদেশের স্বীকৃত সত্য| যতদিন বাংলাদেশ থাকবে, জুলাই ততদিন জাতীয় চেতনা, অহংকার ও রাজনৈতিক অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে| তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে গিয়ে কৃষক, শ্রমিক, সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে যে জনসম্পৃক্ত নেতৃত্বের পরিচয় দিচ্ছেন, সেটিই জুলাই চেতনার বাস্তব প্রতিফলন|

তিনি বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে বিচার কার্যক্রম দৃশ্যমান অগ্রগতি অর্জন করেছে| দায়িত্ব গ্রহণের পর ১৬টি তদন্ত সম্পন্ন হয়েছে, যার মধ্যে ১২টির তদন্ত প্রতিবেদন জমা পড়েছে এবং চারটি মামলায় অভিযোগ গঠন হয়েছে| ইতোমধ্যে তিনটি মামলার রায়ও হয়েছে, যার মধ্যে আবু সাঈদ হত্যা মামলাও রয়েছে|

আইনমন্ত্রী জানান, জুলাই হত্যাকাণ্ডকে কেন্দ্র করে ট্রাইব্যুনালে ৫৯০টি অভিযোগ জমা পড়েছিল| সেখান থেকে যাচাই-বাছাই শেষে ১০৯টি মামলা গ্রহণ করা হয়| এর মধ্যে ৪৩টি মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল হয়েছে, ছয়টি মামলার বিচার সম্পন্ন হয়েছে এবং চারটি মামলার রায় অপেক্ষমাণ রয়েছে| তিনি বলেন, এসব মামলায় এখন পর্যন্ত ১৬ জনের মৃত্যুদণ্ড, ১১ জনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং ৩৫ জনের বিভিন্ন মেয়াদে সাজা হয়েছে| একজন রাজসাক্ষী খালাস পেয়েছেন এবং আরও ২৬টি মামলা বিচারাধীন রয়েছে|রাজনৈতিক কলাম

আইনমন্ত্রী আরও জানান, শাপলা চত্বরের হত্যাকাণ্ড, আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে সংগঠন হিসেবে তদন্ত এবং জুলাই হত্যাকাণ্ডে দেশের বিভিন্ন জেলায় সংঘটিত ঘটনাগুলোর তদন্তও শুরু হয়েছে বা পরিকল্পনার পর্যায়ে রয়েছে|

আওয়ামী লীগের দলগত বিচার দ্রুত শুরু করতে হবে: আখতার হোসেন

আলোচনা উত্থাপন করে আখতার হোসেন বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানকে অস্বীকার করার নানা চেষ্টা থাকলেও জাতিসংঘের প্রতিবেদনে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের জুলাইয়ে আওয়ামী লীগ মানবতাবিরোধী অপরাধ করেছে| ফলে অপপ্রচার চালিয়ে সেই সত্য আড়াল করা সম্ভব নয়| তিনি বলেন, বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে ব্যাপক জনসম্পৃক্ত আন্দোলন ছিল জুলাই গণঅভ্যুত্থান| দেশের সব শ্রেণি-পেশার মানুষ, এমনকি প্রবাসীরাও এতে অংশ নিয়েছিলেন| এত বড় আত্মত্যাগের পরও বিচারকাজ কাঙ্ক্ষিত গতিতে এগোচ্ছে না| তার ভাষায়, শেখ হাসিনাসহ গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযুক্তরা এখনও বিচারের বাইরে রয়েছেন| তাদের দেশে ফিরিয়ে এনে দ্রুত বিচার সম্পন্ন করতে হবে|

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, নতুন সরকার দায়িত্ব নেয়ার পরও নতুন প্রসিকিউশন টিম কোনো নতুন তদন্ত প্রতিবেদন বা আনুষ্ঠানিক অভিযোগপত্র দাখিল করতে পারেনি| আগের তদন্তের ভিত্তিতেই বিচার চলছে| তিনি জানান, বর্তমানে ট্রাইব্যুনালে মাত্র ২৩ জন তদন্ত কর্মকর্তা ও প্রায় ২০ জন প্রসিকিউটর কাজ করছেন| অথচ ৪৫০টির বেশি অভিযোগ জমা পড়েছে এবং শতাধিক মামলা এখনও বিচারের আওতায় আসেনি| এ অবস্থায় ট্রাইব্যুনাল, আদালত, তদন্ত কর্মকর্তা ও প্রসিকিউটরের সংখ্যা বাড়ানোর পাশাপাশি প্রয়োজনীয় অবকাঠামো ও সুবিধা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তিনি|

আখতার হোসেন বলেন, সম্প্রতি মানবতাবিরোধী অপরাধে দণ্ডিত এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে তিনটি অভিযোগ প্রমাণিত হলেও সাজা একত্র করে মাত্র ১০ বছর নির্ধারণ করা হয়েছে| সরকার যেন ওই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করে| তিনি আরও বলেন, আওয়ামী লীগ দলগতভাবে গণহত্যায় জড়িত ছিল| দলটির বিরুদ্ধে তদন্তের কথা বলা হলেও দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি নেই| তাই আওয়ামী লীগের দলগত বিচার দ্রুত শুরু করতে হবে| সারা দেশে দায়ের হওয়া জুলাই-সংক্রান্ত মামলার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, এখনো কোথাও অভিযোগপত্র দাখিল হয়নি| দ্রুত তদন্ত শেষ করে চার্জশিট দেয়ার সময়সূচি ঘোষণা করা উচিত|

 

বিচারে গতি আনতে ট্রাইব্যুনাল বাড়াতে হবে : নাহিদ ইসলাম

বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম বলেন, ২০২৪ সালের ১৪ জুলাই ˆবষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের পক্ষ থেকে রাষ্ট্রপতির কাছে স্মারকলিপি দেয়া হয়েছিল| ওই রাতেই শেখ হাসিনার ‘রাজাকারের নাতি-নাতনি’ মন্তব্যের প্রতিবাদে দেশব্যাপী শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভে নেমে আসে এবং সেখান থেকেই আন্দোলন রাজনৈতিক চরিত্র লাভ করে|

তিনি বলেন, ১৪ জুলাইকে অন্তর্বর্তী সরকার ‘জুলাই উইমেন্স ডে’ হিসেবে পালন করেছিল| বর্তমান সরকারও চাইলে দিনটিকে রাষ্ট্রীয়ভাবে পালন করতে পারত|

নাহিদ ইসলাম অভিযোগ করেন, এখনো জুলাই গণঅভ্যুত্থান নিয়ে বিভ্রান্তিকর প্রচারণা চলছে| আওয়ামী লীগ ও ভারতীয় কিছু গণমাধ্যমের পাশাপাশি সরকারদলীয় কয়েকজন সংসদ সদস্যও আন্দোলনকে ষড়যন্ত্র হিসেবে উপস্থাপন করছেন, যা দুঃখজনক|

তিনি বলেন, ৫ আগস্টের পর দায়ের হওয়া প্রায় ১ হাজার ৪৯৯টি মামলার মধ্যে অনেকগুলোতে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে নিরীহ মানুষকে আসামি করা হয়েছে| কোথাও কোথাও অর্থ লেনদেনের অভিযোগও উঠেছে| এসব মামলা নিরপেক্ষভাবে যাচাই করা প্রয়োজন|

তিনি আরও বলেন, সরকার প্রধান প্রসিকিউটর (ট্রাইব্যুনাল) পরিবর্তন করলেও নতুন প্রসিকিউশন টিম এখনো নতুন কোনো তদন্ত শেষ করতে পারেনি| আগের তদন্তের ভিত্তিতেই বর্তমান বিচার এগোচ্ছে| সরকারের কাছে তিনি জানতে চান, নতুন ট্রাইব্যুনাল গঠন, দক্ষ বিচারক ও প্রসিকিউটর নিয়োগ এবং প্রয়োজনীয় জনবল বৃদ্ধির বিষয়ে কী পরিকল্পনা রয়েছে|

তিনি বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় জুলাই জাদুঘর, শহীদ পরিবারের ভাতা ও ট্রাইব্যুনালের মতো উদ্যোগ নেয়া হয়েছিল| বর্তমান সরকার তা অব্যাহত রেখেছে, তবে বিচার দ্রুত শেষ করতে আরও কার্যকর পদক্ষেপ প্রয়োজন|

বক্তব্যের শেষে নাহিদ ইসলাম বলেন, আওয়ামী লীগকে রাজনৈতিক দল হিসেবেই আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বিচারের আওতায় আনতে হবে| একই সঙ্গে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে দেয়া রায় দ্রুত কার্যকর করতে প্রয়োজনীয় কূটনৈতিক ও আইনি উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানান তিনি|

সব শহীদের বিচার নিশ্চিত করতে হবে : জুলাই শহীদ জাবিরের মা রোকিয়া বেগম

সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য এবং জুলাই শহীদ জাবিরের মা রোকিয়া বেগম বলেন, একজন শহীদ সন্তানের মা হিসেবে প্রতিদিনই তিনি সন্তানের শোক বয়ে বেড়ান| তবুও সংসদে দাঁড়িয়েছেন শুধু একটি দাবির জন্য-সব শহীদের বিচার নিশ্চিত করতে হবে| তিনি বলেন, শুধু তার ছেলে নয়, প্রায় ১ হাজার ৪০০ শহীদ পরিবার এবং জুলাইয়ের আহত যোদ্ধাদেরও ন্যায়বিচার ও যথাযথ চিকিৎসা নিশ্চিত করতে হবে| তার মতে, এই গণহত্যার জন্য নতুন করে কোনো প্রমাণের প্রয়োজন নেই| দেশের মানুষ নিজের চোখে যা দেখেছে, সেটিই যথেষ্ট| তিনি প্রধানমন্ত্রীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, গণহত্যার বাস্তবতা ও জনগণের রায় মেনে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেয়া হলে শহীদ পরিবারগুলোর প্রত্যাশা পূরণ হবে|

বিচার থমকে আছে : আরমান

ঢাকা-১৪ আসনের সংসদ সদস্য মীর আহমেদ বিন কাসেম আরমান বলেন, সংসদের প্রতিটি সদস্যই জুলাই শহীদদের আত্মত্যাগের ঋণে আবদ্ধ| কিন্তু শহীদদের প্রথম দাবি—বিচার—এখনও কাঙ্ক্ষিতভাবে এগোয়নি| তিনি অভিযোগ করেন, নতুন সরকার দায়িত্ব নেয়ার পরও নতুন কোনো তদন্ত প্রতিবেদন জমা পড়েনি| ট্রাইব্যুনাল, তদন্ত সংস্থা ও প্রসিকিউশন জনবল ও অর্থসংকটে রয়েছে| সরকারও মামলাগুলো তদারকিতে দৃশ্যমান উদ্যোগ নেয়নি|রাজনৈতিক কলাম

তিনি জানতে চান, শত শত অভিযোগ, হাজার হাজার পৃষ্ঠার নথি এবং বিপুল ভিডিও-অডিও প্রমাণ দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য সরকারের পরিকল্পনা কী| তিনি অতিরিক্ত ট্রাইব্যুনাল গঠন, দক্ষ প্রসিকিউটর নিয়োগ এবং বিচার তদারকি জোরদারের দাবি জানান| আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইনের বিধান অনুযায়ী প্রতিদিন বিচার কার্যক্রম চালানোর কথা থাকলেও বাস্তবে এক থেকে দেড় মাস পরপর মামলার তারিখ নির্ধারণ করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি|

সাক্ষীদের নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, জীবনের ঝুঁকি নিয়ে যারা সাক্ষ্য দিয়েছেন, বিশেষ করে নিরাপত্তা বাহিনীর সাবেক সদস্য ও প্রত্যক্ষদর্শীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে| তিনি বলেন, জুলাই জাদুঘর ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ স্মারক হতে পারে| কিন্তু এখনো উদ্বোধনের উদ্যোগ নেই| বরং জাদুঘরে ইতিহাস বিকৃতির চেষ্টা চলছে বলে অভিযোগ তুলে নিরপেক্ষ কমিটি গঠনের দাবি জানান|

মীর আহমেদ আরও বলেন, শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বিরুদ্ধে দেয়া রায়ে সম্পদ বাজেয়াপ্ত করে ভুক্তভোগীদের পুনর্বাসনের নির্দেশ রয়েছে| কিন্তু সম্পদ শনাক্ত, জব্দ ও ব্যবস্থাপনার বিষয়ে সরকার কী পদক্ষেপ নিয়েছে, তা সংসদে জানানো উচিত|