• ১৫ই জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ , ৩১শে আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ , ১লা সফর, ১৪৪৮ হিজরি

সংসদের ছাদে চুইয়ে পড়ে পানি, বাটি রাখার গল্প বললেন ডেপুটি স্পিকার

Usbnews.
প্রকাশিত জুলাই ১৩, ২০২৬
সংসদের ছাদে চুইয়ে পড়ে পানি, বাটি রাখার গল্প বললেন ডেপুটি স্পিকার
নিউজটি শেয়ার করুনঃ

আবাসিক এলাকা। প্রবল এই বৃষ্টিতে জাতীয় সংসদ ভবনের পবিত্র মসজিদ ও বিভিন্ন কক্ষের ছাদ চুইয়ে পানি পড়ার ঘটনা ঘটেছে।

এমন ঘটনায় ক্ষোভ ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সরকারি দলের হুইপ জি কে গউছ। এই পানি পড়ার ঘটনার সত্যতা স্বীকার করতে গিয়ে স্বয়ং স্পিকারের দায়িত্ব পালনকারী ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল নিজের ঘরের করুণ চিত্র তুলে ধরেছেন। তিনি জানিয়েছেন, শুধু সংসদ ভবনই নয়, বৃষ্টির দিনে তার নিজের ঘরের ছাদেও বাটি দিয়ে পানি আটকে রাখতে হয়।

সোমবার (১৩ জুলাই) জাতীয় সংসদে ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে বিষয়টি সংসদের নজরে আনেন হুইপ গউছ।

হুইপ জি কে গউছ স্পিকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, বিগত ১৭ বছর ধরে এই মহান সংসদে নাচ, গান ও কবিতা আবৃত্তিসহ নানা ঘটনা ঘটেছে। অথচ যে ফোরামে সংসদ সদস্যরা অধিবেশন করছেন, ঠিক তার ওপরের তলাতেই রয়েছে মসজিদ। সেখানে অসংখ্য মুসলিম সংসদ সদস্য একসঙ্গে জামাতে নামাজ আদায় করেন। অত্যন্ত দুঃখের বিষয় হলো, বর্তমানে মসজিদের সামনে সারিবদ্ধভাবে বালতি দিয়ে রাখা হয়েছে, কারণ ছাদ ফেটে অনবরত বৃষ্টির পানি ভেতরে প্রবেশ করছে। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, যেখানে এই অধিবেশনে আমরা ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বিশাল বাজেট অনুমোদন করেছি, সেখানে মসজিদের এই করুণ দশা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। তিনি অবিলম্বে ছাদ দিয়ে পানি পড়া বন্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জোর দাবি জানান।

হুইপ জি কে গউছের এই বক্তব্যের জবাবে ডেপুটি স্পিকার বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে নেন এবং ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেন। তিনি স্বভাবসুলভ দুঃখ প্রকাশ করে রসিকতার ছলে বলেন, সংসদের ছাদ থেকে পানি পড়ার বিষয়টি আসলেই তারা জেনেছেন। বৃষ্টির দিনে তিনি যখন নিজের ঘরে ঘুমাতে যান, তখন তার ঘরের ছাদ থেকেও পানি পড়ে। ফলে তাকেও ঘরের মেঝেতে বাটি দিয়ে পানি আটকে রাখার ব্যবস্থা করতে হয়। নিজের ঘরের এমন অসহায়ত্বের কথা জানিয়ে তিনি পুরো সংসদ কক্ষে এক হালকা ও হাস্যরসাত্মক পরিবেশের সৃষ্টি করেন।

এরপরই সংসদ কার্য পরিচালনাকারী চিফ হুইপ জানান, সংসদ ভবনে পানি পড়ার বিষয়টি গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন। বিষয়টি নিয়ে ইতোমধ্যেই গতকাল সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলা হয়েছে। ভবনের যতগুলো জায়গা থেকে পানি পড়ার সমস্যা রয়েছে, তা মেরামতের কাজ গতকাল থেকেই শুরু করেছে গণপূর্ত মন্ত্রণালয়। আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে এই সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

চিফ হুইপের বক্তব্যের পর গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, চিফ হুইপ যে পূর্ত মন্ত্রণালয়ের কথা বললেন, সেই মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী তো পেছনেই বসে আছেন। তিনি যদি এই বিষয়ে কিছু বলতেন, তবে সবাই আশ্বস্ত হতে পারতেন এবং বৃষ্টির দিনে অন্তত শান্তিতে ঘুমাতে পারতেন। ডেপুটি স্পিকারের এই আহ্বানের জবাবে গণপূর্ত মন্ত্রী দাঁড়িয়ে বলেন, চিফ হুইপ ইতোমধ্যেই এই বিষয়ে মন্ত্রণালয়ের মনোযোগ আকর্ষণ করেছেন। ভবনের ছাদ সংস্কারে সর্বাত্মক বন্দোবস্ত নেওয়া হয়েছে এবং খুব দ্রুতই এর স্থায়ী প্রতিকার হয়ে যাবে।