• ১৬ই জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ , ১লা শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ , ২রা সফর, ১৪৪৮ হিজরি

সেই জেন-জিই আবাবিল পাখির মতো হয়ে একটি দানবকে পালিয়ে যেতে বাধ্য করেছে : সাবেক চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম

Usbnews.
প্রকাশিত জুলাই ১৪, ২০২৬
সেই জেন-জিই আবাবিল পাখির মতো হয়ে একটি দানবকে পালিয়ে যেতে বাধ্য করেছে : সাবেক চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম
নিউজটি শেয়ার করুনঃ

যাদেরকে ফার্মের মুরগি বলা হচ্ছে, সেই জেন-জিই আবাবিল পাখির মতো হয়ে শেখ হাসিনার মতো একটি দানবকে পালিয়ে যেতে বাধ্য করেছে। এমন মহাকাব্যিক বিপ্লব দেশের কোনো রাজনৈতিক দল বা রাজনীতিবিদ করতে পারেননি বলে মন্তব্য করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনালের সাবেক চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম।

মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) সিনেট ভবনে আয়োজিত ‘জুলাই শহিদ দিবস উপলক্ষ্যে জুলাই গণঅভ্যুত্থান: সাম্প্রতিক ভাবনা’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, যাদেরকে ভেবেছিলাম তারা কিছু পারে না, সেই বাচ্চা ছেলেরা এক মহাকাব্যিক বিপ্লবের মাধ্যমে এমন কাজ করে দেখিয়েছে, যা বাংলাদেশের কোনো রাজনৈতিক দল বা কোনো রাজনীতিবিদ করতে পারেননি। তাই এই জেনারেশনের দেশপ্রেম ও প্রতিভার যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা উচিত নয়। তারা যে কাজ করে দেখিয়েছে, তাতে আমাদের রাজনীতিবিদদের লজ্জা পাওয়া উচিত। ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানে দেশের জেন-জি প্রজন্মের তরুণরা যে সাহসিকতার পরিচয় দিয়েছে, তা থেকে দেশের প্রবীণ নাগরিকদেরও শিক্ষা নেওয়া উচিত।

May be an image of dais and text
দীর্ঘ দেড় যুগের গুম-খুনের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র এ আইনজীবী বলেন, তদন্তের সময় সাক্ষীদের বক্তব্য এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ থেকে যে ভয়াবহতার চিত্র উঠে এসেছে, তা ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন। অনেক মানুষকে কোনো ধরনের পূর্বাভাস ছাড়াই তুলে নিয়ে যাওয়া হতো, পরিবারের সদস্যরা বুঝে ওঠার আগেই তারা নিখোঁজ হয়ে যেতেন।

 

অনুষ্ঠানে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. সালেহ্ হাসান নকীব বলেছেন, জুলাই-আগস্ট ২০২৪-এর সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি হলো ভাষাহীন মানুষ ভাষা খুঁজে পেয়েছে। মানুষ এখন প্রতিবাদ করতে শিখেছে।

তিনি বলেন, একসময় মানুষ ভয় পেত, কিন্তু জুলাই আন্দোলন সেই ভয় ভেঙে দিয়েছে। ‘রাজাকার’ বলার যেমন পরিণতি মানুষ দেখেছে, তেমনি ‘ফার্মের মুরগি’ বলে অবজ্ঞা করারও পরিণতি আজ সবাই বুঝতে পেরেছে।

তিনি আরও বলেন, আবারও ফ্যাসিবাদের উত্থান ঘটানোর চেষ্টা চলছে। তবে আমি বিশ্বাস করি, সেই চেষ্টা সফল হবে না। কারণ আজ মানুষ সচেতন হয়েছে। আমরা ভাষা দিয়ে একে অপরকে যতই আঘাত করি না কেন, আওয়ামী লীগ তার আগের চেহারায় আর ফিরে আসার সুযোগ নেই।

রাষ্ট্র সংস্কারের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, আমাদের শুধু রাজনৈতিক নয়, আইনি সংস্কারও প্রয়োজন। জুলাই গণ-অভ্যুত্থান যদি ব্যর্থ হতো, তাহলে শেখ হাসিনা দাবি করতেন যে দেড় হাজার মানুষের প্রাণহানি সংবিধান রক্ষার জন্য হয়েছে এবং তিনি আইনের বাইরে কোনো কাজ করেননি। আইনের কাঠামো ব্যবহার করেই এসব কর্মকাণ্ডকে বৈধ প্রমাণের চেষ্টা করা হতো। তাই ভবিষ্যতে এমন পরিস্থিতি যাতে আর সৃষ্টি না হয়, সেজন্য রাষ্ট্র ও আইনের সংস্কার অপরিহার্য।

গুম ও খুনের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে তিনি বলেন, “তদন্তের সময় সাক্ষীদের বক্তব্য এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ থেকে যে ভয়াবহতার চিত্র উঠে এসেছে, তা ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন। অনেক মানুষকে কোনো ধরনের পূর্বাভাস ছাড়াই তুলে নিয়ে যাওয়া হতো; পরিবারের সদস্যরা বুঝে ওঠার আগেই তারা নিখোঁজ হয়ে যেতেন।

তরুণদের উদ্দেশে তিনি বলেন, বাংলাদেশের সাহসী তরুণরাই দেশকে আরও এগিয়ে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থান স্মরণীয় হয়ে থাকুক।

সেমিনারে মুখ্য আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. সালেহ হাসান নকীব। তিনি বলেন, ১৯৭১ সালের পর ২০২৪ বাংলাদেশের ইতিহাসের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের চেতনা ধারণ করে দেশকে জনকল্যাণমুখী ও ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্রে রূপ দিতে দীর্ঘমেয়াদি চিন্তা, আত্মসমালোচনা ও কঠোর পরিশ্রমের বিকল্প নেই। একই সঙ্গে তিনি রাষ্ট্র পরিচালনায় নৈতিকতা, জবাবদিহি ও মানবিক মূল্যবোধের ওপর গুরুত্বারোপ করেন এবং জুলাই আন্দোলনের শহিদ ও আহতদের আত্মত্যাগ স্মরণে রাখার আহ্বান জানান।

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানকে কেন্দ্র করে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় লেখক ফোরাম আয়োজিত এ সেমিনারে আরও উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট মো. আবুল কাসেম, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ড. শাহ হোসাইন আহমদ মেহেদী, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় লেখক ফোরামের সভাপতি অধ্যাপক মুহাম্মাদ শরীফুল ইসলাম, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় লেখক ফোরামের সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. মো. সেতাউর রহমানসহ বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক, লেখক, গবেষক এবং শতাধিক শিক্ষার্থী।