• ১৬ই জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ , ১লা শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ , ২রা সফর, ১৪৪৮ হিজরি

জাবির গবেষণা : বায়ুদূষণে দেশে প্রতিদিন প্রাণ হারাচ্ছেন ২৪২ জন

Usbnews.
প্রকাশিত জুলাই ১৫, ২০২৬
জাবির গবেষণা : বায়ুদূষণে দেশে প্রতিদিন প্রাণ হারাচ্ছেন ২৪২ জন
নিউজটি শেয়ার করুনঃ

বায়ুদূষণকে দেশের অন্যতম বড় জনস্বাস্থ্য ও অর্থনৈতিক সংকট হিসেবে চিহ্নিত করেছে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) এক গবেষণা। গবেষণায় দেখা গেছে, সূক্ষ্ম বস্তুকণা (পিএম ২.৫) দূষণের কারণে দেশের ছয়টি প্রধান শহরে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ২৪২ জন মানুষের অকালমৃত্যু হচ্ছে। একই কারণে বছরে প্রায় ২৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ২ লাখ ৮০ হাজার কোটি টাকা) অর্থনৈতিক ক্ষতি হচ্ছে, যা দেশের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রায় ৫ শতাংশের সমান।

আজ বুধবার বিশ্ববিদ্যালয়ের পাবলিক হেলথ অ্যান্ড ইনফরমেটিক্স বিভাগের সেমিনার কক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ গবেষণার ফলাফল তুলে ধরা হয়।

গবেষণাটি পরিচালনা করেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের পাবলিক হেলথ অ্যান্ড ইনফরমেটিক্স বিভাগের ক্লাইমেট চেঞ্জ, এয়ার কোয়ালিটি অ্যান্ড হেলথ রিসার্চ ইউনিট। গবেষণা দলের নেতৃত্ব দেন বিভাগের চেয়ারম্যান ও সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. সাখাওয়াত হোসেন। গবেষণাপত্রটি তেহরানভিত্তিক ‘Pollution’ জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, খুলনা, সিলেট ও বরিশাল—এই ছয়টি প্রধান শহরের বায়ুদূষণের স্বাস্থ্য ও অর্থনৈতিক প্রভাব বিশ্লেষণ করে গবেষণাটি পরিচালিত হয়েছে।

গবেষণায় দেখা গেছে, শুধু সূক্ষ্ম বস্তুকণা (পিএম ২.৫) দূষণের কারণেই এসব শহরে বছরে আনুমানিক ৮৮ হাজার ২৪০ জন মানুষের অকালমৃত্যু হচ্ছে, যা প্রতিদিন গড়ে প্রায় ২৪২ জন। এর মধ্যে হৃদরোগে মারা গেছেন ৩৭ হাজার ৫৯১ জন, দীর্ঘমেয়াদি শ্বাসতন্ত্রের রোগে ৮ হাজার ৩৪৪ জন এবং ফুসফুসের ক্যানসারে ৮১১ জন।

 

আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে গবেষণার ফলাফল তুলে ধরেন জাবির গবেষকরা। ছবি: আমাদের সময়

শহরভিত্তিক বিশ্লেষণে সবচেয়ে বেশি অকালমৃত্যু ঘটেছে ঢাকায়, যেখানে সূক্ষ্ম বস্তুকণা দূষণের সঙ্গে সম্পর্কিত মৃত্যুর সংখ্যা প্রায় ৬৮ হাজার ৭০৩। এরপর রয়েছে চট্টগ্রাম (১১ হাজার ২০২ জন), রাজশাহী (২ হাজার ৮২৭ জন), খুলনা (২ হাজার ৬২৫ জন), সিলেট (১ হাজার ৪৮৮ জন) এবং বরিশাল (১ হাজার ৩৯৫ জন)।

গবেষণা প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ২০১৩ থেকে ২০২১ সালের মধ্যে ছয়টি শহরে সূক্ষ্ম বস্তুকণা দূষণজনিত অকালমৃত্যুর সংখ্যা ধারাবাহিকভাবে বেড়েছে। সবচেয়ে উদ্বেগজনক পরিস্থিতি ঢাকায়, যেখানে প্রতি বছর গড়ে প্রায় ৩ হাজার ৪৮৪ জন অতিরিক্ত মানুষের মৃত্যু এ দূষণের সঙ্গে সম্পর্কিত।

প্রাণহানির পাশাপাশি কর্মক্ষমতা হ্রাস, উৎপাদনশীলতা কমে যাওয়া, চিকিৎসা ব্যয় বৃদ্ধি এবং অকালমৃত্যুর কারণে দেশের অর্থনীতিতে বছরে প্রায় ২৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার ক্ষতি হচ্ছে বলে গবেষণায় উল্লেখ করা হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে গবেষণা দলের প্রধান ড. মো. শাহাজাওয়াত হোসেন বলেন, ‘বায়ুদূষণকে আমরা দীর্ঘদিন শুধু পরিবেশগত সমস্যা হিসেবে দেখেছি। আমাদের গবেষণা বলছে, এটি এখন জনস্বাস্থ্য ও অর্থনীতির জন্য বড় সংকটে পরিণত হয়েছে। বছরে প্রায় ৮৮ হাজার মানুষের অকালমৃত্যু এবং জিডিপির প্রায় ৫ শতাংশ সমপরিমাণ অর্থনৈতিক ক্ষতি অত্যন্ত উদ্বেগজনক। কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া না হলে ভবিষ্যতে এই ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা আরও বাড়বে।’

তিনি বলেন, ‘বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) বায়ুমান নির্দেশিকা বাস্তবায়ন, শিল্পকারখানা ও যানবাহন থেকে সূক্ষ্ম বস্তুকণা নির্গমন কমানো, নগর বায়ু ব্যবস্থাপনা জোরদার করা এবং সমন্বিত পরিবেশনীতি গ্রহণের মাধ্যমে বায়ুদূষণজনিত মৃত্যু ও অর্থনৈতিক ক্ষতি উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব।’