• ২৪শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ , ৯ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ , ১০ই সফর, ১৪৪৮ হিজরি

গাজী নজরুল ইসলামকে বহিষ্কার করলো জামায়াত এবং বিষয়টি নিয়ে যা হচ্ছে

Usbnews.
প্রকাশিত জুলাই ২৩, ২০২৬
গাজী নজরুল ইসলামকে বহিষ্কার করলো জামায়াত এবং বিষয়টি নিয়ে যা হচ্ছে
নিউজটি শেয়ার করুনঃ

সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে দল থেকে বহিষ্কার করলো জামায়াতে ইসলামী। বুধবার (২২ জুলাই) বিকেলে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের এক জরুরি বৈঠকে এ সিন্ধান্ত নেওয়া হয়।

রাজধানীর মিন্ট রোডস্থ বিরোধীদলীয় নেতার সরকারি বাসভবনে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের আমির ডা. শফিকুর রহমান। বৈঠকে কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্যগণ উপস্থিত ছিলেন।

সম্প্রতি সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য জনাব গাজী নজরুল ইসলামকে নিয়ে বিভিন্ন মিডিয়ায় প্রকাশিত বিষয়ে সাংগঠনিক তদন্তে তার নৈতিক স্খলন প্রমাণিত হওয়ায় তাকে গঠনতন্ত্রের ৬২ নং ধারা অনুযায়ী বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী থেকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

একই সাথে তাকে সংগঠন থেকে বহিস্কারের বিষয়টি বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনকে অবিলম্বে অবহিত করার সিদ্ধান্ত হয়।

এমপি গাজী নজরুলের বিষয়ে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেবে কমিশন: ইসি সচিব

নৈতিক স্খলনের দায়ে সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) গাজী নজরুল ইসলামকে বহিষ্কার করেছে জামায়াতে ইসলামী। তবে এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনে (ইসি) এখনও কোনো নোটিশ আসেনি। নোটিশ এলে আইন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেবে কমিশন বলে জানিয়েছেন ইসি সচিব আখতার আহমেদ।

বুধবার (২২ জুলাই) বিকেলে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন।

এমপি নজরুলের বিরুদ্ধে চালকের হত্যাচেষ্টা মামলা: এক আসামি কারাগারে

অনৈতিক সম্পর্কের প্রতিবাদ এবং ভিডিও ফাঁসের সন্দেহে মারধর ও শ্বাসরোধে হত্যাচেষ্টার অভিযোগে সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে রাজধানীর পল্লবী থানায় মামলা হয়েছে। এর মধ্যে এ মামলায় গ্রেপ্তার এক আসামিকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত।

বুধবার (২২ জুলাই) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট কামাল উদ্দীনের আদালত তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আসামি আমিনুর রহমানকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

মামলার আসামিরা হলেন—গাজী নজরুল ইসলাম (৭৪), আমিনুর রহমান (৫৫), মাসুম বিল্লাহ (৪১), মোতাসসিম বিল্লাহ (২৫) ও রাকিবুল হাসান (৩০)। আসামিদের মধ্যে আমিনুর রহমান মামলার বাদী ওবায়দুর রহমানের চাচাতো ভাই।

এদিন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবির পল্লবী জোনাল টিমের উপ-পরিদর্শক (এসআই) রাকিবুল হুদা আসামিকে আদালতে হাজির করে মামলার তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাকে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন। পরে আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। তবে আসামি পক্ষে কোনো জামিন আবেদন ছিল না।

এজাহারের বিবরণ অনুযায়ী, বাদী ওবায়দুর রহমান পল্লবীর কালশী এলাকার ‘রোজ গার্ডেন টাওয়ার’-এ তার বোনের বাসায় বসবাস করতেন। তিনি গাজী নজরুল ইসলামের ব্যক্তিগত গাড়ির চালক হিসেবে নিয়োজিত ছিলেন। আত্মীয়তার সূত্রে নজরুল ইসলাম ওই বাসায় যাতায়াত করতেন। একপর্যায়ে নজরুল ইসলামের সঙ্গে ওবায়দুরের ভাগ্নির অনৈতিক সম্পর্ক গড়ে ওঠে। বিষয়টি টের পেয়ে ওবায়দুর তার পরিবারকে জানান এবং নজরুল ইসলামকে বিরত থাকার অনুরোধ করেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে নজরুল ইসলাম তাকে প্রাণনাশের হুমকি দেন।

বাদীর অভিযোগ, সম্প্রতি মগবাজারের একটি চক্র নজরুল ইসলাম ও তার ভাগ্নির কিছু ‘অপ্রীতিকর ভিডিও’ সংগ্রহ করে নজরুলকে ব্ল্যাকমেইল করতে থাকে। নজরুল ইসলামের ধারণা হয়, ওবায়দুরই গোপন ভিডিও ধারণ করে সংবাদমাধ্যম ও ওই চক্রের হাতে তুলে দিয়েছেন। এ নিয়ে বিরোধের জেরে গত ১৪ জুলাই নজরুল ইসলামের নির্দেশে অন্য আসামিরা ওবায়দুরের ওপর হামলা চালায়।

ঘটনার বর্ণনা দিয়ে ওবায়দুর বলেন, ওই দিন বেলা ১১টার দিকে আসামি আমিনুর রহমান তাকে কৌশলে ড্রয়িংরুমে ডেকে নেন। সেখানে অন্য আসামিরা মিলে তাকে লাঠি দিয়ে এলোপাতাড়ি মারধর শুরু করেন। একপর্যায়ে আমিনুর তাকে ফ্লোরে ফেলে গলা টিপে শ্বাসরোধে হত্যার চেষ্টা করেন। ওবায়দুরের মা তাহমিনা ও ছোট বোন মীম এগিয়ে এসে চিৎকার শুরু করলে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়। আহত অবস্থায় ওবায়দুর স্থানীয় কুর্মিটোলা হাসপাতালে চিকিৎসা নেন।

এজাহারে তিনি আরও উল্লেখ করেন, হামলার পর থেকে আসামিরা তাকে যেখানে পাবে সেখানেই হত্যা করবে বলে হুমকি দিচ্ছে। বর্তমানে তিনি নিরাপত্তার অভাবে আত্মগোপনে রয়েছেন।

এদিকে মামলাটি তদন্ত করে আগামী ২৮ আগস্টের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

গাজী নজরুলের এমপি পদ থাকা না-থাকা নিয়ে শিশির মনিরের ভিন্নমত

‘নৈতিক স্খলনের’ দায়ে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী থেকে বহিষ্কৃত সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের সংসদীয় পদ বহাল থাকবে কি না, তা নিয়ে আইন অঙ্গনে নতুন বিতর্ক শুরু হয়েছে। সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদের ব্যাখ্যায় কিছু বিশেষজ্ঞ তার পদ বহাল থাকার কথা বললেও, সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী শিশির মনিরের মতে, এই সংসদ সদস্য শেষ পর্যন্ত তার পদ হারাতে যাচ্ছেন।

সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী দল থেকে পদত্যাগ করলে বা দলের বিপক্ষে ভোট দিলে আসন শূন্য হওয়ার কথা বলা আছে। তবে কোনো সংসদ সদস্য দল থেকে ‘বহিষ্কৃত’ হলে তার পদের পরিণতি কী হবে, সে বিষয়ে সংবিধানে সরাসরি কিছু বলা নেই। এই অস্পষ্টতার কারণেই মূলত বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে।

তবে বুধবার (২২ জুলাই) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে ভিন্ন আইনি মত তুলে ধরেছেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী শিশির মনির। তিনি মনে করেন, সংসদ সদস্য হিসেবে গাজী নজরুলের টিকে থাকার আর কোনো সুযোগ নেই।

এর আগে, বুধবার বিকেলে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের এক জরুরি বৈঠকে গাজী নজরুল ইসলামকে দল থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। দলের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও কেন্দ্রীয় প্রচার বিভাগের সেক্রেটারি এহসানুল মাহবুব জুবায়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

গাজী নজরুলের সদস্য পদের বিষয়ে আইনজীবী শিশির মনির তার ফেসবুক পোস্টে লিখেছেন, ‘সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদে আছে পদত্যাগ। তিনি হয়েছেন বহিষ্কার। জামায়াত আজকেই নির্বাচন কমিশনকে জানিয়ে দিচ্ছে। কারণ নৈতিক স্খলন। প্রশ্ন হচ্ছে সংসদ সদস্য থাকতে পারবেন কি না? আমার মতে না।’

সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক তরুণীর সঙ্গে এই সংসদ সদস্যের কিছু ব্যক্তিগত মুহূর্তের ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে। শুরুতে তার অনুসারীরা এগুলো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দিয়ে তৈরি বলে প্রচার করলেও, পরে তথ্যযাচাইকারী প্রতিষ্ঠানগুলো ভিডিওগুলোর সত্যতা নিশ্চিত করে।

ব্যাপক সমালোচনার মুখে গাজী নজরুল দাবি করেন, ভিডিওতে থাকা তরুণী তার দ্বিতীয় স্ত্রী এবং প্রথম স্ত্রীর সম্মতিতেই তাদের বিয়ে হয়েছে। তবে প্রচারিত কাবিননামার সত্যতা ও বিয়ের তারিখ নিয়ে খোদ সংশ্লিষ্ট কাজী সন্দেহ প্রকাশ করলে বিষয়টি রাজনৈতিক ও সামাজিকভাবে আরও বেশি বিতর্কের।