• ২৪শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ , ৯ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ , ১০ই সফর, ১৪৪৮ হিজরি

তীব্র হচ্ছে দিল্লির বিক্ষোভ, মোদি-রাহুল গান্ধীর পাল্টাপাল্টি ঘোষণা ,পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ ও বিক্ষোভ অব্যাহত ,মোদির আশ্বাসের পরও দাবিতে অনড় আন্দোলনকারীরা

Usbnews.
প্রকাশিত জুলাই ২৩, ২০২৬
তীব্র হচ্ছে দিল্লির বিক্ষোভ, মোদি-রাহুল গান্ধীর পাল্টাপাল্টি ঘোষণা ,পুলিশের সঙ্গে  সংঘর্ষ ও বিক্ষোভ  অব্যাহত ,মোদির  আশ্বাসের পরও দাবিতে অনড় আন্দোলনকারীরা
নিউজটি শেয়ার করুনঃ

পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় জড়িতদের কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করতে ‘দ্রুত বিচার আদালত’ গঠনের ঘোষণা দিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।

বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) দিল্লিতে শিক্ষার্থীদের তুমুল আন্দোলন ও সংসদে হট্টগোলের মধ্যে তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ এই আশ্বাস বার্তা দেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া বার্তায় প্রধানমন্ত্রী মোদি বলেন যে ‘আমাদের তরুণ প্রজন্মের কল্যাণ ও ভবিষ্যতের চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আর কিছুই হতে পারে না’। প্রশ্নপত্র ফাঁস কাণ্ডে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দেওয়ার কথা জানিয়ে তিনি প্রতিশ্রুতি দেন যে তরুণদের ভবিষ্যৎ নিয়ে যারা ছিনিমিনি খেলবে তাদের কোনোভাবেই ছাড় দেওয়া হবে না। এর আগে এনডিএ জোটের এক বৈঠকেও তিনি এই ঘটনাকে ‘ঘোর পাপ’ বলে মন্তব্য করেছিলেন।

ভারতের কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ না করা পর্যন্ত সংসদে কোনো আলোচনায় অংশ নেবে না বিরোধী শিবির। আজ বৃহস্পতিবার কংগ্রেস সাংসদ কেসি ভেনুগোপাল এ ঘোষণা দিয়ে বলেন, এ সিদ্ধান্ত লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লাকে জানানো হয়েছে। তাঁর দাবি, আম আদমি পার্টি (এএপি) ও ডিএমকে ছাড়া বাকি সব বিরোধী দল এই অবস্থানের সঙ্গে একমত।

শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ ছাড়া সংসদে আলোচনায় যাবে না বিরোধীরা, মোদি সরকারের পাল্টা চ্যালেঞ্জ

বুধবার (২২ জুলাই) ‘চলো সংসদ’ কর্মসূচির দুই দিন পরও যন্তর মন্তরে অবস্থান কর্মসূচি অব্যাহত থাকে। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বাস ও ট্রেনে রাতভর ভ্রমণ করে নতুন নতুন বিক্ষোভকারী আন্দোলনস্থলে যোগ দেন। অনেককে ব্যাকপ্যাক ও ব্যানার নিয়ে সরাসরি বিক্ষোভস্থলে প্রবেশ করতে দেখা যায়।

ছবি: সংগৃহীত
মোদির এই ঘোষণার পরপরই প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেসের নেতা রাহুল গান্ধী পাল্টা আক্রমণ চালিয়ে মন্তব্য করেন যে প্রধানমন্ত্রী নিজেই তরুণদের ভবিষ্যতের সবচেয়ে বেশি ক্ষতি করেছেন। পুরো শিক্ষাব্যবস্থাকে ধ্বংস করার সুযোগ তৈরি করা এবং দায়ী ব্যক্তিদের রক্ষা করার অভিযোগ তুলে তিনি শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ, শিক্ষার্থীদের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা এবং শিক্ষার্থীদের ওপর আক্রমণকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার তিন দফা দাবি তোলেন। এর আগের দিন রাহুল গান্ধী দাবি করেছিলেন যে গত ১০ বছরে ১৫০টিরও বেশি প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনা ঘটলেও কোনো বিচার বা সাজা হয়নি।

মোদির কঠোর শাস্তির আশ্বাসের পরও দাবিতে অনড় আন্দোলনকারীরা

নরেন্দ্র মোদি। ছবি: ইত্তেফাক কোলাজ

ভারতের রাজধানী দিল্লিতে মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষা নিটের প্রশ্নফাঁস কেলেঙ্কারি ও শিক্ষাব্যবস্থায় সংস্কারের দাবিতে শিক্ষার্থীদের চলমান বিক্ষোভ এবং তাদের ওপর পুলিশের লাঠিচার্জের পর অবশেষে মুখ খুলেছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।

বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) সকালে দেশটির যুবকদের উদ্দেশে প্রশ্নফাসে জড়িতদের কঠোর শাস্তির আশ্বাস দিয়েছেন তিনি। তবে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি) এখনও শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবি নিয়ে অনড় আছেন।

 

এক্সে দেয়া এক পোস্টে মোদি লেখেন, আমাদের তরুণদের কল্যাণ ও ভবিষ্যতের চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আর কিছুই নয়। একই সঙ্গে তিনি জানান, প্রশ্নফাঁস-সংক্রান্ত মামলার বিচার দ্রুত সম্পন্ন করতে সরকার ফাস্ট-ট্র্যাক আদালত গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

মোদি বলেন, ‘প্রশ্নফাঁসের সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত ও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করতে আমরা ফাস্ট-ট্র্যাক আদালত গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিয়েছি।’

মোদি আরও বলেন, ‘প্রশ্নফাঁসের সঙ্গে জড়িতদের আইনের আওতায় আনতে সরকারের নেওয়া ধারাবাহিক পদক্ষেপগুলোরই একটি অংশ এই উদ্যোগ।’

মোদি বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের স্বার্থ সুরক্ষায় আমাদের ধারাবাহিক পদক্ষেপের এটি একটি অংশ। যারা আমাদের তরুণদের ভবিষ্যৎ নষ্ট করার চেষ্টা করবে, তাদের কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না।’

প্রধানমন্ত্রীর এই ঘোষণার প্রতিক্রিয়ায় ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি) আবারও শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবি জানায়। ধর্মেন্দ্র প্রধানকে অবশ্যই পদত্যাগ করতে হবে বলে এনডিটিভির সূত্রে জানা গেছে।

দিল্লিতে বদলে গেছে আন্দোলনের চেহারা, জেন-জিদের প্রধান অস্ত্র এখন মিম


শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে বিরোধী দলগুলো এবং সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি) রাজপথে ও সংসদে অনড় অবস্থান নিয়েছে। বিরোধী দলগুলোর আন্দোলনের মুখে সরকার সংসদে আলোচনা করতে রাজি হলেও শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের শর্ত দিয়ে সংসদ স্তব্ধ করে রাখার জন্য বিরোধীদের দায়ী করেছে ক্ষমতাসীন দল।

দিল্লির যন্তর মন্তরে নিট প্রশ্নফাঁস ও শিক্ষাব্যবস্থার সংস্কারের দাবিতে চলমান আন্দোলনে প্রচলিত স্লোগানের পাশাপাশি নতুন এক প্রতিবাদের ভাষা হয়ে উঠেছে মিম, রিলস, ব্যঙ্গাত্মক পোস্টার ও পপ কালচার। ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) নেতৃত্বে চলা এ আন্দোলনের বড় চালিকাশক্তি জেন-জি, যারা হাস্যরসকেই বেছে নিয়েছে সরকারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের অন্যতম কার্যকর অস্ত্র হিসেবে।

মিম ভর্তি প্ল্যাকার্ডে দিল্লির জেনজিরা। ছবি: সংগৃহীত (ইত্তেফাক কোলাজ)
যন্তর মন্তরের এক কোণে উচ্চস্বরে বাজছে দেশাত্মবোধক গান ‘সারে জাঁহা সে আচ্ছা’। অন্য পাশে স্বেচ্ছাসেবকেরা পরিচালনা করছেন অস্থায়ী মেডিক্যাল ক্যাম্প। আর এর মাঝেই একটি সাদা চার্ট পেপারে ব্যঙ্গাত্মক পোস্টার আঁকায় ব্যস্ত ২৭ বছর বয়সী আন্দোলনকারী পি হোসেন খান।

তার পোস্টারে লেখা, ‘আমার সাবেক প্রেমিকা এবং এই সরকার, দুজনেই হৃদয়হীন’। অক্ষরের ওপর বিন্দুর জায়গায় তিনি এঁকেছেন একটি ছোট্ট হৃদয়ের চিহ্ন।

খান নিজেকে একজন ‘মিমার’ হিসেবে পরিচয় দিয়ে বলেন, সরকার যখন শিক্ষার্থীদের দাবিকে গুরুত্ব দিচ্ছে না, তখন হাস্যরস ও ব্যঙ্গ হয়তো তাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে পারে। তার ভাষায়, ক্ষমতার বিরুদ্ধে হাসি একটি সূক্ষ্ম কিন্তু কার্যকর প্রতিরোধ। গত ২০ দিনের বেশি সময় ধরে তিনি আন্দোলনস্থলে অবস্থান করছেন এবং এক সপ্তাহের অনশনেও অংশ নিয়েছেন।

ব্যঙ্গে সরকারের সমালোচনা

যন্তর মন্তরের আন্দোলনে মিম ও ব্যঙ্গাত্মক পোস্টারের সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। কোথাও ব্যক্তিগত সম্পর্কের সঙ্গে রাজনৈতিক পরিস্থিতির তুলনা, কোথাও সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র কটাক্ষ।

একটি পোস্টারে লেখা, ‘কেউ আমাকে টাকা দেয় না, আমি বিনামূল্যে এই সরকারকে ঘৃণা করি।’ এটি আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে বিরোধী দল বা বিদেশি শক্তির অর্থায়নের অভিযোগের ব্যঙ্গাত্মক জবাব।

আরেকটি পোস্টারে লেখা, ‘পরিস্থিতি এতটাই খারাপ যে অন্তর্মুখীরাও ঘর থেকে বেরিয়ে আন্দোলনে এসেছে।’

বলিউড থেকে মিথোলজি

পপ কালচারও আন্দোলনের গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হয়ে উঠেছে। রণবীর কাপুর ও শ্রদ্ধা কাপুর অভিনীত ‘তু ঝুঠি ম্যায় মক্কার’ সিনেমার পোস্টার নতুনভাবে তৈরি করে সেখানে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের ছবি বসানো হয়েছে।

মহাভারতের কৃষ্ণ-অর্জুন সংলাপ ব্যবহার করেও তৈরি হয়েছে পোস্টার। সেখানে অর্জুনের জায়গায় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানকে বসিয়ে লেখা হয়েছে, ‘সবাই আমার বিরুদ্ধে, মাধব।’ জবাবে কৃষ্ণের সংলাপ, ‘আগে পদত্যাগ কর ভাই।’

একটি প্ল্যাকার্ডে নিট প্রশ্নফাঁসের সঙ্গে ঋতুস্রাবের তুলনা করে লেখা হয়েছে, ‘জাতীয় পরীক্ষা সংস্থার চেয়ে আমার স্যানিটারি প্যাড বেশি লিকপ্রুফ।’

‘মেলোডি’ থেকে ‘সাবওয়ে সারফার্স’

ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনির সঙ্গে নরেন্দ্র মোদির সম্পর্ক নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া ‘মেলোডি’ প্রসঙ্গও এসেছে আন্দোলনের পোস্টারে। দুই শিক্ষার্থী সানা ও মুসকান একটি প্ল্যাকার্ডে লেখেন, ‘মেলোডি খাও, দেশ খেয়ো না।’

এদিকে পুলিশের ধাওয়া থেকে শিক্ষার্থীদের দৌড়ে পালানোর ভিডিও সম্পাদনা করে ‘সাবওয়ে সারফার্স’ গেমের আদলে রিল তৈরি করা হয়েছে। যারা আন্দোলনে উপস্থিত থাকতে পারেননি, তারা সামাজিক মাধ্যমে লিখছেন, যন্তর মন্তরে ‘সাবওয়ে সারফার্স’ খেলতে না পারার আক্ষেপ তাদের তাড়া করছে।

টিয়ারগ্যাস নিক্ষেপের ঘটনার পর আরেকটি ভাইরাল রিলে বলা হয়, ‘পুলিশকে বলো আমি যমুনাপাড়ে থাকি… এর চেয়ে বেশি ঝাঁজালো গ্যাস আমাদের ড্রেনেই থাকে।’

অনলাইন-অফলাইন মিলিয়ে প্রতিবাদ

দিল্লি কলেজ অব আর্টের ১৯ বছর বয়সী শিক্ষার্থী সানা বলেন, পাঁচ দিন পর পরীক্ষা থাকলেও আন্দোলনে যোগ দেওয়া জরুরি ছিল। তার ভাষায়, আজ নিট নিয়ে আন্দোলন হলেও আগামীকাল অন্য কোনো শিক্ষার্থী একই ধরনের সমস্যার মুখোমুখি হতে পারে।

বিশ্লেষকদের মতে, যন্তর মন্তরের আন্দোলন শুধু সড়কেই সীমাবদ্ধ নয়; এর বড় অংশ পরিচালিত হচ্ছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। পোস্টার, মিম ও রিলসের মাধ্যমে জেন-জি এমন এক প্রতিবাদী সংস্কৃতি গড়ে তুলেছে, যেখানে হাস্যরসই হয়ে উঠেছে রাজনৈতিক বার্তা পৌঁছে দেওয়ার সবচেয়ে শক্তিশালী মাধ্যম।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের ভাষ্য অনুযায়ী, এই আন্দোলনে তরুণদের সৃজনশীলতা প্রমাণ করেছে—ডিজিটাল যুগে প্রতিবাদের ভাষাও বদলেছে। স্লোগানের পাশাপাশি মিম, ব্যঙ্গ ও পপ কালচার এখন আন্দোলনের সমান গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ ছাড়া সংসদে কোনো আলোচনা নয়: মল্লিকার্জুন খাড়গে

ভারতের রাজ্যসভার বিরোধীদলীয় নেতা মল্লিকার্জুন খাড়গে। ছবি: সংগৃহীত

কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ না করা পর্যন্ত সংসদে কোনো আলোচনায় বসবে না বিরোধী পক্ষ, এমনটাই স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন ভারতের রাজ্যসভার বিরোধীদলীয় নেতা মল্লিকার্জুন খাড়গে।

বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) খাড়গে বলেন, প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় শিক্ষামন্ত্রীর নৈতিক দায়িত্ব রয়েছে। তাই আলোচনা শুরুর আগে তার পদত্যাগ করা উচিত বলে বিরোধীদের দাবি।